সূরা আন-নিসা (আয়াত: 28)
হরকত ছাড়া:
يريد الله أن يخفف عنكم وخلق الإنسان ضعيفا ﴿٢٨﴾
হরকত সহ:
یُرِیْدُ اللّٰهُ اَنْ یُّخَفِّفَ عَنْکُمْ ۚ وَ خُلِقَ الْاِنْسَانُ ضَعِیْفًا ﴿۲۸﴾
উচ্চারণ: ইউরীদুল্লা-হু আইঁ ইউখাফফিফা ‘আনকুম ওয়া খুলিকাল ইনছা-নুদা‘ঈফা-।
আল বায়ান: আল্লাহ তোমাদের থেকে (বিধান) সহজ করতে চান, আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বল করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৮. আল্লাহ তোমাদের ভার কমাতে চান(১); আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান, কারণ মানুষকে দুর্বলরূপে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (২৮) আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান। আর মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল। [1]
মুজিবুর রহমান: আল্লাহ তোমাদের বোঝা লঘু করতে চান যেহেতু মানুষ দুর্বল (রূপে) সৃষ্ট হয়েছে।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষকে তো দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তোমাদের বোঝা হালকা করতে চান। মানুষ দুর্বল সৃজিত হয়েছে।
জহুরুল হক: আল্লাহ্ চান যে তিনি তোমাদের বোঝা হাল্কা করেন, আর মানুষকে দুর্বল ক’রে সৃষ্টি করা হয়েছে ।
Sahih International: And Allah wants to lighten for you [your difficulties]; and mankind was created weak.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৮. আল্লাহ তোমাদের ভার কমাতে চান(১); আর মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে দুর্বলরূপে।(২)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে হালকা ও সহজ বিধান দিতে চান। তোমাদের অসুবিধা দূর করার জন্য বিয়ের ব্যাপারে এমন সরল বিধান তিনি দিয়েছেন, যা সবাই পালন করতে পার। স্বাধীন নারীদেরকে বিয়ে করার শক্তি না থাকার ক্ষেত্রে বাদীদেরকে বিয়ে করার অনুমতি দান করেছেন। [তাবারী] অনুরূপভাবে উভয়পক্ষকে পারস্পরিক সম্মতিক্রমে মাহর নির্ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ইনসাফ ও সুবিচারের শর্তে একাধিক বিয়ে করার অনুমতিও দিয়েছেন। এসব কিছুই হাল্কা ও সহজ করার স্বার্থেই করা হয়েছে।
(২) অর্থাৎ মানুষ সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল। তার মাঝে কাম-বাসনার উপাদানও নিহিত রয়েছে। যদি তাকে নারীদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার আদেশ দেয়া হত, তবে সে আনুগত্য করতে অক্ষম হয়ে পড়ত। তার অক্ষমতা ও দুর্বলতার পরিপ্রেক্ষিতে নারীদেরকে বিয়ে করার শুধু অনুমতি দেয়া হয়নি; বরং উৎসাহিত করা হয়েছে। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৮) আল্লাহ তোমাদের ভার লঘু করতে চান। আর মানুষ সৃষ্টিগতভাবেই দুর্বল। [1]
তাফসীর:
[1] এই দুর্বলতার কারণে তার পাপে লিপ্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশী। এই কারণে মহান আল্লাহ তার জন্য সম্ভবপর সুবিধাসমূহের ব্যবস্থা করেছেন। আর সেই সুবিধার একটি হল, ক্রীতদাসীকে বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, এই দুর্বলতার সম্পর্ক হল মহিলাদের সাথে। অর্থাৎ, মহিলার ব্যাপারে পুরুষ নিতান্তই দুর্বল। আর এই কারণেই মহিলা কম বুদ্ধি সত্ত্বেও পুরুষকে সহজেই নিজের জালে ফাঁসিয়ে নিতে পারে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৬ হতে ২৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা চান কোনটা হালাল কোনটা হারাম তার বিশদভাবে বর্ণনা করে দিতে যাতে তাঁর বান্দারা হালাল গ্রহণ করতে আর হারাম বর্জন করতে পারে। তিনি আরো চান পূর্ববর্তী যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছিলেন তাদের পথ তোমাদেরকে প্রদর্শন করতে এবং তাওবাহ কবুল করতে।
আল্লাহ তা‘আলা চান মানুষের ওপর বিধান হালকা করে দিতে যাতে পালন করতে সহজ হয়। হাদীসে এসেছে: দীন সহজ, কেউ দীন নিয়ে কঠোরতা করলে দীন তার ওপর বিজয়ী হবে। (সহীহ বুখারী হা:৩৯) কেননা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. বান্দার ওপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ অসীম।
২. আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিধান মানুষের পালন করা সাধ্যের অধীন।
৩. প্রতিটি মানুষ তার সহজাত বাসনার কাছে দুর্বল।
৪. প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সঠিক পথের সন্ধান পাওয়া যায় না। একমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ সঠিক পথ দিতে পারে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:
কুরআন ঘোষণা করে- হে মুমিনগণ! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর হালাল ও হারাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে চান, যেমন এ সূরায় এবং অন্যান্য সূরাসমূহে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রশংসনীয় পথে চালাতে চান, যেন তোমরা তাঁর শরীয়তের উপর আমল করতে থাক যে কাজ তাঁর নিকট প্রিয় ও যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান। যে পাপ ও অন্যায়কার্য হতে তোমরা তাওবা করে থাক সে তাওবা তিনি সতুর কবুল করে থাকেন। তিনি মহাজ্ঞানী ও মহা বিজ্ঞানময়। স্বীয় শরীয়তে, স্বীয় অনুমানে, স্বীয় কার্যে ও স্বীয় ঘঘাষণায় তিনি সঠিক জ্ঞান ও পর্ণ নিপুণতার অধিকারী। প্রবত্তি পূজারীরা অর্থাৎ শয়তানের দাস ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা এবং অসৎ লোকেরা তোমাদের পদস্খলন ঘটিয়ে তোমাদেরকে সত্য ও সরল পথ হতে সরিয়ে দিয়ে অন্যায় ও অসত্যের পথে চালাতে চায়। আল্লাহ তা'আলা শরীয়তের আহকাম নির্ধাণের ব্যাপারে তোমাদের পথ সহজ করতে চান এবং এর উপর ভিত্তি করেই কতগুলো শর্ত আরোপ করতঃ দাসীদেরকে বিয়ে করে নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন। মানুষ জন্মগত দুর্বল বলে মহান আল্লাহ স্বীয় আহকামের মধ্যে কোন কাঠিন্য রাখেননি। মানুষ সৃষ্টিগতই দুর্বল বলে তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তি দুর্বল। তারা স্ত্রীদের ব্যাপারে দুর্বল। তারা এখানে এসে একেবারে বোকা বনে যায়।
তাই রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মিরাজের রাত্রে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হতে ফিরে আসেন এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় তখন তিনি রাসূল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনার উপর কি ফরয করা হয়েছে?' তিনি বলেনঃ “প্রত্যহ দিন রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। তখন হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ 'আপনি ফিরে যান এবং মহান আল্লাহর নিকট লঘুকরণের জন্যে প্রার্থনা করুন। আপনার উম্মতের মধ্যে এটা পালনের শক্তি নেই। আপনার পূর্ববর্তী লোকদেরকে আমি পরীক্ষা করেছি। তারা এর চেয়ে বহু কমেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আর আপনার উম্মত তো কর্ণের, চক্ষুর এবং অন্তরের দুর্বলতায় তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।'
অতএব রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে যান এবং দশ ওয়াক্ত কমিয়ে আনেন। পুনরায় হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে একই আলোচনা হয়। তিনি পুনরায় ফিরে যান এবং আবার দশ ওয়াক্ত কম করিয়ে আনেন। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত থেকে যায়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।