সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 10)
হরকত ছাড়া:
ومن الناس من يقول آمنا بالله فإذا أوذي في الله جعل فتنة الناس كعذاب الله ولئن جاء نصر من ربك ليقولن إنا كنا معكم أوليس الله بأعلم بما في صدور العالمين ﴿١٠﴾
হরকত সহ:
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یَّقُوْلُ اٰمَنَّا بِاللّٰهِ فَاِذَاۤ اُوْذِیَ فِی اللّٰهِ جَعَلَ فِتْنَۃَ النَّاسِ کَعَذَابِ اللّٰهِ ؕ وَ لَئِنْ جَآءَ نَصْرٌ مِّنْ رَّبِّکَ لَیَقُوْلُنَّ اِنَّا کُنَّا مَعَکُمْ ؕ اَوَ لَیْسَ اللّٰهُ بِاَعْلَمَ بِمَا فِیْ صُدُوْرِ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۰﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিনান্না-ছি মাইঁ ইয়াকূলুআ-মান্না-বিল্লা-হি ফাইযা-ঊযিইয়া ফিল্লা-হি জা‘আলা ফিতনাতান্না-ছি কা‘আযা-বিল্লা-হি ওয়ালাইন জাআ নাসরুম মির রাব্বিকা লাইয়াকূলুন্না ইন্না-কুন্না-মা‘আকুম আওয়া লাইছাল্লা-হু বিআ‘লামা বিমা-ফী সুদূ রিল ‘আলামীন।
আল বায়ান: আর কিছু লোক আছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি’, অতঃপর যখন আল্লাহর ব্যাপারে তাদের কষ্ট দেয়া হয়, তখন তারা মানুষের নিপীড়নকে আল্লাহর আযাবের মত গণ্য করে। আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে কোন বিজয় আসে, তখন অবশ্যই তারা বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে ছিলাম’। সৃষ্টিকুলের অন্তরসমূহে যা কিছু আছে আল্লাহ কি তা সম্পর্কে সম্যক অবগত নন?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি(১), কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নিগৃহীত হয়, তখন তারা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে।(২) আর আপনার রবের কাছ থেকে কোন সাহায্য আসলে তারা বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই ছিলাম(৩) সৃষ্টিকুলের অন্তঃকরণে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন?
তাইসীরুল ক্বুরআন: মানুষের মধ্যে কতক আছে যারা বলে ‘আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি।’ অতঃপর তাদেরকে যখন আল্লাহর পথে কষ্ট দেয়া হয়, তখন তারা মানুষের উৎপীড়নকে আল্লাহর ‘আযাবের মত মনে করে। আর যদি (তোমার কাছে) তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সাহায্য আসে তখন তারা অবশ্য অবশ্যই বলে যে, ‘আমরা তো (সব সময়) তোমাদের সাথেই ছিলাম। সকল সৃষ্টির অন্তরে কী আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ কি সর্বাধিক অবগত নন?
আহসানুল বায়ান: (১০) মানুষের মধ্যে কিছু লোক বলে, ‘আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি’; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন ওদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়, তখন ওরা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে।[1] আর তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন সাহায্য এলে[2] অবশ্যই ওরা বলতে থাকে, ‘আমরা তো তোমাদেরই সঙ্গী।’[3] বিশ্ববাসী (মানুষের) অন্তরে যা কিছু আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন? [4]
মুজিবুর রহমান: মানুষের মধ্যে কতক লোক বলেঃ ‘‘আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করি।’’ কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা কষ্টে পতিত হয় তখন তারা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে এবং তোমার রবের নিকট হতে কোন সাহায্য এলে তারা বলতে থাকে, ‘আমরাতো তোমাদের সাথেই ছিলাম’। বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন?
ফযলুর রহমান: কিছু মানুষ আছে যারা বলে, “আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি।” কিন্তু যখন তারা আল্লাহর পথে নিপীড়িত হয় তখন তারা মানুষের নিপীড়নকে আল্লাহর আযাবের ন্যায় গণ্য করে। আর যখন তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে কোন সাহায্য (বা বিজয়) আসে তখন তারা বলে, “আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম।” আল্লাহ কি বিশ্ববাসীর অন্তরের কথা সম্যক অবগত নন?
মুহিউদ্দিন খান: কতক লোক বলে, আমরা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নির্যাতিত হয়, তখন তারা মানুষের নির্যাতনকে আল্লাহর আযাবের মত মনে করে। যখন আপনার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন সাহায্য আসে তখন তারা বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। বিশ্ববাসীর অন্তরে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন?
জহুরুল হক: আর লোকেদের মধ্যে এমনও রয়েছে যে বলে -- "আমরা আল্লাহ্তে ঈমান এনেছি", কিন্তু যখন তাকে আল্লাহ্র পথে কষ্ট দেওয়া হয় তখন সে লোকদের উৎপীড়নকে আল্লাহ্র শাস্তি বলে জ্ঞান করে। আর যদি তোমার প্রভুর নিকট থেকে কোনো সাহায্য আসে তবে তারা অবশ্যই বলবে -- "আমরা নিঃসন্দেহ তোমাদের সাথে ছিলাম।" এ কি নয় যে আল্লাহ্ই ভাল জানেন যা কিছু বিশ্ববাসীর হৃদয়ে রয়েছে?
Sahih International: And of the people are some who say, "We believe in Allah," but when one [of them] is harmed for [the cause of] Allah, they consider the trial of the people as [if it were] the punishment of Allah. But if victory comes from your Lord, they say, "Indeed, We were with you." Is not Allah most knowing of what is within the breasts of all creatures?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০. আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলে, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি(১), কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তারা নিগৃহীত হয়, তখন তারা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে।(২) আর আপনার রবের কাছ থেকে কোন সাহায্য আসলে তারা বলতে থাকে, আমরা তো তোমাদের সঙ্গেই ছিলাম(৩) সৃষ্টিকুলের অন্তঃকরণে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন?
তাফসীর:
(১) যদিও বক্তা এক ব্যক্তিমাত্র কিন্তু সে “আমি ঈমান এনেছি” বলার পরিবর্তে বলছে, “আমরা ঈমান এনেছি”। এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম অর্থের প্রতি ইংগিত রয়েছে তা হলো মুনাফিক সবসময় নিজেকে মুমিনদের মধ্যে শামিল করার চেষ্টা করে থাকে এবং নিজের ঈমানের উল্লেখ এমনভাবে করে থাকে যাতে মনে হয় সেও ঠিক অন্যদের মতই মুমিন। এর দৃষ্টান্ত হচ্ছে, যেমন কোন কাপুরুষ যদি কোন সেনাদলের সাথে গিয়ে থাকে এবং সেনাদলের অসম সাহসী সৈনিকেরা লড়াই করে শক্রদলকে বিতাড়িত করে দিয়ে থাকে তাহলে কাপুরুষটি নিজে কোন কাজে অংশ গ্ৰহণ না করে থাকলেও সে এসে লোকদেরকে বলবে, আমরা গিয়েছি, আমরা ভীষণ যুদ্ধ করেছি এবং শক্রকে পরাস্ত করেছি। অর্থাৎ সেও যেন সেই অমিত সাহসী যোদ্ধাদের সাথে মিলে যুদ্ধ করেছিল। [আত-তাফসীরুল কাবীর]
(২) অর্থাৎ আল্লাহর আযাবের ভয়ে যেমন কুফরী ও গোনাহ থেকে বিরত থাকা উচিত এ ব্যক্তি ঠিক তেমনি বান্দা প্রদত্ত নির্যাতন-নিগ্রহের ভয়ে ঈমান ও সৎকাজ থেকে বিরত হয়েছে। ঈমান আনার পর যখন সে কাফেরদের হুমকি, মারধর ও নির্যাতনের সম্মুখীন হয় তখন সে মনে করে যে এটা বোধ হয় আল্লাহর শাস্তি তখন সে ঈমান থেকে সরে যায়। [ইবন কাসীর] অথবা আয়াতের অর্থ, তখন সে এমন পেরেশান হয়ে যায় যে রকম পেরেশান হতে হয় আল্লাহর আযাবের ক্ষেত্রে। ফলে মুরতাদ হয়ে যায় [মুয়াস্সার] অথবা আয়াতের অর্থ, তারা মানুষের নির্যাতনের সম্মুখীন হলে সে নির্যাতন তাদের জন্য দ্বীন ইসলাম থেকে ফিরে যাওয়া বা মুরতাদ হওয়ার কারণে পরিণত হয়, যেমন আল্লাহর আযাব কুফরি ও গোনাহ থেকে ফিরে থাকার কারণ হয়। [সাদী; আদওয়াউল বায়ান] এ আয়াতের সমর্থনে অন্য আয়াত হচ্ছে, “আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহর ইবাদাত করে দ্বিধার সাথে; তার মংগল হলে তাতে তার চিত্ত প্রশান্ত হয় এবং কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ক্ষতিগ্ৰস্ত হয় দুনিয়াতে এবং আখেরাতে; এটাই তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।” [সূরা আল হাজ্জ: ১১]
(৩) অর্থাৎ আজ সে নিজেকে বাঁচাবার জন্য কাফেরদের সাথে যোগ দিয়েছে এবং মুমিনদের পক্ষ ত্যাগ করেছে। কারণ সত্য দ্বীনের সম্প্রসারণের জন্য নিজের গায়ে আঁচড়টি লাগাতেও সে প্রস্তুত নয়। কিন্তু যখন এ দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদেরকে আল্লাহ সাফল্য ও বিজয়-দান করবেন তখন এ ব্যক্তি বিজয়ের ফল গনীমতের মাল ভাগ করে নেবার জন্য এসে যাবে এবং মুসলিমদের বলবে, আমি তো মনে প্ৰাণে তোমাদেরই সাথে ছিলাম, তোমাদের সাফল্যের জন্য দো'আ করছিলাম এবং তোমাদের প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও কুরবানীকে আমি বিরাট মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখেছি। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “যারা তোমাদের অমংগলের প্রতীক্ষায় থাকে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জয় হলে বলে, “আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না।” আর যদি কাফেরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তারা বলে, আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে প্রবল ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মুমিনদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?” [সূরা আন-নিসা: ১৪১]
আরও বলেন, “আর নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে এমন লোক আছে, যে গড়িমসি করবেই। অতঃপর তোমাদের কোন মুসীবত হলে সে বলবে, তাদের সংগে না থাকায় আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ হলে, যেন তোমাদের ও তার মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই এমনভাবে বলবেই, ‘হায়! যদি তাদের সাথে থাকতাম। তবে আমিও বিরাট সাফল্য লাভ করতাম।” [সূরা আন-নিসা: ৭২–৭৩] আরও বলেন, “অতঃপর হয়ত আল্লাহ বিজয় বা তার কাছ থেকে এমন কিছু দেবেন যাতে তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রেখেছিল সে জন্য লজ্জিত হবে।” [সূরা আল-মায়িদাহ: ৫২] মোটকথা পরবর্তী বাক্যে আল্লাহ্ তাদেরকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে বলেছেন যে, তিনি সৃষ্টিকুলের অন্তরের সব খবর জানেন। [আদওয়াউল বায়ান]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০) মানুষের মধ্যে কিছু লোক বলে, ‘আমরা আল্লাহকে বিশ্বাস করি”; কিন্তু আল্লাহর পথে যখন ওদেরকে কষ্ট দেওয়া হয়, তখন ওরা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে।[1] আর তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন সাহায্য এলে[2] অবশ্যই ওরা বলতে থাকে, ‘আমরা তো তোমাদেরই সঙ্গী।”[3] বিশ্ববাসী (মানুষের) অন্তরে যা কিছু আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন? [4]
তাফসীর:
[1] এখানে মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের লোকদের অবস্থা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যখন ঈমান আনার কারণে কোন আপদ-বিপদ আসে, তখন তা আল্লাহর আযাবের মতই তাদের অসহনীয় হয়ে ওঠে। যার ফলে সে ঈমান হতে ফিরে যায় এবং সাধারণের ধর্মকে বেছে নেয়।
[2] অর্থাৎ, যদি মুসলিমরা বিজয় ও আধিপত্য লাভ করে।
[3] অর্থাৎ, তোমাদের দ্বীনী ভাই। এ কথাটি অন্যত্র এভাবে বর্ণিত হয়েছে, ‘‘যারা তোমাদের (শুভাশুভ পরিণতির) প্রতীক্ষায় থাকে; সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহে তোমাদের বিজয় লাভ হলে তারা (তোমাদেরকে) বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ আর যদি অবিশ্বাসীদের আংশিক বিজয় লাভ হয়, তাহলে তারা (তাদেরকে) বলে, ‘আমরা কি তোমাদের বিরুদ্ধে জয়ী ছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে বিশ্বাসীদের হাত থেকে রক্ষা করিনি?’ (সূরা নিসা ১৪১আয়াত)
[4] অর্থাৎ, আল্লাহ কি তোমাদের অন্তরের কথা সম্পর্কে অবগত নন এবং তোমাদের হৃদয়ের গোপন খবর জানেন না? অর্থাৎ, তোমরা মৌখিকভাবে মুসলিমদের সাথী হওয়ার কথা প্রকাশ করছ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:
সূরার শুরু থেকে এ যাবৎ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেনন তিনি পরীক্ষা করবেন কে প্রকৃত মু’মিন আর কে মুনাফিক। অত্র আয়াতে সুস্পষ্টভাবে বলে দিচ্ছেন, মানুষের মাঝে একশ্রেণি রয়েছে যারা মুখে ঈমানদার বলে দাবী করে কিন্তু মূলত তারা মুনাফিক, তাদের অন্তরে ঈমান নেই।
(فِتْنَةَ النَّاسِ) দ্বারা উদ্দেশ্য হল: মু’মিনরা কাফির শক্রদের থেকে যে কষ্ট, হত্যা, বন্দী ও নির্যাতনের শিকার হত তা। এরূপ কষ্টকে মুনাফিকরা আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির সাথে তুলনা করত। অর্থাৎ যখন আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করতে গিয়ে নিহত হত, মার খেত ও বন্দী হত তখন তা আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির মত গণ্য করত।
আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি মানুষকে যেমন কুফর ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, কাফিরদের দ্বারা মুনাফিকরা শাস্তি প্রাপ্ত হলে দীন থেকে ফিরে যেত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ یَّعْبُدُ اللہَ عَلٰی حَرْفٍﺆ فَاِنْ اَصَابَھ۫ خَیْرُ اۨطْمَاَنَّ بِھ۪ﺆ وَاِنْ اَصَابَتْھُ فِتْنَةُ اۨنْقَلَبَ عَلٰی وَجْھِھ۪ﺥ خَسِرَ الدُّنْیَا وَالْاٰخِرَةَﺚ ذٰلِکَ ھُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِیْنُﭚ)
“মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে দ্বিধার সাথে; তার মঙ্গল হলে তাতে প্রশান্তি লাভ করে আর কোন বিপর্যয় ঘটলে সে তার পূর্বাবস্থায় ফিরে যায়। সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুনিয়াতে ও আখিরাতে; এটা তো সুস্পষ্ট ক্ষতি।” (সূরা হাজ্জ ২২:১১)
পক্ষান্তরে যদি কোন সাহায্য আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে আসে তখন তারা বলে যে, আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(الَّذِيْنَ يَتَرَبَّصُوْنَ بِكُمْ ج فَإِنْ كَانَ لَكُمْ فَتْحٌ مِّنَ اللّٰهِ قَالُوْآ أَلَمْ نَكُنْ مَّعَكُمْ ﺘوَإِنْ كَانَ لِلْكٰفِرِيْنَ نَصِيْبٌ لا قَالُوْآ أَلَمْ نَسْتَحْوِذْ عَلَيْكُمْ وَنَمْنَعْكُمْ مِّنَ الْمُؤْمِنِيْنَ)
“যারা তোমাদের অমঙ্গলের প্রতীক্ষায় থাকে তারা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে তোমাদের জয় হলে বলে, ‘আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?’ আর যদি কাফিরদের কিছু বিজয় হয়, তবে তারা বলে ‘আমরা কি তোমাদের পরিবেষ্টন করে রেখেছিলাম না এবং আমরা কি তোমাদেরকে মু’মিনদের হাত হতে রক্ষা করিনি?’’ (সূরা নিসা ৪:১৪১)
আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধের ময়দানে মুসলিম দলের জয়-পরাজয় দিয়ে থাকেন পরীক্ষা করার জন্য এবং জেনে নেয়ার জন্য, আসলে কে প্রকৃত ঈমানদার আর কে প্রকৃত ঈমানদার নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষা হয় কে প্রকৃত মু’মিন আর কে মুনাফিক।
২. সুখের সময় মুনাফিকরা ঈমানের কথা খুব প্রকাশ করে কিন্তু দুঃখের সময় পেছনে থাকে।
৩. মুনাফিকরা মুসলিমদের জন্য কাফিরদের থেকে অধিক ক্ষতিকর।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে ঐ মুনাফিকদের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যারা মুখে ঈমানের দাবী করে, কিন্তু যখন বিরোধীদের পক্ষ হতে কোন দুঃখ কষ্ট তাদের উপর আপতিত হয় তখন তারা মুরতাদ বা ধর্মত্যাগী হয়ে যায়। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন এ অর্থই করেছেন। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ মানুষের মধ্যে এমন লোকও আছে যে এক ধারে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, যদি তাকে শান্তি ও সুখ পৌঁছে তবে সে সন্তুষ্ট থাকে, আর যদি কষ্ট ও বিপদ আপদ পোঁছে তবে সে মুখ ফিরিয়ে নেয়।” (২২:১১) এজন্যেই আল্লাহ পাক এখানে বলেনঃ মানুষের মধ্যে কতক লোক বলে- আমরা আল্লাহতে বিশ্বাস করি, কিন্তু আল্লাহর পথে যখন তাদেরকে কোন দুঃখ-কষ্ট পৌঁছে, তখন তারা মানুষের পীড়নকে আল্লাহর শাস্তির মত গণ্য করে। আর যখন তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন সাহায্য (গনীমত) আসে তখন বলে- আমরা। তো তোমাদের সাথেই ছিলাম। যেমন অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ যারা তোমাদের সাথে অপেক্ষমান থাকে, অতঃপর যদি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে তোমাদের বিজয় লাভ হয় তবে তারা বলে আমরা কি তোমাদের সাথে ছিলাম না? আর যদি কাফিরদের (বিজয়ের) অংশ হয় তখন তারা (কাফিরদেরকে) বলে- আমরা কি তোমাদেরকে সহায়তা করিনি এবং তোমাদের পক্ষে কি মুমিনদের প্রতিরোধ ও প্রতিহত করিনি?` (৪:১৪১) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “খুব সম্ভব যে, আল্লাহ বিজয় আনয়ন করবেন অথবা নিজের পক্ষ হতে কোন বিষয় আনয়ন করবেন, তখন তারা তাদের অন্তরে যা গোপন রেখেছে সে জন্যে লজ্জিত হয়ে যাবে।” (৫:৫২)
আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেনঃ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে কোন সাহায্য আসলে তারা বলতে থাকে। আমরা তো তোমাদের সাথেই ছিলাম।
অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ বিশ্ববাসীর অন্তঃকরণে যা আছে, আল্লাহ কি তা সম্যক অবগত নন? অর্থাৎ মুনাফিকরা তাদের অন্তরে যা কিছু গোপন রেখেছে, আল্লাহ সবই অবগত আছেন।
আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দিবেন ঈমানদারদেরকে এবং অবশ্যই তিনি প্রকাশ করবেন মুনাফিকদেরকে। অর্থাৎ সুখ-দুঃখ ও বিপদ-আপদের মাধ্যমে তিনি মুমিন ও মুনাফিকদেরকে পৃথক করে দিবেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো, যতক্ষণ না আমি জেনে নিই তোমাদের মধ্যে জিহাদকারী ও ধৈর্যশীলদেরকে এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে পরীক্ষা করি।” (৪৭:৩১) যেমন আল্লাহ তা'আলা উহুদের ঘটনার পরে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ অসৎকে সৎ হতে পৃথক না করা পর্যন্ত তোমরা যে অবস্থায় রয়েছে। আল্লাহ সেই অবস্থায় মুমিনদেরকে ছেড়ে দিতে পারেন না।` (৩:১৭৯)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।