সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 111)
হরকত ছাড়া:
إن الله اشترى من المؤمنين أنفسهم وأموالهم بأن لهم الجنة يقاتلون في سبيل الله فيقتلون ويقتلون وعدا عليه حقا في التوراة والإنجيل والقرآن ومن أوفى بعهده من الله فاستبشروا ببيعكم الذي بايعتم به وذلك هو الفوز العظيم (﴿١١١﴾
হরকত সহ:
اِنَّ اللّٰهَ اشْتَرٰی مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ اَنْفُسَهُمْ وَ اَمْوَالَهُمْ بِاَنَّ لَهُمُ الْجَنَّۃَ ؕ یُقَاتِلُوْنَ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ فَیَقْتُلُوْنَ وَ یُقْتَلُوْنَ ۟ وَعْدًا عَلَیْهِ حَقًّا فِی التَّوْرٰىۃِ وَ الْاِنْجِیْلِ وَ الْقُرْاٰنِ ؕ وَ مَنْ اَوْفٰی بِعَهْدِهٖ مِنَ اللّٰهِ فَاسْتَبْشِرُوْا بِبَیْعِکُمُ الَّذِیْ بَایَعْتُمْ بِهٖ ؕ وَ ذٰلِکَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ﴿۱۱۱﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লা-হাশতারা-মিনাল মু’মিনীনা আনফুছাহুম ওয়া আমওয়া-লাহুম বিআন্না লাহুমুলজান্নাতা ইউকা-তিলূনা ফী ছাবীলিল্লা-হি ফাইয়াকতুলূনা ওয়া ইউকতালূনা ওয়া‘দান আলাইহি হাককান ফিততাওরা-তি ওয়াল ইনজীলি ওয়াল কুরআ-নি ওয়া মান আওফাবি‘আহদিহী মিনাল্লা-হি ফাছতাবশিরূ ব্বিাই‘ইকুমুল্লাযী বা-ইয়া‘তুম বিহী ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওযুল ‘আজীম।
আল বায়ান: নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সংগে) যে সওদা করেছ, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১১. নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত। তারা আল্লাহ্র পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর তারা মারে ও মরে তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাদের হক ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে সওদা করেছ সে সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর সেটাই তো মহাসাফল্য।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: নিশ্চয় আল্লাহ মু’মিনদের কাছ থেকে তাদের জান আর মাল কিনে নিয়েছেন কারণ তাদের জন্য (বিনিময়ে) আছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে। অতঃপর (দুশমনদের) হত্যা করে এবং (নিজেরা) নিহত হয়। এ ওয়া‘দা তাঁর উপর অবশ্যই পালনীয় যা আছে তাওরাত, ইঞ্জিল ও কুরআনে। আল্লাহর চেয়ে আর কে বেশী নিজ ওয়া‘দা পালনকারী? কাজেই তোমরা যে ক্রয় বিক্রয় সম্পন্ন করেছ তার জন্য আনন্দিত হও, আর এটাই হল মহান সফলতা।
আহসানুল বায়ান: (১১১) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্বাসীদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদসমূহকে বেহেশ্তের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন;[1] তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এ (যুদ্ধে)র দরুন (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ইঞ্জীলে এবং কুর’আনে; আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে?[2] অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাক তোমাদের এই ক্রয়-বিক্রয়ের উপর, যা তোমরা সম্পাদন করেছ।[3] আর এটা হচ্ছে মহাসাফল্য।
মুজিবুর রহমান: নিঃসন্দেহে আল্লাহ মু’মিনদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন সম্পদসমূহকে এর বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন যে, তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে, তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, যাতে তারা (কখনও) হত্যা করে এবং (কখনও) নিহত হয়, এর কারণে (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ইঞ্জীলে এবং কুরআনে। নিজের অঙ্গীকার পালনকারী আল্লাহ অপেক্ষা অধিক আর কে আছে? অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাক তোমাদের এই ক্রয় বিক্রয়ের উপর, যা তোমরা সম্পাদন করেছ, আর এটা হচ্ছে বিরাট সফলতা।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ তো মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন। এর মূল্য হিসেবে (পরকালে) তাদের জন্য জান্নাত রয়েছে (অর্থাৎ আল্লাহর কাছ থেকে পরকালে জান্নাত লাভের প্রতিশ্রুতি পেয়ে মুমিনরা তাদের জানমাল বিসর্জন দিচ্ছে)। তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছে এবং (শত্রুকে) হত্যা করছে ও (নিজেরা) নিহত হচ্ছে। এটা তাওরাত, ইনজীল ও কোরআনে (বর্ণিত) আল্লাহর সত্য ওয়াদা। আর আল্লাহর চেয়ে বড় ওয়াদা পূরণকারী কে আছে? অতএব, তোমরা যে বিক্রয় সম্পন্ন করেছো তাতে সন্তুষ্ট থাক। আর ওটাই বড় সাফল্য।
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ মুমিনদের কাছ থেকে কিনে নিয়েছেন তাদের সত্ত্বা ও তাদের বিত্ত যেন তারা পেতে পারে বেহেশত। তারা আল্লাহ্র পথে লড়াই করে, ফলে তারা মারে ও মরে, -- এই ওয়াদা তাঁর জন্যে সত্য তওরাতে ও ইঞ্জীলে এবং কুরআনে। আর কে নিজ ওয়াদাতে বেশি সত্যনিষ্ঠ আল্লাহ্র চাইতে? অতএব আনন্দ করো তোমাদের সওদার জন্য যা তোমরা বিনিময় করেছ তাঁর সাথে। আর এইটিই হচ্ছে মহা সাফল্য।
Sahih International: Indeed, Allah has purchased from the believers their lives and their properties [in exchange] for that they will have Paradise. They fight in the cause of Allah, so they kill and are killed. [It is] a true promise [binding] upon Him in the Torah and the Gospel and the Qur'an. And who is truer to his covenant than Allah? So rejoice in your transaction which you have contracted. And it is that which is the great attainment.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১১. নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের কাছ থেকে তাদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য আছে জান্নাত। তারা আল্লাহ্–র পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর তারা মারে ও মরে তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআনে এ সম্পর্কে তাদের হক ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর কে আছে? সুতরাং তোমরা যে সওদা করেছ সে সওদার জন্য আনন্দিত হও। আর সেটাই তো মহাসাফল্য।(১)
তাফসীর:
(১) আয়াতের শুরুতে ক্রয় শব্দের ব্যবহার করা হয়। মুসলিমদের বলা হচ্ছে যে, ক্রয় বিক্রয়ের এই সওদা তোমাদের জন্য লাভজনক ও বরকতময়; কেননা, এর দ্বারা অস্থায়ী জান-মালের বিনিময়ের স্থায়ী জান্নাত পাওয়া গেল। মালামাল হলো আল্লাহরই দান। মানুষ শূন্য হাতেই জন্ম নেয়। তারপর আল্লাহ তাকে অর্থ সম্পদের মালিক করেন এবং নিজের দেয়া সে অর্থের বিনিময়েই বান্দাকে জান্নাত দান করেন। তাই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'এ এক অভিনব বেচা-কেনা, মালও মূল্য উভয়ই তোমাদেরকে দিয়ে দিলেন আল্লাহ। [বাগভী]
হাসান বসরী বলেন, লক্ষ্য কর, এ কেমন লাভজনক সওদা, যা আল্লাহ সকল মুমিনের জন্য সুযোগ করে দিয়েছেন। [বগভী; কুরতুবী; ইবন কাসীর] তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তোমাদের যে সম্পদ দান করেছেন, তা থেকে কিছু ব্যয় করে জান্নাত ক্রয় করে নাও। [বাগভী] অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ ব্যক্তির জন্য জামিন হয়ে যান যিনি তাঁর রাস্তায় বের হয়। তাকে শুধুমাত্র আমার রাহে জিহাদই এবং আমার রাসূলের উপর বিশাসই বের করেছে। আল্লাহ্ তার জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন যে, যদি সে মারা যায় তবে তাকে জান্নাত দিবেন অথবা সে যা কিছু গনীমতের মাল পেয়েছে এবং সওয়াব পেয়েছে তা সহ তাকে তার সে ঘরে ফিরে পৌছিয়ে দিবেন যেখান থেকে বের হয়েছে। [বুখারী: ৩১২৩; মুসলিম: ১৮৭৬]।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১১) নিঃসন্দেহে আল্লাহ বিশ্বাসীদের নিকট থেকে তাদের প্রাণ ও তাদের ধন-সম্পদসমূহকে বেহেশ্তের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন;[1] তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, যাতে তারা হত্যা করে এবং নিহত হয়ে যায়। এ (যুদ্ধে)র দরুন (জান্নাত প্রদানের) সত্য অঙ্গীকার করা হয়েছে তাওরাতে, ইঞ্জীলে এবং কুর’আনে; আর নিজের অঙ্গীকার পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর অন্য কে আছে?[2] অতএব তোমরা আনন্দ করতে থাক তোমাদের এই ক্রয়-বিক্রয়ের উপর, যা তোমরা সম্পাদন করেছ।[3] আর এটা হচ্ছে মহাসাফল্য।
তাফসীর:
[1] এখানে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও দয়ার কথা বর্ণনা করা হচ্ছে যে, তিনি মু’মিনদেরকে তাদের জান ও ঐ সম্পদ যা তাঁরা আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তার বিনিময়ে জান্নাত প্রদান করেছেন। অথচ এই জান ও মালও সেই আল্লাহরই দান। আবার মূল্য ও বদলা হিসাবে যা দান করেছেন, অর্থাৎ সেই জান্নাত নেহাতই মূল্যবান।
[2] এটা উক্ত ক্রয়-বিনিময়ের তা’কীদ যে, আল্লাহ তাআলা এই সত্য অঙ্গীকার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এবং কুরআনেও করেছেন। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক অঙ্গীকার পূরণকারী কে হতে পারে?
[3] এ কথা মুসলিমদেরকে বলা হচ্ছে। কিন্তু এই আনন্দ তখনই করা যাবে, যখন মুসলিমগণ উক্ত ব্যবসা মেনে নেবে। অর্থাৎ, আল্লাহর পথে জান ও মাল কুরবানী করতে কোন দ্বিধা করবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের জান-মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তাদের কাজ হল তারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করবে, শত্রুদের হত্যা করবে, প্রয়োজনে নিজেরা নিহত হবে। ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য যা দরকার যেমন; ক্রেতা, বিক্রতা, পণ্য মূল্য সবকিছু এখানে উল্লেখ করেছেন।
তাই একজন মু’মিন তার জীবনকে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করবে এতটুকু তার ইখতিয়ার নেই। যেহেতু তার জান-মাল আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিক্রি করা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার পথে বের হয়, একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর পথে জিহাদ ও রাসূলের সত্যতা প্রমাণ করা। যদি এ অবস্থাতেই মৃত্যু হয়। আল্লাহ তা‘আলা তার যিম্মাদার যে, তিনি তাকে জান্নাতে দেবেন। আর যদি মারা না যায় তাহলে বাড়িতে গনীমত অথবা প্রতিদানসহ ফিরাবেন। (সহীহ বুখারী হা: ৭৪৫৭)
যে মু’মিনদের জান-মাল আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন তাদের আরো বৈশিষ্ট্য ১১২ নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বলেন: সময়মত সালাত আদায় করা। আমি বললাম: তারপর কোন্টি? তিনি বলেন: পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোন্টি? তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করা। (সহীহ বুখারী হা: ২৭৮২)
السَّآئِـحُوْنَ - দ্বারা উদ্দেশ্য সওম পালনকারী, রোযাদার। তবে শব্দটি জিহাদের অর্থেও ব্যবহার হয়। নাবী (সাঃ) বলেন: আমার উম্মাতের সিয়াহাত হল আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ। (আবূ দাঊদ হা: ২৪৮৬২, হাসান)
(وَالْحَافِظُوْنَ لِحُدُوْدِ اللّٰهِ)
‘আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী;- অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত। হাসান বাসরী (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলার ফরয বিধানাবলী যথাযথ পালনকারী। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
অতএব একজন মু’মিন যার জান-মাল আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিক্রিত সে কখনো নিজের ইচ্ছামত জীবন যাপন করতে পারে না, অবশ্যই তা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে পরিচালনা করতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মু’মিনদের জান-মাল আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।
২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও শাহাদাতের ফযীলত জানলাম।
৩. একজন মু’মিনের উচিত আয়াতে উল্লিখিত গুণে গুণান্বিত কিনা সে বিষয়ে নিজের প্রতি দৃষ্টিপাত করা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে তাঁর পথে ব্যয়কৃত জান ও মালের বিনিময় হিসেবে জান্নাত প্রদান করবেন। আর এটা বিনিময় নয় বরং তার ফল, করম ও অনুগ্রহ। কেননা, বান্দাদের সাধ্যে যা ছিল তা তারা করেছে। এখন তিনি তার অনুগত বান্দাদের জন্যে কোন বিনিময় বা প্রতিদান ঠিক করলে জান্নাতই ঠিক করবেন। এ জন্যেই হাসান বসরী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁর বান্দাদের সাথে বেচাকেনা করলেন তখন তিনি তাদের খিদমতের বিরাট ও উচ্চমূল্য প্রদান করলেন। আর শামর ইবনে আতিয়্যা (রঃ) বলেন যে, এমন কোন মুসলিম নেই যার স্কন্ধে আল্লাহর অঙ্গীকার ও চুক্তি নেই, যা সে পূর্ণ করে এবং যার উপর সে মৃত্যুবরণ করে। অতঃপর তিনি উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করেন। এ জন্যেই বলা হয় যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করার উদ্দেশ্যে বের হলো সে যেন আল্লাহর সাথে বেচাকেনা করলো এবং আল্লাহ তার সাথে এই আ কবূল করে নিলেন ও তা পূর্ণ করলেন।
মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব আল কারাযী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাঃ) লাইলাতুল আকাবার সময় বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি আল্লাহর জন্যে এবং আপনার জন্যেও যা ইচ্ছা হয় আমাদের উপর শর্ত আরোপ করুন।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আল্লাহ সম্পর্কে আমি তোমাদের উপর এই শর্ত আরোপ করছি যে, তোমরা তার খাটি বান্দা হয়ে থাকবে, তাঁর ইবাদত করবে এবং তার সাথে অন্য কাউকেও শরীক করবে না। আর আমার সম্পর্কে তোমাদের উপর এই শর্ত আরোপ করছি যে, যেসব বিষয় থেকে তোমরা নিজেদের জান ও মালকে রক্ষা করে থাকো সেই সব বিষয়ে আমার ব্যাপারেও শুভাকাঙক্ষী হয়ে থাকবে।” তখন তিনি বলেনঃ “এর বিনিময়ে আমরা কি পাবো? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “এর বিনিময় হচ্ছে জান্নাত।” তাঁর এ কথা শুনে প্রশ্নকারীরা বললেনঃ “এটা তো বড় লাভের ব্যবসা। আমরা অঙ্গীকার ভঙ্গ করবো না এবং আমাদের সাথে কৃত অঙ্গীকারও ভঙ্গ করা হবে না।” তখন (আরবী)-এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, অতঃপর হত্যা করে ও নিহত হয়। সাওয়াবের দিক দিয়ে দুটোই সমান হয়। তারা হত্যা করে গাযী হাক অথবা নিহত হয়ে শহীদ হাক। সর্বাবস্থাতেই তাদের জন্যে জান্নাত অবধারিত রয়েছে। এ জন্যেই সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে এসেছে- “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বের হয়, আর এই বের হওয়ার পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তার পথে জিহাদ করা এবং তার রাসূলদের সত্যতা প্রমাণ করা, এ অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়, আল্লাহ তার যিম্মাদার যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন। আর যদি মারা না যায় তবে আল্লাহ এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন যে, সে যেখান থেকে বের হয়েছে সেখানে তাকে তার লাভকৃত গনীমতের মালসহ পৌছিয়ে দিবেন।”
(আরবী) আল্লাহ পাকের এই উক্তিটি তার ওয়ার্দার গুরুত্ব হিসেবে করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, তিনি নিজের পবিত্র সত্তার উপর এটা ফরয করে নিয়েছেন এবং তাঁর রাসূলদের উপর তাঁর এই ওয়াদার অহীও পাঠিয়েছেন, যা মূসা (আঃ)-এর উপর অবতারিত কিতাব তাওরাতে লিপিবদ্ধ আছে এবং ঈসা (আঃ)-এর উপর অবতারিত কিতাব ইঞ্জীলেও লিখিত রয়েছে, আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর অবতারিত কিতাব আল কুরআনের মধ্যে লিখা আছে। তাদের সবারই উপর আল্লাহর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হাক।
মহান আল্লাহর উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ অপেক্ষা স্বীয় ওয়াদা অধিক পূর্ণকারী আর কে হতে পারে? কেননা, তিনি কখনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কথায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী আর কে আছে?” (৪:৮৭) আর এক স্থানে তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ কথা বলায় আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?` (৪:১২২) এ জন্যেই ইরশাদ হচ্ছে-আল্লাহর সাথে তোমরা যে বেচা-কেনা করেছে এতে তোমরা খুশী হয়ে যাও এবং এই সফলতা হচ্ছে বিরাট সফলতা, যদি তোমরাও নিজেদের অঙ্গীকার পূর্ণ কর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।