সূরা ইউনুস (আয়াত: 72)
হরকত ছাড়া:
فإن توليتم فما سألتكم من أجر إن أجري إلا على الله وأمرت أن أكون من المسلمين ﴿٧٢﴾
হরকত সহ:
فَاِنْ تَوَلَّیْتُمْ فَمَا سَاَلْتُکُمْ مِّنْ اَجْرٍ ؕ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلَی اللّٰهِ ۙوَ اُمِرْتُ اَنْ اَکُوْنَ مِنَ الْمُسْلِمِیْنَ ﴿۷۲﴾
উচ্চারণ: ফাইন তাওয়াল্লাইতুম ফামা-ছাআলতুকুম মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলাল্লা-হি ওয়া উমিরতুআন আকূনা মিনাল মুছলিমীন।
আল বায়ান: ‘অতঃপর তোমরা যদি বিমুখ হও, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো কেবল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমি আদিষ্ট হয়েছি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭২. অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের কাছে আমি তো কোন পারিশ্রমিক চাইনি, আমার পারিশ্রমিক আছে তো কেবল আল্লাহ্র কাছে, আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যদি তোমরা (আমার আহবান থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও (তাতে আমার কোন ক্ষতি হবে না), আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাচ্ছি না, আমার পারিশ্রমিক আছে কেবল আল্লাহরই নিকট, আমাকে আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে শামিল হওয়ারই আদেশ দেয়া হয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (৭২) অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না।[1] আমার পারিশ্রমিক তো শুধু আল্লাহরই যিম্মায় রয়েছে। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, আমি যেন আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দের অন্তর্ভুক্ত থাকি।’ [2]
মুজিবুর রহমান: অতঃপর যদি তোমরা পরোম্মুখই থাক তাহলে আমিতো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাইনা, আমার পারিশ্রমিকতো শুধু আল্লাহরই যিম্মায় রয়েছে। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।
ফযলুর রহমান: “আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও (আমার কথা মানতে রাজি না হও) তাহলে (জেনে রাখ) আমি তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাইনি; আমার বিনিময় তো আল্লাহর কাছেই রয়েছে; আর আমাকে (আল্লাহর) অনুগত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
মুহিউদ্দিন খান: তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোন রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।
জহুরুল হক: কিন্তু যদি তোমরা ফিরে যাও তবে আমি তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাইনি। আমার পারিশ্রমিক কেবল আল্লাহ্র কাছেই রয়েছে, আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে যেন আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।
Sahih International: And if you turn away [from my advice] then no payment have I asked of you. My reward is only from Allah, and I have been commanded to be of the Muslims."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭২. অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তোমাদের কাছে আমি তো কোন পারিশ্রমিক চাইনি, আমার পারিশ্রমিক আছে তো কেবল আল্লাহ্–র কাছে, আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আমাকে যে ইসলামের আনুগত্য করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তার আনুগত্য আমি করছি। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, ইসলাম সমস্ত নবী-রাসূলদের দ্বীন। তাদের শরীআত বিভিন্ন ছিল কিন্তু দ্বীন একই ছিল। নূহ আলাইহিস সালামের দ্বীন যে ইসলাম ছিল তা এ আয়াতে তার কথা থেকে আমরা তা জানতে পারলাম। অনুরূপভাবে ইবরাহীম আলাইহিস সালামও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, “আমি রাব্বুল আলামীনের জন্য আত্মসমৰ্পন তথা ইসলাম গ্রহণ করেছি। [সূরা আল-বাকারাহঃ ১৩১] তাছাড়া ইয়াকুব আলাইহিস সালামও তার দ্বীনকে ইসলাম বলে ঘোষণা করেছিলেন। [দেখুন সূরা আল-বাকারাহঃ ১৩২] আর ইউসুফ ও মূসা আলাইহিমাস সালামও সেটা ঘোষণা করেছিলেন। [দেখুন, সূরা ইউসুফঃ ১০১, সূরা ইউনুসঃ ৮৪] বরং মূসা আলাইহিস সালামের উপর ঈমান গ্রহণকারী জাদুকরগণ, রাণী বিলকিস, ঈসা আলাইহিস সালামের হাওয়ারীগণ এরা সবাই তাদের দ্বীনকে ইসলাম বলে জানিয়েছেন। [দেখুনঃ সূরা আল-আরাফঃ ১২৬, সূরা আন-নামলঃ ৪৪, সূরা আল-মায়েদাহঃ ৪৪, ১১১]
এমনকি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও আল্লাহ তা'আলা এ দ্বীনের অনুসারী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেনঃ “বলুন, আমার সালাত, আমার ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের রব আল্লাহরই উদ্দেশ্যে। তার কোন শরীক নেই এবং আমি এরই জন্য আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি এবং আমিই প্রথম মুসলিম।” [সূরা আল-আনআমঃ ১৬২, ১৬৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা নবীগোষ্ঠি বৈমাত্রেয় ভাই, আমাদের দ্বীন একই’। [বুখারীঃ ৩৪৪৩, মুসলিমঃ ২৩৬৫]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭২) অতঃপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না।[1] আমার পারিশ্রমিক তো শুধু আল্লাহরই যিম্মায় রয়েছে। আর আমাকে হুকুম করা হয়েছে যে, আমি যেন আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)দের অন্তর্ভুক্ত থাকি।’ [2]
তাফসীর:
[1] (আমি তো তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চাই না) যে, তার কারণে তোমরা এই অপবাদ দিতে পারবে যে, নবুওয়াতের দাবীদার হয়ে আমার উদ্দেশ্য ধন-সম্পদ অর্জন করা।
[2] নূহ (আঃ)-এর এই কথা দ্বারাও জানা গেল যে, সকল আম্বিয়াগণের দ্বীন ইসলামই ছিল। যদিও শরীয়তের নিয়ম-নীতি ভিন্ন ও তরীকা বিভিন্ন ছিল। যেমন (لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجا) المائدة-৪৮ দ্বারা বুঝা যায়। কিন্তু সকলের দ্বীন ছিল ইসলাম। দেখুনঃ সূরা নামল ৪৪, ৯১, সূরা বাক্বারাহ ১৩১-১৩২, সূরা ইউসুফ ১০১, সূরা ইউনুস ৮৪, সূরা আ’রাফ ১২৬, সূরা মাইদাহ ৪৮, ১১১ এবং সূরা আনআম ১৬২-১৬৩নং আয়াত।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জাতি, তারা হল নূহ
(عليه السلام)-
এর জাতি, তাদের কিছু কথা বর্ণনা করছেন, যাতে এরা শিক্ষা নিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন হে নাবী! তাদের কাছে নূহ
(عليه السلام)
-এর জাতির ঘটনা শোনাও। তারা তাদের নাবীর অবাধ্য হয়েছিল ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছেন? সুতরাং তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। তোমাদের অবাধ্যতার জন্য যেন এরূপ শাস্তি আক্রান্ত না করে। ঘটনা এই যে, নূহ
(عليه السلام)
যখন তাঁর জাতিকে বললেন: যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান ও আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন দিয়ে দাওয়াত দেয়া ভারী মনে হয় তাহলে জেনে রেখ আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহ তা‘আলার ওপর নির্ভর করি, তোমাদের কাছে কঠিন বোধ মনে হোক আর নাই হোক আমি আমার প্রচার কাজ চালিয়ে যাব। তোমরা এবং তোমাদের বাতিল মা‘বূদরা সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোন ত্র“টি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছো, তাহলে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো, আমাকে অল্প সময়ের জন্যও অবকাশ দিয়ো না। তথাপি তোমরা জেনে রেখ আমি তোমাদেরকে ভয় করি না, কেননা আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
আর যদি তোমরা জানা সত্বেও মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না যে, তোমরা হয়তো বলবে নবুওয়াতের দাবী করে আমার উদ্দেশ্য হল ধন-সম্পদ অর্জন করা। আমার প্রতিদান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকট। তিনিই আমার প্রতিদান দেবেন। আমাকে শুধু নির্দেশ দেয়া হয়েছে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য। নূহ
(عليه السلام)
-এর এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, সকল নাবীদের ধর্মই এক ছিল। যদিও তার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّمِنْهَاجًا)
“আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও একটি নির্দিষ্ট পথ।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৪৮)
আর সেই ধর্ম হল ইসলাম। এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে সূরা বাক্বারা ১৩১-১৩২, আ‘রাফ ১২৬, মায়িদাহ ৪৮, ১১১ এবং আনয়াম ১৬২-১৬৩ নং আয়াতে।
এই সমস্ত নসীহত শোনার পরও যারা ঈমান আনেনি আমি তাদেরকে মহাপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছি। আর যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমি নৌকায় আরোহণ করে বাঁচিয়ে দিয়েছি। নিমজ্জিতদের মধ্যে নূহ
(عليه السلام)
-এর এক পুত্রও ছিল। সুতরাং তুমি তোমার জাতিকে তাদেরও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে শোনাও যে, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।
নূহ (عليه السلام)
-এর সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করে শোনানোর মাধ্যমে আরো দু‘টো জিনিস অর্জন হবে।
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা ও ধৈর্যের ওপর অটল থাকার উৎসাহ প্রদান করা।
২. মুশরিকদেরকে সতর্ককরণ যদি তারা এই শির্ক ও নাফরমানির কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে অন্যদের ন্যায় তাদের ওপরও শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে।
২. অস্বীকারকারীদের পরিণতি খুবই মন্দ।
৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার দিকে ডাকে তাদের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলাই দেবেন।
৪. পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত বর্ণনা করার মাধ্যমে পরবর্তীদেরকে শিক্ষা দেয়া অন্যতম একটি উত্তম নীতি।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেন- হে নবী (সঃ)! মক্কার কাফিরদেরকে, যারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তোমার বিরোধিতা করছে তাদেরকে নূহ (আঃ) এবং তার কওমের ঘটনা শুনিয়ে দাও। তারা তাদের নবীকে অবিশ্বাস করেছিল, ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এবং তাদের সকলকে কিভাবে পানিতে ডুবিয়ে দেন! যাতে পূর্ববর্তীদের এই ভয়াবহ পরিণাম দেখে এ লোকগুলো সতর্ক হয়ে যায় যে, না জানি তাদেরকেও ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হয়। ঘটনা এই যে, নূহ (আঃ) যখন তার কওমকে বললেনঃ “যদি তোমাদের কাছে আমার ঘোরাফেরা এবং সঠিক পথে আনয়নের জন্যে তোমাদেরকে উপদেশ দান তোমাদের নিকট ভারী বোধ হয়, তবে জেনে রেখো যে, আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর করেছি। তোমাদের কাছে কঠিন বোধ হাক বা নাই হাক, আমি কিন্তু প্রচার কার্য থেকে বিরত থাকতে পারি না। আচ্ছা, তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অর্থাৎ তোমাদের উপাস্য প্রতিমাগুলো, সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোনই ক্রটি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছে, তবে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো এবং আমাকে এক ঘন্টাকালও অবকাশ দিও না। সাধ্যমত তোমরা সবকিছুই করতে পার। তথাপি জেনে রেখো যে, তোমাদেরকে আমি পরওয়া করি না এবং ভীতও নই। কেননা, আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুরই উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।”
হুদ (আঃ) স্বীয় কওমকে এরূপই বলেছিলেনঃ “আমিও আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, তোমরা যে আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিগুলোকে তাঁর শরীক বানিয়ে নিচ্ছ, আমি এ ব্যাপারে তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। এখন তোমরা যত পার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকো এবং আমাকে মুহূর্তকালও অবকাশ দিয়ো না। আমার ভরসাস্থল একমাত্র আল্লাহ, যিনি তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমারও প্রতিপালক । যদি তোমরা আমাকে অবিশ্বাস করতঃ আমার দিক থেকে সরে পড়, তবে এতে আমার কি হবে? এমন তো নয় যে, তোমাদের কাছে আমার কিছু পাওয়ার আশা ছিল, যা নষ্ট হওয়ার কারণে আমার দুঃখ হবে? আমি যে তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি তার তো কোন বিনিময় তোমাদের কাছে চাচ্ছি না। আমাকে তো বিনিময় প্রদান করবেন আল্লাহ। আমার প্রতি এই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, আমি যেন সর্বপ্রথম ঈমান আনয়ন করি। আর আমার জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য যে, আমি যেন ইসলামের আহকাম কার্যকর করি। কেননা, প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত সমস্ত নবীর দ্বীন ইসলামই বটে। নীতি ও পন্থা পৃথক হলেও কোন ক্ষতি নেই। তাওহীদের শিক্ষা তো একই।” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে আমি এক একটি শরীয়ত এবং পৃথক পৃথক নীতি ও পন্থা বানিয়েছি। এই নূহ (আঃ) বলেনঃ “আমাকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।”
ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “যখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন, ঈমান আনয়ন কর, তখন সে তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো- আমি ঈমান আনলাম বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি। আর এই হুকুম করে গেছে ইবরাহীম (আঃ) নিজ সন্তানদেরকে এবং ইয়াকুব (আঃ), হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ এই দ্বীনকে তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা ইসলাম ছাড়া আর কোন অবস্থায় মরো না।”
ইউসুফও (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজত্বের বিরাট অংশ দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নফল বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন, হে আসমানসমূহের ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা! আপনি আমার কার্য নির্বাহক, দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও, আমাকে পূর্ণ আনুগত্যের অবস্থায় দুনিয়া হতে উঠিয়ে নিন এবং আমাকে বিশিষ্ট নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
মূসা (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে লোক সকল! যদি তোমরা মুসলিম হও, তবে আল্লাহর উপরই ভরসা কর এবং তাঁরই উপর ঈমান আনয়ন কর।” মূসা (আঃ)-এর যুগের যাদুকরগণ বলেছিলঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের মধ্যে ধৈর্য আনয়ন করুন এবং ইসলামের অবস্থায় আমাদের মৃত্যু দিন!
বিলকিস বলেছিলঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার নিজের উপর যুলুম। করেছি এবং সুলাইমান (আঃ)-এর বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।`
ইরশাদ হচ্ছে- “আমি যে তাওরাত অবতীর্ণ করেছি তা হচ্ছে হিদায়াত ও নূর। নবী এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপর হুকুম কায়েম করে থাকে। আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি যখন (ঈসার আঃ) হাওয়ারীদের উপর অহী করেছিলাম- তোমরা আমার উপর ও আমার রাসূলের উপর ঈমান আনয়ন কর, তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।”
সর্বশেষ নবী, মানব নেতা মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন এবং আমার মরণ সমস্তই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যেই। তার কোনই অংশীদার নেই, আমি এ কাজেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই হলাম প্রথম মুসলিম।” তিনি বলেনঃ “আমরা নবীদের দল যেন বৈমাত্রেয় ভাই। আমাদের সবারই পিতা একজন এবং মাতা পৃথক পৃথক। অর্থাৎ আমাদের সবারই দ্বীন একই। আর সেটা হচ্ছে এক আল্লাহর ইবাদত করা, যদিও আমাদের শরীয়ত পৃথক পৃথক।”
আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “আমি নূহ (আঃ)-কে এবং তার অনুসারীদেরকে নৌকার উপর উঠিয়ে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে যমীনের উপর প্রতিনিধি বানিয়েছিলাম। পক্ষান্তরে যারা তাকে (নূহ আঃ-কে) অবিশ্বাস ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। দেখো, হতভাগ্যদের পরিণাম কি হয়েছিল! হে মুহাম্মাদ (সঃ)! দেখো, আমি মুমিনদেরকে কিরূপে মুক্তি দিয়েছি এবং নাফরমানদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছি!”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।