আল কুরআন


সূরা আল-বায়্যিনাহ (আয়াত: 6)

সূরা আল-বায়্যিনাহ (আয়াত: 6)



হরকত ছাড়া:

إن الذين كفروا من أهل الكتاب والمشركين في نار جهنم خالدين فيها أولئك هم شر البرية ﴿٦﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا مِنْ اَهْلِ الْکِتٰبِ وَ الْمُشْرِکِیْنَ فِیْ نَارِ جَهَنَّمَ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ اُولٰٓئِکَ هُمْ شَرُّ الْبَرِیَّۃِ ؕ﴿۶﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা কাফারূমিন আহলিল কিতা-বি ওয়াল মুশরিকীনা ফী না-রি জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- উলাইকা হুম শাররুল বারিইইয়াহ।




আল বায়ান: নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে ও মুশরিকরা, জাহান্নামের আগুনে থাকবে স্থায়ীভাবে। ওরাই হল নিকৃষ্ট সৃষ্টি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধ্যম।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির অধম।




আহসানুল বায়ান: ৬। নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তারা দোযখের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। [1]



মুজিবুর রহমান: কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরী করে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম।



ফযলুর রহমান: কিতাবধারী (ইহুদি ও খ্রিষ্টান) এবং মুশরিকদের মধ্যে যারা (সত্যকে) অবিশ্বাস করে তারা চিরকাল জাহান্নামের আগুনে থাকবে। সকল সৃষ্টির মধ্যে তারাই নিকৃষ্ট।



মুহিউদ্দিন খান: আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ গ্রন্থের অনুবর্তীদের মধ্যের যারা অবিশ্বাস পোষণ করে আর বহুখোদাবাদীরা -- জাহান্নামের আগুনে, তা তে তারা অবস্থান করবে। তারাই স্বয়ং সৃষ্টজীবদের মধ্যে নিকৃষ্টতম।



Sahih International: Indeed, they who disbelieved among the People of the Scripture and the polytheists will be in the fire of Hell, abiding eternally therein. Those are the worst of creatures.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬. নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধ্যম।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে তাদের চেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি আর নেই। এমন কি তারা পশুরও অধম। কারণ পশুর বুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তা ও কর্মশক্তি নেই। কিন্তু এরা বুদ্ধি ও স্বাধীন চিন্তা ও কর্মশক্তি সত্বেও সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। [আদওয়াউল বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৬। নিশ্চয় আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে, তারা দোযখের আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। [1]


তাফসীর:

[1] এ হল আল্লাহর রসূল এবং তাঁর গ্রন্থসমূহকে অস্বীকারকারীদের পরিণাম। শুধু তাই নয়, বরং তারা হল সৃষ্টির মধ্যে সবার থেকে অধম ও নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬-৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা দুশ্রেণির মানুষের বিবরণ তুলে ধরছেন। একশ্রেণি সৃষ্টি জীবের মধ্যে নিকৃষ্ট, তারা হলো আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে। আর অপর শ্রেণি হলো সৃষ্টি জীবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ যারা ঈমান আনয়ন করতঃ সৎ আমল করেন। এদের জন্য রয়েছে জান্নাত যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। তাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলা সন্তুষ্ট, তারাও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সন্তুষ্ট।



(ذٰلِكَ لِمَنْ خَشِيَ رَبَّه۫)



অর্থাৎ উপরোক্ত উত্তম প্রতিদান তাদের জন্য যারা প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে পাপ কাজ বর্জন করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّه۪ وَنَهَي النَّفْسَ عَنِ الْهَوٰي فَإِنَّ الْـجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوٰي ‏)‏‏



“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রেখেছে এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রেখেছে, অবশ্যই তার ঠিকানা হবে জান্নাত।” (সূরা নাযিআত ৭৯: ৪০-৪১)



আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সৎবান্দাদের মধ্যে শামিল করে নিন। আমীন!





আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সর্বোত্তম ও সর্ব নিকৃষ্ট দু'শ্রেণির মানুষের বিবরণ জানলাম।

২. সর্বোত্তম ও সর্ব নিকৃষ্ট হওয়ার কারণও জানতে পারলাম।

৩. যারা সৎ আমলকারী তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে প্রতিদান রয়েছে সে কথা জানতে পারলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের পরিণাম বর্ণনা করছেন যে, কাফির, ইয়াহুদী, নাসারা, মুশরিক, আরব ও অনারব যেই হোক না কেন যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরোধ এবং আল্লাহর কিতাবকে অবিশ্বাস করে তারা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে, সেখানেই তারা চিরকাল অবস্থান করবে। কোন অবস্থাতেই তারা সেখান থেকে ছাড়া বা রেহাই পাবে না। এরাই নিকৃষ্টতম সৃষ্টি।

এরপর আল্লাহ তা'আলা পুণ্যবান বান্দাদের পরিণাম সম্পর্কে বলেনঃ নিঃসন্দেহে যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে তারাই উৎকৃষ্টতম সৃষ্টি। এ আয়াত থেকে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) এবং একদল আলেম ব্যাখ্যা করেন। যে, ঈমানদার মানুষ আল্লাহর ফেরেশতাদের চেয়েও উৎকৃষ্টতর। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তাদের প্রতিদান স্বরূপ তাদের প্রতিপালকের নিকট সর্বদা অবস্থানের জান্নাতসমূহ রয়েছে যেগুলোর নিম্নদেশে নহর সমূহ বইতে থাকবে। সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে। এটা ঐ ব্যক্তির জন্যে যে নিজের প্রতিপালককে ভয় করে অর্থাৎ যার মনে আল্লাহ তাআলার প্রতি ভয় ভীতি রয়েছে। ইবাদত করার সময় যে মন প্রাণ দিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, এমনভাবে ইবাদত করে যেন চোখের সামনে রাব্বল আলামীন আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছে। যে রাব্বল আলামীন সব কিছুরই মালিক এবং যিনি সর্বশক্তিমান।

মুসনাদে আহমাদে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সর্বোত্তম সৃষ্ট জীব কে এ সংবাদ কি আমি তোমাদেরকে দিবো না?” সাহাবীগণ উত্তরে বললেনঃ “হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদেরকে আপনি এ খবর দিন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “আল্লাহর সৃষ্ট মানুষের মধ্যে ঐ মানুষ সবচেয়ে উত্তম যে জিহাদের ডাক শোনার জন্যে ঘোড়ার লাগাম ধরে থাকে, যেন শোনা মাত্রই ঘোড়ায় আরোহণ করতে পারে এবং শত্রুদলে প্রবেশ করে বীরত্বের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়। এবার আমি তোমাদেরকে এক উৎকৃষ্ট সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছি। যে ব্যক্তি নিজের বকরীর পালের মধ্যে অবস্থান করা সত্ত্বেও নামায আদায় করতে এবং যাকাত দিতে কৃপণতা করে। এবার তোমাদেরকে এক নিকৃষ্ট সৃষ্টির সংবাদ দিচ্ছি। সে হলো ঐ ব্যক্তি যে (কোন অভাবগ্রস্তকে) আল্লাহর নামে কিছু চাওয়ার পর কিছু না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।