আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 52)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 52)



হরকত ছাড়া:

قل هل تربصون بنا إلا إحدى الحسنيين ونحن نتربص بكم أن يصيبكم الله بعذاب من عنده أو بأيدينا فتربصوا إنا معكم متربصون ﴿٥٢﴾




হরকত সহ:

قُلْ هَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَاۤ اِلَّاۤ اِحْدَی الْحُسْنَیَیْنِ ؕ وَ نَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِکُمْ اَنْ یُّصِیْبَکُمُ اللّٰهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِنْدِهٖۤ اَوْ بِاَیْدِیْنَا ۫ۖ فَتَرَبَّصُوْۤا اِنَّا مَعَکُمْ مُّتَرَبِّصُوْنَ ﴿۵۲﴾




উচ্চারণ: কুল হাল তারাব্বাসূনা বিনাইল্লা-ইহদাল হুছনাইয়াইনি ওয়া নাহনুনাতারাব্বাসুবিকুম আইঁ ইউসীবাকুমুল্লা-হু বি‘আযা-বিম মিন ‘ইনদিহী-আও বিআইদীনা- ফাতারাব্বাসূইন্না-মা‘আকুম মুতারাব্বিসূন।




আল বায়ান: বল, ‘তোমরা কেবল আমাদের জন্য দু’টি কল্যাণের একটির অপেক্ষা করছ, আর আমরাও তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাত দ্বারা আযাব দেবেন। অতএব তোমরা অপেক্ষা কর, নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫২. বলুন, তোমরা আমাদের দুটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করছ এবং আমরা প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন সরাসরি নিজ পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘তোমরা আমাদের জন্য যে জিনিসের অপেক্ষা করছ তা দু’টো ভালোর একটি ছাড়া আর কিছুই না (শাহাদাত কিংবা বিজয়) আর আমরা অপেক্ষা করছি এজন্য যে, আল্লাহ নিজেই তোমাদেরকে শাস্তি দেন অথবা আমাদের হাত দিয়ে দেয়ান। কাজেই অপেক্ষায় থাক, আমরা তোমাদের সাথে অপেক্ষায় থাকলাম।’




আহসানুল বায়ান: (৫২) তুমি বলে দাও, ‘তোমরা কেবল আমাদের জন্য দু’টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলের প্রতীক্ষায় রয়েছ;[1] আর আমরা তোমাদের জন্য এই প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ হতে অথবা আমাদের হাত দ্বারা কোন শাস্তি প্রদান করবেন।[2] অতএব তোমরা অপেক্ষা করতে থাক, আমরা তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ রইলাম।’



মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরাতো আমাদের জন্য দু’টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলের প্রতীক্ষায় রয়েছ; আর আমরা তোমাদের জন্য এই প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের উপর কোন্ শাস্তি সংঘটন করবেন - নিজের পক্ষ হতে অথবা আমাদের দ্বারা; অতএব তোমরা অপেক্ষা করতে থাক, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান রইলাম।



ফযলুর রহমান: বল,”তোমরা কি আমাদের জন্য দুটো কল্যাণের (শাহাদাত ও বিজয়) যে কোন একটি ছাড়া আর কিছুর অপেক্ষা করো? (নিশ্চয়ই না) কিন্তু আমরা তোমাদের জন্য যা অপেক্ষা করছি তা হল, আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে শাস্তি দেবেন। অতএব, তোমরা অপেক্ষা করতে থাক, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।”



মুহিউদ্দিন খান: আপনি বলুন, তোমরা তো তোমাদের জন্যে দুটি কল্যাণের একটি প্রত্যাশা কর; আর আমরা প্রত্যাশায় আছি তোমাদের জন্যে যে, আল্লাহ তোমাদের আযাব দান করুন নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হস্তে। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।



জহুরুল হক: বলে যাও -- "তোমরা আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের কোনো একটি ছাড়া আর কিসের প্রতীক্ষা করতে পারো? আর আমরা তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করছি যে আল্লাহ্ তোমাদের শাস্তি হানবেন তাঁর তরফ থেকে অথবা আমাদের হাতে। অতএব প্রতীক্ষা করো, আমরাও অবশ্যই তোমাদের সাথে প্রতীক্ষমাণ।"



Sahih International: Say, "Do you await for us except one of the two best things while we await for you that Allah will afflict you with punishment from Himself or at our hands? So wait; indeed we, along with you, are waiting."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫২. বলুন, তোমরা আমাদের দুটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করছ এবং আমরা প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন সরাসরি নিজ পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে মুমিনদের এক বিরল অবস্থার উল্লেখ করে তাদের বিপদে আনন্দ উপভোগকারী কাফেরদের বলা হয় যে, আমাদের যে বিপদ দেখে তোমরা এত উৎফুল্ল, তাকে আমরা বিপদই মনে করিনা বরং তা আমাদের জন্য শান্তি ও সফলতার অন্যতম মাধ্যম। কারণ, মুমিন আপন চেষ্টায় বিফল হলেও স্থায়ী সওয়াব ও প্রতিদান লাভের যোগ্য হয়, আর এটিই সকল সফলতার মূলকথা। তাই তারা অকৃতকার্য হলেও কৃতকার্য। আল্লাহ বলেন, বলুন, তোমরা কি আমাদের দুটি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষায় আছ?। ইবন আব্বাস বলেন, সে দুটি বিষয় হচ্ছে, বিজয় তথা গনীমত অথবা শাহাদাত। আমরা নিহত হলেও শাহাদাতে ধন্য হব, সেটা তো জীবন ও জীবিকার নাম। অথবা আল্লাহ আমাদের হাতে তোমাদেরকে অপমানিত করবেন। [তাবারী; কুরতুবী]

অপরদিকে কাফেরদের অবস্থা হল তার বিপরীত। আযাব থেকে কোন অবস্থায়ই তাদের অব্যাহতি নেই। এ জীবনেই তারা মুসলিমগনের মাধ্যমে আল্লাহর আযাব ভোগ করবে এবং এভাবে তারা দুনিয়া ও আখেরাতের লাঞ্ছনা পোহাবে। আর যদি এ দুনিয়ায় কোন প্রকারে নিস্কৃতি পেয়েও যায়, তবে আখেরাতের আযাব থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই; তা অবশ্যই ভোগ করবে। আর দুনিয়ার আযাব, হয়ত সে আযাব হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধ্বংসকারী আযাব নাযিল হওয়ার মাধ্যমে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণকে পেয়ে বসেছিল। অথবা তিনি তোমাদের হত্যা করার অনুমোদন দিবেন। সুতরাং তোমরা শয়তানের ওয়াদার অপেক্ষায় থাকো, আমরাও আল্লাহর ওয়াদার অপেক্ষায় থাকলাম। [কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫২) তুমি বলে দাও, ‘তোমরা কেবল আমাদের জন্য দু’টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলের প্রতীক্ষায় রয়েছ;[1] আর আমরা তোমাদের জন্য এই প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ হতে অথবা আমাদের হাত দ্বারা কোন শাস্তি প্রদান করবেন।[2] অতএব তোমরা অপেক্ষা করতে থাক, আমরা তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ রইলাম।’


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, বিজয় অথবা শহীদী মরণ; উভয়ের মধ্যে যেটাই লাভ হয়, সেটাই আমাদের জন্য মঙ্গলকর।

[2] অর্থাৎ, আমরা তোমাদের ব্যাপারে দু’টি অমঙ্গলের মধ্যে একটির অপেক্ষা করছি, হয় আসমান থেকে আল্লাহ তাআলা তোমাদের উপর আযাব প্রেরণ করবেন যাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে, না হয় আমাদের হাতে আল্লাহ তোমাদেরকে হত্যা কিম্বা বন্দী হওয়ার শাস্তি প্রদান করবেন। আর তিনি উভয় ব্যাপারে শক্তিমান।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৯-৫২ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত মুনাফিকদের কথাই বলা হচ্ছে। তারা বলত: হে মুহাম্মাদ (সাঃ) আমাকে জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি দেন, অনুমতি না দিয়ে আমাকে ফেতনায় ফেলবেন না।



যদি মু’মিনগণ কোন حسنة অর্থাৎ গনীমত বা বিজয় লাভ করত তাহলে তাদের খুব কষ্ট লাগত। আর মু’মিনরা পরাজিত হলে তারা বলত, আমরা পূর্বেই সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম।



(قُلْ لَّنْ يُّصِيْبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَنَا)



“বল:‎ ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করেছেন তা ব্যতীত আমাদের অন্য কিছু হবে না” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাকদীরে যা রেখেছেন তা-ই হবে, এর চেয়ে বেশি কিছু হবে না। হাদীসে এসেছে ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: হে বৎস! জেনে রেখ, সারা পৃথিবীর মানুষ একত্র হলেও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, তবে সেটুকুই করতে পারবে যা আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার যদি সারা পৃথিবীর মানুষ একত্র হয় তোমার কোন উপকার করার জন্য তবে কোন উপকারই করতে পারবে না কেবল আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু ব্যতীত। (তিরমিযী হা: ২৫১৬, সহীহ)



إِحْدَي الْحُسْنَيَيْنِ



‘দু’টি মঙ্গলের একটি’ অর্থাৎ দুটি সাফল্যের একটি: হয় শাহাদাত অথবা বিজয়।



আর আমরা তোমাদের দুটি অমঙ্গলের মধ্যে একটির অপেক্ষা করছি- হয় আকাশ থেকে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ওপর আযাব প্রেরণ করবেন, যাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও, না হয় আমাদের হাতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে হত্যা কিংবা বন্দী হওয়ার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করবেন।



সুতরাং মুনাফিকদের মত কাপুরুষতার পরিচয় না দিয়ে মু’মিনদের উচিত আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করে মর্যাদা লাভ করা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫২-৫৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসুল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেনঃ হে রাসূল! ঐ মুনাফিকদেরকে বলে দাও- তোমরা আমাদের জন্যে দু'টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলেরই প্রতীক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ যদি আমরা যুদ্ধে শহীদ হয়ে যাই তবে আমাদের জন্যে রয়েছে জান্নাত। এটাও আমাদের জন্যে মঙ্গল। আর যদি বিজয় লাভ করি ও গনীমতের অধিকারী হই তবে এটাও মঙ্গল। সুতরাং হে মুনাফিকের দল! তোমরা যে আমাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করছো যে, দেখা যাক কি ঘটে, তবে জেনে রেখো যে, আমাদের জয়-পরাজয় যাই ঘটুক না কেন, দুটোই আমাদের জন্যে মঙ্গলজনক। আর আমরা তোমাদের ব্যাপারে যার অপেক্ষা করছি তা হচ্ছে দু'টি মন্দের একটি মন্দ। অর্থাৎ হয়তো তোমাদের উপর আল্লাহর আযাব সরাসরি এসে যাবে অথবা আমাদের হাতে তোমাদের উপর আল্লাহর মার পড়বে। তা এই ভাবে যে, তোমরা আমাদের হাতে নিহত হবে অথবা বন্দী হবে। আচ্ছা, এখন তোমরা ও আমরা নিজ নিজ জায়গায় প্রতীক্ষায় থাকি, দেখা যাক গায়েবের পর্দা থেকে কি প্রকাশ পায়!

জেনে রেখো যে, আল্লাহ তা'আলা তোমাদের দান-খয়রাতের আশাবাদী নন। তোমরা খুশী মনে খরচ কর বা অসন্তুষ্ট চিত্তে, কোন অবস্থাতেই আল্লাহ তোমাদের দান কবুল করবেন না। (লুবাব গ্রন্থে রয়েছে, ইবনে জারীর (রঃ) তাখরীজ করেছেন যে, জাদ ইবনে কায়েস বলে “আমি দেখি যে, ধৈর্যধারণের শক্তি আমার নেই। তবে হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি আপনাকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করবো।” তখন আল্লাহ তা'আলা . আয়াতটি অবতীর্ণ করেন) কেননা তোমরা তো ফাসেক বা আল্লাহর আদেশ লংঘনকারী সমাজ। তোমাদের দান-খয়রাত কবুল না করার কারণ হচ্ছে তোমাদের কুফরী। আর আমল কবূল হওয়ার শর্ত হচ্ছে কুফরী না থাকা, বরং ঈমান থাকা। তা ছাড়া কোন কাজেই তোমাদের সদিচ্ছা ও সৎ সাহস নেই । সালাত আদায় করলেও তোমরা উদাসীনতার সাথে আদায় করে থাকো। তাতে তোমাদের কোন মনোযোগ থাকে না । অলসভাবে তোমরা লোককে দেখিয়ে জামাআতে হাযির হও এবং দু’চার সিজদা দিয়ে দাও। কিন্তু তোমাদের মন থাকে সালাত থেকে সম্পূর্ণ গাফেল। সত্যবাদী ও সত্যায়িত রাসূল (সঃ) সংবাদ দিয়েছেনঃ “আল্লাহ বিরক্ত হন না যে পর্যন্ত না তোমরা বিরক্ত হও। আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি পবিত্র জিনিসই ককূল করে থাকেন। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা এসব ফাসেকের দান-খয়রাত ও আমল কবুল করবেন না। কেননা, তিনি একমাত্র পরহেযগার লোকদের আমলই কবুল করে থাকেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।