সূরা আর-রুম (আয়াত: 55)
হরকত ছাড়া:
ويوم تقوم الساعة يقسم المجرمون ما لبثوا غير ساعة كذلك كانوا يؤفكون ﴿٥٥﴾
হরকত সহ:
وَ یَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَۃُ یُقْسِمُ الْمُجْرِمُوْنَ ۬ۙ مَا لَبِثُوْا غَیْرَ سَاعَۃٍ ؕ کَذٰلِکَ کَانُوْا یُؤْفَکُوْنَ ﴿۵۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছ ছা-‘আতুইউকছিমুল মুজরিমূনা মা-লাবিছূগাইরা ছা‘আতিন কাযা-লিকা কা-নূইউ’ফাকূন।
আল বায়ান: আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে, তারা মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যবিমুখ থেকেছে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৫. আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা মুহুর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি।(১) এভাবেই তাদেরকে পথ ভ্ৰষ্ট করা হত।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অন্যায়কারীরা কসম করে বলবে যে, তারা মূহূর্তকালের বেশি অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হত।
আহসানুল বায়ান: (৫৫) যেদিন কিয়ামত হবে,[1] সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা (পৃথিবীতে) মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি।[2] এভাবেই তারা সত্য বিমুখ হত। [3]
মুজিবুর রহমান: যেদিন কিয়ামাত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা এক ঘন্টার বেশি (দুনিয়ায়) অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যভ্রষ্ট হত।
ফযলুর রহমান: যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা কিছুক্ষণের বেশি (দুনিয়ায়) অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যবিচ্যুত হত।
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন কেয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম খেয়ে বলবে যে, এক মুহুর্তেরও বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবে তারা সত্যবিমুখ হত।
জহুরুল হক: আর যেদিন ঘড়িঘন্টা সংস্থাপিত হবে তখন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে এক ঘড়ি ব্যতীত তারা অবস্থান করে নি। এইভাবেই তারা প্রতারিত হয়ে চলেছে।
Sahih International: And the Day the Hour appears the criminals will swear they had remained but an hour. Thus they were deluded.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৫. আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা মুহুর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি।(১) এভাবেই তাদেরকে পথ ভ্ৰষ্ট করা হত।(২)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ হাশরে কাফেররা কসম খেয়ে এই মিথ্যা কথা বলবে, আমরা দুনিয়াতে অথবা কবরে এক মুহুর্তের বেশী থাকিনি। অন্য এক আয়াতে মুশরিকদের এই উক্তি বর্ণিত আছে, “তারা কসম খেয়ে বলবে আমরা মুশরিক ছিলাম না।” [সূরা আল আন’আম: ২৩] এর কারণ এই যে, হাশরের ময়দানে রাব্বুল আলমীনের আদালত কায়েম হবে। তিনি সবাইকে স্বাধীনতা দেবেন। তারা সত্য কিংবা মিথ্যা যে কোন বিবৃতি দিতে পারবে। কেননা, রাব্বুল আলমীনের ব্যক্তিগত জ্ঞানও পূর্ণমাত্রায় আছে এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্যে তিনি তাদের স্বীকারোক্তি করা না করার মুখাপেক্ষী নন। মানুষ যখন মিথ্যা বলবে, তখন তার মুখ মোহরাঙ্কিত করে দেয়া হবে এবং তার হস্ত-পদ ও চর্ম থেকে সাক্ষ্য নেয়া হবে। এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা বিবৃত করে দেবে। এরপর আর কোন প্রমাণ আবশ্যক হবে না। আলোচ্য আয়াতের অর্থ তাই।
কুরআনের অন্যান্য আয়াত থেকে জানা যায় যে, হাশরের মাঠে বিভিন্ন অবস্থানস্থল হবে এবং প্রত্যেক অবস্থানস্থলের অবস্থা ভিন্নরূপ হবে। এক অবস্থানস্থলে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারও কথা বলার অধিকার থাকবে না। যাকে অনুমতি দেয়া হবে, সে কেবল সত্য ও নির্ভুল কথা বলতে পারবে মিথ্যা বলার সামৰ্থ্য থাকবে না। যেমন এরশাদ হয়েছে, “যখন সেদিন আসবে তখন আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কথা বলতে পারবে না”। সূরা হূদ: ১০৫] এর বিপরীতে সহীহ হাদীসে বর্ণিত আছে যে, কবরে যখন কাফেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার পালনকর্তা কে এবং মুহাম্মদ কে? তখন সে বলবে, ‘হায়, হায়, আমি কিছুই জানি না” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৮৭, ২৯৫–২৯৬, আবু দাউদ: ৪৭৫৩]।
(২) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ এভাবেই তারা দুনিয়াতে মিথ্যা বলত। তারা সত্য থেকে বিমুখ থাকত। সত্য থেকে বিরত হয়ে মিথ্যার দিকে চলে যেত। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৫) যেদিন কিয়ামত হবে,[1] সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা (পৃথিবীতে) মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি।[2] এভাবেই তারা সত্য বিমুখ হত। [3]
তাফসীর:
[1] سَاعَة এর অর্থ হল সময়, কাল, মুহূর্ত। উদ্দেশ্য হল মহাকাল কিয়ামতের দিন। سَاعَة এই জন্য বলা হয়েছে যে, আল্লাহ যখনই চাইবেন তা মুহূর্তের মধ্যে সাথে সাথে প্রতিষ্ঠিত হবে অথবা এই জন্য বলা হয়েছে যে, তা যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, তখনকার সময়টা হবে পৃথিবীর সর্বশেষ সময়।
[2] পৃথিবীতে অথবা কবরে। তারা নিজেদের অভ্যাস মত মিথ্যা কসম খাবে। কারণ তারা পৃথিবীতে যতদিন অবস্থান করেছে তা তো তাদের জানা। আর যদি উদ্দেশ্য কবরের জীবন হয়, তবে তাদের কসম অজ্ঞতাবশতঃ হবে। কারণ কবরের অবস্থানের সময় তাদের অজানা। অনেকে বলেন যে, কিয়ামতের কঠিনতা ও ভয়াবহতা (বা দীর্ঘতা)র কারণে পৃথিবীর জীবন তাদেরকে সামান্য ক্ষণ বা মুহূর্তকাল মনে হবে।
[3] أَفَكَ الرَّجُلُ এর অর্থ হল ‘সত্যবিমুখ হয়ে গেছে’ উদ্দেশ্য তারা পৃথিবীতে সত্য থেকে বিমুখ ছিল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে যে, কাফির-মুশরিকরা কিয়ামতের মাঠের ভয়াবহতা ও তাদের দূরবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে: আমরা দুনিয়াতে অল্প কিছুক্ষণ অবস্থান করেছি। এ ওজর পেশ করবে এজন্য যে, যাতে শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। সুতরাং এ অল্প সময়ের জন্য আমরা এতো বড় শাস্তির হকদার হতে পারি না। তখন তাদের বিরুদ্ধে মু’মিনগণ সাক্ষ্য দিয়ে বলবে যে, বরং তোমরা পুনরুত্থান পর্যন্ত দুনিয়াতে অবস্থান করেছ। অতএব তখন তাদের কোন ওজর কবূল করা হবে না এবং তাদেরকে কোন সুযোগও প্রদান করা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيْدًا ثُمَّ لَا يُؤْذَنُ لِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُوْنَ)
“যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করব সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করারও সুযোগ দেয়া হবে না।” (সূরা নাহল ১৬:৮৪)
সুতরাং যারা কুফরী ও শির্ক করে নিজেদের ওপর জুলুম করেছে কিয়ামতের দিন তাদের ওজর কোন কাজে আসবে না। তাই প্রত্যেক জালিমদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেদিন ওজর পেশ করার কোন সুযোগ থাকবে না সেদিন আসার পূর্বেই নিজেকে সংশোধন করে নেয়া।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মৃত্যুর পর মানুষের ওজর-আপত্তি কোনই কাজে আসবে না।
২. কিয়ামত অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
৩. যারা ঈমান ও সঠিক জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত তারা কিয়ামতের দিন সঠিক সাক্ষ্য দেবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, কাফিররা দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে একেবারেই মূখ। তাদের মূর্খতা এভাবেই প্রকাশ পায় যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে। পরকালেও তারা অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলবেঃ আমরা দুনিয়ায় মাত্র এক ঘন্টাকাল অবস্থান করেছি।' একথা বলে তারা প্রমাণ করতে চাইবে যে, এতো কম সময়ের কারণে তাদের উপর কোন দাবী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমার্হ মনে করা হালে। এজন্যেই আল্লাহ পাক বলেন যে, এভাবেই দুনিয়ায় তারা সত্যভ্রষ্ট হতো।
এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে। তারা (এই অজ্ঞ কাফিরদেরকে) বলবেঃ তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছে। আর এটাই তো পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতে না। তাই তোমরা অজ্ঞই থেকে গেলে।।
সুতরাং কিয়ামতের দিন এই সীমালংঘনকারীদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তাদের ওযর আপত্তি তাদের কোনই উপকারে আসবে না। তাদেরকে আর দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যদি তারা দুনিয়ায় ফিরে আসতে চায় তবে তারা ফিরে আসতে পারবে না।” (৪১:২৪)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।