আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 71)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 71)



হরকত ছাড়া:

واتل عليهم نبأ نوح إذ قال لقومه يا قوم إن كان كبر عليكم مقامي وتذكيري بآيات الله فعلى الله توكلت فأجمعوا أمركم وشركاءكم ثم لا يكن أمركم عليكم غمة ثم اقضوا إلي ولا تنظرون ﴿٧١﴾




হরকত সহ:

وَ اتْلُ عَلَیْهِمْ نَبَاَ نُوْحٍ ۘ اِذْ قَالَ لِقَوْمِهٖ یٰقَوْمِ اِنْ کَانَ کَبُرَ عَلَیْکُمْ مَّقَامِیْ وَ تَذْکِیْرِیْ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَعَلَی اللّٰهِ تَوَکَّلْتُ فَاَجْمِعُوْۤا اَمْرَکُمْ وَ شُرَکَآءَکُمْ ثُمَّ لَا یَکُنْ اَمْرُکُمْ عَلَیْکُمْ غُمَّۃً ثُمَّ اقْضُوْۤا اِلَیَّ وَ لَا تُنْظِرُوْنِ ﴿۷۱﴾




উচ্চারণ: ওয়াতলু‘আলাইহিম নাবাআ নূহ । ইযকা-লা লিকাওমিহী ইয়া-কাওমি ইন কা-না কাবুরা ‘আলাইকুম মাকা-মী ওয়া তাযকীরী বিআ-য়া-তিল্লা-হি ফা‘আলাল্লা-হি তাওয়াক্কালতু ফাআজমি‘ঊ আমরাকুম ওয়া শুরাকাআকুম ছুম্মা লা-ইয়াকুন আমরুকুম ‘আলাইকুম গুম্মাতান ছু ম্মাকদূ ইলাইইয়া ওয়ালা-তুনজিরূন।




আল বায়ান: আর তাদেরকে নূহের সংবাদ পড়ে শুনাও, যখন সে তার কওমকে বলল, ‘হে আমার কওম, আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের কাছে ভারী মনে হয়, তবে আমি আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করলাম। সুতরাং তোমরা অভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর এবং (সাথে নাও) তোমাদের শরীকদের। তারপর তোমাদের বিষয়টি যেন তোমাদের নিকট অস্পষ্ট না থাকে। এরপর আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭১. আর তাদেরকে নূহ-এর বৃত্তান্ত শোনান।(১) তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি ও আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা আমার উপদেশ প্রদান তোমাদের কাছে যদি দুঃসহ হয় তবে আমি তো আল্লাহর উপর নির্ভর করি। সুতরাং তোমরা তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও এবং তোমরা যাদেরকে শরীক করেছ তাদেরকেও ডাক, পরে যেন কর্তব্য বিষয়ে তোমাদের কোন অস্পষ্টতা না থাকে। তারপর আমার সম্বন্ধে তোমাদের কাজ শেষ করে ফেল এবং আমাকে অবকাশ দিও না।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদেরকে নূহের কাহিনী পড়ে শোনাও। যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি আর আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা তোমাদের প্রতি আমার উপদেশ দান যদি তোমাদের নিকট অসহ্য মনে হয় (তাতে আমার কোন পরোয়া নেই) কারণ আমি ভরসা করি আল্লাহর উপর। তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, পরে তোমাদের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তোমাদের মাঝে যেন অস্পষ্টতা না থাকে, অতঃপর আমার উপর তা কার্যকর কর আর আমাকে কোন অবকাশই দিও না।




আহসানুল বায়ান: (৭১) আর তুমি তাদেরকে নূহের বৃত্তান্ত শোনাও; যখন সে নিজের সম্প্রদায়কে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলী দ্বারা উপদেশ দেওয়া যদি তোমাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়, তবে আমার তো আল্লাহরই উপর ভরসা। সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের কর্তব্য স্থির করে নাও,[1] অতঃপর তোমাদের সেই কর্তব্য-বিষয়ে যেন কোন প্রচ্ছন্নতা না থাকে।[2] তারপর আমার সাথে (যা করতে চাও তা) নিস্পন্ন করে ফেল, আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিও না।



মুজিবুর রহমান: আর তুমি তাদেরকে নূহের ইতিবৃত্ত পড়ে শোনাও, যখন সে নিজের কাওমকে বললঃ হে আমার কাওম! যদি তোমাদের কাছে দুর্বহ মনে হয় আমার অবস্থান এবং আল্লাহর আদেশাবলীর নাসীহাত করা, তাহলে আমারতো আল্লাহরই উপর ভরসা। সুতরাং তোমরা তোমাদের (কল্পিত) শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র মাযবূত করে নাও, অতঃপর তোমাদের সেই তদবীর (গোপন ষড়যন্ত্র) যেন তোমাদের দুশ্চিন্তার কারণ না হয়, তারপর আমার সাথে (যা করতে চাও) করে ফেল, আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিওনা।



ফযলুর রহমান: আর তাদেরকে নূহের বৃত্তান্ত পড়ে শোনাও। সে তার লোকদেরকে বলেছিল, “হে আমার লোকেরা! আমি যে তোমাদের মাঝে আছি এবং তোমাদেরকে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এটা যদি তোমাদের কাছে কষ্টকর মনে হয় তাহলে আমি আল্লাহর ওপরই নির্ভর করলাম। এখন তোমরা তোমাদের কাজ ঠিক করো এবং (প্রয়োজনে) তোমাদের শরীকদের ডেকে লও! পরে যেন তোমাদের কাজ তোমাদের কষ্টের কারণ না হয়। তারপর আমার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নাও, আমাকে কোন অবকাশ দিও না।”



মুহিউদ্দিন খান: আর তাদেরকে শুনিয়ে দাও নূহের অবস্থা যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসীহত করা ভারী বলে মনে হয়ে থাকে, তবে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি। এখন তোমরা সবাই মিলে নিজেরদের কর্ম সাব্যস্ত কর এবং এতে তোমাদের শরীকদেরকে সমবেত করে নাও, যাতে তোমাদের মাঝে নিজেদের কাজের ব্যাপারে কোন সন্দেহ-সংশয় না থাকে। অতঃপর আমার সম্পর্কে যা কিছু করার করে ফেল এবং আমাকে অব্যাহতি দিও না।



জহুরুল হক: আর তাদের কাছে নূহ-এর কাহিনী বর্ণনা করো। স্মরণ করো! তিনি তাঁর লোকদের বলেছিলেন -- "হে আমার সম্প্রদায়! যদি আমার বসবাস এবং আল্লাহ্‌র বাণীদ্বারা আমার উপদেশদান তোমাদের উপরে গুরুভার হয়, তাহলে আল্লাহ্‌র উপরেই আমি নির্ভর করছি, সুতরাং তোমাদের কাজের ধারা ও তোমাদের অংশীদের গুটিয়ে নাও, তারপর তোমাদের কাজের ধারায় যেন তোমাদের কোনো সংশয় না থাকে, তখন আমার দিকে তা খাটাও, এবং আমাকে বিরাম দিয় না।



Sahih International: And recite to them the news of Noah, when he said to his people, "O my people, if my residence and my reminding of the signs of Allah has become burdensome upon you - then I have relied upon Allah. So resolve upon your plan and [call upon] your associates. Then let not your plan be obscure to you. Then carry it out upon me and do not give me respite.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭১. আর তাদেরকে নূহ-এর বৃত্তান্ত শোনান।(১) তিনি তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থিতি ও আল্লাহর আয়াতসমূহ দ্বারা আমার উপদেশ প্রদান তোমাদের কাছে যদি দুঃসহ হয় তবে আমি তো আল্লাহর উপর নির্ভর করি। সুতরাং তোমরা তোমাদের কর্তব্য স্থির করে নাও এবং তোমরা যাদেরকে শরীক করেছ তাদেরকেও ডাক, পরে যেন কর্তব্য বিষয়ে তোমাদের কোন অস্পষ্টতা না থাকে। তারপর আমার সম্বন্ধে তোমাদের কাজ শেষ করে ফেল এবং আমাকে অবকাশ দিও না।(২)


তাফসীর:

(১) এ পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে তাতে এ লোকদেরকে ন্যায়সংগত যুক্তি ও হৃদয়গ্রাহী উপদেশের মাধ্যমে তাদের আকীদা-বিশ্বাসে কি কি ভুল-ভ্রান্তি আছে এবং সেগুলো ভুল কেন আর এর মোকাবিলায় সঠিক পথ কি এবং তা সঠিক কেন, একথা বুঝানো হয়েছিল। এখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে হুকুম দিচ্ছেন, তাদেরকে নূহের ঘটনা শুনিয়ে দিন, এ ঘটনা থেকেই তারা আপনার ও তাদের মধ্যকার ব্যাপারটির জবাব পেয়ে যাবে। যেখানে তারা দেখতে পাবে যে, যারা কুফরিতে নিপতিত ছিল তাদেরকে কিভাবে কঠোর শাস্তি দিয়েছিলেন। [কুরতুবী] সুতরাং যারাই অনুরূপ কাজ করবে, আপনার উপর মিথ্যারোপ করবে, আপনার বিরোধিতা করবে তাদের পরিণতিও তা-ই হবে। [ইবন কাসীর]


(২) এটা একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বলা হচ্ছে, আমি নিজের কাজ থেকে বিরত হবো না। তোমরা আমার বিরুদ্ধে যা করতে চাও করো। আমি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। এ ব্যাপারে আরো দেখুন সূরা হুদের ৫৫নং আয়াত।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭১) আর তুমি তাদেরকে নূহের বৃত্তান্ত শোনাও; যখন সে নিজের সম্প্রদায়কে বলল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! আমার অবস্থান এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলী দ্বারা উপদেশ দেওয়া যদি তোমাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়, তবে আমার তো আল্লাহরই উপর ভরসা। সুতরাং তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের কর্তব্য স্থির করে নাও,[1] অতঃপর তোমাদের সেই কর্তব্য-বিষয়ে যেন কোন প্রচ্ছন্নতা না থাকে।[2] তারপর আমার সাথে (যা করতে চাও তা) নিস্পন্ন করে ফেল, আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিও না।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে রেখেছ, তাদের সাহায্য অর্জন কর। (তোমাদের ধারণা অনুযায়ী যদি তারা তোমাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে।)

[2] غمة শব্দটির দ্বিতীয় অর্থ হল, অস্পষ্টতা ও প্রচ্ছন্নতা। অর্থাৎ আমার বিরুদ্ধে তোমাদের কর্তব্য পরিষ্কার ও স্পষ্ট হওয়া দরকার।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জাতি, তারা হল নূহ



(عليه السلام)-



এর জাতি, তাদের কিছু কথা বর্ণনা করছেন, যাতে এরা শিক্ষা নিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন হে নাবী! তাদের কাছে নূহ



(عليه السلام)



-এর জাতির ঘটনা শোনাও। তারা তাদের নাবীর অবাধ্য হয়েছিল ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছেন? সুতরাং তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। তোমাদের অবাধ্যতার জন্য যেন এরূপ শাস্তি আক্রান্ত না করে। ঘটনা এই যে, নূহ



(عليه السلام)



যখন তাঁর জাতিকে বললেন: যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান ও আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন দিয়ে দাওয়াত দেয়া ভারী মনে হয় তাহলে জেনে রেখ আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহ তা‘আলার ওপর নির্ভর করি, তোমাদের কাছে কঠিন বোধ মনে হোক আর নাই হোক আমি আমার প্রচার কাজ চালিয়ে যাব। তোমরা এবং তোমাদের বাতিল মা‘বূদরা সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোন ত্র“টি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছো, তাহলে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো, আমাকে অল্প সময়ের জন্যও অবকাশ দিয়ো না। তথাপি তোমরা জেনে রেখ আমি তোমাদেরকে ভয় করি না, কেননা আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।



আর যদি তোমরা জানা সত্বেও মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না যে, তোমরা হয়তো বলবে নবুওয়াতের দাবী করে আমার উদ্দেশ্য হল ধন-সম্পদ অর্জন করা। আমার প্রতিদান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকট। তিনিই আমার প্রতিদান দেবেন। আমাকে শুধু নির্দেশ দেয়া হয়েছে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য। নূহ



(عليه السلام)



-এর এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, সকল নাবীদের ধর্মই এক ছিল। যদিও তার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّمِنْهَاجًا)



“আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও একটি নির্দিষ্ট পথ।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৪৮)



আর সেই ধর্ম হল ইসলাম। এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে সূরা বাক্বারা ১৩১-১৩২, আ‘রাফ ১২৬, মায়িদাহ ৪৮, ১১১ এবং আনয়াম ১৬২-১৬৩ নং আয়াতে।



এই সমস্ত নসীহত শোনার পরও যারা ঈমান আনেনি আমি তাদেরকে মহাপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছি। আর যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমি নৌকায় আরোহণ করে বাঁচিয়ে দিয়েছি। নিমজ্জিতদের মধ্যে নূহ



(عليه السلام)



-এর এক পুত্রও ছিল। সুতরাং তুমি তোমার জাতিকে তাদেরও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে শোনাও যে, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।



নূহ (عليه السلام)



-এর সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করে শোনানোর মাধ্যমে আরো দু‘টো জিনিস অর্জন হবে।



১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা ও ধৈর্যের ওপর অটল থাকার উৎসাহ প্রদান করা।

২. মুশরিকদেরকে সতর্ককরণ যদি তারা এই শির্ক ও নাফরমানির কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে অন্যদের ন্যায় তাদের ওপরও শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে।

২. অস্বীকারকারীদের পরিণতি খুবই মন্দ।

৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার দিকে ডাকে তাদের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলাই দেবেন।

৪. পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত বর্ণনা করার মাধ্যমে পরবর্তীদেরকে শিক্ষা দেয়া অন্যতম একটি উত্তম নীতি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেন- হে নবী (সঃ)! মক্কার কাফিরদেরকে, যারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তোমার বিরোধিতা করছে তাদেরকে নূহ (আঃ) এবং তার কওমের ঘটনা শুনিয়ে দাও। তারা তাদের নবীকে অবিশ্বাস করেছিল, ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এবং তাদের সকলকে কিভাবে পানিতে ডুবিয়ে দেন! যাতে পূর্ববর্তীদের এই ভয়াবহ পরিণাম দেখে এ লোকগুলো সতর্ক হয়ে যায় যে, না জানি তাদেরকেও ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হয়। ঘটনা এই যে, নূহ (আঃ) যখন তার কওমকে বললেনঃ “যদি তোমাদের কাছে আমার ঘোরাফেরা এবং সঠিক পথে আনয়নের জন্যে তোমাদেরকে উপদেশ দান তোমাদের নিকট ভারী বোধ হয়, তবে জেনে রেখো যে, আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর করেছি। তোমাদের কাছে কঠিন বোধ হাক বা নাই হাক, আমি কিন্তু প্রচার কার্য থেকে বিরত থাকতে পারি না। আচ্ছা, তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অর্থাৎ তোমাদের উপাস্য প্রতিমাগুলো, সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোনই ক্রটি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছে, তবে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো এবং আমাকে এক ঘন্টাকালও অবকাশ দিও না। সাধ্যমত তোমরা সবকিছুই করতে পার। তথাপি জেনে রেখো যে, তোমাদেরকে আমি পরওয়া করি না এবং ভীতও নই। কেননা, আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুরই উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।”

হুদ (আঃ) স্বীয় কওমকে এরূপই বলেছিলেনঃ “আমিও আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, তোমরা যে আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিগুলোকে তাঁর শরীক বানিয়ে নিচ্ছ, আমি এ ব্যাপারে তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। এখন তোমরা যত পার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকো এবং আমাকে মুহূর্তকালও অবকাশ দিয়ো না। আমার ভরসাস্থল একমাত্র আল্লাহ, যিনি তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমারও প্রতিপালক । যদি তোমরা আমাকে অবিশ্বাস করতঃ আমার দিক থেকে সরে পড়, তবে এতে আমার কি হবে? এমন তো নয় যে, তোমাদের কাছে আমার কিছু পাওয়ার আশা ছিল, যা নষ্ট হওয়ার কারণে আমার দুঃখ হবে? আমি যে তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি তার তো কোন বিনিময় তোমাদের কাছে চাচ্ছি না। আমাকে তো বিনিময় প্রদান করবেন আল্লাহ। আমার প্রতি এই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, আমি যেন সর্বপ্রথম ঈমান আনয়ন করি। আর আমার জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য যে, আমি যেন ইসলামের আহকাম কার্যকর করি। কেননা, প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত সমস্ত নবীর দ্বীন ইসলামই বটে। নীতি ও পন্থা পৃথক হলেও কোন ক্ষতি নেই। তাওহীদের শিক্ষা তো একই।” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে আমি এক একটি শরীয়ত এবং পৃথক পৃথক নীতি ও পন্থা বানিয়েছি। এই নূহ (আঃ) বলেনঃ “আমাকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।”

ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “যখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন, ঈমান আনয়ন কর, তখন সে তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো- আমি ঈমান আনলাম বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি। আর এই হুকুম করে গেছে ইবরাহীম (আঃ) নিজ সন্তানদেরকে এবং ইয়াকুব (আঃ), হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ এই দ্বীনকে তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা ইসলাম ছাড়া আর কোন অবস্থায় মরো না।”

ইউসুফও (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজত্বের বিরাট অংশ দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নফল বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন, হে আসমানসমূহের ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা! আপনি আমার কার্য নির্বাহক, দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও, আমাকে পূর্ণ আনুগত্যের অবস্থায় দুনিয়া হতে উঠিয়ে নিন এবং আমাকে বিশিষ্ট নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”

মূসা (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে লোক সকল! যদি তোমরা মুসলিম হও, তবে আল্লাহর উপরই ভরসা কর এবং তাঁরই উপর ঈমান আনয়ন কর।” মূসা (আঃ)-এর যুগের যাদুকরগণ বলেছিলঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের মধ্যে ধৈর্য আনয়ন করুন এবং ইসলামের অবস্থায় আমাদের মৃত্যু দিন!

বিলকিস বলেছিলঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার নিজের উপর যুলুম। করেছি এবং সুলাইমান (আঃ)-এর বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।`

ইরশাদ হচ্ছে- “আমি যে তাওরাত অবতীর্ণ করেছি তা হচ্ছে হিদায়াত ও নূর। নবী এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপর হুকুম কায়েম করে থাকে। আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি যখন (ঈসার আঃ) হাওয়ারীদের উপর অহী করেছিলাম- তোমরা আমার উপর ও আমার রাসূলের উপর ঈমান আনয়ন কর, তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।”

সর্বশেষ নবী, মানব নেতা মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন এবং আমার মরণ সমস্তই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যেই। তার কোনই অংশীদার নেই, আমি এ কাজেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই হলাম প্রথম মুসলিম।” তিনি বলেনঃ “আমরা নবীদের দল যেন বৈমাত্রেয় ভাই। আমাদের সবারই পিতা একজন এবং মাতা পৃথক পৃথক। অর্থাৎ আমাদের সবারই দ্বীন একই। আর সেটা হচ্ছে এক আল্লাহর ইবাদত করা, যদিও আমাদের শরীয়ত পৃথক পৃথক।”

আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “আমি নূহ (আঃ)-কে এবং তার অনুসারীদেরকে নৌকার উপর উঠিয়ে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে যমীনের উপর প্রতিনিধি বানিয়েছিলাম। পক্ষান্তরে যারা তাকে (নূহ আঃ-কে) অবিশ্বাস ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। দেখো, হতভাগ্যদের পরিণাম কি হয়েছিল! হে মুহাম্মাদ (সঃ)! দেখো, আমি মুমিনদেরকে কিরূপে মুক্তি দিয়েছি এবং নাফরমানদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছি!”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।