আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 38)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 38)



হরকত ছাড়া:

وأقسموا بالله جهد أيمانهم لا يبعث الله من يموت بلى وعدا عليه حقا ولكن أكثر الناس لا يعلمون ﴿٣٨﴾




হরকত সহ:

وَ اَقْسَمُوْا بِاللّٰهِ جَهْدَ اَیْمَانِهِمْ ۙ لَا یَبْعَثُ اللّٰهُ مَنْ یَّمُوْتُ ؕ بَلٰی وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا وَّ لٰکِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿ۙ۳۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া আকছামূবিল্লা-হি জাহদা আইমা-নিহিম লা-ইয়াব‘আছুল্লা-হু মাইঁ ইয়ামূতু বালা-ওয়া‘দান ‘আলাইহি হাক্কাওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।




আল বায়ান: আর তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করেছেন যে, যে ব্যক্তি মারা যায়. আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। হ্যাঁ, তার নিজের উপরে করা ওয়াদা তিনি সত্যে রূপ দেবেন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৮. আর তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না।(১) অবশ্যই হ্যাঁ, তাঁর নিজের উপর কৃত প্রতিশ্রুতি তিনি সত্যে রূপ দেবেন। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষই জানে না।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আল্লাহর নামে শক্ত কসম খেয়ে বলে, ‘যার মুত্যৃ ঘটে আল্লাহ তাকে পুনরায় জীবিত করবেন না।’ অবশ্যই করবেন, এটা তো একটা প্রতিশ্রুতি যা পূরণ করা তাঁর দায়িত্ব, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।




আহসানুল বায়ান: (৩৮) তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না।[1] অবশ্যই! তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়। [2]



মুজিবুর রহমান: তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলেঃ যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেননা। কেন নয়? তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।



ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহর নামে দৃঢ় শপথ করে বলে, “যারা মরে যায় আল্লাহ তাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন না।” অবশ্যই (করবেন), এটা তাঁর সত্য ওয়াদা; তবে অধিকাংশ মানুষ জানে না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে যে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনরুজ্জীবিত করবেন না। অবশ্যই এর পাকাপোক্ত ওয়াদা হয়ে গেছে। কিন্তু, অধিকাংশ লোক জানে না।



জহুরুল হক: আর তাদের জোরালো শপথের দ্বারা তারা আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে -- "আল্লাহ্ তাকে পুনরুত্থিত করবেন না যে মারা গেছে।" না, এটি তাঁর উপরে নিয়োজিত পরম সত্য ওয়াদা, কিন্তু অধিকাংশ লোকেই জানে না, --



Sahih International: And they swear by Allah their strongest oaths [that] Allah will not resurrect one who dies. But yes - [it is] a true promise [binding] upon Him, but most of the people do not know.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৮. আর তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না।(১) অবশ্যই হ্যাঁ, তাঁর নিজের উপর কৃত প্রতিশ্রুতি তিনি সত্যে রূপ দেবেন। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষই জানে না।(২)


তাফসীর:

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলা বলেন, বনী আদম আমাকে গালি দেয় অথচ তাদের পক্ষে আমাকে গালি দেয়া উচিত নয়। আবার তারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে অথচ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করাও তাদের জন্য উচিত নয়। তাদের গালি হলো তারা আমার ব্যাপারে বলে যে, আমার সন্তান আছে, আর আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হলো এটা বলা যে, তিনি (আল্লাহ) যেভাবে আমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন সেভাবে পূনরায় সৃষ্টি করবেন না।” [বুখারীঃ ৩১৯৩]


(২) জানেনা বলেই রাসূলদের বিরোধিতা করে এবং কুফরিতে নিপতিত হয়। [ইবন কাসীর] তারা এটাও জানে না যে, পুনরুত্থান ও হিসেব নেয়া তার পক্ষে একেবারেই সহজ। [ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৮) তারা দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর শপথ করে বলে, যার মৃত্যু হয় আল্লাহ তাকে পুনর্জীবিত করবেন না।[1] অবশ্যই! তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেনই; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়। [2]


তাফসীর:

[1] কারণ, মাটিতে মিশে যাওয়ার পর পুনর্জীবিত হওয়া ছিল তাদের নিকট অসম্ভব ও ধারণাতীত ব্যাপার। সেই কারণে যখন রসূল তাদেরকে মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত হওয়ার কথা বলতেন, তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী ভাবত, সত্যবাদী মনে করত না। বরং এর বিপরীত পুনর্জীবিত না হওয়ার ব্যাপারে বড় দৃঢ়তার সাথে তারা শপথ করত!

[2] এই অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণেই রসূলদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করে ও তাঁদের বিরোধিতা করে কুফরীর সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে থাকে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৮-৪০নং আয়াতের তাফসীর:



(وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ....)



উক্ত আয়াতে বলা হচ্ছে যে, মুশরিকদের কাছে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়াটা ছিল অসম্ভাব্য একটি বিষয়। তাই তারা শক্তভাবে শপথ করে বলত যে, আল্লাহ তা‘আলা মৃতকে জীবিত করবেন না। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ কথার উত্তরে বলেন যে, এটা অবশ্যই করা হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলার ওয়াদা সত্য।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(زَعَمَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ أَنْ لَّنْ يُّبْعَثُوْا ط قُلْ بَلٰي وَ رَبِّيْ لَتُبْعَثُنَّ)



“কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না। বল: নিশ্চয়ই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে।” (সূরা তাগাবুন ৪৩:৭)



অজ্ঞতা ও মূর্খতার কারণে অধিকাংশ মানুষ রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে ও পুনরুত্থানের ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান রাখে না।



(لِيُبَيِّنَ لَهُمُ) এখানে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার হিকমত ও কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। সেদিন আল্লাহ তা‘আলা সে সকল বিষয়ে ফায়সালা করবেন, যে সকল বিষয়ে তাদের মাঝে মতানৈক্য ছিল। হকপন্থী ও পরহেযগারদেরকে উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং কাফির ও পাপীদেরকে তাদের পাপকাজের শাস্তি দেবেন। তাছাড়া সেদিন কাফিরদের নিকট এ কথা স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, কিয়ামত হওয়ার ব্যাপারে যে শপথ তারা করত তাতে তারা মিথ্যাবাদী ছিল।



(إِنَّمَا قَوْلُنَا لِشَيْءٍ....)



অর্থাৎ মানুষের নিকট কিয়ামত সংঘটিত হওয়া যতই কঠিন মনে হোক আল্লাহ তা‘আলার নিকট এটি খুবই সহজ। তিনি চাইলেই তা হয়ে যাবে। তাতে তার কোনই পরিশ্রম করতে হবে না। তিনি শুধু বলবেন, হও, আর সাথে সাথে তা হয়ে যাবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَآ أَمْرُ السَّاعَةِ إِلَّا كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ)



“কিয়ামতের ব্যাপার তো চোখের পলকের ন্যায়, বরং তার চেয়েও দ্রততর।” (সূরা নাহল ১৬:৭৭)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(إِنَّمَآ أَمْرُه۫ ٓ إِذَآ أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَّقُوْلَ لَه۫ كُنْ فَيَكُوْنُ)‏



“বস্তুতঃ তাঁর সৃষ্টিকার্য এরূপ যে, যখন তিনি কোন কিছু সৃষ্টি করতে ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেনঃ “হও”, অমনি তা হয়ে যায়।” (সূরা ইয়াসিন ৩৬:৮২) অতএব আল্লাহ তা‘আলার নিকট কিয়ামত, পুনরুত্থান কোনই কঠিন কাজ নয়। আর তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। এতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করবে আর যার ইচ্ছা অস্বীকার করবে; এতে আল্লাহ তা‘আলার কিছুই যায় আসে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পুনরুত্থান অবশ্যই করা হবে।

২. আল্লাহ তা‘আলার কাজ ‘হও’ বলা মাত্রই হয়ে যায়।

৩. আল্লাহ তা‘আলার জন্য সকল কাজই সহজ।

৪. কিয়ামতের দিন মুশরিকরা জানতে পারবে যে, তারা ছিল দুনিয়াতে মিথ্যাবাদী ইত্যাদি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৮-৪০ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, যেহেতু তারা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না, সেই হেতু অন্যদেরকেও এই বিশ্বাস হতে সরাবার যথাসাধ্য চেষ্টা করে। ঈমান বিক্রি করে আল্লাহর নামে জোরদার কসম খেয়ে বলেঃ “ আল্লাহ পাক বলেন যে, কিয়ামত অবশ্যই হবে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য। কিন্তু অধিকাংশ লোক মুখতা ও অজ্ঞতা বশতঃ রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ করে, আল্লাহর হুকুম অমান্য করে এবং কুফরীর গর্তে পড়ে যায়।”

অতঃপর আল্লাহ তাআলা কিয়ামত সংঘটনের ও দেহের পুনরুত্থানের কিছু নিপুণতা প্রকাশ করেছেন। একটি এই যে, যেন এর মাধ্যমে পার্থিব মতভেদের মধ্যে কোনটি সত্য ছিল তা প্রকাশ হয়ে পড়ে, অসৎ লোকেরা শাস্তি এবং সৎ লোকেরা পুরস্কার লাভ করে। আর কাফিরদের আকিদায়, কথায় এবং কসমে মিথ্যাবাদী হওয়া যেন প্রমাণিত হয়ে যায়। এ সময় তারা সবাই দেখে নেবে যে, তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে এবং বলা হবেঃ “এটাই হচ্ছে এ জাহান্নাম যাকে তোমরা অস্বীকার করতে। এখন বলতো, এটা কি যাদু, না তোমরা অন্ধ? এর মধ্যেই তোমরা পড়ে থাকো। এখন তোমরা ধৈর্য ধারণ কর অথবা হায়, হায় কর উভয় সমান। এখন তোমাদেরকে তোমাদের দুষ্কর্মের শাস্তি ভোগ করতেই হবে।”

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় অসীম ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি যা চান তাই করতে পারেন। কোন কিছু হতে তিনি অপারগ নন। কোন জিনিসই তার অধিকার বহির্ভূত নয়। তিনি যা করতে চান তার সম্পর্কে শুধু বলেনঃ ‘হয়ে যাও' সাথে সাথেই তা হয়ে যায়। কিয়ামতও শুধু তাঁর হুকুমেরই কাজ। যেমন তিনি বলেনঃ “চোখের পলকের মধ্যে আমার হুকম পালিত হয়।” অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “আমি কোন কিছু ইচ্ছা করলে সে বিষয়ে আমার কথা শুধু এই যে, আমি বলিঃ ‘হও’ ফলে তা হয়ে যায়। অর্থাৎ আমি একবার মাত্র আদেশ করি এবং সাথে সাথে তা হয়ে যায়। যেমন কবি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যখন আল্লাহ কোন বিষয়ের ইচ্ছা করেন তখন ওটাকে একবার মাত্র বলেনঃ ‘হও’ আর তেমনই তা হয়ে যায়। অর্থাৎ গুরুত্ব আরোপের জন্যে তাঁর দ্বিতীয়বার আদেশ করার প্রয়োজন হয় না। এমন কেউ নেই, যে তাঁর বিরোধিতা করতে পারে। তিনি এক ও মহাপ্রতাপান্বিত। তিনি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। তিনি শ্রেষ্ঠত্ব ও সাম্রাজ্যের মালিক। তিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। তিনি ছাড়া নেই কোন মাবুদ, নেই কোন শাসনকর্তা, নেই কোন প্রতিপালক এবং নেই কোন ক্ষমতাবান।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আদম সন্তান আমাকে গালি দেয়, অথচ এটা তার জন্যে সমীচীন নয় এবং আদম সন্তান আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, অথচ এটা তার পক্ষে উচিত। নয়। তার মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এই যে, সে গুরুত্ববোধক শপথ করে বলেঃ “আল্লাহ তাআলা মৃতকে জীবিত করবেন না।” আমি বলিঃ “হাঁ, হাঁ, অবশ্য আমি জীবিত করবো।” এটা সত্য ওয়াদা, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়। আর আমাকে তার গালি দেয়া এই যে, সে বলেঃ “আল্লাহ তিনের একজন”। অথচ আমি এক, আমি আল্লাহ, আমি কারো মুখাপেক্ষী নই, সবাই আমার মুখাপেক্ষী, আমার কোন সন্তান নেই এবং আমিও কারো সন্তান নই, আর আমার সমতুল্য কেউই নেই।” (এ হাদীসটি ইবনু আবি হাতিম (রাঃ) মাওকুফ রূপে বর্ণনা করেছেন। আর এটা সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও ভিন্ন শব্দে মারফু রূপে বর্ণিত হয়েছে)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।