সূরা আল-বায়্যিনাহ (আয়াত: 7)
হরকত ছাড়া:
إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات أولئك هم خير البرية ﴿٧﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ ۙ اُولٰٓئِکَ هُمْ خَیْرُ الْبَرِیَّۃِ ؕ﴿۷﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা হুম খাইরুল বারিইইয়াহ।
আল বায়ান: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারাই সৃষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে তারা সৃষ্টির উত্তম।
আহসানুল বায়ান: ৭। নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। [1]
মুজিবুর রহমান: যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ।
ফযলুর রহমান: (পক্ষান্তরে) যারা (সত্যকে) বিশ্বাস করে আর সৎকাজ করে, সকল সৃষ্টির মধ্যে তারাই শ্রেষ্ঠ।
মুহিউদ্দিন খান: যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির সেরা।
জহুরুল হক: পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে -- তারাই খোদ সৃষ্টজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম।
Sahih International: Indeed, they who have believed and done righteous deeds - those are the best of creatures.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: ৭। নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, যারা আন্তরিকভাবে ঈমান আনে এবং যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে সবার থেকে উত্তম ও উৎকৃষ্টতম সৃষ্টি। যে সকল উলামাগণ মনে করেন যে, মু’মিন বান্দাগণ মান ও মর্যাদায় ফিরিশতা হতে শ্রেষ্ঠতর, তাঁদের সমর্থনে এই আয়াতটি একটি দলীল। البَرِيَّة শব্দটি بَرَأَ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এ থেকেই আল্লাহর একটি গুণ ‘আল-বারী’ হয়েছে। بَرية এর আসল রূপ بَريئة । এর ء কে ي দ্বারা পরিবর্তন করে অপর ي তে সন্ধি করা হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা দুশ্রেণির মানুষের বিবরণ তুলে ধরছেন। একশ্রেণি সৃষ্টি জীবের মধ্যে নিকৃষ্ট, তারা হলো আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে। আর অপর শ্রেণি হলো সৃষ্টি জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যারা ঈমান আনয়ন করতঃ সৎ আমল করেন। এদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। তাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সন্তুষ্ট।
(ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّه۫)
অর্থাৎ উপরোক্ত উত্তম প্রতিদান তাদের জন্য যারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে পাপ কাজ বর্জন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّه۪ وَنَهَي النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰي فَإِنَّ الْـجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوٰي )
“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রেখেছে এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রেখেছে, অবশ্যই তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” (সূরা নাযিআত ৭৯: ৪০-৪১)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সৎবান্দাদের মধ্যে শামিল করে নিন। আমীন!
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সর্বোত্তম ও সর্ব নিকৃষ্ট দু'শ্রেণির মানুষের বিবরণ জানলাম।
২. সর্বোত্তম ও সর্ব নিকৃষ্ট হওয়ার কারণও জানতে পারলাম।
৩. যারা সৎ আমলকারী তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে সে কথা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের পরিণাম বর্ণনা করছেন যে, কাফির, ইয়াহুদী, নাসারা, মুশরিক, আরব ও অনারব যেই হোক না কেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরোধ এবং আল্লাহর কিতাবকে অবিশ্বাস করে তারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, সেখানেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে। কোন অবস্থাতেই তারা সেখান থেকে ছাড়া বা রেহাই পাবে না। এরাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।
এরপর আল্লাহ তা'আলা পুণ্যবান বান্দাদের পরিণাম সম্পর্কে বলেনঃ নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে তারাই উৎকৃষ্টতম সৃষ্টি। এ আয়াত থেকে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) এবং একদল আলেম ব্যাখ্যা করেন। যে, ঈমানদার মানুষ আল্লাহর ফেরেশতাদের চেয়েও উৎকৃষ্টতর। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তাদের প্রতিদান স্বরূপ তাদের প্রতিপালকের নিকট সর্বদা অবস্থানের জান্নাতসমূহ রয়েছে যেগুলোর নিম্নদেশে নহর সমূহ বইতে থাকবে। সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। এটা ঐ ব্যক্তির জন্যে যে নিজের প্রতিপালককে ভয় করে অর্থাৎ যার মনে আল্লাহ তাআলার প্রতি ভয় ভীতি রয়েছে। ইবাদত করার সময় যে মন প্রাণ দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, এমনভাবে ইবাদত করে যেন চোখের সামনে রাব্বল আলামীন আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে। যে রাব্বল আলামীন সব কিছুরই মালিক এবং যিনি সর্বশক্তিমান।
মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সর্বোত্তম সৃষ্ট জীব কে এ সংবাদ কি আমি তোমাদেরকে দিবো না?” সাহাবীগণ উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদেরকে আপনি এ খবর দিন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “আল্লাহর সৃষ্ট মানুষের মধ্যে ঐ মানুষ সবচেয়ে উত্তম যে জিহাদের ডাক শোনার জন্যে ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে, যেন শোনা মাত্রই ঘোড়ায় আরোহণ করতে পারে এবং শত্রুদলে প্রবেশ করে বীরত্বের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়। এবার আমি তোমাদেরকে এক উৎকৃষ্ট সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছি। যে ব্যক্তি নিজের বকরীর পালের মধ্যে অবস্থান করা সত্ত্বেও নামায আদায় করতে এবং যাকাত দিতে কৃপণতা করে। এবার তোমাদেরকে এক নিকৃষ্ট সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছি। সে হলো ঐ ব্যক্তি যে (কোন অভাবগ্রস্তকে) আল্লাহর নামে কিছু চাওয়ার পর কিছু না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।