আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 73)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 73)



হরকত ছাড়া:

فكذبوه فنجيناه ومن معه في الفلك وجعلناهم خلائف وأغرقنا الذين كذبوا بآياتنا فانظر كيف كان عاقبة المنذرين ﴿٧٣﴾




হরকত সহ:

فَکَذَّبُوْهُ فَنَجَّیْنٰهُ وَ مَنْ مَّعَهٗ فِی الْفُلْکِ وَ جَعَلْنٰهُمْ خَلٰٓئِفَ وَ اَغْرَقْنَا الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا ۚ فَانْظُرْ کَیْفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الْمُنْذَرِیْنَ ﴿۷۳﴾




উচ্চারণ: ফাকাযযাবূহু ফানাজ্জাইনা-হু ওয়ামাম মা‘আহূফিল ফুলকি ওয়া জা‘আলনা-হুম খালাইফা ওয়া আগরাকনাল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ফানজু র কাইফা কা-না ‘আকিবাতুল মুনযারীন।




আল বায়ান: অতঃপর তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলল। তাই আমি তাকে ও নৌকাতে যারা তার সাথে ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম এবং আমি তাদেরকে করেছি স্থলাভিষিক্ত। আর ডুবিয়ে দিলাম তাদেরকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। অতএব দেখ, কেমন ছিল তাদের পরিণতি যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৩. অবশেষে তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল; ফলে আমরা তাকে ও তার সঙ্গে যারা নৌকাতে ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম এবং তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করি আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল তাদেরকে নিমজ্জিত করলাম। কাজেই তাদের পরিণাম কি হয়েছিল?




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিন্তু তারা তাকে মিথ্যে বলে অমান্য করল। তখন আমি তাকে আর তার সঙ্গে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম আর তাদেরকে (পৃথিবীতে) উত্তরাধিকারী বানালাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে ব’লে অমান্য করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। এখন দেখ যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল (তারা সতর্ক না হওয়ায়) তাদের কী পরিণাম ঘটেছিল।




আহসানুল বায়ান: (৭৩) অতঃপর তারা তাকে মিথ্যুক মনে করল,[1] অতএব আমি তাকে এবং যারা তার সাথে নৌকায় ছিল, তাদেরকে উদ্ধার করলাম ও তাদেরকে প্রতিনিধি বানালাম।[2] আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা জ্ঞান করেছিল, তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের পরিণাম কি হয়েছিল?



মুজিবুর রহমান: অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে থাকে; অতএব আমি তাকে এবং যারা তার সাথে নৌকায় ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম ও তাদেরকে আবাদ করলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল তাদেরকে নিমজ্জিত করলাম। সুতরাং দেখ কি পরিণাম হয়েছিল তাদের যাদেরকে সাবধান করা হয়েছিল।



ফযলুর রহমান: কিন্তু তারা তাকে অবিশ্বাস করল। পরে আমি তাকে ও তার সঙ্গে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে উদ্ধার করি ও বংশ-পরম্পরায় (পৃথিবীর) বাসিন্দা বানাই এবং যারা আমার বিধানসমূহ অমান্য করেছিল তাদেরকে ডুবিয়ে দেই। সুতরাং লক্ষ্য করো, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল তাদের কেমন পরিণতি হয়েছিল!



মুহিউদ্দিন খান: তারপরও এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদের কে বাঁচিয়ে নিয়েছি এবং যথাস্থানে আবাদ করেছি। আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছি যারা আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, কেমন পরিণতি ঘটেছে তাদের যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল।



জহুরুল হক: কিন্তু তারা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করল, সেজন্যে আমরা তাঁকে ও তাঁর সঙ্গে যারা ছিল তাদের উদ্ধার করেছিলাম জাহাজে, আর আমরা তাদের প্রতিনিধি করেছিলাম, আর ডুবিয়ে দিয়েছিলাম তাদের যারা আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করেছিল। অতএব চেয়ে দেখো! কেমন হয়েছিল সতর্কীকৃতদের পরিণাম।



Sahih International: And they denied him, so We saved him and those with him in the ship and made them successors, and We drowned those who denied Our signs. Then see how was the end of those who were warned.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৩. অবশেষে তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল; ফলে আমরা তাকে ও তার সঙ্গে যারা নৌকাতে ছিল তাদেরকে নাজাত দিলাম এবং তাদেরকে স্থলাভিষিক্ত করি আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছিল তাদেরকে নিমজ্জিত করলাম। কাজেই তাদের পরিণাম কি হয়েছিল?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৩) অতঃপর তারা তাকে মিথ্যুক মনে করল,[1] অতএব আমি তাকে এবং যারা তার সাথে নৌকায় ছিল, তাদেরকে উদ্ধার করলাম ও তাদেরকে প্রতিনিধি বানালাম।[2] আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা জ্ঞান করেছিল, তাদেরকে ডুবিয়ে মারলাম। সুতরাং দেখ, যাদেরকে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের পরিণাম কি হয়েছিল?


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় সব রকমের ওয়ায-নসীহত শোনার পরেও মিথ্যাজ্ঞান করা থেকে বিরত থাকল না। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নূহ (আঃ) ও তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদেরকে নৌকায় আরোহণ করিয়ে বাঁচিয়ে নিলেন এবং বাকি সকলকে, এমনকি নূহ (আঃ)-এর একজন পুত্রকেও ডুবিয়ে মারলেন।

[2] অর্থাৎ সেই সময় যারা জীবিত ছিল, তাদেরকে তাদের পূর্বের মানুষদের স্থলাভিষিক্ত করলাম। মানুষের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের বংশ থেকেই, বিশেষ করে নূহ (আঃ)-এর তিন পুত্র থেকে বিস্তার লাভ করেছে। এই জন্য নূহ (আঃ)-কে দ্বিতীয় আদম বলা হয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা অস্বীকারকারীদের অবস্থা বর্ণনা করার পর এখানে পূর্ববর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি জাতি, তারা হল নূহ



(عليه السلام)-



এর জাতি, তাদের কিছু কথা বর্ণনা করছেন, যাতে এরা শিক্ষা নিতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন হে নাবী! তাদের কাছে নূহ



(عليه السلام)



-এর জাতির ঘটনা শোনাও। তারা তাদের নাবীর অবাধ্য হয়েছিল ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছেন? সুতরাং তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। তোমাদের অবাধ্যতার জন্য যেন এরূপ শাস্তি আক্রান্ত না করে। ঘটনা এই যে, নূহ



(عليه السلام)



যখন তাঁর জাতিকে বললেন: যদি তোমাদের কাছে আমার অবস্থান ও আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন দিয়ে দাওয়াত দেয়া ভারী মনে হয় তাহলে জেনে রেখ আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহ তা‘আলার ওপর নির্ভর করি, তোমাদের কাছে কঠিন বোধ মনে হোক আর নাই হোক আমি আমার প্রচার কাজ চালিয়ে যাব। তোমরা এবং তোমাদের বাতিল মা‘বূদরা সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোন ত্র“টি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছো, তাহলে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো, আমাকে অল্প সময়ের জন্যও অবকাশ দিয়ো না। তথাপি তোমরা জেনে রেখ আমি তোমাদেরকে ভয় করি না, কেননা আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।



আর যদি তোমরা জানা সত্বেও মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে আমি তো তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না যে, তোমরা হয়তো বলবে নবুওয়াতের দাবী করে আমার উদ্দেশ্য হল ধন-সম্পদ অর্জন করা। আমার প্রতিদান একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই নিকট। তিনিই আমার প্রতিদান দেবেন। আমাকে শুধু নির্দেশ দেয়া হয়েছে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হবার জন্য। নূহ



(عليه السلام)



-এর এ কথা থেকে বুঝা যায় যে, সকল নাবীদের ধর্মই এক ছিল। যদিও তার পদ্ধতি ভিন্ন ছিল।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَّمِنْهَاجًا)



“আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছি একটি নির্দিষ্ট শরীয়ত ও একটি নির্দিষ্ট পথ।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৪৮)



আর সেই ধর্ম হল ইসলাম। এ ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে সূরা বাক্বারা ১৩১-১৩২, আ‘রাফ ১২৬, মায়িদাহ ৪৮, ১১১ এবং আনয়াম ১৬২-১৬৩ নং আয়াতে।



এই সমস্ত নসীহত শোনার পরও যারা ঈমান আনেনি আমি তাদেরকে মহাপ্লাবন দ্বারা ধ্বংস করে দিয়েছি। আর যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে আমি নৌকায় আরোহণ করে বাঁচিয়ে দিয়েছি। নিমজ্জিতদের মধ্যে নূহ



(عليه السلام)



-এর এক পুত্রও ছিল। সুতরাং তুমি তোমার জাতিকে তাদেরও দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে শোনাও যে, অস্বীকারকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।



নূহ (عليه السلام)



-এর সম্প্রদায়ের কথা বর্ণনা করে শোনানোর মাধ্যমে আরো দু‘টো জিনিস অর্জন হবে।



১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা ও ধৈর্যের ওপর অটল থাকার উৎসাহ প্রদান করা।

২. মুশরিকদেরকে সতর্ককরণ যদি তারা এই শির্ক ও নাফরমানির কাজে লিপ্ত থাকে তাহলে অন্যদের ন্যায় তাদের ওপরও শাস্তি আবশ্যক হয়ে যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে ও আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে।

২. অস্বীকারকারীদের পরিণতি খুবই মন্দ।

৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার দিকে ডাকে তাদের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলাই দেবেন।

৪. পূর্ববর্তীদের বৃত্তান্ত বর্ণনা করার মাধ্যমে পরবর্তীদেরকে শিক্ষা দেয়া অন্যতম একটি উত্তম নীতি।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭১-৭৩ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেন- হে নবী (সঃ)! মক্কার কাফিরদেরকে, যারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং তোমার বিরোধিতা করছে তাদেরকে নূহ (আঃ) এবং তার কওমের ঘটনা শুনিয়ে দাও। তারা তাদের নবীকে অবিশ্বাস করেছিল, ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন এবং তাদের সকলকে কিভাবে পানিতে ডুবিয়ে দেন! যাতে পূর্ববর্তীদের এই ভয়াবহ পরিণাম দেখে এ লোকগুলো সতর্ক হয়ে যায় যে, না জানি তাদেরকেও ধ্বংসের সম্মুখীন হতে হয়। ঘটনা এই যে, নূহ (আঃ) যখন তার কওমকে বললেনঃ “যদি তোমাদের কাছে আমার ঘোরাফেরা এবং সঠিক পথে আনয়নের জন্যে তোমাদেরকে উপদেশ দান তোমাদের নিকট ভারী বোধ হয়, তবে জেনে রেখো যে, আমি এটাকে মোটেই গ্রাহ্য করি না। আমি শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর করেছি। তোমাদের কাছে কঠিন বোধ হাক বা নাই হাক, আমি কিন্তু প্রচার কার্য থেকে বিরত থাকতে পারি না। আচ্ছা, তোমরা এবং আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অর্থাৎ তোমাদের উপাস্য প্রতিমাগুলো, সবাই একমত হয়ে যাও এবং নিজেদের চেষ্টার কোনই ক্রটি না করে সবদিক দিয়ে নিজেদেরকে দৃঢ় করে নাও। অতঃপর তোমাদের যদি বিশ্বাস থাকে যে, তোমরাই হক পথে রয়েছে, তবে আমার ব্যাপারে তোমাদের সিদ্ধান্ত কার্যকরী করে ফেলো এবং আমাকে এক ঘন্টাকালও অবকাশ দিও না। সাধ্যমত তোমরা সবকিছুই করতে পার। তথাপি জেনে রেখো যে, তোমাদেরকে আমি পরওয়া করি না এবং ভীতও নই। কেননা, আমি জানি যে, তোমাদের অনুমানের ভিত্তি কোন কিছুরই উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।”

হুদ (আঃ) স্বীয় কওমকে এরূপই বলেছিলেনঃ “আমিও আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং তোমরাও সাক্ষী থাকো যে, তোমরা যে আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিগুলোকে তাঁর শরীক বানিয়ে নিচ্ছ, আমি এ ব্যাপারে তোমাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। এখন তোমরা যত পার আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকো এবং আমাকে মুহূর্তকালও অবকাশ দিয়ো না। আমার ভরসাস্থল একমাত্র আল্লাহ, যিনি তোমাদেরও প্রতিপালক এবং আমারও প্রতিপালক । যদি তোমরা আমাকে অবিশ্বাস করতঃ আমার দিক থেকে সরে পড়, তবে এতে আমার কি হবে? এমন তো নয় যে, তোমাদের কাছে আমার কিছু পাওয়ার আশা ছিল, যা নষ্ট হওয়ার কারণে আমার দুঃখ হবে? আমি যে তোমাদের কল্যাণ কামনা করছি তার তো কোন বিনিময় তোমাদের কাছে চাচ্ছি না। আমাকে তো বিনিময় প্রদান করবেন আল্লাহ। আমার প্রতি এই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, আমি যেন সর্বপ্রথম ঈমান আনয়ন করি। আর আমার জন্যে এটা অবশ্য কর্তব্য যে, আমি যেন ইসলামের আহকাম কার্যকর করি। কেননা, প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত সমস্ত নবীর দ্বীন ইসলামই বটে। নীতি ও পন্থা পৃথক হলেও কোন ক্ষতি নেই। তাওহীদের শিক্ষা তো একই।” আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “তোমাদের প্রত্যেকের জন্যে আমি এক একটি শরীয়ত এবং পৃথক পৃথক নীতি ও পন্থা বানিয়েছি। এই নূহ (আঃ) বলেনঃ “আমাকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, আমি যেন মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হই।”

ইবরাহীম (আঃ) সম্পর্কে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “যখন তার প্রতিপালক তাকে বললেন, ঈমান আনয়ন কর, তখন সে তৎক্ষণাৎ বলে উঠলো- আমি ঈমান আনলাম বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি। আর এই হুকুম করে গেছে ইবরাহীম (আঃ) নিজ সন্তানদেরকে এবং ইয়াকুব (আঃ), হে আমার সন্তানগণ! আল্লাহ এই দ্বীনকে তোমাদের জন্যে মনোনীত করেছেন, সুতরাং তোমরা ইসলাম ছাড়া আর কোন অবস্থায় মরো না।”

ইউসুফও (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজত্বের বিরাট অংশ দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নফল বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন, হে আসমানসমূহের ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা! আপনি আমার কার্য নির্বাহক, দুনিয়াতেও এবং আখিরাতেও, আমাকে পূর্ণ আনুগত্যের অবস্থায় দুনিয়া হতে উঠিয়ে নিন এবং আমাকে বিশিষ্ট নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”

মূসা (আঃ) বলেছিলেনঃ “হে লোক সকল! যদি তোমরা মুসলিম হও, তবে আল্লাহর উপরই ভরসা কর এবং তাঁরই উপর ঈমান আনয়ন কর।” মূসা (আঃ)-এর যুগের যাদুকরগণ বলেছিলঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের মধ্যে ধৈর্য আনয়ন করুন এবং ইসলামের অবস্থায় আমাদের মৃত্যু দিন!

বিলকিস বলেছিলঃ “হে আমার প্রতিপালক! আমি আমার নিজের উপর যুলুম। করেছি এবং সুলাইমান (আঃ)-এর বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।`

ইরশাদ হচ্ছে- “আমি যে তাওরাত অবতীর্ণ করেছি তা হচ্ছে হিদায়াত ও নূর। নবী এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপর হুকুম কায়েম করে থাকে। আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি যখন (ঈসার আঃ) হাওয়ারীদের উপর অহী করেছিলাম- তোমরা আমার উপর ও আমার রাসূলের উপর ঈমান আনয়ন কর, তখন তারা বলেছিল, আমরা ঈমান আনলাম এবং আপনি সাক্ষী থাকুন যে, আমরা মুসলিম।”

সর্বশেষ নবী, মানব নেতা মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেনঃ “আমার সালাত, আমার ইবাদত, আমার জীবন এবং আমার মরণ সমস্তই বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্যেই। তার কোনই অংশীদার নেই, আমি এ কাজেই আদিষ্ট হয়েছি এবং আমিই হলাম প্রথম মুসলিম।” তিনি বলেনঃ “আমরা নবীদের দল যেন বৈমাত্রেয় ভাই। আমাদের সবারই পিতা একজন এবং মাতা পৃথক পৃথক। অর্থাৎ আমাদের সবারই দ্বীন একই। আর সেটা হচ্ছে এক আল্লাহর ইবাদত করা, যদিও আমাদের শরীয়ত পৃথক পৃথক।”

আল্লাহ পাকের উক্তিঃ “আমি নূহ (আঃ)-কে এবং তার অনুসারীদেরকে নৌকার উপর উঠিয়ে মুক্তি দিয়েছিলাম এবং তাদেরকে যমীনের উপর প্রতিনিধি বানিয়েছিলাম। পক্ষান্তরে যারা তাকে (নূহ আঃ-কে) অবিশ্বাস ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিলাম। দেখো, হতভাগ্যদের পরিণাম কি হয়েছিল! হে মুহাম্মাদ (সঃ)! দেখো, আমি মুমিনদেরকে কিরূপে মুক্তি দিয়েছি এবং নাফরমানদেরকে কিভাবে ধ্বংস করেছি!”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।