আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 112)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 112)



হরকত ছাড়া:

التائبون العابدون الحامدون السائحون الراكعون الساجدون الآمرون بالمعروف والناهون عن المنكر والحافظون لحدود الله وبشر المؤمنين ﴿١١٢﴾




হরকত সহ:

اَلتَّآئِبُوْنَ الْعٰبِدُوْنَ الْحٰمِدُوْنَ السَّآئِحُوْنَ الرّٰکِعُوْنَ السّٰجِدُوْنَ الْاٰمِرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَ النَّاهُوْنَ عَنِ الْمُنْکَرِ وَ الْحٰفِظُوْنَ لِحُدُوْدِ اللّٰهِ ؕ وَ بَشِّرِ الْمُؤْمِنِیْنَ ﴿۱۱۲﴾




উচ্চারণ: আত্তাইবূনাল ‘আ-বিদূ নাল হা-মিদূ নাছছা-ইহুনার রা-কি‘ঊনাছছা-জিদূ নাল আ-মিরূনা বিলামা‘রূফি ওয়ান্না-হুনা ‘আনিল মুনকারি ওয়াল হা-ফিজূনা লিহুদূ দিল্লা-হি ওয়া বাশশিরিল মু’মিনীন।




আল বায়ান: তারা তাওবাকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূকারী, সিজ্দাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা হেফাযতকারী। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১২. তারা(১) তাওবাহকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী(২), রুকূ’কারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী(৩); আর আপনি মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা অনুশোচনাভরে (আল্লাহর দিকে) প্রত্যাবর্তনকারী, ‘ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী, রুকু‘কারী, সাজদাহকারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী, অন্যায় কাজ হতে নিষেধকারী, আল্লাহর নির্ধারিত সীমা সংরক্ষণকারী, কাজেই (এসব) মু’মিনদেরকে সুসংবাদ দাও।




আহসানুল বায়ান: (১১২) তারা হচ্ছে তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী, রুকু ও সিজদাকারী, সৎকাজে আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর বিধি-সীমাসমূহের সংরক্ষণকারী।[1] আর তুমি বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ দাও।[2]



মুজিবুর রহমান: তারা হচ্ছে তাওবাহকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকু ও সাজদাহকারী, সৎ বিষয় শিক্ষা প্রদানকারী এবং মন্দ বিষয়ে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর সীমাসমূহের (অর্থাৎ আহকামের) সংরক্ষণকারী; আর তুমি এমন মু’মিনদেরকে সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।



ফযলুর রহমান: (এই মুমিনরা) তওবাকারী, এবাদতকারী, (আল্লাহর) প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী (বা আল্লাহর পথে পরিভ্রমণকারী), রুকু-সেজদাকারী (নামায আদায়কারী), ন্যায়ের আদেশ দানকারী, অন্যায় থেকে বিরতকারী এবং আল্লাহর সীমাসমূহ (বিধি-বিধান) রক্ষাকারী। তুমি (এই) মুমিনদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও।



মুহিউদ্দিন খান: তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে।



জহুরুল হক: তওবাকারীরা, উপাসনাকারীরা, মহিমাকীর্তনকারীরা, রোযা পালনকারীরা, রুকুকারীরা, সিজদাকারীরা, সৎকর্মে নিদের্শ- দানকারীরা ও অসৎকর্মে নিষেধকারীরা, এবং আল্লাহ্‌র চৌহদ্দি রক্ষাকারীরা। আর মুমিনদের তুমি সুসংবাদ দাও।



Sahih International: [Such believers are] the repentant, the worshippers, the praisers [of Allah], the travelers [for His cause], those who bow and prostrate [in prayer], those who enjoin what is right and forbid what is wrong, and those who observe the limits [set by] Allah. And give good tidings to the believers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১২. তারা(১) তাওবাহকারী, ইবাদতকারী, আল্লাহর প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী(২), রুকূ’কারী, সিজদাকারী, সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী(৩); আর আপনি মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিন।


তাফসীর:

(১) এ গুণাবলী হলো সেসব মুমিনের যাদের সম্পর্কে পূর্বের আয়াতে বলা হয়েছে- ‘আল্লাহ্‌ জান্নাতের বিনিময়ে তাদের জান-মাল খরিদ করে নিয়েছেন’। আল্লাহ্‌র রাহে জিহাদকারী সবাই এ আয়াতের মর্মভুক্ত। তবে এখানে যে সমস্ত গুণাবলীর উল্লেখ হয়েছে, তা শর্তরূপে নয়। কারণ, আল্লাহর রাহে কেবল জিহাদের বিনিময়েই জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। তবে এ গুণাবলী উল্লেখের উদ্দেশ্য এই যে, যারা জান্নাতের উপযুক্ত, তারা এ সকল গুণের অধিকারী হয়। [কুরতুবী]


(২) অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে আয়াতে উল্লেখিত السَّائِحُونَ দ্বারা উদ্দেশ্য সাওম পালনকারীগণ। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ ও আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম বলেন, কুরআন মজীদে ব্যবহৃত سائحين শব্দের অর্থ রোযাদার। [বাগভী; কুরতুবী] তাছাড়া سائح বলে জিহাদকারীদেরকেও বুঝায়। তবে মূল শব্দটি سياحة যার অর্থঃ দেশ ভ্রমণ। বিভিন্ন ধর্মের লোক দেশ ভ্রমণকে ইবাদাত মনে করতো। অর্থাৎ মানুষ পরিবার পরিজন ও ঘর-বাড়ী ত্যাগ করে ধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্যে দেশ দেশান্তরে ঘুরে বেড়াত। ইসলাম একে বৈরাগ্যবাদ বলে অভিহিত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে [ইবন কাসীর] এর পরিবর্তে সিয়াম পালনের ইবাদতকে এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আবার কতিপয় বর্ণনায় জিহাদকেও দেশ ভ্রমনের অনুরূপ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মতের দেশভ্রমণ হলো জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ। [আবু দাউদ: ২৪৮৬]


(৩) আলোচ্য আয়াতে মুমিন মুজাহিদের আটটি গুণ উল্লেখ করে নবম গুণ হিসেবে বলা হয়েছে “আর আল্লাহর দেয়া সীমারেখার হেফাযতকারী” মূলতঃ এতে রয়েছে উপরোক্ত সাতটি গুণের সমাবেশ। অর্থাৎ সাতটি গুণের মধ্যে যে তাফসীল রয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত সার হলো যে, এরা নিজেদের প্রতিটি কর্ম ও কথায় আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা তথা শরীআতের হুকুমের অনুগত ও তার হেফাযতকারী। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১২) তারা হচ্ছে তওবাকারী, ইবাদতকারী, প্রশংসাকারী, রোযা পালনকারী, রুকু ও সিজদাকারী, সৎকাজে আদেশ এবং মন্দ কাজে বাধা প্রদানকারী, আল্লাহর বিধি-সীমাসমূহের সংরক্ষণকারী।[1] আর তুমি বিশ্বাসীদেরকে সুসংবাদ দাও।[2]


তাফসীর:

[1] এখানে ঐ সকল মু’মিন ব্যক্তিদের আরো কিছু গুণ বর্ণনা করা হচ্ছে, যাদের জান ও মাল আল্লাহ তাআলা জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা গুনাহ ও অশ্লীলতা থেকে তওবাকারী হবে, নিয়মিত আপন প্রভূর ইবাদতকারী হবে, আর মুখে আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনাকারী এবং এই আয়াতে বর্ণিত সকল গুণের অধিকারী হবে। অধিকাংশ তফসীরবিদদের মতে سَائحُون এর অর্থ রোযাপালনকারী। এই অর্থকেই ইবনে কাসীর (রহঃ) সহীহ ও প্রসিদ্ধ মত বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। অনেকে তার অর্থ আল্লাহর পথে জিহাদ বলেছেন। এরপরেও ‘সিয়াহাত’ এর অর্থ দেশ-ভ্রমণ নয় যেমন অনেকে এই অর্থ নিয়েছেন। অনুরূপ ইবাদতের জন্য পাহাড়ের চূড়া, গুহা এবং নির্জন মরুভূমিতে গিয়ে বসবাস করাও এর অর্থ নয়। কারণ তা বৈরাগ্যবাদের একটা অংশ যা ইসলাম ধর্মে নেই। তবে হ্যাঁ, ফিতনার সময় নিজের দ্বীন বাঁচানোর তাগীদে শহর ও জনবসতি ত্যাগ করে জঙ্গল ও মরুভূমিতে গিয়ে বাস করার অনুমতি হাদীসে দেওয়া হয়েছে। (বুখারী)

[2] উদ্দেশ্য হল যে, বিশ্বাসী বা পূর্ণ মু’মিন ঐ ব্যক্তি; যে কথা ও কর্মে ইসলামী শিক্ষার উত্তম নমুনা হয় এবং আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বিরত থাকে এবং আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকারী নয় বরং তার সংরক্ষণকারী হয়। এরূপ পূর্ণ মু’মিনরাই সুসংবাদের অধিকারী। এটা সেই কথাই, যা কুরআনে (آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَات) শব্দ দ্বারা বার বার উক্ত হয়েছে। এখানে কিছু নেক আমলের কথা কিঞ্চিৎ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১১-১১২ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের জান-মাল জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তাদের কাজ হল তারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করবে, শত্রুদের হত্যা করবে, প্রয়োজনে নিজেরা নিহত হবে। ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য যা দরকার যেমন; ক্রেতা, বিক্রতা, পণ্য মূল্য সবকিছু এখানে উল্লেখ করেছেন।



তাই একজন মু’মিন তার জীবনকে যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করবে এতটুকু তার ইখতিয়ার নেই। যেহেতু তার জান-মাল আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিক্রি করা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার পথে বের হয়, একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর পথে জিহাদ ও রাসূলের সত্যতা প্রমাণ করা। যদি এ অবস্থাতেই মৃত্যু হয়। আল্লাহ তা‘আলা তার যিম্মাদার যে, তিনি তাকে জান্নাতে দেবেন। আর যদি মারা না যায় তাহলে বাড়িতে গনীমত অথবা প্রতিদানসহ ফিরাবেন। (সহীহ বুখারী হা: ৭৪৫৭)



যে মু’মিনদের জান-মাল আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন তাদের আরো বৈশিষ্ট্য ১১২ নং আয়াতে উল্লেখ করেছেন। ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বলেন: সময়মত সালাত আদায় করা। আমি বললাম: তারপর কোন্টি? তিনি বলেন: পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করা। আমি বললাম, তারপর কোন্টি? তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করা। (সহীহ বুখারী হা: ২৭৮২)



السَّآئِـحُوْنَ - দ্বারা উদ্দেশ্য সওম পালনকারী, রোযাদার। তবে শব্দটি জিহাদের অর্থেও ব্যবহার হয়। নাবী (সাঃ) বলেন: আমার উম্মাতের সিয়াহাত হল আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ। (আবূ দাঊদ হা: ২৪৮৬২, হাসান)



(وَالْحَافِظُوْنَ لِحُدُوْدِ اللّٰهِ)



‘আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী;- অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত। হাসান বাসরী (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলার ফরয বিধানাবলী যথাযথ পালনকারী। (ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



অতএব একজন মু’মিন যার জান-মাল আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিক্রিত সে কখনো নিজের ইচ্ছামত জীবন যাপন করতে পারে না, অবশ্যই তা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে পরিচালনা করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মু’মিনদের জান-মাল আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।

২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ ও শাহাদাতের ফযীলত জানলাম।

৩. একজন মু’মিনের উচিত আয়াতে উল্লিখিত গুণে গুণান্বিত কিনা সে বিষয়ে নিজের প্রতি দৃষ্টিপাত করা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: এই পবিত্র আয়াতটি ঐ মুমিনদের প্রশংসায় অবতীর্ণ হয়েছে যাদের জান ও মালকে আল্লাহ তা'আলা তাদের এই উত্তম গুণাবলীর বিনিময়ে ক্রয় করে নিয়েছেন। তারা সমস্ত পাপ ও নির্লজ্জতাপূর্ণ কার্য থেকে বিরত থাকে, নিজেদের প্রতিপালকের ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং নিজেদের কথা ও কাজের উপর কড়া দৃষ্টি রাখে। কথার মধ্যে বিশিষ্ট বিষয় হচ্ছে আল্লাহর প্রশংসা। এ জন্যেই মহান আল্লাহ (আরবী) বলেছেন। আর আমল ও কাজের দিক দিয়ে উত্তম কাজ হচ্ছে সিয়াম। সিয়াম বা রোযা বলা হয় পানাহার, স্ত্রী-সহবাস হতে বিরত থাকাকে। আর (আরবী) দ্বারা এই সিয়ামকেই বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা (আরবী) বলেছেন। যেমন তিনি (আরবী) শব্দ দ্বারা নবী (সঃ)-এর সহধর্মিণীদের প্রশংসা করেছেন। এই (আরবী) দ্বারা (আরবী) ভাবার্থ নেয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে (আরবী) ও (আরবী) দ্বারা সালাত বা নামায অর্থ নেয়া হয়েছে এবং (আরবী) ও (আরবী) বলা হয়েছে। তারা শুধু নিজেদের উপকারের প্রতি লক্ষ্য রেখেই ইবাদত করে না, বরং আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদেরকেও সুপথ প্রদর্শন করতঃ “সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ”-এর উপর আমল করে উপকার পৌছিয়ে থাকে। কোন্ কাজ করা উচিত এবং কোন্ কাজ পরিত্যাগ করা ওয়াজিব এসব কথা বাতলিয়ে থাকে আর জ্ঞান ও আমল উভয় প্রকারে হালাল ও হারামের ব্যাপারে আল্লাহর সীমা সংরক্ষণের প্রতি তারা পূর্ণ দৃষ্টি রাখে। সুতরাং তারা আল্লাহর ইবাদত ও সৃষ্টজীবের মঙ্গল কামনা-এই উভয় প্রকারের ইবাদতে পতাকাধারী। এ জন্যেই মহান প্রতিপালক আল্লাহ বলেন-মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিয়ে দাও, কেননা ও দুটোর সমষ্টির নামই হচ্ছে ঈমান এবং পূর্ণমাত্রায় সৌভাগ্য তো তারাই লাভ করেছে যারা এই দুটো গুণে গুণান্বিত।

(আরবী) দ্বারা (আরবী) বা রোযাকে বুঝানো হয়েছে।

সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, (আরবী) -এর অর্থ হচ্ছে (আরবী) বা সিয়াম পালনকারীগণ। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ পাক কুরআন কারীমের মধ্যে যেখানেই (আরবী) শব্দ ব্যবহার করেছেন সেখানেই উদ্দেশ্য হচ্ছে (আরবী) বা (আরবী) রোযা। যহহাকও (রঃ) এ কথাই বলেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন যে, এই উম্মতের (আরবী) হচ্ছে রমযানের সিয়াম পালন করা। মুজাহিদ (রঃ), সাঈদ (রঃ), আতা (রঃ), আব্দুর রহমান (রঃ), যহ্হাক (রঃ) এবং সুফইয়ান ইবনে উয়াইনা (রঃ) সবাই এই খেয়ালই রাখেন যে, দ্বারা রোযাদারদেরকে বুঝানো হয়েছে। হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, (আরবী) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে রমযানের রোযাদারগণ। আবূ আমর আল আবদীও (রঃ) এ কথাই বলেন। একটি মারফ হাদীসেও এটাই এসেছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ সিয়ামকারী লোকদেরকে বলা হয়।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন । এটা মাওকুফ, অত্যধিক বিশুদ্ধ) উবাইদ ইবনে উমাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী (সঃ)-কে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ “তারা হচ্ছে সিয়ামকারী।” (এ হাদীসটি ‘মুরসাল’ এবং খুবই উত্তম। আর এটা বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধতম উক্তি) এই উক্তিও আছে যে, (আরবী) দ্বারা জিহাদকে বুঝানো হয়েছে। ইমাম আবু দাউদ (রঃ) স্বীয় কিতাব সুনানের মধ্যে আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আবেদন করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাকে ‘সিয়াহাত’-এর অনুমতি দিন!” তখন নবী (সঃ) বলেনঃ “আমার উম্মতের ‘সিয়াহাত’ হচ্ছে আল্লাহর পথে জিহাদ।”

আম্মারা ইবনে গাযিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট (আরবী) সম্পর্কে আলোচনা করা হলে তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা আমাদের জন্যে আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে ও প্রত্যেক উঁচু স্থানের উপর তাকবীর পাঠ করাকে (আরবী) বানিয়েছেন।” ইকরামা (রঃ)-এর খেয়াল এই যে, এর দ্বারা বিদ্যা অন্বেষণকারীদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা মুহাজিরদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এই উক্তি দু’টি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এখানে এটা মনে রাখার বিষয় যে, এই স্থালে ‘সিয়াহাত' দ্বারা ঐ অর্থ বুঝানো হয়নি যা কোন কোন দরবেশ ও বনবাসী প্রকৃতির লোক বুঝেছেন যে, এর অর্থ হচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠে একাকী সফর করা এবং ঐ লোকগুলোর উদ্দেশ্য, যারা পাহাড়-পর্বতে, খাল-খন্দকে এবং বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় ও জনপদ থেকে পলায়ন করে। কেননা এরূপ করা শরীয়ত সম্মত নয়। তবে হ্যাঁ, যদি ফিৎনার যুগ হয় এবং দ্বীনের মধ্যে অসঙ্গতিপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয় তাহলে সেটা অন্য কথা। যেমন সহীহ বুখারীতে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “অচিরেই এমন এক যামানা আসবে যখন কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম মাল হবে তার বকরীগুলো, যেগুলোকে সে পাহাড়-পর্বতে ও বৃষ্টিবর্ষণের স্থানে চরিয়ে নিয়ে বেড়াবে এবং ফিত্না হতে বাঁচার উদ্দেশ্যে নিজের দ্বীন নিয়ে পালাতে থাকবে।”

(আরবী) দ্বারা আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদেরকে বুঝানো হয়েছে। আর হাসান বসরী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা ঐ সব। লোককে বুঝানো হয়েছে যারা আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে এবং তার উপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।