আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 56)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 56)



হরকত ছাড়া:

ويحلفون بالله إنهم لمنكم وما هم منكم ولكنهم قوم يفرقون ﴿٥٦﴾




হরকত সহ:

وَ یَحْلِفُوْنَ بِاللّٰهِ اِنَّهُمْ لَمِنْکُمْ ؕ وَ مَا هُمْ مِّنْکُمْ وَ لٰکِنَّهُمْ قَوْمٌ یَّفْرَقُوْنَ ﴿۵۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াহলিফূনা বিল্লা-হি ইন্নাহুম লামিনকুম ওয়ামা-হুম মিনকুম ওয়ালা-কিন্নাহুম কাওমুইঁ ইয়াফরাকূন।




আল বায়ান: আর তারা আল্লাহর কসম করে যে, নিশ্চয় তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তারা এমন কওম যারা ভীত হয়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বস্তুত তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভয় করে থাকে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলে যে, তারা তোমাদেরই মধ্যের লোক, তারা কক্ষনো তোমাদের মধ্যের লোক নয়, প্রকৃতপক্ষে তারা ভীত-সন্ত্রস্ত লোক।




আহসানুল বায়ান: (৫৬) আর তারা আল্লাহর কসম করে বলে যে, তারা (মুনাফিকরা) তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তারা হচ্ছে ভীতু সম্প্রদায়। [1]



মুজিবুর রহমান: আর তারা আল্লাহর কসম করে বলে যে, তারা (মুনাফিকরা) তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত; অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তারা হচ্ছে কাপুরুষের দল।



ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদের লোক, কিন্তু (আসলে) তারা তোমাদের লোক নয়, বরং তারা এমন এক গোষ্ঠী যারা (তোমাদেরকে) ভয় করে।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আল্লাহর নামে হলফ করে বলে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়, অবশ্য তারা তোমাদের ভয় করে।



জহুরুল হক: আর তারা আল্লাহ্‌র নামে হলফ করে যে তারা নিঃসন্দেহ তোমাদেরই মধ্যেকার। কিন্তু তারা তোমাদের মধ্যেকার নয়, বস্তুতঃ তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা কাপুরুষ।



Sahih International: And they swear by Allah that they are from among you while they are not from among you; but they are a people who are afraid.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৬. আর তারা আল্লাহর নামে শপথ করে যে, তারা তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, বস্তুত তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা ভয় করে থাকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৬) আর তারা আল্লাহর কসম করে বলে যে, তারা (মুনাফিকরা) তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত, অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তারা হচ্ছে ভীতু সম্প্রদায়। [1]


তাফসীর:

[1] এই ভীরুতার ফলেই তারা মিথ্যা কসম খেয়ে এটা প্রকাশ করতে চায় যে, আমরাও তোমাদের দলভুক্ত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৬-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতেও মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তারা শপথ করে বলে যে, তারা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি কোন আশ্রয়স্থল বা গিরিগুহা কিংবা লুকানোর জায়গা খুঁজে পায় তাহলে সেখানে পালাবে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের একটি বড় ত্র“টির বিবরণ দিচ্ছেন তা হল: তারা বলে গনীমতের মাল বণ্টনে নাবী (সাঃ) ইনসাফ করেন না।



আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি কিছু গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বানু তামীম গোত্রের জুলখোয়াইসিরাহ্ নামে এক ব্যক্তি এসে হাযির হল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি ইন্সাফ করুন। তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইন্সাফ না করি, তবে ইন্সাফ করবে কে? আমি তো নিষ্ফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হব যদি আমি ইন্সাফ না করি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, একে ছেড়ে দাও। তার এমন কিছু সঙ্গী সাথী রয়েছে তোমাদের কেউ তাদের সলাতের তুলনায় নিজের সলাত এবং সিয়াম নগণ্য বলে মনে করবে। এরা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর নীচে প্রবেশ করে না। তারা দ্বীন হতে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তীরের অগ্রভাগের লোহা দেখা যাবে কিন্তু কোন চিহ্ন পাওয়া যাবে না। কাঠের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। মাঝের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তার পালক দেখলে তাতেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। অথচ তীরটি শিকারী জন্তুর নাড়িভুঁড়ি ভেদ করে রক্তমাংস পার হয়ে বেরিয়ে গেছে। এদের নিদর্শন হল এমন একটি কাল মানুষ যার একটি বাহু নারীর স্তনের মত অথবা মাংস খণ্ডের মত নড়াচড়া করবে। তারা লোকদের মধ্যে বিরোধকালে আত্মপ্রকাশ করবে।



আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি স্বয়ং আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর নিকট হতে এ কথা শুনেছি। আমি এ-ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ‘আলী ইব্নু আবূ তালিব (রাঃ) এদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তখন ‘আলী (রাঃ) ঐ লোককে খুঁজে বের করতে আদেশ দিলেন। খোঁজ করে যখন আনা হল আমি মনোযোগের সঙ্গে তাকিয়ে তার মধ্যে ঐ সব চিহ্নগুলো দেখতে পেলাম, যা নাবী (সাঃ) বলেছিলেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩৬১০)



আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) যা প্রদান করেছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের পরিচয়। যদি কেউ ইসলামের কোন বিষয় অস্বীকার করে বা অন্যায় বলে প্রশ্ন তুলে তাহলে সে মু’মিন হতে পারে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মিথ্যা শপথ মুনাফিকদের আলামত।

২. কাপুরুষতা, দুর্বলতা ও শত্রুদের ভয় করা মুনাফিকদের আলামাত।

৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিচার ফাসয়ালা না মানা কুফরীর নামান্তার।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৬-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের অস্থিরতা, হতবুদ্ধিতা, উদ্বেগ, সন্ত্রাস ও ব্যাকুলতার সংবাদ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন- হে মুসলিমরা! এই মুনাফিকরা তোমাদের কাছে এসে তোমাদের মন জয় করার উদ্দেশ্যে এবং তোমাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে লম্বা চওড়া কসম করে করে বলেঃ “আল্লাহর শপথ! আমরা তোমাদের সাথেই রয়েছি, আমরা মুসলিম।” অথচ প্রকৃত ব্যাপার এর বিপরীত। এটা শুধু ভয় ও সন্ত্রাস, যা তাদের পেটে ব্যথা সৃষ্টি করছে। আজ যদি তারা নিজেদের রক্ষার জন্যে কোন দুর্গ পেয়ে যায় বা অন্য কোন সুরক্ষিত স্থান দেখতে পায় অথবা কোন সুড়ঙ্গের সংবাদ পায় তবে তারা সবাই উন্নতশিরে ঊর্ধ্বশ্বাসে ঐ দিকে ধাবিত হবে। তাদের একজনকেও তোমার কাছে দেখা যাবে না। কেননা, প্রকতপক্ষে তোমার সাথে তাদের কোন ভালবাসা ও বন্ধুতুই নেই। তারা তো শুধু ভয়ে বাধ্য হয়ে তোমাদেরকে তোষামোদ করতে আসছে। একমাত্র এই কারণেই যতোই ইসলামের উন্নতি হচ্ছে ততোই তারা মনঃক্ষুন্ন হচ্ছে। মুসলিমদের কল্যাণে ও খুশীতে তারা জ্বলে পুড়ে মরছে। তোমাদের উন্নতি এদের সহ্য হচ্ছে না। সুযোগ পেলেই তারা আশ্রয়স্থলের দিকে দৌড়িয়ে পালাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।