আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 92)

সূরা হূদ (আয়াত: 92)



হরকত ছাড়া:

قال يا قوم أرهطي أعز عليكم من الله واتخذتموه وراءكم ظهريا إن ربي بما تعملون محيط ﴿٩٢﴾




হরকত সহ:

قَالَ یٰقَوْمِ اَرَهْطِیْۤ اَعَزُّ عَلَیْکُمْ مِّنَ اللّٰهِ ؕ وَ اتَّخَذْتُمُوْهُ وَرَآءَکُمْ ظِهْرِیًّا ؕ اِنَّ رَبِّیْ بِمَا تَعْمَلُوْنَ مُحِیْطٌ ﴿۹۲﴾




উচ্চারণ: কা-লা ইয়া-কাওমি আরাহতী-আ‘আযযু‘আলাইকুম মিনাল্লা-হি ওয়াত্তাখাযতুমূহু ওয়ারাআকুম জিহরিইয়া- ইন্না রাববী বিমা-তা‘মালূনা মুহীত।




আল বায়ান: সে বলল, ‘হে আমার কওম! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সম্মানিত? আর তোমরা তাঁকে একেবারে পেছনে ঠেলে দিলে? তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমার রব তা পরিবেষ্টন করে আছেন’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯২. তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহর চেয়ে বেশী শক্তিশালী? আর তোমরা তাকে সম্পূর্ণ পিছনে ফেলে রেখেছ। তোমরা যা কর আমার রব নিশ্চয় তা পরিবেষ্টন করে আছেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার স্বজনরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়েও প্রবল! তোমরা তো তাঁকে সম্পূর্ণতঃ পেছনে ফেলে রেখেছ, তোমরা যা করছ আমার প্রতিপালক তা সব কিছুই অবগত।’




আহসানুল বায়ান: (৯২) সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার স্বজনবর্গ কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষাও অধিক পরাক্রমশালী? তোমরা তাঁকে বিস্মৃত হয়ে পশ্চাতে ফেলে রেখেছ।[1] নিশ্চয়ই তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ আমার প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্তে রয়েছে।



মুজিবুর রহমান: সে বললঃ হে আমার কাওম! আমার পরিজনবর্গ কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষাও অধিক মর্যাদাবান? আর তোমরা তাঁকে পশ্চাতে ফেলে রেখেছ? নিশ্চয়ই আমার রাব্ব তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপকে বেষ্টন করে আছেন।



ফযলুর রহমান: সে বলল, “হে আমার সমপ্রদায়! আমার গোত্রের লোকজন কি তোমাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর চেয়েও শক্তিশালী? তোমরা তো তাঁকে অবহেলাভরে তোমাদের পেছনে ফেলে রেখেছো। তোমরা যা করো আমার প্রভু অবশ্যই তা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন (সম্যক অবগত রয়েছেন)।”



মুহিউদ্দিন খান: শোয়ায়েব (আঃ) বলেন-হে আমার জাতি, আমার ভাই বন্ধুরা কি তোমাদের কাছে আল্লাহর চেয়ে প্রভাবশালী? আর তোমরা তাকে বিস্মৃত হয়ে পেছনে ফেলে রেখেছ, নিশ্চয় তোমাদের কার্যকলাপ আমার পালনকর্তার আয়ত্তে রয়েছে।



জহুরুল হক: তিনি বললেন -- "হে আমার সম্প্রদায়! আমার পরিজনবর্গ কি তোমাদের কাছে আল্লাহ্‌র চেয়েও বেশী শ্রদ্ধেয়? আর তোমরা তাঁকে গ্রহণ করেছ তোমাদের পৃষ্ঠদেশের পশ্চাদভাগে ফেলা বস্তুর মত। নিঃসন্দেহ তোমরা যা কর আমার প্রভু তা ঘেরাও করে আছেন।



Sahih International: He said, "O my people, is my family more respected for power by you than Allah? But you put Him behind your backs [in neglect]. Indeed, my Lord is encompassing of what you do.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯২. তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি আমার স্বজনবর্গ আল্লাহর চেয়ে বেশী শক্তিশালী? আর তোমরা তাকে সম্পূর্ণ পিছনে ফেলে রেখেছ। তোমরা যা কর আমার রব নিশ্চয় তা পরিবেষ্টন করে আছেন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯২) সে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার স্বজনবর্গ কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষাও অধিক পরাক্রমশালী? তোমরা তাঁকে বিস্মৃত হয়ে পশ্চাতে ফেলে রেখেছ।[1] নিশ্চয়ই তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপ আমার প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্তে রয়েছে।


তাফসীর:

[1] তোমরা আমাকে আমার স্বজনবর্গের কারণে ছেড়ে দিচ্ছ। কিন্তু যে মহান আল্লাহ আমাকে নবুঅতের মর্যাদা দান করেছেন, তাঁর কোন সম্মান ও মর্যাদার কোন খেয়াল তোমাদের অন্তরে নেই এবং তাঁকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখে দিয়েছ! এখানে শুআইব (আঃ)  أعزُّ عليكم منِّي ‘আমার থেকে বেশী মর্যাদাবান’ এর স্থানে  أعزُّ عليكم من الله ‘আল্লাহর থেকে বেশী মর্যাদাবান বা পরাক্রমশালী’ বলেছেন। এতে এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, নবীর অসম্মান করা, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহরই অসম্মান করা। কারণ নবীগণ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হন। আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে হকপন্থী উলামাদের অসম্মান করা ও তাঁদেরকে তুচ্ছজ্ঞান করা আসলে আল্লাহর দ্বীনের অসম্মান ও তাকে তুচ্ছজ্ঞান করার নামান্তর। কারণ তাঁরা আল্লাহর দ্বীনের ধারক ও বাহক। واتَّخذتموه তে ‘ه’ এর লক্ষ্যবস্তু আল্লাহ, অর্থ এই যে, আল্লাহর সেই জিনিস, যা দিয়ে তিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন, তাকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখেছ, তোমরা তার প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ করনি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৪-৯৫ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



এখানে শুয়াইব (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যাদের বসতি ছিল ফিলিস্তিনের মাদইয়ান শহরে। আল্লাহ তা‘আলা মাদইয়ানবাসীর প্রতি নাবী হিসেবে শুয়াইব (عليه السلام) কে প্রেরণ করলেন। তিনিও তাদেরকে প্রথমে পূর্ববর্তী নাবীদের মতই আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের দিকে আহ্বান করলেন এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং অন্যান্য উপাস্যদেরকে বর্জন করতে বললেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই। আর তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন ওজনে ও পরিমাপে কম না দেয়। তাদের খারাপ আমলের মধ্যে অন্যতম এটিও একটি ছিল। তাদের অভ্যাস ছিল যে, যখন তারা কারো নিকট থেকে কিছু ক্রয় করত তখন ওজনে বেশি নিত এবং যখন কারো নিকট বিক্রয় করত তখন মাপে কম দিত। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রচুর পরিমাণ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। তখন শুয়াইব (عليه السلام) তাদের এই পাপ কাজের জন্য আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির ভয় দেখালেন। بِخَيْرٍ বলতে আর্থিক সচ্ছলতাকে বুঝানো হয়েছে।



নাবীগণের দা‘ওয়াত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত (১) আল্লাহ তা‘আলার হক আদায় করা; (২) বান্দার হক আদায় করা। শু‘আইব (عليه السلام) তাদেরকে যে বললেন তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে মেপে দেবে ও ওজনকে পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবে এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না এর দ্বারা মূলত বান্দার হক বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এই কথার তা‘কীদস্বরূপ শু‘আইব (عليه السلام) তাঁর সম্প্রদায়কে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা যেন ওজন ও মাপে কম না দেয় এবং মানুষদেরকে যেন তাদের প্রাপ্য বস্তু কম না দেয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলার নিকট এটি একটি বড় ধরনের অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَیْلٌ لِّلْمُطَفِّفِیْنَﭐﺫ الَّذِیْنَ اِذَا اکْتَالُوْا عَلَی النَّاسِ یَسْتَوْفُوْنَﭑﺘ وَاِذَا کَالُوْھُمْ اَوْ وَّزَنُوْھُمْ یُخْسِرُوْنَﭒﺚ)



“মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।” (সূরা মুত্বাফ্ফিফীন ৮৩:১-৩)



আর তিনি তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি না করে। কারণ ওজন ও মাপে কম দিয়ে মানুষের হক নষ্ট করা ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলার অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি তাদেরকে এ ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করলেন।



(بَقِيَّتُ اللّٰهِ) ‘আল্লাহ প্রদত্ত অবশিষ্ট’ এর অর্থ হল সে মুনাফা যা ওজনে কোন প্রকার কম-বেশি না করে সঠিক মাপে ধার্মিকতার সাথে পণ্য দেয়ার পর অর্জন হয়ে থাকে। যেহেতু তা হালাল ও পবিত্র এবং তাতে বরকত রয়েছে, এ জন্য এ মুনাফাকে আল্লাহ তা‘আলার অবশিষ্ট সম্পদ বলে গণ্য করা হয়েছে। আর যদি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিশ্বাসী না হয়ে তাঁর নির্দেশ ভঙ্গ করো তাহলে ওজনে যতই কম দাও না কেন তাতে কোন বরকত হবে না। এসব নির্দেশনা দিয়ে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: আমার দায়িত্ব শুধু তোমাদেরকে পৌঁছে দেয়া। মানা না মানা এটা তোমাদের দায়িত্ব, আমি তোমাদের ব্যাপারে কোন পাহারাদার নই। আর তোমাদেরকে বিরত রাখাও আমার পক্ষে সম্ভব নয় যদি তোমরা বিরত না হও।



শু‘আইব (عليه السلام)-এর এই কথার জবাবে তারা বলল; হে শুয়াইব! তোমার ইবাদত কি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের ঐ সমস্ত উপাস্যদেরকে ছেড়ে দেব যাদের উপাসনা আমাদের পূর্বপুরুষেরা করত অথবা আমরা আমাদের সম্পদ আমাদের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে পারব না। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে না এবং তার কিছু অংশ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বের করব (অর্থাৎ সম্পদের যাকাত আদায় করা) তা হতে পারে না। সুতরাং এ ধরনের নিয়ম বাতিল।



কোন কোন মুফাসসির বলেছেন: সকল জাতির ধর্মেই যাকাত, ফিতরা এবং সাদকা ইত্যাদি আবশ্যক ছিল। সম্পদ উপার্জনের কিছু নিয়মাবলী ছিল। তাদের কথা শুনে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: যদি আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে হকের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি আমাকে উত্তম রিযিক দান করেন তবুও কি আমি তোমাদের কথা মত তোমাদেরকে যেদিকে আহ্বান করছি তার বিপরীত আমল করব। এটা হতে পারে না। আমি তো শুধু আমার সাধ্যমত তোমাদের কল্যাণ করারই ইচ্ছা পোষণ করি। আর তাও আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত সম্ভব নয়। সুতরাং আমি আমার প্রভুর ওপরই ভরসা করলাম। তিনি তাদেরকে আরো সতর্ক করলেন যে, হে আমার সম্প্রদায়! আমার বিরুদ্ধে তামরা এমন কাজ করে বস না যার ফলে তোমাদের ওপর পূর্ববর্তী জাতির মত শাস্তি নেমে আসে, যেমন শাস্তি এসেছিল নূহ, হূদ, সালেহ ও লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায়ের ওপর। আর তোমরা লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় থেকে বেশি দূরেও নও। সুতরাং তোমরা তোমাদের পাপের কারণে আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাও।



শুআইব (عليه السلام)-এর এ কথার জবাবে তারা বলল, হে শুয়াইব! তুমি আমাদেরকে যেসব কথাবার্তা বল তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। সুতরাং তুমি এসব কথা বলা বন্ধ কর। আর তুমি তো আমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। যদি তোমার আত্মীয় স্বজন না থাকত তবে আমরা তোমাকে পাথর মেরে শেষ করে ফেলতাম। আমরা তোমার গোত্রের লোকদেরকে সম্মান করি, তাই কিছু বলছি না। অতএব তুমি তোমার এসব কথাবার্তা বলা থেকে বিরত হও। তাদের এ কথার জবাবে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে আমার স্বজনবর্গের কারণে ছেড়ে দিচ্ছ। কিন্তু যে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নবুওয়াতের মর্যাদা দান করেছেন, তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কোন খেয়াল তোমাদের অন্তরে নেই এবং তাঁকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখে দিয়েছে। এখানে শু‘আইব



(عليه السلام) أعز عليكم مني



আমার থেকে বেশি মর্যাদাবান, এর স্থানে



أعز عليكم من الله



আল্লাহ তা‘আলা থেকে বেশি মর্যাদাবান বলেছেন। এতে একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, নাবীর অসম্মান করা, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলারই অসম্মান করা। কারণ নাবীগণ আল্লাহ তা‘আলারই প্রেরিত পুরুষ, আর এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে হকপন্থী উলামাদের অসম্মান করা আসলে আল্লাহ তা‘আলার দীনের অসম্মান করা ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। মনে রেখ যে, তোমরা যা কর তা সবই আমার প্রতিপালকের আয়ত্তাধীন। তিনি যখন দেখলেন যে, তাঁর ওয়ায-নসীহতে তাদের কোন উপকার হচ্ছে না তখন তিনি আরো বললেন যে, তোমরা তোমাদের মত কাজ করতে থাক আমিও আমার কাজ করে যাই। অচিরেই জানতে পারবে কাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসে এবং কারা মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর আর আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান রইলাম। তখন হঠাৎ এক বিকট আওয়াজ ধ্বনিতে তাদের অন্তর ফেটে গেল এবং তারা মৃত্যুবরণ করল। তার পর পরই শুরু হল ভূমিকম্প। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)‏



“সুতরাং তাদেরকে একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প এসে গ্রাস করে নিলো, ফলে তাদের নিজেদের গৃহের মধ্যেই (মৃত অবস্থায় ) উপুড় (অধোমুখী) হয়ে পড়ে রইল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৯১)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(فَكَذَّبُوْهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)



“কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল, অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল; ফলে তারা নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় শেষ হয়ে গেল।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৩৭)



এভাবেই তারা অভিশপ্ত অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিল এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে বঞ্চিত হল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ওজন ও পরিমাপে কম দেয়া যাবে না। কারণ এটি বড় ধরনের অপরাধ। আর এতে বরকত নষ্ট হয়ে যায়।

২. হক্ব পন্থী আলেমদেরকে অপমান বা তাদের সাথে বেয়াদবী করা যাবে না। কারণ তাদের সাথে বেয়াদবী করার অর্থই হল আল্লাহ তা‘আলার ধর্মকে তুচ্ছ মনে করা।

৩. সঠিক পথের দায়ীকে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করা হবে, তাই বলে দাওয়াতী মিশন ছেড়ে দেয়া যাবে না।

৪. আল্লাহ তা‘আলার হক ও বান্দার হক কোনটাই নষ্ট করার সুযোগ নেই। কারণ কিয়ামতের দিন এ ব্যাপারে জবাবদিহীতার সম্মুখীন হতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯০-৯১ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত শুআ’ইবের (আঃ) কওম তাকে বললো: হে শুআ’ইব (আঃ)! তোমার অধিকাংশ কথা আমাদের বোধগম্য হয় না। আর তুমি নিজেও আমাদের মধ্যে অত্যন্ত দুর্বল। হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) এবং হযরত সাওরী (রঃ) বলেন যে, তাঁর দৃষ্টি শক্তি কম ছিল বলেই তাকে দুর্বল বলা হয়েছে। সাওরী (রঃ) বলেন যে, তাঁকে ‘খাতীবুল আমবিয়া’ (নবীদের ভাষণ দাতা) বলা হতো। কেননা, তাঁর ভাষণ ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার। সুদী (রঃ) বলেন যে, তিনি একাকী ছিলেন বলেই তাঁকে তারা তুচ্ছ জ্ঞান করে দুর্বল বলেছিল। কেননা, তাঁর আত্মীয় স্বজনরাই তার ধর্মের উপর ছিল না। তারা তাকে বলেনঃ “তোমার ভ্রাতৃত্বের প্রতি লক্ষ্য না করলে আমরা তোমাকে পাথর মেরে চূর্ণ বিচুর্ণ করে দিতাম। বা তোমাকে মন খুলে গালমন্দ দিতাম। আমাদের মধ্যে তোমার কোন মর্যাদা নেই। তাদের একথা শুনে তিনি তাদেরকে বলেনঃ “ভাই সব! আমার ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীয়তার প্রতি লক্ষ্য করেই তোমরা আমাকে ছেড়ে দিচ্ছ, আল্লাহর জন্য নয়? তা হলে বুঝা যাচ্ছে যে, তোমাদের কাছে আত্মীয় সম্পর্ক আল্লাহ তাআ’লা অপেক্ষা বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর নবীকে কষ্ট দেয়ার ব্যাপারে তোমরা তাঁকেই ভয় করছো না? বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, তোমরা আল্লাহর কিতাবকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করছে! তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও আনুগত্যের প্রতি তোমাদের কোন খেয়ালই নেই। ভাল কথা, আল্লাহ তাআ’লা তোমাদের অবস্থা পূর্ণরূপে অবগত রয়েছেন। তিনিই তোমাদের পুরোপুরি বদলা দান করবেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।