সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 57)
হরকত ছাড়া:
لو يجدون ملجأ أو مغارات أو مدخلا لولوا إليه وهم يجمحون ﴿٥٧﴾
হরকত সহ:
لَوْ یَجِدُوْنَ مَلْجَاً اَوْ مَغٰرٰتٍ اَوْ مُدَّخَلًا لَّوَلَّوْا اِلَیْهِ وَ هُمْ یَجْمَحُوْنَ ﴿۵۷﴾
উচ্চারণ: লাও ইয়াজিদূনা মালজাআন আও মাগা-রা-তিন আও মুদ্দাখালাল লাওয়াল্লাও ইলাইহি ওয়াহুম ইয়াজমাহূন।
আল বায়ান: যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল, বা কোন গুহা অথবা লুকিয়ে থাকার কোন প্রবেশস্থল পেত, তবে তারা সেদিকেই দৌড়ে পালাত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা লুকিয়ে থাকার কোন প্রবেশস্থল পেলে সেদিকেই পালিয়ে যাবে দ্রুততার সাথে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়ার জায়গা পেলে কিংবা গিরিগুহা বা ঢুকে থাকার মত জায়গা পেলে সেখানেই তারা ক্ষিপ্রগতিতে ছুটে যেত।
আহসানুল বায়ান: (৫৭) যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল অথবা গিরি-গুহা কিংবা লুকাবার একটু স্থান (তহখানা) পায়, তাহলে তারা অবশ্যই (লাগামহীন ঘোড়ার মত) ক্ষিপ্রগতিতে সেই দিকে পলায়ন করবে। [1]
মুজিবুর রহমান: যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল পেত, অথবা গুহা কিংবা লুকিয়ে থাকার একটু স্থান পেত তাহলে তারা অবশ্যই ক্ষিপ্র গতিতে সেদিকে ধাবিত হত।
ফযলুর রহমান: তারা যদি কোন আশ্রয়স্থল বা গুহা কিংবা কোন প্রবেশস্থল পায় তাহলে সেদিকেই ছুটে পালাবে।
মুহিউদ্দিন খান: তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গুহা বা মাথা গোঁজার ঠাই পেলে সেদিকে পলায়ন করবে দ্রুতগতিতে।
জহুরুল হক: তারা যদি পেতো কোনো আশ্রয়স্থল বা কোনো গুহাগহ্বর অথবা কোনো প্রবেশ করার জায়গা, -- তারা নিশ্চয়ই সেখানে চলে যেত দ্রতগতিতে পলায়নপর হয়ে।
Sahih International: If they could find a refuge or some caves or any place to enter [and hide], they would turn to it while they run heedlessly.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৭. তারা কোন আশ্রয়স্থল, কোন গিরিগুহা অথবা লুকিয়ে থাকার কোন প্রবেশস্থল পেলে সেদিকেই পালিয়ে যাবে দ্রুততার সাথে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৭) যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল অথবা গিরি-গুহা কিংবা লুকাবার একটু স্থান (তহখানা) পায়, তাহলে তারা অবশ্যই (লাগামহীন ঘোড়ার মত) ক্ষিপ্রগতিতে সেই দিকে পলায়ন করবে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, দ্রুত গতিতে পলায়ন করে নিজেদের আশ্রয়স্থলে চলে যাবে। যেহেতু তোমাদের সাথে তাদের যতটা সম্পর্ক আছে তা সম্প্রীতি ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে নয়, বরং শত্রুতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণার ভিত্তিতে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৬-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতেও মুনাফিকদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। তারা শপথ করে বলে যে, তারা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা মু’মিনদের অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি কোন আশ্রয়স্থল বা গিরিগুহা কিংবা লুকানোর জায়গা খুঁজে পায় তাহলে সেখানে পালাবে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের একটি বড় ত্র“টির বিবরণ দিচ্ছেন তা হল: তারা বলে গনীমতের মাল বণ্টনে নাবী (সাঃ) ইনসাফ করেন না।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি কিছু গনীমতের মাল বণ্টন করছিলেন। তখন বানু তামীম গোত্রের জুলখোয়াইসিরাহ্ নামে এক ব্যক্তি এসে হাযির হল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আপনি ইন্সাফ করুন। তিনি বললেন, তোমার দুর্ভাগ্য! আমি যদি ইন্সাফ না করি, তবে ইন্সাফ করবে কে? আমি তো নিষ্ফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হব যদি আমি ইন্সাফ না করি। ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি এর গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, একে ছেড়ে দাও। তার এমন কিছু সঙ্গী সাথী রয়েছে তোমাদের কেউ তাদের সলাতের তুলনায় নিজের সলাত এবং সিয়াম নগণ্য বলে মনে করবে। এরা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালীর নীচে প্রবেশ করে না। তারা দ্বীন হতে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর ধনুক হতে বেরিয়ে যায়। তীরের অগ্রভাগের লোহা দেখা যাবে কিন্তু কোন চিহ্ন পাওয়া যাবে না। কাঠের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। মাঝের অংশ দেখলে তাতেও কিছু পাওয়া যাবে না। তার পালক দেখলে তাতেও কোন চিহ্ন পাওয়া যায় না। অথচ তীরটি শিকারী জন্তুর নাড়িভুঁড়ি ভেদ করে রক্তমাংস পার হয়ে বেরিয়ে গেছে। এদের নিদর্শন হল এমন একটি কাল মানুষ যার একটি বাহু নারীর স্তনের মত অথবা মাংস খণ্ডের মত নড়াচড়া করবে। তারা লোকদের মধ্যে বিরোধকালে আত্মপ্রকাশ করবে।
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি স্বয়ং আল্লাহর রসূল (সাঃ)-এর নিকট হতে এ কথা শুনেছি। আমি এ-ও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ‘আলী ইব্নু আবূ তালিব (রাঃ) এদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন। আমিও তার সঙ্গে ছিলাম। তখন ‘আলী (রাঃ) ঐ লোককে খুঁজে বের করতে আদেশ দিলেন। খোঁজ করে যখন আনা হল আমি মনোযোগের সঙ্গে তাকিয়ে তার মধ্যে ঐ সব চিহ্নগুলো দেখতে পেলাম, যা নাবী (সাঃ) বলেছিলেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩৬১০)
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) যা প্রদান করেছেন তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের পরিচয়। যদি কেউ ইসলামের কোন বিষয় অস্বীকার করে বা অন্যায় বলে প্রশ্ন তুলে তাহলে সে মু’মিন হতে পারে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মিথ্যা শপথ মুনাফিকদের আলামত।
২. কাপুরুষতা, দুর্বলতা ও শত্রুদের ভয় করা মুনাফিকদের আলামাত।
৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিচার ফাসয়ালা না মানা কুফরীর নামান্তার।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৬-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকদের অস্থিরতা, হতবুদ্ধিতা, উদ্বেগ, সন্ত্রাস ও ব্যাকুলতার সংবাদ দিচ্ছেন। তিনি বলছেন- হে মুসলিমরা! এই মুনাফিকরা তোমাদের কাছে এসে তোমাদের মন জয় করার উদ্দেশ্যে এবং তোমাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে লম্বা চওড়া কসম করে করে বলেঃ “আল্লাহর শপথ! আমরা তোমাদের সাথেই রয়েছি, আমরা মুসলিম।” অথচ প্রকৃত ব্যাপার এর বিপরীত। এটা শুধু ভয় ও সন্ত্রাস, যা তাদের পেটে ব্যথা সৃষ্টি করছে। আজ যদি তারা নিজেদের রক্ষার জন্যে কোন দুর্গ পেয়ে যায় বা অন্য কোন সুরক্ষিত স্থান দেখতে পায় অথবা কোন সুড়ঙ্গের সংবাদ পায় তবে তারা সবাই উন্নতশিরে ঊর্ধ্বশ্বাসে ঐ দিকে ধাবিত হবে। তাদের একজনকেও তোমার কাছে দেখা যাবে না। কেননা, প্রকতপক্ষে তোমার সাথে তাদের কোন ভালবাসা ও বন্ধুতুই নেই। তারা তো শুধু ভয়ে বাধ্য হয়ে তোমাদেরকে তোষামোদ করতে আসছে। একমাত্র এই কারণেই যতোই ইসলামের উন্নতি হচ্ছে ততোই তারা মনঃক্ষুন্ন হচ্ছে। মুসলিমদের কল্যাণে ও খুশীতে তারা জ্বলে পুড়ে মরছে। তোমাদের উন্নতি এদের সহ্য হচ্ছে না। সুযোগ পেলেই তারা আশ্রয়স্থলের দিকে দৌড়িয়ে পালাবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।