আল কুরআন


সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 9)

সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 9)



হরকত ছাড়া:

والذين آمنوا وعملوا الصالحات لندخلنهم في الصالحين ﴿٩﴾




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُدْخِلَنَّهُمْ فِی الصّٰلِحِیْنَ ﴿۹﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লানুদখিলান্নাহুম ফিসসা-লিহীন।




আল বায়ান: আর যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আমি অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করব।




আহসানুল বায়ান: (৯) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব। [1]



মুজিবুর রহমান: যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব।



ফযলুর রহমান: আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করব।



মুহিউদ্দিন খান: যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করব।



জহুরুল হক: বস্তুতঃ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে আমরা নিশ্চয়ই তাদের প্রবেশ করাব সৎকর্মীদের মধ্যে।



Sahih International: And those who believe and do righteous deeds - We will surely admit them among the righteous [into Paradise].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯. আর যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আমরা অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করব। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যদি কারো পিতা-মাতা মুশরিক হয়, তাহলে তার মুসলিম পুত্র সৎ লোকদের সঙ্গী হবে, পিতা-মাতার সঙ্গী নয়; যদিও সে তার সংসার জীবনে মাতা-পিতার বেশি নিকটবর্তী ছিল। কিন্তু তার ভালবাসা ছিল কেবলমাত্র মুসলিমদের জন্য, সেই হিসাবে المَرْءُ مَع مَن أَحَبّ এর ভিত্তিতে সে সৎকর্মশীলদেরই দলভুক্ত হবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮-৯ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা সৎ আমলের উত্তম প্রতিদান বর্ণনা করার পরপরই এখানে আল্লাহ তা‘আলার পরেই বান্দাদের মধ্য হতে সবচেয়ে বেশি ভাল ব্যবহার ও খেদমত পাওয়ার হকদার পিতা-মাতার বিষয়টি আলোকপাত করেছেন। তাই কুরআনের যেখানে আল্লাহ তা‘আলা নিজের হকের কথা তথা একমাত্র তাঁর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে পিতা-মাতার হকের কথা সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুতরাং পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের গুরুত্ব অপরিসীম। সূরা বানী ইসরাঈলের ২৩-২৪ নং আয়াতে পিতা-মাতার সাথে সদাচরণের গুরুত্ব আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের গুরুত্ব এত বেশি থাকা সত্ত্বেও তাদের নির্দেশ পালনে একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে আর তা হলোন তারা যদি আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করার নির্দেশ দেয় তাহলে তাদের কথা মানা যাবে না। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আর যদি তোমার মাতা-পিতা তোমার ওপর চাপ দেয় যে, তুমি আমার সাথে এমন কিছু শরীক সাব্যস্ত কর, যে সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে বসবাস কর।” (সূরা লুকমান ৩১:১৫)



হাদীসে এসেছে, আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমার নিকট সবচেয়ে উত্তম ব্যবহার পাবার হকদার কে? তিনি বললেন: তোমার মা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল তার পর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। পুনরায় লোকটি জিজ্ঞেস করল। অতঃপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। চতুর্থবার জিজ্ঞেস করা হলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তোমার পিতা। (সহীহ বুখারী হা: ৫৯৭১, সহীহ মুসলিম হা: ২৫৪৮)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যারা সৎ আমল করবে ও ঈমান নিয়ে আসবে তিনি তাদেরকে সৎ কর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করবেন। অর্থাৎ তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর তারা তাদের এ সকল সৎ আমলের কারণে জান্নাতে অনাবিল আনন্দে বসবাস করবে। যেখানে তারা শুধু সুখই ভোগ করবে, কোন দুঃখ তাদেরকে স্পর্শ করবে না। এটা মূলত তাদের সৎ আমলের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির কারণেই। তাই আমাদের উচিত সর্বদা ভাল আমল করা এবং মন্দ আমল করা থেকে বিরত থাকা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সর্বদা পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। তারা খারাপ ব্যবহার করলেও তাদের সাথে অসদ্ব্যবহার করা যাবে না।

২. পিতা-মাতা যদি আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করার নির্দেশ দেয় শুধু সেক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করা যাবে না।

৩. মানুষকে সর্বশেষে আল্লাহ তা‘আলার দিকেই ফিরে যেতে হবে।

৪. সৎ কর্ম করলে সৎ কর্মশীলদের মধ্যে শামিল হওয়া যায়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮-৯ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম তার তাওহীদের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার নির্দেশ দেয়ার পর এখন পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছেন। কেননা, পিতা-মাতার মাধ্যমেই মানুষ অস্তিত্বে এসে থাকে। পিতা সন্তানের জন্যে খরচ করে এবং তাকে লালন-পালন করে। আর মা তাকে স্নেহ দান করে, ভালবাসে এবং লালন-পালন করে থাকে। এজন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে ও পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিয়ো না; তাদের সাথে বলো সম্মান সূচক নম্র কথা। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলল- হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।” (১৭:২৩-২৪) তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, যদি তারা শিরকের দিকে আহ্বান করে তবে তাদের কথা মানতে হবে না। মানুষের জেনে রাখা উচিত যে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলার নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তারা যা করতো তা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। যদি মানুষ আল্লাহর সাথে শিরক করার ক্ষেত্রে তাদের পিতা-মাতার আদেশ না মানে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তবে অবশ্যই তিনি তাদেরকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

হযরত সা'দ (রাঃ) বলেন, আমার ব্যাপারে চারটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। এগুলোর মধ্যে একটি (আরবি) আয়াতটিও। এটা এজন্যে অবতীর্ণ হয় যে, আমার মা আমাকে বলেঃ “(হে সা’দ রাঃ)! আল্লাহ কি তোমাকে মায়ের সাথে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেননি? আল্লাহর শপথ! তুমি যদি হযরত মুহাম্মাদ (সঃ)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার না কর তবে আমি পানাহার ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুবরণ করবো।” সে তাই করে। শেষ পর্যন্ত লোকেরা জোরপূর্বক তার মুখ ফেড়ে তার মুখে খাদ্য ও পানীয় প্রবেশ করিয়ে দিতো। ঐ সময় উপরোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (এ হাদীসটি ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।