আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 44)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 44)



হরকত ছাড়া:

لا يستأذنك الذين يؤمنون بالله واليوم الآخر أن يجاهدوا بأموالهم وأنفسهم والله عليم بالمتقين ﴿٤٤﴾




হরকত সহ:

لَا یَسْتَاْذِنُکَ الَّذِیْنَ یُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ اَنْ یُّجَاهِدُوْا بِاَمْوَالِهِمْ وَ اَنْفُسِهِمْ ؕ وَ اللّٰهُ عَلِیْمٌۢ بِالْمُتَّقِیْنَ ﴿۴۴﴾




উচ্চারণ: লা-ইয়াছতা’যিনুকাল্লাযীনা ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি আই ইউজা-হিদূ বিআমওয়া-লিহিম ওয়া আনফুছিহিম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুম বিলমুত্তাকীন।




আল বায়ান: যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, তারা তোমার কাছে তাদের মাল ও জান দিয়ে জিহাদ করা থেকে বিরত থাকার অনুমতি চায় না, আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞাত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে যেতে আপনার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে না। আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবগত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা আল্লাহয় ও শেষ দিনে বিশ্বাস করে তারা তাদের মাল দিয়ে আর জান দিয়ে জিহাদ করা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য তোমার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে না। মুত্তাকীদের সম্পর্কে আল্লাহ খুবই অবগত আছেন।




আহসানুল বায়ান: (৪৪) যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, তারা নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদ করার ব্যাপারে তোমার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবে না।[1] আর আল্লাহ পরহেযগারদের সম্বন্ধে খুব অবগত আছেন।



মুজিবুর রহমান: যারা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে তারা নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করবেনা, আর আল্লাহ এই পরহেজগার লোকদের সম্বন্ধে খুবই অবগত আছেন।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ ও শেষ দিনে (পরকালে) বিশ্বাসীরা নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে জেহাদ করা থেকে তোমার কাছে অব্যাহতি চাইবে না। আল্লাহ মোত্তাকীদের সম্পর্কে ভালভাবে অবগত আছেন।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ ও রোজ কেয়ামতের প্রতি যাদের ঈমান রয়েছে তারা মাল ও জান দ্বারা জেহাদ করা থেকে আপনার কাছে অব্যাহতি কামনা করবে না, আর আল্লাহ সাবধানীদের ভাল জানেন।



জহুরুল হক: যারা আল্লাহ্‌তেও ও আখেরাতের দিনে আস্থা রাখে তারা তোমার কাছে অনুমতি চায় না তাদের ধনসম্পদ ও তাদের জানপ্রাণ দিয়ে সংগ্রাম করা থেকে। আর আল্লাহ্ ধর্মপরায়ণদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞাতা।



Sahih International: Those who believe in Allah and the Last Day would not ask permission of you to be excused from striving with their wealth and their lives. And Allah is Knowing of those who fear Him.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৪. যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে তারা নিজ সম্পদ ও জীবন দ্বারা জিহাদে যেতে আপনার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করে না। আর আল্লাহ মুত্তাকীদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবগত।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৪) যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে, তারা নিজেদের মাল ও জান দ্বারা জিহাদ করার ব্যাপারে তোমার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবে না।[1] আর আল্লাহ পরহেযগারদের সম্বন্ধে খুব অবগত আছেন।


তাফসীর:

[1] এখানে খাঁটি মু’মিনদের আচরণ বর্ণনা করা হয়েছে। বরং তাদের অভ্যাসই তো এই যে, তারা বড়ই উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে অগ্রণী হয়ে জিহাদে অংশগ্রহণ করে থাকে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৪-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াত দুটিতে আল্লাহ তা‘আলা প্রকৃত মু’মিন ও মুনাফিকদের পরিচয়ের একটি অন্যতম চিহ্ন উল্লেখ করেছেন। যারা প্রকৃত মু’মিন তারা কখনো জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি চাইবে না কেবল যারা মুনাফিক তারাই জিহাদে না যাওয়ার জন্য নানা টালবাহানা করবে।



উল্লেখ্য যে, তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণের ব্যাপারে মুসলিমরা চার দলে বিভক্ত হয়েছিল। প্রথম দল: যারা নির্দ্বিধায় জিহাদের জন্য প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয় দল: যাদের প্রথমে দ্বিধা ছিল এবং তাদের মনে কষ্ট ছিল। কিন্তু সত্বর সে দ্বিধা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল। তৃতীয় দল: যারা শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে অথবা সাওয়ারী ও সফরের খরচ না থাকার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং অনুমতি দিয়েছিলেন। (এ ব্যাপারে ৯১-৯২ নং আয়াতে আসবে)। চতুর্থ দল: যারা কেবল অলসতার কারণে জিহাদে শরীক হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জিহাদ থেকে ফিরে আসলে তারা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করে তাওবাহ করে। এছাড়া বাকি যারা ছিল সব মুনাফিকের দল। এ আয়াতে প্রথম দল ও মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বাকি তিন দলের আলোচনা সামনে আসবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা ঈমান ও তাক্বওয়ার অধিকারী তারা কখনো জান ও মালের ভয়ে জিহাদ থেকে বিরত থাকবে না।

২. আক্বীদাহর ক্ষেত্রে সন্দেহের ভয়াবহতা এবং তা দীনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীনতার টালমাটালের একমাত্র কারণ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:

ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আউন (রাঃ) স্বীয় সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কি এর চেয়ে উত্তম তিরস্কারের কথা শুনেছেন? মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে তিরস্কারপূর্ণ কথা বলার পূর্বেই তাকে ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ “(হে নবী!) আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বটে, কিন্তু কেন তুমি তাদেরকে যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি দিয়েছো?` (ইবনে জারীর (রঃ) তাখরীজ করেছেন যে, পূর্বে কোন নির্দেশ ছাড়াই নবী দু’টি কাজ করেছেন। একটি হলো মুনাফিকদের যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি দান এবং দ্বিতীয় হলো বদরের বন্দীদের নিকট থেকে ফিদিয়া গ্রহণ । তখন আল্লাহ তা'আলা ঐ আয়াত অবতীর্ণ করেন) এরপর তিনি সূরায়ে নূরে আয়াত অবতীর্ণ করে তাঁর রাসূল (সঃ)-কে অবকাশ দেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে অনুমতি দিতে পারেন। তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের কেউ যদি কোন কাজ ও ব্যস্ততার কারণে তোমার কাছে। যুদ্ধের অব্যাহতির অনুমতি প্রার্থনা করে তবে তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিতে পার।` (২৪:৬২)

মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, সূরায়ে তাওবার এ আয়াতটি ঐ লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যারা পরস্পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি প্রার্থনা করবে। যদি অনুমতি মিলে যায় তবে তো ভাল কথা। আর যদি তিনি অনুমতি নাও দেন তবুও তারা যুদ্ধে গমন করবে না। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, যদি তারা অনুমতি লাভ না করতো তবে এটুকু লাভ তো অবশ্যই হতো যে, সত্য ওষরকারী ও মিথ্যা।

বাহানাকারীদের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পেয়ে যেতো। ভাল ও মন্দ এবং সৎ ও অসতের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হতো। অনুগত লোকেরা তো হাযির হয়েই যেতো। আর অবাধ্য লোকেরা যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি না পেয়েও বের হতো না। কেননা, তারা তো এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েই ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে অনুমতি দিন আর নাই দিন, তারা যুদ্ধে গমন করবেই না। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে ঘোষণা করেন- এটা সম্ভব নয় যে, খাঁটি ঈমানদার লোকেরা তোমার কাছে যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি প্রার্থনা করবে। তারা তো জিহাদকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে নিজেদের জান ও মালকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করতে সর্বদা আকাক্ষী। আল্লাহ তাআলা এই পরহেযগার লোকদেরকে ভালরূপেই অবগত আছেন। আর এ লোকগুলো, যাদের শরীয়ত সম্মত কোনই ওর নেই, যারা শুধু বাহানা করে যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি প্রার্থনা করছে তারা বেঈমান লোক। তারা আখিরাতের পুরস্কারের কোন আশা রাখে না। হে নবী! তারা এখনও তোমার শরীয়তের ব্যাপারে সন্দিহান রয়েছে এবং তারা সদা উদ্বিগ্ন হয়ে ফিরছে। তারা এক পা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে তো আর এক পা পিছনের দিকে সরাচ্ছে। তাদের কোন ধৈর্য ও মনের স্থিরতা নেই। তারা না আছে এদিকে, না আছে। ওদিকে। হে নবী! আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোন পথ পাবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।