সূরা আন-নিসা (আয়াত: 27)
হরকত ছাড়া:
والله يريد أن يتوب عليكم ويريد الذين يتبعون الشهوات أن تميلوا ميلا عظيما ﴿٢٧﴾
হরকত সহ:
وَ اللّٰهُ یُرِیْدُ اَنْ یَّتُوْبَ عَلَیْکُمْ ۟ وَ یُرِیْدُ الَّذِیْنَ یَتَّبِعُوْنَ الشَّهَوٰتِ اَنْ تَمِیْلُوْا مَیْلًا عَظِیْمًا ﴿۲۷﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লা-হু ইউরীদুআইঁ ইয়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়া ইউরীদুল্লাযীনা ইয়াত্তাবি‘ঊনাশ শাহাওয়া-তি আন তামীলূমাইলান ‘আজীমা।
আল বায়ান: আর আল্লাহ চান তোমাদের তাওবা কবূল করতে। আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা প্রবলভাবে (সত্য পথ থেকে) বিচ্যুত হও।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৭. আর আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান। আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, পক্ষান্তরে কুপ্রবৃত্তির অনুসারীরা চায় যে, তোমরা (আল্লাহর নিকট হতে) দূরে বহু দূরে সরে যাও।
আহসানুল বায়ান: (২৭) আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান। আর যারা প্রবৃত্তির অনুসারী তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও। [1]
মুজিবুর রহমান: আর আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন এবং যারা প্রবৃত্তির পূজারী তারা ইচ্ছা করে যে, তোমরা ঘোর অধঃপতনে পতিত হও।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতে চান; কিন্তু যারা প্রবৃত্তির আনুগত্য করে তারা চায়, তোমাদের বড়রকম লক্ষ্যচ্যুতি ঘটুক।
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হতে চান, এবং যারা কামনা-বাসনার অনুসারী, তারা চায় যে, তোমরা পথ থেকে অনেক দূরে বিচ্যুত হয়ে পড়।
জহুরুল হক: আর আল্লাহ্ চান যে তিনি তোমাদের দিকে সর্বদা ফেরেন, কিন্তু যারা কাম-লালসার অনুসরণ করে তারা চায় তোমরাও যেন গহীন বিপথে পথ হারাও।
Sahih International: Allah wants to accept your repentance, but those who follow [their] passions want you to digress [into] a great deviation.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৭. আর আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান। আর যারা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও।(১)
তাফসীর:
(১) আয়াতের অর্থে কাতাদা ও সুদ্দী বলেন, অর্থাৎ যারা ব্যভিচার বা যারা অন্য মতাদর্শে বিশ্বাসী যেমন, ইয়াহুদী অথবা নাসারা, তারা চায় তোমাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত করতে, প্রবৃত্তি-পুজারী বানাতে। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৭) আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান। আর যারা প্রবৃত্তির অনুসারী তারা চায় যে, তোমরা ভীষণভাবে পথচ্যুত হও। [1]
তাফসীর:
[1] أَنْ تَمِيْلُوْا অর্থাৎ, ন্যায় ছেড়ে অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়া। পথচ্যুত হওয়া।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৬ হতে ২৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা চান কোনটা হালাল কোনটা হারাম তার বিশদভাবে বর্ণনা করে দিতে যাতে তাঁর বান্দারা হালাল গ্রহণ করতে আর হারাম বর্জন করতে পারে। তিনি আরো চান পূর্ববর্তী যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছিলেন তাদের পথ তোমাদেরকে প্রদর্শন করতে এবং তাওবাহ কবুল করতে।
আল্লাহ তা‘আলা চান মানুষের ওপর বিধান হালকা করে দিতে যাতে পালন করতে সহজ হয়। হাদীসে এসেছে: দীন সহজ, কেউ দীন নিয়ে কঠোরতা করলে দীন তার ওপর বিজয়ী হবে। (সহীহ বুখারী হা:৩৯) কেননা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. বান্দার ওপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ অসীম।
২. আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিধান মানুষের পালন করা সাধ্যের অধীন।
৩. প্রতিটি মানুষ তার সহজাত বাসনার কাছে দুর্বল।
৪. প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সঠিক পথের সন্ধান পাওয়া যায় না। একমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ সঠিক পথ দিতে পারে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:
কুরআন ঘোষণা করে- হে মুমিনগণ! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর হালাল ও হারাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে চান, যেমন এ সূরায় এবং অন্যান্য সূরাসমূহে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রশংসনীয় পথে চালাতে চান, যেন তোমরা তাঁর শরীয়তের উপর আমল করতে থাক যে কাজ তাঁর নিকট প্রিয় ও যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান। যে পাপ ও অন্যায়কার্য হতে তোমরা তাওবা করে থাক সে তাওবা তিনি সতুর কবুল করে থাকেন। তিনি মহাজ্ঞানী ও মহা বিজ্ঞানময়। স্বীয় শরীয়তে, স্বীয় অনুমানে, স্বীয় কার্যে ও স্বীয় ঘঘাষণায় তিনি সঠিক জ্ঞান ও পর্ণ নিপুণতার অধিকারী। প্রবত্তি পূজারীরা অর্থাৎ শয়তানের দাস ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা এবং অসৎ লোকেরা তোমাদের পদস্খলন ঘটিয়ে তোমাদেরকে সত্য ও সরল পথ হতে সরিয়ে দিয়ে অন্যায় ও অসত্যের পথে চালাতে চায়। আল্লাহ তা'আলা শরীয়তের আহকাম নির্ধাণের ব্যাপারে তোমাদের পথ সহজ করতে চান এবং এর উপর ভিত্তি করেই কতগুলো শর্ত আরোপ করতঃ দাসীদেরকে বিয়ে করে নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন। মানুষ জন্মগত দুর্বল বলে মহান আল্লাহ স্বীয় আহকামের মধ্যে কোন কাঠিন্য রাখেননি। মানুষ সৃষ্টিগতই দুর্বল বলে তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তি দুর্বল। তারা স্ত্রীদের ব্যাপারে দুর্বল। তারা এখানে এসে একেবারে বোকা বনে যায়।
তাই রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মিরাজের রাত্রে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হতে ফিরে আসেন এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় তখন তিনি রাসূল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনার উপর কি ফরয করা হয়েছে?' তিনি বলেনঃ “প্রত্যহ দিন রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। তখন হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ 'আপনি ফিরে যান এবং মহান আল্লাহর নিকট লঘুকরণের জন্যে প্রার্থনা করুন। আপনার উম্মতের মধ্যে এটা পালনের শক্তি নেই। আপনার পূর্ববর্তী লোকদেরকে আমি পরীক্ষা করেছি। তারা এর চেয়ে বহু কমেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আর আপনার উম্মত তো কর্ণের, চক্ষুর এবং অন্তরের দুর্বলতায় তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।'
অতএব রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে যান এবং দশ ওয়াক্ত কমিয়ে আনেন। পুনরায় হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে একই আলোচনা হয়। তিনি পুনরায় ফিরে যান এবং আবার দশ ওয়াক্ত কম করিয়ে আনেন। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত থেকে যায়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।