আল কুরআন


সূরা আর-রুম (আয়াত: 56)

সূরা আর-রুম (আয়াত: 56)



হরকত ছাড়া:

وقال الذين أوتوا العلم والإيمان لقد لبثتم في كتاب الله إلى يوم البعث فهذا يوم البعث ولكنكم كنتم لا تعلمون ﴿٥٦﴾




হরকত সহ:

وَ قَالَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْعِلْمَ وَ الْاِیْمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِیْ کِتٰبِ اللّٰهِ اِلٰی یَوْمِ الْبَعْثِ ۫ فَهٰذَا یَوْمُ الْبَعْثِ وَ لٰکِنَّکُمْ کُنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴿۵۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লাল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা ওয়াল ঈমা-না লাকাদ লাবিছতুম ফী কিতা-বিল্লা-হি ইলা-ইয়াওমিল বা‘ছি ফাহা-যা-ইয়াওমুল বা‘ছিওয়ালা-কিন্নাকুম কনতুম লা-তা‘লামূন।




আল বায়ান: আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে তারা বলবে, ‘তোমরা আল্লাহর বিধান মত পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। আর এটি পুনরুত্থান দিবস। কিন্তু তোমরা জানতে না।’




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে(১) তারা বলবে, অবশ্যই তোমরা আল্লাহর লিখা অনুযায়ী পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছ। সুতরাং এটাই তো পুনরুত্থান দিন, কিন্তু তোমরা জানতে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যাদেরকে ঈমান ও জ্ঞান দেয়া হয়েছিল তারা বলবে- তোমরা আল্লাহর কিতাব মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। এটাই হল পুনরুত্থান দিবস কিন্তু তোমরা জানতে না।




আহসানুল বায়ান: (৫৬) কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও বিশ্বাস দেওয়া হয়েছে তারা বলবে,[1] ‘তোমরা তো আল্লাহর বিধানে[2] পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ।[3] এটিই তো পুনরুত্থান দিবস; কিন্তু তোমরা জানতে না।’ [4]



মুজিবুর রহমান: কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে তারা বলবেঃ তোমরাতো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ। এটাইতো পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতেনা।



ফযলুর রহমান: যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেওয়া হয়েছে তারা বলবে, “তোমরা তো আল্লাহর লিখন (বিধান) অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছো। আর এটাই হল পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতে না।”



মুহিউদ্দিন খান: যাদের জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে আমরা আল্লাহর কিতাব মতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছি। এটাই পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা তা জানতে না।



জহুরুল হক: আর যাদের জ্ঞান ও বিশ্বাস দেওয়া হয়েছে তারা বলবে -- "তোমরা তো আল্লাহ্‌র বিধান অনুসারে অবস্থান করেছিলে পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত, -- সেজন্য এই-ই হচ্ছে পুনরুত্থানের দিন, কিন্তু তোমরা না-জানা অবস্থায় রয়েছ।"



Sahih International: But those who were given knowledge and faith will say, "You remained the extent of Allah 's decree until the Day of Resurrection, and this is the Day of Resurrection, but you did not used to know."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৬. আর যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে(১) তারা বলবে, অবশ্যই তোমরা আল্লাহর লিখা অনুযায়ী পুনরুত্থানের দিন পর্যন্ত অবস্থান করেছ। সুতরাং এটাই তো পুনরুত্থান দিন, কিন্তু তোমরা জানতে না।


তাফসীর:

(১) আল্লামা শানকীতী বলেন, এখানে যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে বলে, ফেরেশতাগণ, রাসূলগণ, নবীগণ, সৎবান্দাগণ সবই উদ্দেশ্য হতে পারে। [আদওয়াউল বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৬) কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও বিশ্বাস দেওয়া হয়েছে তারা বলবে,[1] ‘তোমরা তো আল্লাহর বিধানে[2] পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ।[3] এটিই তো পুনরুত্থান দিবস; কিন্তু তোমরা জানতে না।” [4]


তাফসীর:

[1] যেমন তারা পৃথিবীতেও বুঝিয়েছিল।

[2] كتاب الله (আল্লাহর বিধান) বলতে আল্লাহর ইলম ও তাঁর ফায়সালা, অর্থাৎ ‘লাওহে মাহফূয’ উদ্দেশ্য।

[3] অর্থাৎ, জন্মদিন হতে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত।

[4] তোমরা জানতে না যে, কিয়ামত আসবে বরং ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও মিথ্যাজ্ঞান করে তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দাবী করতে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে যে, কাফির-মুশরিকরা কিয়ামতের মাঠের ভয়াবহতা ও তাদের দূরবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে: আমরা দুনিয়াতে অল্প কিছুক্ষণ অবস্থান করেছি। এ ওজর পেশ করবে এজন্য যে, যাতে শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। সুতরাং এ অল্প সময়ের জন্য আমরা এতো বড় শাস্তির হকদার হতে পারি না। তখন তাদের বিরুদ্ধে মু’মিনগণ সাক্ষ্য দিয়ে বলবে যে, বরং তোমরা পুনরুত্থান পর্যন্ত দুনিয়াতে অবস্থান করেছ। অতএব তখন তাদের কোন ওজর কবূল করা হবে না এবং তাদেরকে কোন সুযোগও প্রদান করা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَيَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيْدًا ثُمَّ لَا يُؤْذَنُ لِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُوْنَ)‏



“যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করব সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করারও সুযোগ দেয়া হবে না।” (সূরা নাহল ১৬:৮৪)



সুতরাং যারা কুফরী ও শির্ক করে নিজেদের ওপর জুলুম করেছে কিয়ামতের দিন তাদের ওজর কোন কাজে আসবে না। তাই প্রত্যেক জালিমদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেদিন ওজর পেশ করার কোন সুযোগ থাকবে না সেদিন আসার পূর্বেই নিজেকে সংশোধন করে নেয়া।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মৃত্যুর পর মানুষের ওজর-আপত্তি কোনই কাজে আসবে না।

২. কিয়ামত অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

৩. যারা ঈমান ও সঠিক জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত তারা কিয়ামতের দিন সঠিক সাক্ষ্য দেবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, কাফিররা দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে একেবারেই মূখ। তাদের মূর্খতা এভাবেই প্রকাশ পায় যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে। পরকালেও তারা অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলবেঃ আমরা দুনিয়ায় মাত্র এক ঘন্টাকাল অবস্থান করেছি।' একথা বলে তারা প্রমাণ করতে চাইবে যে, এতো কম সময়ের কারণে তাদের উপর কোন দাবী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমার্হ মনে করা হালে। এজন্যেই আল্লাহ পাক বলেন যে, এভাবেই দুনিয়ায় তারা সত্যভ্রষ্ট হতো।

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে। তারা (এই অজ্ঞ কাফিরদেরকে) বলবেঃ তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছে। আর এটাই তো পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতে না। তাই তোমরা অজ্ঞই থেকে গেলে।।

সুতরাং কিয়ামতের দিন এই সীমালংঘনকারীদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তাদের ওযর আপত্তি তাদের কোনই উপকারে আসবে না। তাদেরকে আর দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যদি তারা দুনিয়ায় ফিরে আসতে চায় তবে তারা ফিরে আসতে পারবে না।” (৪১:২৪)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।