আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 56)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 56)



হরকত ছাড়া:

ويجعلون لما لا يعلمون نصيبا مما رزقناهم تالله لتسألن عما كنتم تفترون ﴿٥٦﴾




হরকত সহ:

وَ یَجْعَلُوْنَ لِمَا لَا یَعْلَمُوْنَ نَصِیْبًا مِّمَّا رَزَقْنٰهُمْ ؕ تَاللّٰهِ لَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا کُنْتُمْ تَفْتَرُوْنَ ﴿۵۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াজ‘আলূনা লিমা-লা-ইয়া‘লামূনা নাসীবাম মিম্মা-রাযাকনা-হুম তাল্লা-হি লাতুছআলুন্না ‘আম্মা-কুনতুম তাফতারূন।




আল বায়ান: আর আমি তাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি, তার একটি অংশ তারা নির্ধারণ করে এমন সত্তার জন্য, যার ব্যাপারে তারা জানে না। আল্লাহর কসম! তোমাদেরকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা যে মিথ্যা রটাচ্ছ সে ব্যাপারে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. আর আমরা তাদেরকে যে রিযক দান করি তারা তার এক অংশ নির্ধারণ করে(১) তাদের জন্য যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না।(২) শপথ আল্লাহর! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আমি তাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তার একাংশ তারা ঐ সবের জন্য নির্ধারিত করে যাদের সম্পর্কে তারা কিছুই জানে না। আল্লাহর শপথ! তোমাদের এই মিথ্যে উদ্ভাবন সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই জিজ্ঞেস করা হবে




আহসানুল বায়ান: (৫৬) আমি তাদেরকে যে জীবিকা দান করি, তারা তার এক অংশ নির্ধারিত করে তাদের (বাতিল উপাস্যদের) জন্য, যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না।[1] শপথ আল্লাহর! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর, সে সম্বন্ধে তোমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে। [2]



মুজিবুর রহমান: আমি তাদেরকে যে রিয্ক দান করি তারা তার এক অংশ নির্ধারিত করে তাদের জন্য যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানেনা। শপথ আল্লাহর! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর সেই সম্বন্ধে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবেই।



ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তারা তার একটি অংশ তাদের (ভুয়া উপাস্যদের) জন্য নির্ধারিত করে যাদের সম্পর্কে তারা জানে না। আল্লাহর শপথ! তোমরা যা কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আমার দেয়া জীবনোপকরণ থেকে তাদের জন্যে একটি অংশ নির্ধারিত করে, যাদের কোন খবরই তারা রাখে না। আল্লাহর কসম, তোমরা যে অপবাদ আরোপ করছ, সে সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।



জহুরুল হক: আর আমরা তাদের যা জীবনোপকরণ দিয়েছি তা থেকে এক অংশ তারা নির্ধারিত করে, তাদের জন্য যাদের সন্বন্ধে তারা জানে না। আল্লাহ্‌র কসম! তোমাদের নিশ্চয়ই প্রশ্ন করা হবে যা তোমরা উদ্ভাবন করেছিলে সে-সন্বন্ধে।



Sahih International: And they assign to what they do not know a portion of that which We have provided them. By Allah, you will surely be questioned about what you used to invent.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৬. আর আমরা তাদেরকে যে রিযক দান করি তারা তার এক অংশ নির্ধারণ করে(১) তাদের জন্য যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না।(২) শপথ আল্লাহর! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা মুশরিকদের ঘৃণ্যতম আচরণের বর্ণনা দিচ্ছেন, যারা আল্লাহর সাথে মূর্তি, দেবতা, সমকক্ষের ইবাদত করে থাকে। তারা আল্লাহর দেয়া রিফিকের একাংশ তাদের সেসব প্রতিমা, মূর্তির জন্য নির্ধারণ করে “নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘এটা আল্লাহর জন্য এবং এটা আমাদের শরীকদের জন্য’। অতঃপর যা তাদের শরীকদের অংশ তা আল্লাহর কাছে পৌছায় না এবং যা আল্লাহর অংশ তা তাদের শরীকদের কাছে পৌছায়, তারা যা মীমাংসা করে তা নিকৃষ্ট।” [সূরা আল-আন’আম: ১৩৬] অর্থাৎ তাদের জন্য নযরানা, ভেট ও অর্ঘ্য পেশ করার উদ্দেশ্যে নিজেদের উপার্জন ও কৃষি উৎপাদনের একটি নির্দিষ্ট অংশ তাদের উপাস্যদের জন্য আলাদা করে রাখতো। তারপর আল্লাহর অংশের উপর সেগুলোকে প্রাধান্য দিত। তাই আল্লাহ তা'আলা নিজের আত্মার শপথ করে বলছেন যে, অবশ্যই তিনি তাদেরকে তাদের এ মিথ্যাচারের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। [ইবন কাসীর]


(২) যে তারা কোন লাভ কিংবা ক্ষতি করতে পারে। [তাবারী] অথবা আয়াতের অর্থ, আর তারা এমনসব উপাস্যদের জন্য আল্লাহর দেয়া রিযিকের অংশ নির্ধারণ করে রাখে, যারা তাদের এ অংশ রাখা সম্পর্কে কিছুই জানে না। [সা’দী, মুয়াসসার] অথবা, তারা এমন সব উপাস্যের জন্য রিযিকের কিছু অংশ নির্ধারণ করে রাখে যাদের বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। [কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৬) আমি তাদেরকে যে জীবিকা দান করি, তারা তার এক অংশ নির্ধারিত করে তাদের (বাতিল উপাস্যদের) জন্য, যাদের সম্বন্ধে তারা কিছুই জানে না।[1] শপথ আল্লাহর! তোমরা যে মিথ্যা উদ্ভাবন কর, সে সম্বন্ধে তোমাদের অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যাদেরকে এরা বিপত্তারণ, সমস্যা দূরকারী, মা’বুদ মনে করে তারা তো মাটি বা পাথরের মূর্তি, জীন বা শয়তান, তাদের প্রকৃতত্বের জ্ঞান তাদের নেই। অনুরূপ কবরে শায়িত ব্যক্তির প্রকৃতত্বও কারো জানা নয় যে, তার সাথে কবরে কি আচরণ করা হচ্ছে? সে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের তালিকাভুক্ত, নাকি অপ্রিয় বান্দাদের? এ সব কথা কেউ জানে না। কিন্তু এই যালেমরা তাদের প্রকৃতত্ব না জানা সত্ত্বেও (কেবল ধারণাবশে ঐশ্বরিক মর্যাদা দিয়ে) তাদেরকে আল্লাহর শরীক করে রেখেছে এবং আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদের (নযর-নিয়াযের মাধ্যমে) কিছু অংশ তাদের জন্য ধার্য করে থাকে। বরং আল্লাহর অংশ বাকী থাকলে অসুবিধা নাই; কিন্তু তাদের অংশ কম করা চলবে না। যেমন সূরা আনআমের ১৩৬নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।

[2] তোমরা আল্লাহর উপরে যে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ যে, তাঁর এক বা একাধিক শরীক আছে --এ সম্পর্কে তোমরা কিয়ামতে জিজ্ঞাসিত হবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৬-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে কাফির-মুশরিকদের একটি নির্বুদ্ধিতার কথা বর্ণনা করা হচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের যে রিযিক দান করেছেন তা হতে একটি অংশ দেব-দেবী, প্রতিমা ও মা‘বূদের নামে নির্ধারণ করে রেখে দেয়, যে সকল দেব-দেবী ও প্রতিমা কিছুই জানে না এবং কোন উপকার ও ক্ষতি করতে পারে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَجَعَلُوْا لِلّٰهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيْبًا فَقَالُوْا هٰذَا لِلّٰهِ بِزَعْمِهِمْ وَهٰذَا لِشُرَكَا۬ئِنَا ج فَمَا كَانَ لِشُرَكَا۬ئِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَي اللّٰهِ ج وَمَا كَانَ لِلّٰهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلٰي شُرَكَا۬ئِهِمْ ط سَا۬ءَ مَا يَحْكُمُوْنَ)‏



“আল্লাহ যে শস্য ও গবাদি পশু সৃষ্টি করেছেন তন্মধ্য হতে তারা আল্লাহর জন্য একটি অংশ নির্দিষ্ট করে এবং নিজেদের ধারণা অনুযায়ী বলে, ‘এটা আল্লাহর জন্য এবং এটা আমাদের দেবতাদের জন্য’। যা তাদের দেবতাদের অংশ তা আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এবং যা আল্লাহর অংশ তা তাদের দেবতাদের কাছে পৌঁছায়, তারা যা মীমাংসা করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” (সূরা আনয়াম ৬:১৩৬)



এরা তো মাটি বা পাথরের তৈরি মূর্তি ও প্রতিমা, এরা কী জানবে আর মানুষের কী ক্ষতি ও উপকার করবে! সুতরাং তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শরীক বানিয়ে যে অপবাদ দিয়েছে সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন ।



আর তারা ফেরেশতাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার জন্য কন্যা সন্তান হিসেবে সাব্যস্ত করে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তা থেকে পবিত্র ও অনেক ঊর্ধ্বে। আর তারা নিজেদের জন্য যা ভাল লাগে তা সাব্যস্ত করে অর্থাৎ নিজেদের জন্য ছেলে সন্তান সাব্যস্ত করে, কন্যা সন্তান অপছন্দ করে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أَلَكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنْثٰي -‏ تِلْكَ إِذًا قِسْمَةٌ ضِيْزٰي)‏



“তবে কি তোমাদের জন্য পুত্র, আর তাঁর জন্য কন্যা সন্তান? এই প্রকার বণ্টন তো অসঙ্গত।” (সূরা নাজম ৫৩:২১-২২)



অথচ আল্লাহ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করা থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র এবং এই বিষয়ে সম্পূর্ণ মুক্ত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(قُلْ ھُوَ اللہُ اَحَدٌﭐﺆ اَللہُ الصَّمَدُﭑﺆ لَمْ یَلِدْﺃ وَلَمْ یُوْلَدْﭒﺫ وَلَمْ یَکُنْ لَّھ۫ کُفُوًا اَحَدٌﭓ)‏



“বল:‎ তিনিই আল্লাহ একক। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা আল-ইখলাস ১১২:১-৪)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(لَوْ أَرَادَ اللّٰهُ أَنْ يَتَّخِذَ وَلَداً لَّاصْطَفٰي مِمَّا يَخْلُقُ مَا يَشَا۬ءُ لا سُبْحَانَه۫ ط هُوَ اللّٰهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ)‏



“যদি আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করতে চাইতেন তবে তিনি অবশ্যই বেছে নিতেন নিজের সৃষ্টির মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা, তিনি পবিত্র-মহান। তিনি আল্লাহ, এক, প্রবল প্রতাপশালী।” (সূরা যুমার ৩৯:৪)



অতএব তারা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যে সন্তান নির্ধারণ করে এটা বড়ই অপবাদমূলক একটি কথা। তার ওপর আবার কন্যা সন্তান যা তারা তাদের নিজেদের জন্য অপছন্দ করে। এটা কেমন করে শুদ্ধ হতে পারে। তাদের এ নীতি অন্যায় ছাড়া আর কিছুই নয়। এমনকি যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন লজ্জায় তাদের মুখমণ্ডল হীন হয়ে যায় এবং তারা এটাকে একটি অপমানজনক বিষয় মনে করে। তাদের জাতি থেকে লুকিয়ে থাকে যাতে তাদের ভারাক্রান্ত মন ও দুশ্চিন্তা কেউ না দেখতে পারে। তারা চিন্তা করে কী করা যায়? অপমানের বস্তু হওয়া সত্ত্বেও কি জীবিত রাখবে, নাকি মাটিতে জীবন্ত পুঁতে ফেলে দেবে। সুতরাং তাদেরকে কন্যা সন্তানের সংবাদ দিলে যদি এ অবস্থা হয় তাহলে কীভাবে আল্লাহ তা‘আলার জন্য কন্যা সন্তান সাব্যস্ত করে?



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِمَا ضَرَبَ لِلرَّحْمٰنِ مَثَلًا ظَلَّ وَجْهُه۫ مُسْوَدًّا وَّهُوَ كَظِيْمٌ)‏



“দয়াময় আল্লাহর প্রতি তারা যা আরোপ করে যখন তাদের কাউকে সেই (কন্যা সন্তানের) সংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে।” (সূরা যুখরুফ ৪৩:১৭)



كَظِيْمٌ অর্থাৎ চিন্তায় ও ভারাক্রান্তে চেহারা কালো হয়ে যায়। (أَيُمْسِكُه۫ عَلٰي هُوْنٍ) অর্থাৎ দুশ্চিন্তায় চিন্তিত এবং নিশ্চুপ। কেউ বলেছেন, স্ত্রীর ওপর ক্রোধান্তিত হয়ে যায়, কেন সে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে। يَدُسُّ অর্থ পুঁতে ফেলা।



সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করে তাদের জন্য নিকৃষ্ট ও অপূর্ণাঙ্গ উদাহরণ এই যে, কিয়ামতের দিন তাদের এ সমস্ত অপকর্মের প্রত্যেকটি বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এজন্য তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। তাই সকলের উচিত এ ধরনের অন্যায় কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জড় পদার্থ কোন খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।

২. আল্লাহ তা‘আলা সন্তান গ্রহণ করা থেকে মুক্ত।

৩. মানুষ নিজের জন্য যা পছন্দ করে না, তা আল্লাহ তা‘আলার জন্য সাব্যস্ত করা নেহায়েত অন্যায়।

৪. আল্লাহর জন্যই সকল উত্তম উপমা; তিনি কোন অপূর্ণাঙ্গ ও ত্র“টিপূর্ণ উপমা হতে ঊর্ধ্বে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৬-৬০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অসদাচরণ ও নির্বুদ্ধিতার খবর দিচ্ছেন যে, সবকিছু দানকারী হচ্ছেন আল্লাহ, অথচ তারা অজ্ঞানতা বশতঃ তাদের মিথ্যা মাবুদদের অংশ তাতে সাব্যস্ত করছে। তারা বলেঃ (আরবি) অর্থাৎ “এটা আল্লাহর জন্যে তাদের ধারণা অনুযায়ী এবং এটা আমাদের দেবতাদের জন্যে; যা তাদের দেবতাদের অংশ তা আল্লাহর কাছে পৌছায় না এবং যা আল্লাহর অংশ তা তাদের দেবতাদের কাছে পৌঁছায়, তারা যা মীমাংসা করে তা কতই না নিকৃষ্ট!” (৬:১৩৭) এই লোকদেরকে এর জবাবদিহি অবশ্যই করতে হবে। তাদের এই মিথ্যারোপের প্রতিফল অবশ্যই তারা পাবে এবং তা হবে জাহান্নামের আগুন।

এরপর তাদের দ্বিতীয় অন্যায় ও বোকামির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলার নৈকট্যলাভকারী ফেরেশতাগণ হচ্ছেন তাদের মতে আল্লাহর কন্যা (নাঊযুবিল্লাহি মিন যালিক)। এই ভুল তো তারা করে, তদুপরি তাঁদের ইবাদতও তারা করে। এটা ভুলের উপর ভুল। এখানে তারা তিনটি অপরাধ করলো। ১. তারা আল্লাহর সন্তান সাব্যস্ত করলো, অথচ তিনি তা থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। ২. সন্তানের মধ্যে আবার ঐ সন্তান আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করলো যা তারা নিজেদের জন্যেও পছন্দ করে না, অর্থাৎ কন্যা সন্তান। কি। উল্টো কথা? নিজেদের জন্যে নির্ধারণ করছে পুত্র সন্তান, আর আল্লাহ তাআলার জন্যে নির্ধারণ করছে কন্যা সন্তান! ৩, তাদের আবার তারা ইবাদত করছে। এটা তাদের সরাসরি অপবাদ ও মিথ্যারোপ ছাড়া কিছুই নয়। আল্লাহ তাআলার সন্তান হওয়া কি করে সম্ভব হতে পারে? তাও আবার এমন সন্তান যা তাদের নিজেদের কাছে খুবই নিকৃষ্ট ও হীন। কেমন বোকামি যে, আল্লাহ তাদেরকে দিবেন পুত্র সন্তান আর নিজের জন্যে রাখবেন মেয়ে সন্তান! আল্লাহ এর থেকে বরং সন্তান হতেই পবিত্র।

যখন তাদেরকে খবর দেয়া হয় যে, তাদের মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহণ করেছে, তখন লজ্জায় তাদের মুখ কালো হয়ে যায় এবং মুখ দিয়ে কথা সরে না। তারা লোকদের কাছে আত্মগোপন করে থাকে। তারা চিন্তা করেঃ এখন কি করা যায়? যদি এ কন্যা সন্তানকে জীবিত রাখা যায়, তবে এটাতো খুবই লজ্জার কথা! সে তো উত্তরাধিকারিণীও হবে না এবং তাকে কিছু একটা মনে করাও হবে না। সুতরাং পুত্র সন্তানকেই এর উপর প্রাধান্য দেয়া হোক। মোট কথা তাকে জীবিত রাখলেও তার প্রতি অত্যন্ত অবহেলা প্রদর্শন করাহয়। অন্যথায় তাকে জীবন্তই কবর দিয়ে দেয়া হয়। এই অবস্থা তো তার নিজের। আবার আল্লাহর জন্যে এই জিনিসই সাব্যস্ত করে। সুতরাং তাদের এই মীমাংসা কতই নী জঘন্য! এই বন্টন কতই না নির্লজ্জতাপূর্ণ বন্টন! আল্লাহর জন্যে যা সাব্যস্ত করছে তা নিজের জন্যে কঠিন অপমানের কারণ মনে করছে! প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তারা হচ্ছে অতি নিকৃষ্ট প্রকতির অধিকারী, আর আল্লাহ তো হচ্ছেন অতি মহৎ প্রকৃতির অধিকারী এবং তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়, মহিমাময় ও মহানুভব।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।