আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 43)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 43)



হরকত ছাড়া:

عفا الله عنك لم أذنت لهم حتى يتبين لك الذين صدقوا وتعلم الكاذبين ﴿٤٣﴾




হরকত সহ:

عَفَا اللّٰهُ عَنْکَ ۚ لِمَ اَذِنْتَ لَهُمْ حَتّٰی یَتَبَیَّنَ لَکَ الَّذِیْنَ صَدَقُوْا وَ تَعْلَمَ الْکٰذِبِیْنَ ﴿۴۳﴾




উচ্চারণ: ‘আফাল্লা-হু ‘আনকা লিমা আযিনতা লাহুম হাত্তা-ইয়াতাবাইইয়ানা লাকাল্লাযীনা সাদাকূ ওয়া তা‘লামাল কা-যিবীন।




আল বায়ান: আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন। তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে, যতক্ষণ না তোমার কাছে স্পষ্ট হয় তারা যারা সত্য বলেছে এবং তুমি জেনে নাও মিথ্যাবাদীদেরকে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৩. আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করেছেন কারা সত্যবাদী তা আপনার কাছে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কারা মিথ্যাবাদী তা না জানা পর্যন্ত আপনি কেন তাদেরকে অব্যাহতি দিলেন?




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। কারা সত্য বলেছে তা স্পষ্ট না হতেই আর মিথ্যাবাদীদেরকে তুমি না চিনেই কেন তুমি তাদেরকে অব্যাহতি দিয়ে দিলে?




আহসানুল বায়ান: (৪৩) আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। তোমার নিকট সত্যবাদী স্পষ্ট ও মিথ্যাবাদী জ্ঞাত হওয়ার পূর্বে তুমি তাদেরকে অনুমতি কেন দিলে?[1]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন (কিন্তু) তুমি তাদেরকে কেন অনুমতি দিলে যে পর্যন্ত না সত্যবাদী লোকেরা তোমার কাছে প্রকাশ হয়ে যেত এবং তুমি মিথ্যাবাদীদেরকে জেনে নিতে?



ফযলুর রহমান: আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন! কারা সত্যবাদী তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কারা মিথ্যাবাদী তা না জানা পর্যন্ত কেন তুমি তাদেরকে (অভিযানে না যাওয়ার) অনুমতি দিলে?



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের।



জহুরুল হক: আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করুন! কেন তুমি তাদের অব্যাহতি দিলে যে পর্যন্ত না তোমার কাছে সুস্পষ্ট হয়েছিল যে কারা সত্যকথা বলছে, আর তুমি জানতে পেরেছিলে মিথ্যাবাদীদের?



Sahih International: May Allah pardon you, [O Muhammad]; why did you give them permission [to remain behind]? [You should not have] until it was evident to you who were truthful and you knew [who were] the liars.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৩. আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করেছেন কারা সত্যবাদী তা আপনার কাছে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এবং কারা মিথ্যাবাদী তা না জানা পর্যন্ত আপনি কেন তাদেরকে অব্যাহতি দিলেন?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৩) আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। তোমার নিকট সত্যবাদী স্পষ্ট ও মিথ্যাবাদী জ্ঞাত হওয়ার পূর্বে তুমি তাদেরকে অনুমতি কেন দিলে?[1]


তাফসীর:

[1] এখানে নবী (সাঃ)-কে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে যে, জিহাদে শরীক না হওয়ার অনুমতি প্রার্থীদেরকে তাদের ওজর সত্য ছিল কি না, তা তদন্ত করে না দেখে কেন অনুমতি দিয়ে দিলে? কিন্তু এই তিরস্কারেও স্নেহের প্রভাব বেশী ছিল। এই জন্য উক্ত ত্রুটির ক্ষমার কথা প্রথমেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জেনে রাখা দরকার যে, এই তিরস্কার এই জন্য করা হয়েছে যে, অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ার সাথে কাজ নেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণভাবে সত্যতা যাচাই করে দেখার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। নচেৎ তদন্তের পর যার সত্যই ওজর আছে তাকে অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে মহান আল্লাহর তরফ থেকে তাঁকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। যেমন তিনি বলেছেন, {فَإِذَا اسْتَأْذَنُوكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَن لِّمَن شِئْتَ مِنْهُمْ} ‘‘অতএব তারা তোমার কাছে তাদের কোন কাজের অনুমতি চাইলে তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দাও।’’ (সূরা নূর ৬২ আয়াত) ‘যাকে ইচ্ছা’ মানে হল, যার কাছে সত্যিকারে ওজর আছে, তাকে অনুমতি দেওয়ার অধিকার তোমার রয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪১-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:



একজন মু’মিন যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন ইমাম জিহাদের জন্য আহ্বান করলে সে তার জান ও মাল নিয়ে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদে বের হয়ে পড়বে।



(اِنْفِرُوْا خِفَافًا وَّثِقَالًا)



‘অভিযানে বের হয়ে পড়, হালকা অবস্থায় হোক অথবা ভারি অবস্থায়’- এ আয়াতের অর্থ বিভিন্ন মুফাসসিরগণ বিভিন্ন রকম করেছেন- মুজাহিদ (রাঃ) বলেন: যুবক হোক, বৃদ্ধ হোক, ধনী হোক, গরীব হোক অভিযানের আহ্বান আসলে বেরিয়ে পড়।



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: সন্তুষ্ট বা অসস্তুষ্ট অবস্থায়।



হাসান বসরী (রাঃ) বলেন: স্বচ্ছল অবস্থায় হোক বা অস্বচ্ছল অবস্থায় হোক।



এছাড়াও কেউ কেউ বলেছেন: পায়ে হেঁটে হোক বা সওয়ারীতে হোক, সন্তান থাকুক বা না থাকুক, সৈন্য দলের অগ্রে থাকুক বা পিছনে থাকুক ইত্যাদি।



ইমাম শাওকানী (রাঃ) বলেন: আয়াতটি সমস্ত অর্থেই ব্যাপক। যেহেতু আয়াতের অর্থ হল: তোমরা জিহাদে বের হও চাই তোমাদের ভারী মনে হোক অথবা হালকা মনে হোক। এ অর্থের মাঝে উল্লিখিত সমস্ত অর্থই চলে আসে। (ফাতহুল কাদীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



(ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ)



‘এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করা দুনিয়া ও আখিরাতের চেয়েও উত্তম।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা মুজাহিদদের দায়িত্ব নিয়েছেন যে, যদি তাকে মৃত্যু দান করেন তাহলে জান্নাত দেবেন আর বাড়িতে ফিরিয়ে আনলে প্রতিদান বা গনীমতসহ ফিরাবেন। (সহীহ বুখারী হা: ৩১২৩ ) এ জন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَّكُمْ ج وَعَسٰٓي أَنْ تَكْرَهُوْا شَيْئًا وَّهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ج وَعَسٰي أَنْ تُحِبُّوْا شَيْئًا وَّهُوَ شَرٌّ لَّكُمْ ط وَاللّٰهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ)‏



“যুদ্ধ করা তোমাদের ওপর ফরয করে দেয়া হয়েছে। আর হয়ত এটা তোমাদের নিকট অপ্রিয়, তোমরা কোন বিষয়কে অপছন্দ কর যা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আবার হতে পারে তোমরা এমন বিষয়কে পছন্দ করছ যা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। মূলত আল্লাহই জানেন আর তোমরা জান না।”(বাকারাহ ২:২১৬)



لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيبًا وَسَفَرًا قَاصِدًا



‘আশু সম্পদ লাভের সম্ভাবনা থাকলে ও সফর সহজ হলে..’ পূর্বের আয়াতগুলোতে জিহাদের প্রতি যে প্রেরণা দেয়া হয়েছে মূলত তা ছিল তাবুক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। তাবুক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের সাথে সম্পৃক্ত হলেও সকল যুগ ও অবস্থায় তা প্রযোজ্য। কেননা শব্দের ব্যাপকতাই ধতর্ব্য, নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ধতর্ব্য নয়।



যারা তাবুক যুদ্ধে নাবী (সাঃ)-এর সাথে যায়নি তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এখানে ভর্ৎসনা করে বলেছেন: সহজেই গনীমত পাওয়া গেলে ও সফর দূরবর্তী না হলে তারা তোমার সাথে যুদ্ধে যেত, কিন্তু (এ ফসল কাটার মওসুমে) তাদের জন্য শাম (সিরিয়া) সফর করা দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। এখন তোমার কাছে অহেতুক ওজর পেশ করবে। আল্লাহ তা‘আলা জানেন তারা মিথ্যুক।



(عَفَا اللَّهُ عَنْكَ)



‘আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন’এখানে নাবী (সাঃ)-কে সম্বোধন করে বলা হচ্ছে যে, জিহাদে শরীক না হওয়ার অনুমতিপ্রার্থীদেরকে তাদের ওজরের সত্যতা যাচাই না করেই কেন অনুমতি দিয়ে দিলে? কিন্তু এ তিরস্কারেও স্নেহের প্রভাব বেশি ছিল। এ জন্যই উক্ত ত্র“টির ক্ষমা প্রথমেই স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এ তিরস্কার এ জন্যই করা হয়েছে যে, অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে তাড়াহুড়ার সাথে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং পূর্ণভাবে সত্যতা যাচাই করে দেখার প্রয়োজন মনেকরা হয়নি। নচেৎ তদন্তের পর সত্যিই যার ওজর আছে তাকে অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার তরফ থেকে তাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّمَا الْمُؤْمِنُوْنَ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِه۪ وَإِذَا كَانُوْا مَعَه۫ عَلٰٓي أَمْرٍ جَامِعٍ لَّمْ يَذْهَبُوْا حَتّٰي يَسْتَأْذِنُوْهُ ط إِنَّ الَّذِيْنَ يَسْتَأْذِنُوْنَكَ أُولٰ۬ئِكَ الَّذِيْنَ يُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِه۪ ۪ ج فَإِذَا اسْتَأْذَنُوْكَ لِبَعْضِ شَأْنِهِمْ فَأْذَنْ لِّمَنْ شِئْتَ مِنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمُ اللّٰهَ ط إِنَّ اللّٰهَ غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ)‏



“মু’মিন তো তারাই যারা আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলে ঈমান আনে এবং রাসূলের সঙ্গে সমষ্টিগত ব্যাপারে একত্র হলে তারা অনুমতি ব্যতীত সরে পড়ে না; নিশ্চয়ই‎ যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে তারাই আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাসী। অতএব তারা তাদের কোন কাজে বাইরে যাওয়ার জন্য তোমার অনুমতি চাইলে তাদের মধ্যে যাদেরকে ইচ্ছা তুমি অনুমতি দাও এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমাও প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নূর ২৪:৬২)



সুতরাং জিহাদের ডাক আসলে মু’মিন কোন প্রকার অজুহাত দেখিয়ে বসে থাকতে পারে না, বরং সে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে কিভাবে এ ফযীলতের কাজে অংশ গ্রহণ করা যায়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইমাম যুদ্ধের জন্য আহ্বান করলে একজন মু’মিন যে অবস্থাতেই থাকুক জিহাদে বের হওয়া আবশ্যক, যদি শরীয়তসম্মত কোন কারণ না থাকে।

২. জিহাদ জান ও মাল উভয়টাই দ্বারা হয়।

৩. গনীমত পাওয়া যাবে অথবা কিছু দেয়া হবে এ আশা নিয়ে জিহাদে শরীক হওয়া ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য নয়, বরং জিহাদের মুখ্য উদ্দেশ্য থাকবে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও দীন প্রতিষ্ঠা করা।

৪. ভালবাসার পাত্রকে অপরাধের জন্য ধমক দেয়া শরীয়তসম্মত।

৫. আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং মুজাহিদদের দায়িত্বশীল, তারা দুনিয়াতে কোন সম্পদ বা সম্মান না পেলেও পরকালে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:

ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, আউন (রাঃ) স্বীয় সাথীদেরকে জিজ্ঞেস করেন, আপনারা কি এর চেয়ে উত্তম তিরস্কারের কথা শুনেছেন? মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে তিরস্কারপূর্ণ কথা বলার পূর্বেই তাকে ক্ষমা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেনঃ “(হে নবী!) আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন বটে, কিন্তু কেন তুমি তাদেরকে যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি দিয়েছো?` (ইবনে জারীর (রঃ) তাখরীজ করেছেন যে, পূর্বে কোন নির্দেশ ছাড়াই নবী দু’টি কাজ করেছেন। একটি হলো মুনাফিকদের যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি দান এবং দ্বিতীয় হলো বদরের বন্দীদের নিকট থেকে ফিদিয়া গ্রহণ । তখন আল্লাহ তা'আলা ঐ আয়াত অবতীর্ণ করেন) এরপর তিনি সূরায়ে নূরে আয়াত অবতীর্ণ করে তাঁর রাসূল (সঃ)-কে অবকাশ দেন যে, তিনি ইচ্ছা করলে তাদেরকে অনুমতি দিতে পারেন। তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের কেউ যদি কোন কাজ ও ব্যস্ততার কারণে তোমার কাছে। যুদ্ধের অব্যাহতির অনুমতি প্রার্থনা করে তবে তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দিতে পার।` (২৪:৬২)

মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, সূরায়ে তাওবার এ আয়াতটি ঐ লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যারা পরস্পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে যুদ্ধ হতে অব্যাহতির অনুমতি প্রার্থনা করবে। যদি অনুমতি মিলে যায় তবে তো ভাল কথা। আর যদি তিনি অনুমতি নাও দেন তবুও তারা যুদ্ধে গমন করবে না। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, যদি তারা অনুমতি লাভ না করতো তবে এটুকু লাভ তো অবশ্যই হতো যে, সত্য ওষরকারী ও মিথ্যা।

বাহানাকারীদের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পেয়ে যেতো। ভাল ও মন্দ এবং সৎ ও অসতের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হতো। অনুগত লোকেরা তো হাযির হয়েই যেতো। আর অবাধ্য লোকেরা যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি না পেয়েও বের হতো না। কেননা, তারা তো এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েই ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে অনুমতি দিন আর নাই দিন, তারা যুদ্ধে গমন করবেই না। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে ঘোষণা করেন- এটা সম্ভব নয় যে, খাঁটি ঈমানদার লোকেরা তোমার কাছে যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি প্রার্থনা করবে। তারা তো জিহাদকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায় মনে করে নিজেদের জান ও মালকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করতে সর্বদা আকাক্ষী। আল্লাহ তাআলা এই পরহেযগার লোকদেরকে ভালরূপেই অবগত আছেন। আর এ লোকগুলো, যাদের শরীয়ত সম্মত কোনই ওর নেই, যারা শুধু বাহানা করে যুদ্ধ হতে অব্যাহতি লাভের অনুমতি প্রার্থনা করছে তারা বেঈমান লোক। তারা আখিরাতের পুরস্কারের কোন আশা রাখে না। হে নবী! তারা এখনও তোমার শরীয়তের ব্যাপারে সন্দিহান রয়েছে এবং তারা সদা উদ্বিগ্ন হয়ে ফিরছে। তারা এক পা সামনের দিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে তো আর এক পা পিছনের দিকে সরাচ্ছে। তাদের কোন ধৈর্য ও মনের স্থিরতা নেই। তারা না আছে এদিকে, না আছে। ওদিকে। হে নবী! আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তার জন্যে কোন পথ পাবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।