আল কুরআন


সূরা আন-নিসা (আয়াত: 26)

সূরা আন-নিসা (আয়াত: 26)



হরকত ছাড়া:

يريد الله ليبين لكم ويهديكم سنن الذين من قبلكم ويتوب عليكم والله عليم حكيم ﴿٢٦﴾




হরকত সহ:

یُرِیْدُ اللّٰهُ لِیُبَیِّنَ لَکُمْ وَ یَهْدِیَکُمْ سُنَنَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِکُمْ وَ یَتُوْبَ عَلَیْکُمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌ حَکِیْمٌ ﴿۲۶﴾




উচ্চারণ: ইউরীদুল্লাহু লিইউবাইয়িনালাকুম ওয়া ইয়াহদিয়াকুম ছুনানাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম ওয়া ইয়াতূবা ‘আলাইকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।




আল বায়ান: আল্লাহ চান তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শ প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের তাওবা কবূল করতে। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৬. আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের কাছে বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করতে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে।(১) আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের নিকট সবিস্তারে বর্ণনা করতে তোমাদের আগেকার লোকেদের নিয়মনীতি তোমাদের দেখানোর গ্রহণের জন্য, আর তোমাদেরকে ক্ষমা করার জন্য; বস্তুতঃ আল্লাহ সুপরিজ্ঞাত, পরম কুশলী।




আহসানুল বায়ান: (২৬) আল্লাহ (তাঁর বিধান) তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শে পরিচালনা করতে এবং তোমাদের তওবা কবুল করতে চান। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ তোমাদের জন্য সবকিছু পরিস্কার বর্ণনা করতে এবং তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীগণের আদর্শসমূহ প্রদর্শন করতে ও তোমাদেরকে ক্ষমা করতে ইচ্ছা করেন এবং আল্লাহ মহাজ্ঞানী, বিজ্ঞানময়।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ তোমাদের জন্য (সবকিছু) পরিষ্কার করে দিতে চান, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ দেখিয়ে দিতে চান এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতে চান। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, পরম প্রাজ্ঞ।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তোমাদের জন্যে সব কিছু পরিষ্কার বর্ণনা করে দিতে চান, তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ প্রদর্শন করতে চান। এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে চান, আল্লাহ মহাজ্ঞানী রহস্যবিদ।



জহুরুল হক: আল্লাহ্ চান তোমাদের পূর্ববর্তী যারা ছিল তাদের দৃষ্টান্তেরদ্বারা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট করতে ও তোমাদের হেদায়ত করতে, আর তোমাদের দিকে ফিরতে। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।



Sahih International: Allah wants to make clear to you [the lawful from the unlawful] and guide you to the [good] practices of those before you and to accept your repentance. And Allah is Knowing and Wise.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৬. আল্লাহ ইচ্ছে করেন তোমাদের কাছে বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি তোমাদেরকে অবহিত করতে এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করতে।(১) আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের মা ও কন্যাদের হারাম হওয়ার ব্যাপারটি বিস্তারিত বর্ণনা করতে চান। আর এটাও জানিয়ে দিতে চান যে, এটা পূর্বে কখনও হালাল ছিল না। সব শরীআতেই মা ও মেয়ে হারাম ছিল। [আত-তাফসীরুস সহীহ] অনুরূপভাবে তিনি চান তোমাদেরকে হিদায়াত দিতে বা মিল্লাতে ইবরাহীমীর প্রতি দিকনির্দেশ করতে এবং বর্ণনা আসার পূর্বে তোমাদের কৃত এ জাতীয় গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে। [বাগভী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৬) আল্লাহ (তাঁর বিধান) তোমাদের নিকট বিশদভাবে বিবৃত করতে, তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তীদের আদর্শে পরিচালনা করতে এবং তোমাদের তওবা কবুল করতে চান। বস্তুতঃ আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৬ হতে ২৮ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা চান কোনটা হালাল কোনটা হারাম তার বিশদভাবে বর্ণনা করে দিতে যাতে তাঁর বান্দারা হালাল গ্রহণ করতে আর হারাম বর্জন করতে পারে। তিনি আরো চান পূর্ববর্তী যাদের ওপর তিনি অনুগ্রহ করেছিলেন তাদের পথ তোমাদেরকে প্রদর্শন করতে এবং তাওবাহ কবুল করতে।



আল্লাহ তা‘আলা চান মানুষের ওপর বিধান হালকা করে দিতে যাতে পালন করতে সহজ হয়। হাদীসে এসেছে: দীন সহজ, কেউ দীন নিয়ে কঠোরতা করলে দীন তার ওপর বিজয়ী হবে। (সহীহ বুখারী হা:৩৯) কেননা মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:

১. বান্দার ওপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ অসীম।

২. আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত বিধান মানুষের পালন করা সাধ্যের অধীন।

৩. প্রতিটি মানুষ তার সহজাত বাসনার কাছে দুর্বল।

৪. প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সঠিক পথের সন্ধান পাওয়া যায় না। একমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ সঠিক পথ দিতে পারে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:

কুরআন ঘোষণা করে- হে মুমিনগণ! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর হালাল ও হারাম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে চান, যেমন এ সূরায় এবং অন্যান্য সূরাসমূহে তিনি বর্ণনা করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রশংসনীয় পথে চালাতে চান, যেন তোমরা তাঁর শরীয়তের উপর আমল করতে থাক যে কাজ তাঁর নিকট প্রিয় ও যে কাজে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি তোমাদের তাওবা কবুল করতে চান। যে পাপ ও অন্যায়কার্য হতে তোমরা তাওবা করে থাক সে তাওবা তিনি সতুর কবুল করে থাকেন। তিনি মহাজ্ঞানী ও মহা বিজ্ঞানময়। স্বীয় শরীয়তে, স্বীয় অনুমানে, স্বীয় কার্যে ও স্বীয় ঘঘাষণায় তিনি সঠিক জ্ঞান ও পর্ণ নিপুণতার অধিকারী। প্রবত্তি পূজারীরা অর্থাৎ শয়তানের দাস ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা এবং অসৎ লোকেরা তোমাদের পদস্খলন ঘটিয়ে তোমাদেরকে সত্য ও সরল পথ হতে সরিয়ে দিয়ে অন্যায় ও অসত্যের পথে চালাতে চায়। আল্লাহ তা'আলা শরীয়তের আহকাম নির্ধাণের ব্যাপারে তোমাদের পথ সহজ করতে চান এবং এর উপর ভিত্তি করেই কতগুলো শর্ত আরোপ করতঃ দাসীদেরকে বিয়ে করে নেয়া তোমাদের জন্যে বৈধ করেছেন। মানুষ জন্মগত দুর্বল বলে মহান আল্লাহ স্বীয় আহকামের মধ্যে কোন কাঠিন্য রাখেননি। মানুষ সৃষ্টিগতই দুর্বল বলে তার আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃত্তি দুর্বল। তারা স্ত্রীদের ব্যাপারে দুর্বল। তারা এখানে এসে একেবারে বোকা বনে যায়।

তাই রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন মিরাজের রাত্রে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ হতে ফিরে আসেন এবং হযরত মূসা কালীমুল্লাহ (আঃ)-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় তখন তিনি রাসূল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আপনার উপর কি ফরয করা হয়েছে?' তিনি বলেনঃ “প্রত্যহ দিন রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায। তখন হযরত মূসা (আঃ) বলেনঃ 'আপনি ফিরে যান এবং মহান আল্লাহর নিকট লঘুকরণের জন্যে প্রার্থনা করুন। আপনার উম্মতের মধ্যে এটা পালনের শক্তি নেই। আপনার পূর্ববর্তী লোকদেরকে আমি পরীক্ষা করেছি। তারা এর চেয়ে বহু কমেও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। আর আপনার উম্মত তো কর্ণের, চক্ষুর এবং অন্তরের দুর্বলতায় তাদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে।'

অতএব রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফিরে যান এবং দশ ওয়াক্ত কমিয়ে আনেন। পুনরায় হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে একই আলোচনা হয়। তিনি পুনরায় ফিরে যান এবং আবার দশ ওয়াক্ত কম করিয়ে আনেন। অবশেষে পাঁচ ওয়াক্ত থেকে যায়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।