সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 37)
হরকত ছাড়া:
إن تحرص على هداهم فإن الله لا يهدي من يضل وما لهم من ناصرين ﴿٣٧﴾
হরকত সহ:
اِنْ تَحْرِصْ عَلٰی هُدٰىهُمْ فَاِنَّ اللّٰهَ لَا یَهْدِیْ مَنْ یُّضِلُّ وَ مَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِیْنَ ﴿۳۷﴾
উচ্চারণ: ইন তাহরিস ‘আলা-হুদা-হুম ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদী মাইঁ ইউদিল্লুওয়ামা-লাহুম মিন্নাসিরীন।
আল বায়ান: যদিও তুমি তাদের হিদায়াতের ব্যাপারে আকাঙ্ক্ষা কর, তবু নিশ্চয় আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৭. আপনি তাদের হিদায়াতের জন্য ঐকান্তিকভাবে আগ্রহী হলেও(১) আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারীও নেই(২)।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তুমি যদি তাদের হিদায়াতের জন্য লালায়িত হও তবে (জেনে রেখে যে) আল্লাহ তাকে সৎপথ দেখান না যাকে তিনি বিপথগামী হতে ছেড়ে দেন আর তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
আহসানুল বায়ান: (৩৭) তুমি তাদের পথপ্রাপ্তির ব্যাপারে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন তাকে নিশ্চয় তিনি সৎপথে পরিচালিত করবেন না এবং তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই।[1]
মুজিবুর রহমান: তুমি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন তাকে তিনি সৎ পথে পরিচালিত করবেননা এবং তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই।
ফযলুর রহমান: তুমি তাদের হেদায়েত কামনা করলেও আল্লাহ যাদেরকে বিপথে নেবেন তাদেরকে তিনি হেদায়েত করবেন না এবং তারা কোন সাহায্যকারীও পাবে না।
মুহিউদ্দিন খান: আপনি তাদেরকে সুপথে আনতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তিনি তাকে পথ দেখান না এবং তাদের কোন সাহায্যকারী ও নেই।
জহুরুল হক: যদিও তুমি তাদের পথপ্রাপ্তির জন্যে বিশেষ প্রচেষ্টা কর তথাপি আল্লাহ্ নিশ্চয় তাকে পথ দেখান না যে বিপথে চালিয়েছে, ফলে তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।
Sahih International: [Even] if you should strive for their guidance, [O Muhammad], indeed, Allah does not guide those He sends astray, and they will have no helpers.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৭. আপনি তাদের হিদায়াতের জন্য ঐকান্তিকভাবে আগ্রহী হলেও(১) আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে হিদায়াত দেন না এবং তাদের জন্য কোন সাহায্যকারীও নেই(২)।
তাফসীর:
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি এবং মানুষের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন জ্বালালো। আর আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করল, পতঙ্গ এবং যে সমস্ত প্রাণী আগুনে ঝাঁপ দেয় সেগুলো ঝাঁপ দিতে লাগল। তখন সে ব্যক্তি সেগুলোকে আগুন থেকে ফিরাবার চেষ্টা করল, তা সত্বেও সেগুলো আগুনে পুড়ে মরে। তদ্রুপ আমিও তোমাদের কোমরের কাপড় ধরে আগুন থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করি, কিন্তু তোমরা তাতে পতিত হও।” [বুখারীঃ ৬৪৮৩]
(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবসময় উম্মাতের হেদায়াতের জন্য ব্যস্ত থাকতেন। এ আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সান্তনা দিয়ে বলা হচ্ছে যে, আপনি চাইলেই যে, তারা হেদায়াত পেয়ে যাবে এমনটি নয়। হেদায়াত দেয়ার মালিক আল্লাহ। তিনি যাকে ইচ্ছা হেদায়াত করবেন। কিন্তু তার চিরাচরিত নিয়ম হলো, তিনি তাদেরকেই হেদায়াত দেন যারা হেদায়াত পাওয়ার জন্য আগ্রহী। অপরপক্ষে যারা হেদায়াতের পথ থেকে দূরে থাকা বেশী পছন্দ করছে, হেদায়াতের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে তাদেরকে তিনি হেদায়াত করেন না। [এ ব্যাপারে আরো দেখুন, সূরা আল-মায়েদাহঃ ৪১, সূরা হুদঃ ৩৪, সূরা আল-আরাফঃ ১৮৬, সূরা ইউনুসঃ ৯৬–৯৭]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৭) তুমি তাদের পথপ্রাপ্তির ব্যাপারে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন তাকে নিশ্চয় তিনি সৎপথে পরিচালিত করবেন না এবং তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই।[1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন যে, হে নবী! তোমার ইচ্ছা এরা সকলেই হেদায়তের পথ অবলম্বন করুক। কিন্তু আল্লাহর রীতি অনুসারে যারা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, তুমি তাদেরকে হিদায়াতের পথে চালাতে পারো না। এরা অবশ্যই শেষ পরিণতিতে পৌঁছবে, যেখানে তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৫-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَقَالَ الَّذِينَ أَشْرَكُوا....)
উক্ত আয়াতে মুশরিকদের একটি ভুল ধারণা দূর করছেন। মুশরিকরা বলে: আমরা আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যের ইবাদত করি এবং শিরক করি, আমাদের বাপ-দাদারাও করেছিল এবং তাঁরই ইচ্ছায় অনেক জন্তু হারাম করে নিয়েছি। যেমন বাহিরা, সায়েবা, ওসিলা, হাম, ইত্যাদি। (এগুলোর পরিচয় সূরা মায়িদার ১০৩ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে) আামাদের এসকল কর্মে যদি আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা না থাকত তাহলে তিনি আমাদেরকে এসব কাজ করতে সামর্থ্য দিতেন না এবং বাঁধা দিতেন। মুশরিকদের সাথে তাল মিলিয়ে অনেকে বলে থাকে: আমরা যে পাপ কাজ করি তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় করি, আল্লাহ ইচ্ছা না করলে করতে পারতাম না। তাদের এসব ভুল ধারণার জবাব দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তাদের পূর্বের লোকেরা এসব বলেছিল, কিন্তু শাস্তি থেকে রেহাই পায়নি। এসব কাজের প্রতি যদি আল্লাহর ইচ্ছা থাকত তাহলে আল্লাহ কি শাস্তি দিতেন? কখনো না, তিনি যে কাজ ইচ্ছা করেন বা ভালবাসেন সে কাজের জন্য কাউকে শাস্তি দেবেন না, বরং তাকে উত্তম প্রতিদান দেবেন।
আয়াতের পরের অংশ আরো সুস্পষ্ট করে দিয়েছে; তিনি যুগে যুগে রাসূল প্রেরণ করে ঐ জাতিকে শিরক থেকে বাধা প্রদান করেছেন। যদি শিরক পছন্দ করতেন তাহলে রাসূল প্রেরণ করে বাধা দিতেন না। বরং আরো উৎসাহ দিতেন। সুতরাং তাদের দাবী মিথ্যা ও ভ্রান্ত। আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা করেন তা দু’ প্রকার:
১. الإرادة الكونية
জাগতিক বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা, অর্থাৎ দুনিয়াতে যা কিছু হয় সব আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় হয়। যা তিনি ভালবাসেন তা এবং যা ভালবাসেন না তাও এ ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত।
২. الإرادة الشرعية
শরয়ী বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা। যা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন তা এ ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কুফর, শিরক, পাপ কাজ ভালবাসেন না। তাই এগুলো আল্লাহ তা‘আলার এ ইচ্ছায় হয় না, ফলে তিনি এসব কাজের জন্য মানুষকে শাস্তি দেবেন।
(وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ....)
এখানে মূলত আল্লাহ তা‘আলার একত্বের কথা বলা হয়েছে। সকল ভ্রান্ত মা‘বূদদেরকে ছেড়ে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর নির্দেশ বাস্তবায়ন করার জন্যই আল্লাহ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নিকট যুগে যুগে বহু নাবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন। সকলেই দাওয়াত দিয়েছেন এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার, সকল বাতিল মা‘বূদকে বর্জন করার।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا نُوْحِيْٓ إِلَيْهِ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا فَاعْبُدُوْنِ)
“আমি তোমার পূর্বে যখন কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তার প্রতি এ ওয়াহী করেছি, ‘আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমারই ইবাদত কর।’’ (সূরা আম্বিয়া ২১:২৫)
তাগুতের তাফসীর সূরা বাকারার ২৫৬ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুতরাং, যারা নাবীদের দেখানো পথ অনুযায়ী তাগুতকে বর্জন করে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করেছে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা সঠিক পথের হিদায়াত দান করেছেন। আর যারা নাবীদের মত চলেনি তাদের ওপর পথভ্রষ্টতার বাণী অবধারিত হয়ে গেছে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(هُوَ الَّذِيْ خَلَقَكُمْ فَمِنْكُمْ كٰفِرٌ وَّمِنْكُمْ مُّؤْمِنٌ)
“তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ হয় কাফির এবং কেউ হয় মু’মিন।” (সূরা তাগাবুন ৬৪:২)
সুতরাং প্রত্যেকের উচিত রাসূলগণ যে পথের দিকে আহ্বান করেছেন সে পথেরই অনুসরণ করা। কেননা সেটাই হল সঠিক পথ আর বাকিগুলো হল শয়তানের পথ।
(إِنْ تَحْرِصْ عَلَي...)
এখানে বলা হচ্ছে যে, হিদায়াত দান করার একমাত্র মালিক আল্লাহ। রাসূল যতই চেষ্টা ও আশা করুক না কেন আল্লাহ যদি হিদায়াত দান না করেন তাহলে রাসূল কোন মানুষকেই হিদায়াত দান করতে পারবেন না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন আবার যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন। এ প্রকার হিাদয়াত হল (هداية التوفيق) হিদায়াতুত তাওফীক: সরল সঠিক পথের দিশা দান করতঃ তার ওপর মজবুত ও অটুট থাকার তাওফীক দান করা। এ প্রকার হিদায়াত শুধুমাত্র আল্লাহর হাতে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(إِنَّكَ لَا تَهْدِيْ مَنْ أَحْبَبْتَ وَلٰكِنَّ اللّٰهَ يَهْدِيْ مَنْ يَّشَا۬ءُ)
“তুমি যাকে ভালবাস, ইচ্ছা করলেই তাকে সৎ পথে আনতে পারবে না। তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎ পথে আনয়ন করেন।” (সূরা ক্বাসাস ২৮:৫৬)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(مَنْ يُّضْلِلِ اللّٰهُ فَلَا هَادِيَ لَه۫ ط وَيَذَرُهُمْ فِيْ طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُوْنَ)
“আল্লাহ যাদেরকে পথভ্রষ্ট করেন তাদের কোন পথপ্রদর্শক নেই, আর তাদেরকে তিনি তাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেন।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৮৬)
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করে ভাল-মন্দ উভয় পথ দেখিয়ে দেয়ার পর তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সে চাইলে সৎ পথ গ্রহণ করতে পারে, আবার অসৎ পথও গ্রহণ করতে পারে। তবে তিনি উভয় পথের ফলাফলও জানিয়ে দিয়েছেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষ কুফরী, অন্যায় ও পাপ কাজ করুক এটা আল্লাহ তা‘আলা ভালবাসেন না।
২. প্রত্যেক যুগে নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার ও তাগুতকে বর্জন করার নির্দেশ দিয়ে।
৩. হিদায়াতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, তাই শুধু তাঁর কাছে হিদায়াত চাইতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৫-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের উল্টো বুঝের খবর দিচ্ছেন যে, তারা পাপ করছে, শিরক করছে, হালালকে হারাম করছে, যেমন জানোয়ারগুলিকে তাদের দেবতাদের নামে যবেহ করা এবং তারা তকদীরকে হুজ্জত বানিয়ে নিচ্ছে, আর বলছেঃ “যদি আল্লাহ আমাদের বড়দের এই কাজ অপছন্দ করতেন তবে তখনই তিনি আমাদেরকে শাস্তি দিতেন?’ মহান আল্লাহ তাদেরকে জবাব দিচ্ছেনঃ “এটা আমার বিধান নয়। আমি তোমাদের এই কাজকে কঠিনভাবে অপছন্দ করি। আর আমি যে এটা অপছন্দ করি তা আমি আমার সত্য নবীদের মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকি। তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তোমাদেরকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছে। প্রত্যেক গ্রামে-গঞ্জে এবং প্রত্যেক দলে ও গোত্রে আমি নবী পাঠিয়েছি। সবাই তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। আমার বান্দাদের মধ্যে আমার আহকামের তাবলীগ তারা পুরোপুরি ওষ্পষ্টভাবে করেছে। সকলকেই তারা বলেছেঃ “তোমরা এক আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া অন্য কারো উপাসনা করো না।”
সর্বপ্রথম যখন যমীনে শিরকের উদ্ভব হয় তখন আল্লাহ তাআলা হযরত নহকে (আঃ) নুবওয়াত দান করে প্রেরণ করেন। আর সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) “খাতেমুল মুরসালীন’ ও রাহমাতুল লিলআ’লামীন’ উপাধি দিয়ে নবী বানিয়ে দেন, যার দাওয়াত ছিল যমীনের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত সমস্ত দানব ও মানবের জন্যে। সমস্ত নবীরই কথা একই ছিল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তোমার পূর্বে আমি যত নবী পাঠিয়েছিলাম তাদের সবারই কাছে ওয়াহী করে ছিলামঃ আমি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত কর।” (২১:২৫) অন্যত্রে তিনি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তোমার পূর্ববর্তী নবীদেরকে জিজ্ঞেস করঃ আমি কি রহমান (আল্লাহ) ছাড়া অন্যান্য মাবুদদেরকে নির্ধারণ করেছিলাম যাদের তারা ইবাদত করছে?” (৪৩:৪৫) এখানেও আল্লাহ তাআলা বলেন, প্রত্যেক উম্মতের রাসূলের দাওয়াত ছিল তাওহীদের শিক্ষা দান এবং শিকহতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ। সুতরাং মুশরিকরা কি করে নিজেদের শিরকের উপর আল্লাহর সম্মতির দলীল আনয়ন সমীচীন মনে করছে? আল্লাহ তাআলার চাহিদা তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে অবগত হওয়া যায়, আর তা হচ্ছে প্রথম থেকেই শিরকের মূলোৎপাটন ও তাওহীদের দৃঢ়তা আনয়ন। সমস্ত রাসূলের ভাষায় তিনি এই পয়গামই প্রেরণ করেছেন। হ্যা, তবে তাদেরকে শিরকের উপর ছেড়ে দেয়া। অন্য কথা। এটা গৃহীত দলীল হতে পারে না। আল্লাহ তাআ'লা তো জাহান্নাম ও জাহান্নামীদেরকেও সৃষ্টি করেছেন। শয়তান এবং কাফিরদের এ জন্যেই সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি স্বীয় বান্দাদের কুফরীর উপর কখনোই সন্তুষ্ট নন। এর মধ্যেও তার পূর্ণ নিপুণতা ও হুজ্জত নিহিত রয়েছে।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “রাসূলদের মাধ্যমে সতর্ককরণের পর কাফির ও মুশরিকদের উপর পার্থিব শাস্তিও এসেছে। কেউ কেউ পথ ভ্রষ্টতার উপরই রয়ে গেছে। হে মুমিনগণ! তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপনকারীদের পরিণাম দেখে নাও। অতীতের ঘটনাবলী যাদের জানা আছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করে তোমরা জেনে নাও যে, আল্লাহর আযাব কিভাবে মুশরিকদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই সময়ের কাফিরদের জন্য ঐ সময়ের কাফিরদের মধ্যে দৃষ্টান্ত ও উপদেশ বিদ্যমান রয়েছে। এরপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলকে (সঃ) বলছেনঃ “হে রাসূল (সঃ)! তুমি এই কাফিরদেরকে হিদায়াত করার জন্যে আগ্রহী হচ্ছে বটে, কিন্তু এটা নিষ্ফল হবে। কেননা, আল্লাহ তাদের পথভ্রষ্টতার কারণে তাদেরকে স্বীয় রহমত হতে দূর করে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আল্লাহ যাকে পরীক্ষায় ফেলার ইচ্ছা করেন, তার জন্যে তুমি আল্লাহ হতে কিছুই করার অধিকারী (অর্থাৎ তুমি তার কিছুই উপকার করতে পার না)” (৫:৪১) হযরত নূহ (আঃ) স্বীয় কওমকে বলেছিলেনঃ “আল্লাহ যদি তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন তবে আমার উপদেশ তোমাদের কোন উপকারে আসবে না।”
এখানেও মহান আল্লাহ বলেনঃ “তুমি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করতে আগ্রহী হলেও আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেছেন, তাকে তিনি সৃৎপথে পরিচালিত করবেন না।” যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ “যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন তাদেরকে হিদায়াত দানকারী কেউ নেই এবং তিনি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেন।” আর এক জায়গায় বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! যাদের উপর তোমার প্রতিপালকের কথা বাস্তবায়িত হয়েছে তারা ঈমান আনবে না। যদিও তাদের কাছে সমস্ত নিদর্শন চলে আসে, যে পর্যন্ত না তারা বেদনাদায়ক শাস্তি অবলোকন করে।”
আল্লাহপাকের উক্তিঃ (আরবি) নিশ্চয় আল্লাহ, অর্থাৎ তাঁর শান ও তাঁর আদেশ। কেননা, তিনি যা চান তাই হয় এবং যা চান না তা হয় না। তাই, তিনি বলেন, যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, কে এমন আছে যে, আল্লাহর পরে তাকে পথ দেখাতে পারে? অর্থাৎ কেউ নেই।
(আরবি) ‘তাদের কোন সাহায্যকারীও নেই' অর্থাৎ সেই দিন তাদের এমন কোন সাহায্যকারী থাকবে না, যে তাকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে পারে। সৃষ্টি এবং হুকুম একমাত্র তাঁরই। তিনিই হলেন বিশ্ব প্রতিপালক। তিনি কল্যাণময়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।