সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 53)
হরকত ছাড়া:
قل أنفقوا طوعا أو كرها لن يتقبل منكم إنكم كنتم قوما فاسقين ﴿٥٣﴾
হরকত সহ:
قُلْ اَنْفِقُوْا طَوْعًا اَوْ کَرْهًا لَّنْ یُّتَقَبَّلَ مِنْکُمْ ؕ اِنَّکُمْ کُنْتُمْ قَوْمًا فٰسِقِیْنَ ﴿۵۳﴾
উচ্চারণ: কুল আনফিকূতাও‘আন আও কারহাল লাইঁ ইউতাকাব্বালা মিনকুম ইন্নাকুম কুনতুম কাওমান ফা-ছিকীন।
আল বায়ান: বল, ‘তোমরা খুশি হয়ে দান কর অথবা বাধ্য হয়ে, তোমাদের থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক কওম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. বলুন, তোমরা ইচ্ছাকৃত ব্যয়কর অথবা অনিচ্ছাকৃত, তোমাদের কাছ থেকে তা কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না; নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক সম্প্রদায়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘স্বেচ্ছায় দান কর আর অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে কক্ষনো তা গ্রহণ করা হবে না; তোমরা হলে এক ফাসিক সম্প্রদায়।’
আহসানুল বায়ান: (৫৩) তুমি (আরো) বলে দাও, ‘তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কখনই গৃহীত হবে না; [1] নিঃসন্দেহে তোমরা আদেশ লংঘনকারী সমাজ।’
মুজিবুর রহমান: তুমি বলঃ তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কক্ষণই গৃহীত হবেনা; নিঃসন্দেহে তোমরা হচ্ছ আদেশ লংঘনকারী সম্প্রদায়।
ফযলুর রহমান: বল, “তোমরা স্বেচ্ছায় ব্যয় করো কিংবা অনিচ্ছায় (ব্যয় করো), তোমাদের সে ব্যয় কিছুতেই কবুল হবে না। তোমরা হলে এক অবাধ্য সমপ্রদায়।”
মুহিউদ্দিন খান: আপনি বলুন, তোমরা ইচ্ছায় অর্থ ব্যয় কর বা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল হবে না, তোমরা নাফরমানের দল।
জহুরুল হক: বলো -- "তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে খরচ করো অথবা অনিচ্ছা-কৃতভাবে, তোমাদের কাছ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না। নিঃসন্দেহ তোমরা হচ্ছো একটি দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়।"
Sahih International: Say, "Spend willingly or unwillingly; never will it be accepted from you. Indeed, you have been a defiantly disobedient people."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৩. বলুন, তোমরা ইচ্ছাকৃত ব্যয়কর অথবা অনিচ্ছাকৃত, তোমাদের কাছ থেকে তা কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না; নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক সম্প্রদায়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) তুমি (আরো) বলে দাও, ‘তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কখনই গৃহীত হবে না; [1] নিঃসন্দেহে তোমরা আদেশ লংঘনকারী সমাজ।’
তাফসীর:
[1] أنفِقُوا আদেশসূচক ক্রিয়া। কিন্তু এখানে শর্ত ও জাযার অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, যদি তোমরা ব্যয় কর, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কিম্বা এখানে আদেশ খবরের অর্থে এসেছে। উদ্দেশ্য হল, উভয় কর্মই সমান; ব্যয় কর অথবা না কর। তোমরা সন্তুষ্টির সাথে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করলেও তা অগ্রহণযোগ্য। কেননা, তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হল ঈমান। আর সেটাই তোমাদের মাঝে নেই। পক্ষান্তরে অসন্তুষ্টির সাথে খরচ করা মাল এমনিতেই আল্লাহর কাছে প্রত্যাখ্যাত। কেননা, এখানে সঠিক উদ্দেশ্য বিদ্যমান নেই, যা কবুল হওয়ার জন্য জরুরী। এই আয়াতটি সেইরূপ যেরূপ আল্লাহ পাক বলেন, {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ} ‘‘তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর।’’ (সুরা তাওবাহ ৮০ আয়াত) অর্থাৎ, উভয়ই সমান।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর:
মুনাফিকদের দান খয়রাত আল্লাহ কিছুই কবূল করবেন না। কবূল না করার তিনটি কারণ:
১. তাদের কুফরী ও অবাধ্যচরণ।
২. শৈথিল্যের সাথে সালাত আদায় করা।
৩. সন্তুষ্ট চিত্তে দান না করা। আর যে কাজে সন্তুষ্টি থাকে না, সে কাজ কবূল হয় না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, পবিত্র ছাড়া কোন জিনিস তিনি কবূল করেন না। (সহীহ মুসলিম হা: ১০১৫) আয়িশাহ বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইবনু জাদআন জাহিলী যুগে আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখত, মিসকিনদের খাবার খাওয়াতো। এসব কি তার কোন উপকারে আসবে? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: না, কোন উপকারে আসবে না। কারণ সে কোন দিন বলেনি, হে আল্লাহ! কিয়ামতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিয়ো। (সহীহ মুসলিম হা: ২১৪) সুতরাং মুনাফিকরাও কাফিদের অন্তর্ভুক্ত, তাই তাদের কোন ভাল কাজ প্রকৃত ঈমান না আনা পর্যন্ত কাজে আসবে না।
অতএব এ সকল মুনাফিকদের ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি তোমাকে যেন বিস্মিত না করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَا تَمُدَّنَ عَيْنَيْكَ إِلٰي مَا مَتَّعْنَا بِه۪ٓ أَزْوَاجًا مِّنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيٰوةِ الدُّنْيَا ৫لا لِنَفْتِنَهُمْ فِيْهِ ط وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَّأَبْقٰي)
“তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় কখনও প্রসারিত কর না তার প্রতি, যা আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পার্থিব জীবনের সৌন্দর্যস্বরূপ উপভোগের উপকরণ হিসেবে দিয়েছি, তার দ্বারা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। তোমার প্রতিপালক প্রদত্ত জীবনোপকরণ উৎকৃষ্ট ও অধিক স্থায়ী।”(সূরা ত্বহা ২০:১৩১)
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়াতে ও পরকালে শাস্তি দিতে চান।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মুনাফিকদের আমল আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রত্যাখ্যাত।
২. কেবল মুনাফিকরাই সালাতের ব্যাপারে শৈথিল্যতা প্রকাশ করে ।
৩. মুনাফিক ও কাফিরদের ধন-সম্পদ দেখে যেন কোন মু’মিন আশ্চর্য না হয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫২-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসুল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেনঃ হে রাসূল! ঐ মুনাফিকদেরকে বলে দাও- তোমরা আমাদের জন্যে দু'টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলেরই প্রতীক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ যদি আমরা যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাই তবে আমাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত। এটাও আমাদের জন্যে মঙ্গল। আর যদি বিজয় লাভ করি ও গনীমতের অধিকারী হই তবে এটাও মঙ্গল। সুতরাং হে মুনাফিকের দল! তোমরা যে আমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করছো যে, দেখা যাক কি ঘটে, তবে জেনে রেখো যে, আমাদের জয়-পরাজয় যাই ঘটুক না কেন, দুটোই আমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। আর আমরা তোমাদের ব্যাপারে যার অপেক্ষা করছি তা হচ্ছে দু'টি মন্দের একটি মন্দ। অর্থাৎ হয়তো তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব সরাসরি এসে যাবে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের উপর আল্লাহর মার পড়বে। তা এই ভাবে যে, তোমরা আমাদের হাতে নিহত হবে অথবা বন্দী হবে। আচ্ছা, এখন তোমরা ও আমরা নিজ নিজ জায়গায় প্রতীক্ষায় থাকি, দেখা যাক গায়েবের পর্দা থেকে কি প্রকাশ পায়!
জেনে রেখো যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দান-খয়রাতের আশাবাদী নন। তোমরা খুশী মনে খরচ কর বা অসন্তুষ্ট চিত্তে, কোন অবস্থাতেই আল্লাহ তোমাদের দান কবুল করবেন না। (লুবাব গ্রন্থে রয়েছে, ইবনে জারীর (রঃ) তাখরীজ করেছেন যে, জাদ ইবনে কায়েস বলে “আমি দেখি যে, ধৈর্যধারণের শক্তি আমার নেই। তবে হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি আপনাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করবো।” তখন আল্লাহ তা'আলা . আয়াতটি অবতীর্ণ করেন) কেননা তোমরা তো ফাসেক বা আল্লাহর আদেশ লংঘনকারী সমাজ। তোমাদের দান-খয়রাত কবুল না করার কারণ হচ্ছে তোমাদের কুফরী। আর আমল কবূল হওয়ার শর্ত হচ্ছে কুফরী না থাকা, বরং ঈমান থাকা। তা ছাড়া কোন কাজেই তোমাদের সদিচ্ছা ও সৎ সাহস নেই । সালাত আদায় করলেও তোমরা উদাসীনতার সাথে আদায় করে থাকো। তাতে তোমাদের কোন মনোযোগ থাকে না । অলসভাবে তোমরা লোককে দেখিয়ে জামাআতে হাযির হও এবং দু’চার সিজদা দিয়ে দাও। কিন্তু তোমাদের মন থাকে সালাত থেকে সম্পূর্ণ গাফেল। সত্যবাদী ও সত্যায়িত রাসূল (সঃ) সংবাদ দিয়েছেনঃ “আল্লাহ বিরক্ত হন না যে পর্যন্ত না তোমরা বিরক্ত হও। আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র জিনিসই ককূল করে থাকেন। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা এসব ফাসেকের দান-খয়রাত ও আমল কবুল করবেন না। কেননা, তিনি একমাত্র পরহেযগার লোকদের আমলই কবুল করে থাকেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।