সূরা আর-রুম (আয়াত: 57)
হরকত ছাড়া:
فيومئذ لا ينفع الذين ظلموا معذرتهم ولا هم يستعتبون ﴿٥٧﴾
হরকত সহ:
فَیَوْمَئِذٍ لَّا یَنْفَعُ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا مَعْذِرَتُهُمْ وَ لَا هُمْ یُسْتَعْتَبُوْنَ ﴿۵۷﴾
উচ্চারণ: ফাইয়াওমাইযিল লা-ইয়ানফা‘উল্লাযীনা জালামূমা‘যিরাতুহুম ওয়ালা-হুম ইউছতা‘তাবূন।
আল বায়ান: অতঃপর যারা যুলম করেছে, সেদিন তাদের কোন ওযর-আপত্তি উপকারে আসবে না এবং (আল্লাহকে) সন্তুষ্ট করতেও তাদেরকে বলা হবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. সুতরাং যারা যুলুম করেছে সেদিন তাদের ওযর-আপত্তি তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে তিরস্কৃত হওয়ার (মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের) সুযোগও দেয়া হবে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অন্যায়কারীদের ওযর আপত্তি সেদিন কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে সংশোধনেরও সুযোগ দেয়া হবে না।
আহসানুল বায়ান: (৫৭) সেদিন সীমালংঘনকারীদের ওজর-আপত্তি ওদের কাজে আসবে না এবং ওদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের সুযোগও দেওয়া হবে না। [1]
মুজিবুর রহমান: সেদিন সীমা লংঘনকারীর ওযর আপত্তি তাদের কাজে আসবেনা এবং তাদেরকে (আল্লাহর) সন্তুষ্টি লাভের সুযোগও দেয়া হবেনা।
ফযলুর রহমান: সেদিন অন্যায়কারীদের ওজর-আপত্তি তাদের কাজে আসবে না এবং তাদেরকে তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগও দেওয়া হবে না।
মুহিউদ্দিন খান: সেদিন জালেমদের ওযর-আপত্তি তাদের কোন উপকারে আসবে না এবং তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সুযোগও তাদের দেয়া হবে না।
জহুরুল হক: সুতরাং সেইদিন যারা অন্যায় করেছিল তাদের ওজর আপত্তি কোনো কাজে আসবে না, আর তাদের সদয়ভাবে লওয়াও হবে না।
Sahih International: So that Day, their excuse will not benefit those who wronged, nor will they be asked to appease [Allah].
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৭. সুতরাং যারা যুলুম করেছে সেদিন তাদের ওযর-আপত্তি তাদের কোন কাজে আসবে না এবং তাদেরকে তিরস্কৃত হওয়ার (মাধ্যমে আল্লাহ্–র সন্তুষ্টি লাভের) সুযোগও দেয়া হবে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৭) সেদিন সীমালংঘনকারীদের ওজর-আপত্তি ওদের কাজে আসবে না এবং ওদেরকে আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের সুযোগও দেওয়া হবে না। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তাদেরকে পৃথিবীতে পুনরায় প্রেরণ করে তওবা ও আনুগত্য করে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন সুযোগ দেওয়া হবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে আলোচনা করা হয়েছে যে, কাফির-মুশরিকরা কিয়ামতের মাঠের ভয়াবহতা ও তাদের দূরবস্থা দেখে আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে: আমরা দুনিয়াতে অল্প কিছুক্ষণ অবস্থান করেছি। এ ওজর পেশ করবে এজন্য যে, যাতে শাস্তি থেকে বেঁচে যায়। সুতরাং এ অল্প সময়ের জন্য আমরা এতো বড় শাস্তির হকদার হতে পারি না। তখন তাদের বিরুদ্ধে মু’মিনগণ সাক্ষ্য দিয়ে বলবে যে, বরং তোমরা পুনরুত্থান পর্যন্ত দুনিয়াতে অবস্থান করেছ। অতএব তখন তাদের কোন ওজর কবূল করা হবে না এবং তাদেরকে কোন সুযোগও প্রদান করা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَوْمَ نَبْعَثُ مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ شَهِيْدًا ثُمَّ لَا يُؤْذَنُ لِلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُوْنَ)
“যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একজন সাক্ষী উত্থিত করব সেদিন কাফিরদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না এবং তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করারও সুযোগ দেয়া হবে না।” (সূরা নাহল ১৬:৮৪)
সুতরাং যারা কুফরী ও শির্ক করে নিজেদের ওপর জুলুম করেছে কিয়ামতের দিন তাদের ওজর কোন কাজে আসবে না। তাই প্রত্যেক জালিমদের সতর্ক হওয়া উচিত, যেদিন ওজর পেশ করার কোন সুযোগ থাকবে না সেদিন আসার পূর্বেই নিজেকে সংশোধন করে নেয়া।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মৃত্যুর পর মানুষের ওজর-আপত্তি কোনই কাজে আসবে না।
২. কিয়ামত অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।
৩. যারা ঈমান ও সঠিক জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত তারা কিয়ামতের দিন সঠিক সাক্ষ্য দেবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, কাফিররা দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে একেবারেই মূখ। তাদের মূর্খতা এভাবেই প্রকাশ পায় যে, তারা আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে। পরকালেও তারা অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলবেঃ আমরা দুনিয়ায় মাত্র এক ঘন্টাকাল অবস্থান করেছি।' একথা বলে তারা প্রমাণ করতে চাইবে যে, এতো কম সময়ের কারণে তাদের উপর কোন দাবী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমার্হ মনে করা হালে। এজন্যেই আল্লাহ পাক বলেন যে, এভাবেই দুনিয়ায় তারা সত্যভ্রষ্ট হতো।
এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে। তারা (এই অজ্ঞ কাফিরদেরকে) বলবেঃ তোমরা তো আল্লাহর বিধানে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছে। আর এটাই তো পুনরুত্থান দিবস, কিন্তু তোমরা জানতে না। তাই তোমরা অজ্ঞই থেকে গেলে।।
সুতরাং কিয়ামতের দিন এই সীমালংঘনকারীদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তাদের ওযর আপত্তি তাদের কোনই উপকারে আসবে না। তাদেরকে আর দুনিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে না। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যদি তারা দুনিয়ায় ফিরে আসতে চায় তবে তারা ফিরে আসতে পারবে না।” (৪১:২৪)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।