সূরা হূদ (আয়াত: 93)
হরকত ছাড়া:
ويا قوم اعملوا على مكانتكم إني عامل سوف تعلمون من يأتيه عذاب يخزيه ومن هو كاذب وارتقبوا إني معكم رقيب ﴿٩٣﴾
হরকত সহ:
وَ یٰقَوْمِ اعْمَلُوْا عَلٰی مَکَانَتِکُمْ اِنِّیْ عَامِلٌ ؕ سَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ۙ مَنْ یَّاْتِیْهِ عَذَابٌ یُّخْزِیْهِ وَ مَنْ هُوَ کَاذِبٌ ؕ وَ ارْتَقِبُوْۤا اِنِّیْ مَعَکُمْ رَقِیْبٌ ﴿۹۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়া-কাওমি‘মালূ‘আলা-মাকা-নাতিকুম ইন্নী ‘আ-মিলুন ছাওফা তা‘লামূনা মাইঁ ইয়া’তীহি ‘আযা-বুইঁ ইউখযীহি ওয়ামান হুওয়া কা-যিবুওঁ ওয়ারতাকিবূইন্নী মা‘আকুম রাকীব।
আল বায়ান: ‘আর হে আমার কওম, তোমরা তোমাদের অবস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কার কাছে আসবে সে আযাব যা তাকে লাঞ্ছিত করবে এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৩. আর হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: হে আমার সম্প্রদায়! ‘তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করতে থাকি, তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি আর কে মিথ্যেবাদী। কাজেই তোমরা অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’
আহসানুল বায়ান: (৯৩) আর হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের অবস্থায় কাজ করতে থাক আমিও (আমার) কাজ করে যাচ্ছি; এখন সত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর আসবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি ও কে মিথ্যাবাদী; আর তোমরা প্রতীক্ষায় থাক, আমিও প্রতীক্ষায় রইলাম।’ [1]
মুজিবুর রহমান: আর হে আমার কাওম! তোমরা নিজেদের অবস্থায় কাজ করতে থাক, আমিও (আমার) কাজ করছি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে যে, কে সেই ব্যক্তি যার উপর এমন শাস্তি আসন্ন যা তাকে অপমানিত করবে এবং কে সেই ব্যক্তি যে মিথ্যাবাদী ছিল; আর তোমরা প্রতীক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় রইলাম।
ফযলুর রহমান: “আর হে আমার সমপ্রদায়! তোমরা তোমাদের জায়গায় কাজ কর। আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা জানতে পারবে, কার ওপর লাঞ্ছনাকর শাস্তি আসে এবং কে মিথ্যাবাদী। তোমরা অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় আছি।”
মুহিউদ্দিন খান: আর হে আমার জাতি, তোমরা নিজ স্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করছি, অচিরেই জানতে পারবে কার উপর অপমানকর আযাব আসে আর কে মিথ্যাবাদী? আর তোমরাও অপেক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষায় রইলাম।
জহুরুল হক: আর, হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের বাড়িঘরে কাজ করে যাও, আমিও অবশ্য করে যাচ্ছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার উপরে শাস্তি নামবে যা তাকে লাঞ্ছিত করে, আর কে হচ্ছে মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষাকারী।
Sahih International: And O my people, work according to your position; indeed, I am working. You are going to know to whom will come a punishment that will disgrace him and who is a liar. So watch; indeed, I am with you a watcher, [awaiting the outcome]."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৩. আর হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে কাজ করতে থাক, আমিও আমার কাজ করছি। তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে কার উপর আসবে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং কে মিথ্যাবাদী। আর তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৩) আর হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদের অবস্থায় কাজ করতে থাক আমিও (আমার) কাজ করে যাচ্ছি; এখন সত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কার উপর আসবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি ও কে মিথ্যাবাদী; আর তোমরা প্রতীক্ষায় থাক, আমিও প্রতীক্ষায় রইলাম।’ [1]
তাফসীর:
[1] তিনি যখন দেখলেন যে, এ সম্প্রদায় নিজ কুফরী ও শিরকের উপর অটল এবং তাদের উপর ওয়ায-নসীহতের কোন প্রভাব পড়ছে না, তখন বললেন, ঠিক আছে তোমরা নিজের পথে চলতে থাক। অতি সত্ত্বর সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী কে এবং লাঞ্ছনাকর শাস্তির উপযুক্ত কে তা অবশ্যই জানতে পারবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৪-৯৫ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
এখানে শুয়াইব (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যাদের বসতি ছিল ফিলিস্তিনের মাদইয়ান শহরে। আল্লাহ তা‘আলা মাদইয়ানবাসীর প্রতি নাবী হিসেবে শুয়াইব (عليه السلام) কে প্রেরণ করলেন। তিনিও তাদেরকে প্রথমে পূর্ববর্তী নাবীদের মতই আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের দিকে আহ্বান করলেন এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং অন্যান্য উপাস্যদেরকে বর্জন করতে বললেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই। আর তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন ওজনে ও পরিমাপে কম না দেয়। তাদের খারাপ আমলের মধ্যে অন্যতম এটিও একটি ছিল। তাদের অভ্যাস ছিল যে, যখন তারা কারো নিকট থেকে কিছু ক্রয় করত তখন ওজনে বেশি নিত এবং যখন কারো নিকট বিক্রয় করত তখন মাপে কম দিত। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রচুর পরিমাণ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। তখন শুয়াইব (عليه السلام) তাদের এই পাপ কাজের জন্য আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির ভয় দেখালেন। بِخَيْرٍ বলতে আর্থিক সচ্ছলতাকে বুঝানো হয়েছে।
নাবীগণের দা‘ওয়াত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত (১) আল্লাহ তা‘আলার হক আদায় করা; (২) বান্দার হক আদায় করা। শু‘আইব (عليه السلام) তাদেরকে যে বললেন তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে মেপে দেবে ও ওজনকে পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবে এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না এর দ্বারা মূলত বান্দার হক বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এই কথার তা‘কীদস্বরূপ শু‘আইব (عليه السلام) তাঁর সম্প্রদায়কে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা যেন ওজন ও মাপে কম না দেয় এবং মানুষদেরকে যেন তাদের প্রাপ্য বস্তু কম না দেয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলার নিকট এটি একটি বড় ধরনের অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَیْلٌ لِّلْمُطَفِّفِیْنَﭐﺫ الَّذِیْنَ اِذَا اکْتَالُوْا عَلَی النَّاسِ یَسْتَوْفُوْنَﭑﺘ وَاِذَا کَالُوْھُمْ اَوْ وَّزَنُوْھُمْ یُخْسِرُوْنَﭒﺚ)
“মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।” (সূরা মুত্বাফ্ফিফীন ৮৩:১-৩)
আর তিনি তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি না করে। কারণ ওজন ও মাপে কম দিয়ে মানুষের হক নষ্ট করা ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলার অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি তাদেরকে এ ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করলেন।
(بَقِيَّتُ اللّٰهِ) ‘আল্লাহ প্রদত্ত অবশিষ্ট’ এর অর্থ হল সে মুনাফা যা ওজনে কোন প্রকার কম-বেশি না করে সঠিক মাপে ধার্মিকতার সাথে পণ্য দেয়ার পর অর্জন হয়ে থাকে। যেহেতু তা হালাল ও পবিত্র এবং তাতে বরকত রয়েছে, এ জন্য এ মুনাফাকে আল্লাহ তা‘আলার অবশিষ্ট সম্পদ বলে গণ্য করা হয়েছে। আর যদি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিশ্বাসী না হয়ে তাঁর নির্দেশ ভঙ্গ করো তাহলে ওজনে যতই কম দাও না কেন তাতে কোন বরকত হবে না। এসব নির্দেশনা দিয়ে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: আমার দায়িত্ব শুধু তোমাদেরকে পৌঁছে দেয়া। মানা না মানা এটা তোমাদের দায়িত্ব, আমি তোমাদের ব্যাপারে কোন পাহারাদার নই। আর তোমাদেরকে বিরত রাখাও আমার পক্ষে সম্ভব নয় যদি তোমরা বিরত না হও।
শু‘আইব (عليه السلام)-এর এই কথার জবাবে তারা বলল; হে শুয়াইব! তোমার ইবাদত কি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের ঐ সমস্ত উপাস্যদেরকে ছেড়ে দেব যাদের উপাসনা আমাদের পূর্বপুরুষেরা করত অথবা আমরা আমাদের সম্পদ আমাদের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে পারব না। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে না এবং তার কিছু অংশ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বের করব (অর্থাৎ সম্পদের যাকাত আদায় করা) তা হতে পারে না। সুতরাং এ ধরনের নিয়ম বাতিল।
কোন কোন মুফাসসির বলেছেন: সকল জাতির ধর্মেই যাকাত, ফিতরা এবং সাদকা ইত্যাদি আবশ্যক ছিল। সম্পদ উপার্জনের কিছু নিয়মাবলী ছিল। তাদের কথা শুনে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: যদি আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে হকের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি আমাকে উত্তম রিযিক দান করেন তবুও কি আমি তোমাদের কথা মত তোমাদেরকে যেদিকে আহ্বান করছি তার বিপরীত আমল করব। এটা হতে পারে না। আমি তো শুধু আমার সাধ্যমত তোমাদের কল্যাণ করারই ইচ্ছা পোষণ করি। আর তাও আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত সম্ভব নয়। সুতরাং আমি আমার প্রভুর ওপরই ভরসা করলাম। তিনি তাদেরকে আরো সতর্ক করলেন যে, হে আমার সম্প্রদায়! আমার বিরুদ্ধে তামরা এমন কাজ করে বস না যার ফলে তোমাদের ওপর পূর্ববর্তী জাতির মত শাস্তি নেমে আসে, যেমন শাস্তি এসেছিল নূহ, হূদ, সালেহ ও লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায়ের ওপর। আর তোমরা লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় থেকে বেশি দূরেও নও। সুতরাং তোমরা তোমাদের পাপের কারণে আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাও।
শুআইব (عليه السلام)-এর এ কথার জবাবে তারা বলল, হে শুয়াইব! তুমি আমাদেরকে যেসব কথাবার্তা বল তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। সুতরাং তুমি এসব কথা বলা বন্ধ কর। আর তুমি তো আমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। যদি তোমার আত্মীয় স্বজন না থাকত তবে আমরা তোমাকে পাথর মেরে শেষ করে ফেলতাম। আমরা তোমার গোত্রের লোকদেরকে সম্মান করি, তাই কিছু বলছি না। অতএব তুমি তোমার এসব কথাবার্তা বলা থেকে বিরত হও। তাদের এ কথার জবাবে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে আমার স্বজনবর্গের কারণে ছেড়ে দিচ্ছ। কিন্তু যে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নবুওয়াতের মর্যাদা দান করেছেন, তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কোন খেয়াল তোমাদের অন্তরে নেই এবং তাঁকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখে দিয়েছে। এখানে শু‘আইব
(عليه السلام) أعز عليكم مني
আমার থেকে বেশি মর্যাদাবান, এর স্থানে
أعز عليكم من الله
আল্লাহ তা‘আলা থেকে বেশি মর্যাদাবান বলেছেন। এতে একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, নাবীর অসম্মান করা, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলারই অসম্মান করা। কারণ নাবীগণ আল্লাহ তা‘আলারই প্রেরিত পুরুষ, আর এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে হকপন্থী উলামাদের অসম্মান করা আসলে আল্লাহ তা‘আলার দীনের অসম্মান করা ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। মনে রেখ যে, তোমরা যা কর তা সবই আমার প্রতিপালকের আয়ত্তাধীন। তিনি যখন দেখলেন যে, তাঁর ওয়ায-নসীহতে তাদের কোন উপকার হচ্ছে না তখন তিনি আরো বললেন যে, তোমরা তোমাদের মত কাজ করতে থাক আমিও আমার কাজ করে যাই। অচিরেই জানতে পারবে কাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসে এবং কারা মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর আর আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান রইলাম। তখন হঠাৎ এক বিকট আওয়াজ ধ্বনিতে তাদের অন্তর ফেটে গেল এবং তারা মৃত্যুবরণ করল। তার পর পরই শুরু হল ভূমিকম্প। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)
“সুতরাং তাদেরকে একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প এসে গ্রাস করে নিলো, ফলে তাদের নিজেদের গৃহের মধ্যেই (মৃত অবস্থায় ) উপুড় (অধোমুখী) হয়ে পড়ে রইল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৯১)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(فَكَذَّبُوْهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)
“কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল, অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল; ফলে তারা নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় শেষ হয়ে গেল।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৩৭)
এভাবেই তারা অভিশপ্ত অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিল এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে বঞ্চিত হল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ওজন ও পরিমাপে কম দেয়া যাবে না। কারণ এটি বড় ধরনের অপরাধ। আর এতে বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
২. হক্ব পন্থী আলেমদেরকে অপমান বা তাদের সাথে বেয়াদবী করা যাবে না। কারণ তাদের সাথে বেয়াদবী করার অর্থই হল আল্লাহ তা‘আলার ধর্মকে তুচ্ছ মনে করা।
৩. সঠিক পথের দায়ীকে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করা হবে, তাই বলে দাওয়াতী মিশন ছেড়ে দেয়া যাবে না।
৪. আল্লাহ তা‘আলার হক ও বান্দার হক কোনটাই নষ্ট করার সুযোগ নেই। কারণ কিয়ামতের দিন এ ব্যাপারে জবাবদিহীতার সম্মুখীন হতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯৩-৯৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহর নবী হযরত শুআ’ইব (আঃ) যখন তাঁর কওমের ঈমান আনয়নের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যান তখন তিনি তাদেরকে বলেনঃ “ঠিক আছে, তোমরা নিজেদের নীতির উপর থাকো, আমিও আমার নীতির উপর থাকলাম। তোমরা সত্বরই জানতে পারবে যে, লাঞ্ছিত ও অপমাণিতকারী শাস্তি কার উপর অবতীর্ণ হচ্ছে এবং আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী কে? তোমরা এর জন্যে অপেক্ষা করতে থাকো, আমিও অপেক্ষায় রইলাম। শেষ পর্যন্ত তাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসেই গেল। ঐ সময় আল্লাহর নবী হযরত শুআ’ইব কে (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীয় মু'মিনদেরকে বাঁচিয়ে নেয়া হলো। তাঁদের উপর মহান আল্লাহর করুণা বর্ষিত হলো এবং ঐ অত্যাচারীদেরকে তছনছ করে দেয়া হলো। তারা এমন ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল যে, যেন তারা তাদের বাসভূমিতে কখনো বসবাস করেই নাই। তাদের পূর্বে সামুদ সম্প্রদায় যেমনভাবে আল্লাহর অভিশাপের শিকার হয়েছিল, তেমনিভাবে হযরত শুআ’ইবের (আঃ) কওমও অভিশপ্ত হয়েছিল। সামূদ সম্প্রদায় ছিল তাদের প্রতিবেশী এবং কুফরী ও বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের মতই ছিল। তাছাড়া এই উভয় কওমই ছিল আরবীয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।