আল কুরআন


সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 58)

সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 58)



হরকত ছাড়া:

وما يستوي الأعمى والبصير والذين آمنوا وعملوا الصالحات ولا المسيء قليلا ما تتذكرون ﴿٥٨﴾




হরকত সহ:

وَ مَا یَسْتَوِی الْاَعْمٰی وَ الْبَصِیْرُ ۬ۙ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَ لَا الْمُسِیْٓءُ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَتَذَکَّرُوْنَ ﴿۵۸﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি ওয়ালাল মুছীউ কালীলাম মা-তাতাযাক্কারূন।




আল বায়ান: আর সমান হয় না অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আর যারা অপরাধী। তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৮. আর সমান হয় না অন্ধ ও চক্ষুষ্মান, অনুরূপ যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারা আর মন্দকর্মকারী। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্ৰহণ করে থাক।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অন্ধ আর চক্ষুষ্মান সমান নয়, (সমান নয়) যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে আর যারা অন্যায়কারী। উপদেশ থেকে শিক্ষা তোমরা সামান্যই গ্রহণ কর।




আহসানুল বায়ান: (৫৮) সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে এবং যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ।[1] তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।



মুজিবুর রহমান: সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুম্মান এবং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আর যারা দুস্কৃতিপরায়ণ। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।



ফযলুর রহমান: অন্ধ আর দৃষ্টিসম্পন্ন সমান নয়; (সমান) নয় ঈমানদার ও সৎকর্মশীলগণ আর অন্যায়কারীও। তোমরা কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।



মুহিউদ্দিন খান: অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং কুকর্মী। তোমরা অল্পই অনুধাবন করে থাক।



জহুরুল হক: আর অন্ধ ও চক্ষুষ্মান একসমান নয়, আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে এবং দুস্কর্মকারীরাও নয়। সামান্যই তা যা তোমরা মনোনিবেশ করে থাকো!



Sahih International: And not equal are the blind and the seeing, nor are those who believe and do righteous deeds and the evildoer. Little do you remember.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৮. আর সমান হয় না অন্ধ ও চক্ষুষ্মান, অনুরূপ যারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে তারা আর মন্দকর্মকারী। তোমরা অল্পই উপদেশ গ্ৰহণ করে থাক।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৮) সমান নয় অন্ধ ও চক্ষুষ্মান এবং যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে এবং যারা দুষ্কৃতিপরায়ণ।[1] তোমরা অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।


তাফসীর:

[1] অর্থ হল, যেরূপ অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয়, অনুরূপ মু’মিন ও কাফের এবং নেককার ও বদকারও সমান নয়। বরং কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে যে বিরাট তফাৎ হবে, তা পরিষ্কারভাবে সামনে এসে যাবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৭-৫৯ আয়াতের তাফসীর :



( لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ.....)



অত্র আয়াতে মূলত আল্লাহ তা‘আলা যে মৃত্যুর পর মানবজাতিকে পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম সে কথাই বলা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আকাশ ও জমিন সৃষ্টির তুলনায় তাদেরকে পুনরায় জীবিত করা কোন কঠিন কাজ নয়। এটা তাঁর নিকট অধিক সহজ একটি কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰي ط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)



“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃতকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহক্বা-ফ ৪৬ : ৩৩) এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা নাহ্লসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি যেমন সমান নয় তেমনি ঈমানদার সদামলকারী ও খারাপ লোক এক-সমান নয়। আর তা পরিষ্কার হয়ে যাবে কিয়ামতের দিন যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। কিন্তু এভাবে স্পষ্ট বর্ণনার পরেও অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না বা তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না।



المسئ অর্থ হলো, “মন্দ কর্ম” এখানে যারা মন্দকর্মপরায়ণ তাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম।

২. অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যেমন সমান হতে পারে না। তেমনি সৎ কাজ ও মন্দ কাজ কখনো সমান হতে পারে না। সৎ কাজের প্রতিদান জান্নাত, আর অসৎ কাজের প্রতিদান হলো জাহান্নাম।

৩. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, এটাকে অস্বীকার করার কোনই সুযোগ নেই।

৪. সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি না। কারণ সংখ্যা বেশি হলেই যে তা সঠিক এমনটি নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৭-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:

ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ বলেন যে, তিনি কিয়ামতের দিন মাখলুককে নতুনভাবে অবশ্যই সৃষ্টি করবেন। তিনি যখন আকাশ ও পৃথিবীর মত বিরাট বস্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন মানুষকে সৃষ্টি করা অথবা ধ্বংস করে দিয়ে পুনরায় তাদেরকে সৃষ্টি করা তার কাছে মোটেই কঠিন নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলো সৃষ্টি করতে ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? হাঁ (অবশ্যই তিনি সক্ষম), নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।” (৪৬:৩৩) যার সামনে এমন সুস্পষ্ট দলীল বিদ্যমান তার পক্ষে এটা অবিশ্বাস করা তার অজ্ঞানতা ও নির্বুদ্ধিতারই পরিচায়ক বটে। সে যে একেবারে নির্বোধ এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, বিরাট হতে বিরাটতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে, অথচ ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে না! বরং এটাকে অসম্ভব মনে করা হচ্ছে! অন্ধ ও চক্ষুষ্মনের পার্থক্য যেমন প্রকাশমান, অনুরূপভাবে মুসলিম ও মুজরিমের পার্থক্যও সুস্পষ্ট। সৎকর্মশীল ও দুষ্কৃতিকারীর পার্থক্য পরিষ্কার। অধিকাংশ লোকই উপদেশ খুব কমই গ্রহণ করে থাকে।

কিয়ামত যে সংঘটিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তথাপি অধিকাংশ লোকই এটা বিশ্বাস করে না।

একজন ইয়ামনবাসী তার শোনা কথা বর্ণনা করেছেন যে, যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তখন মানুষের উপর খুব বেশী বিপদাপদ আপতিত হবে এবং সূর্যের প্রখরতা খুব বেশী হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।