আল কুরআন
Part 1 | Page 70
খন্ডঃ 1 | পৃষ্ঠাঃ 70
মুজিযার প্রথম শর্ত হলো, এটি এমন কিছু হওয়া যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত অন্য কারো সাধ্যের অতীত। মুজিযার জন্য এই শর্তটি আবশ্যক হওয়ার কারণ হলো, যদি রাসূলগণের আগমনের উপযুক্ত কোনো সময়ে কোনো ব্যক্তি আগমন করে রিসালাতের দাবি জানায় এবং নিজের নড়াচড়া করা, স্থির হওয়া, দাঁড়ানো কিংবা বসে থাকাকে নিজের মুজিযা হিসেবে পেশ করে, তবে তার এই দাবি মুজিযা হিসেবে গণ্য হবে না এবং এটি তার সত্যবাদিতার প্রমাণও হবে না; কেননা সৃষ্টিজগতের সাধারণ মানুষেরও এই জাতীয় কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। বরং মুজিযা অবশ্যই সমুদ্র বিদীর্ণ করা, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করা এবং এই জাতীয় বিষয় হতে হবে যা মানুষের ক্ষমতার ঊর্ধ্বে। দ্বিতীয় শর্ত হলো, তা অলৌকিক বা স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী হতে হবে। এই শর্তটি থাকা এজন্য জরুরি যে, কোনো রিসালাতের দাবিদার যদি বলে: ‘আমার নিদর্শন হলো দিবসের পর রজনীর আগমন এবং পূর্ব দিগন্ত থেকে সূর্যোদয়’, তবে তার এই দাবিতে কোনো মুজিযা থাকবে না। কারণ, যদিও এসব কাজ মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ করতে সক্ষম নয়, তবুও এগুলো তার কারণে সংঘটিত হয়নি। বরং তার দাবির পূর্বেও এগুলো যেমন ছিল, দাবির সময়েও তেমনই রয়েছে। তার নবুওয়াতের প্রমাণ হিসেবে এই দাবিটি অন্য যে কারো দাবির মতোই সাধারণ হবে। ফলে স্পষ্ট হলো যে, তার সত্যবাদিতা প্রমাণের জন্য এতে কোনো বিশেষত্ব নেই। পক্ষান্তরে রাসূল আলাইহিস সালাম যা দ্বারা প্রমাণ পেশ করেন, তাতে তাঁর সত্যবাদিতা প্রমাণের যৌক্তিক দিক বিদ্যমান থাকে। সেটি হলো এই যে, তিনি বলেন: ‘আমার সত্যবাদিতার প্রমাণ হলো এই যে, আমার রিসালাতের দাবির সপক্ষে মহান আল্লাহ স্বাভাবিক নিয়ম ভঙ্গ করবেন, যেমন—এই লাঠিকে অজগরে রূপান্তরিত করবেন, পাথর বিদীর্ণ করে তার মধ্য থেকে উষ্ট্রী বের করবেন, কিংবা আমার আঙুলগুলোর মাঝখান থেকে প্রস্রবণের মতো পানি প্রবাহিত করবেন অথবা এ জাতীয় অন্যান্য অলৌকিক নিদর্শনাবলি’, যেগুলো কেবল আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মহাপরাক্রমশালী সত্তার পক্ষেই সম্ভব। এই নিদর্শনগুলো তখন মহান রবের বাণীর স্থলাভিষিক্ত হয়—যেন তিনি আমাদের তাঁর মহাপবিত্র বাণী শুনিয়ে বলছেন: ‘সে সত্য বলেছে, আমিই তাকে পাঠিয়েছি।’ এই মাসআলাটির উদাহরণ হলো—আর মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই সর্বোচ্চ উপমা—যদি একদল লোক দুনিয়ার কোনো বাদশাহর দরবারে উপস্থিত থাকে এবং বাদশাহর জনৈক ব্যক্তি তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর শ্রবণগোচরে লোকজনকে বলে: ‘হে লোকসকল, বাদশাহ তোমাদের এই এই নির্দেশ দিচ্ছেন; আর এর প্রমাণ হলো এই যে, বাদশাহ তাঁর কোনো একটি কাজের মাধ্যমে আমাকে সত্যায়ন করবেন, আর তা হলো তিনি আমাকে সত্যায়ন করার উদ্দেশ্যে তাঁর হাত থেকে আংটিটি খুলে দেখাবেন।’ এরপর বাদশাহ যখন উপস্থিতদের প্রতি তার এই বক্তব্য ও দাবি শুনলেন এবং তার সত্যবাদিতার প্রমাণস্বরূপ সেই কাজটি করলেন, তখন এটি বাদশাহর সেই বাণীর স্থলাভিষিক্ত হলো যেন তিনি বলছেন: ‘আমার পক্ষ থেকে সে যা দাবি করেছে, তাতে সে সত্য বলেছে।’ তদ্রূপ, যখন মহান আল্লাহ এমন কোনো কাজ করেন যা তিনি ব্যতীত আর কেউ করতে সক্ষম নয় এবং রাসূলের হাতে অলৌকিকভাবে তা প্রকাশ করেন, তখন সেই কাজটি মহান আল্লাহর এই বাণীর স্থলাভিষিক্ত হয় যা যেন আমাদের শুনিয়ে বলা হচ্ছে: ‘আমার বান্দা রিসালাতের দাবিতে সত্য বলেছে, আমিই তাকে তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি; সুতরাং তোমরা তার কথা শোনো ও আনুগত্য করো।’