আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 59)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 59)



হরকত ছাড়া:

إن الساعة لآتية لا ريب فيها ولكن أكثر الناس لا يؤمنون ﴿٥٩﴾




হরকত সহ:

اِنَّ السَّاعَۃَ لَاٰتِیَۃٌ لَّا رَیْبَ فِیْهَا وَ لٰکِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یُؤْمِنُوْنَ ﴿۵۹﴾




উচ্চারণ: ইন্নাছ ছা-‘আতা লা- আ-তিয়াতুল লা-রাইবা ফীহা-,ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লাইউ’মিনূন।




আল বায়ান: নিশ্চয় কিয়ামত আসবেই, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৯. নিশ্চয় কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: ক্বিয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোক (তা) বিশ্বাস করে না।




আহসানুল বায়ান: (৫৯) কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।



মুজিবুর রহমান: কিয়ামাত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু অধিকাংশ লোক বিশ্বাস করেনা।



ফযলুর রহমান: কেয়ামত অবশ্যই আসবে, সে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে না।



মুহিউদ্দিন খান: কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে সন্দেহ নেই; কিন্ত অধিকাংশ লোক বিশ্বাস স্থাপন করে না।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ ঘড়িঘন্টা প্রায় এসেই গেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। কিন্ত অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।



Sahih International: Indeed, the Hour is coming - no doubt about it - but most of the people do not believe.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৯. নিশ্চয় কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই; কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৯) কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোকই বিশ্বাস করে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৭-৫৯ আয়াতের তাফসীর :



( لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ.....)



অত্র আয়াতে মূলত আল্লাহ তা‘আলা যে মৃত্যুর পর মানবজাতিকে পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম সে কথাই বলা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আকাশ ও জমিন সৃষ্টির তুলনায় তাদেরকে পুনরায় জীবিত করা কোন কঠিন কাজ নয়। এটা তাঁর নিকট অধিক সহজ একটি কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰي ط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)



“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃতকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহক্বা-ফ ৪৬ : ৩৩) এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা নাহ্লসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি যেমন সমান নয় তেমনি ঈমানদার সদামলকারী ও খারাপ লোক এক-সমান নয়। আর তা পরিষ্কার হয়ে যাবে কিয়ামতের দিন যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। কিন্তু এভাবে স্পষ্ট বর্ণনার পরেও অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না বা তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না।



المسئ অর্থ হলো, “মন্দ কর্ম” এখানে যারা মন্দকর্মপরায়ণ তাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম।

২. অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যেমন সমান হতে পারে না। তেমনি সৎ কাজ ও মন্দ কাজ কখনো সমান হতে পারে না। সৎ কাজের প্রতিদান জান্নাত, আর অসৎ কাজের প্রতিদান হলো জাহান্নাম।

৩. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, এটাকে অস্বীকার করার কোনই সুযোগ নেই।

৪. সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি না। কারণ সংখ্যা বেশি হলেই যে তা সঠিক এমনটি নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:

ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ বলেন যে, তিনি কিয়ামতের দিন মাখলুককে নতুনভাবে অবশ্যই সৃষ্টি করবেন। তিনি যখন আকাশ ও পৃথিবীর মত বিরাট বস্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন মানুষকে সৃষ্টি করা অথবা ধ্বংস করে দিয়ে পুনরায় তাদেরকে সৃষ্টি করা তার কাছে মোটেই কঠিন নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলো সৃষ্টি করতে ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? হাঁ (অবশ্যই তিনি সক্ষম), নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।” (৪৬:৩৩) যার সামনে এমন সুস্পষ্ট দলীল বিদ্যমান তার পক্ষে এটা অবিশ্বাস করা তার অজ্ঞানতা ও নির্বুদ্ধিতারই পরিচায়ক বটে। সে যে একেবারে নির্বোধ এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, বিরাট হতে বিরাটতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে, অথচ ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে না! বরং এটাকে অসম্ভব মনে করা হচ্ছে! অন্ধ ও চক্ষুষ্মনের পার্থক্য যেমন প্রকাশমান, অনুরূপভাবে মুসলিম ও মুজরিমের পার্থক্যও সুস্পষ্ট। সৎকর্মশীল ও দুষ্কৃতিকারীর পার্থক্য পরিষ্কার। অধিকাংশ লোকই উপদেশ খুব কমই গ্রহণ করে থাকে।

কিয়ামত যে সংঘটিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তথাপি অধিকাংশ লোকই এটা বিশ্বাস করে না।

একজন ইয়ামনবাসী তার শোনা কথা বর্ণনা করেছেন যে, যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তখন মানুষের উপর খুব বেশী বিপদাপদ আপতিত হবে এবং সূর্যের প্রখরতা খুব বেশী হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।