সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 26)
হরকত ছাড়া:
واذكروا إذ أنتم قليل مستضعفون في الأرض تخافون أن يتخطفكم الناس فآواكم وأيدكم بنصره ورزقكم من الطيبات لعلكم تشكرون ﴿٢٦﴾
হরকত সহ:
وَ اذْکُرُوْۤا اِذْ اَنْتُمْ قَلِیْلٌ مُّسْتَضْعَفُوْنَ فِی الْاَرْضِ تَخَافُوْنَ اَنْ یَّتَخَطَّفَکُمُ النَّاسُ فَاٰوٰىکُمْ وَ اَیَّدَکُمْ بِنَصْرِهٖ وَ رَزَقَکُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ لَعَلَّکُمْ تَشْکُرُوْنَ ﴿۲۶﴾
উচ্চারণ: ওয়াযকুরূ ইয আনতুমকালীলুমমুছতাদ‘আফূনা ফিল আরদি তাখা-ফূনা আইঁ ইয়াতাখাত্তাফাকুমুন্না-ছুফাআ-ওয়া কুম ওয়া আইইয়াদাকুম বিনাসরিহী ওয়া রাযাকাকুম মিনাততাইয়িবা-তি লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।
আল বায়ান: আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে অল্প, তোমাদেরকে দুর্বল মনে করা হত যমীনে। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, লোকেরা তোমাদেরকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন, নিজ সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং তোমাদেরকে পবিত্র রিয্ক দান করেছেন। যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৬. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে স্বল্প সংখ্যক, যমীনে তোমরা দুর্বল হিসেবে গণ্য হতে। তোমরা আশংকা করতে যে, লোকেরা তোমাদেরকে হঠাৎ এসে ধরে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দেন, নিজের সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জিনিষগুলো জীবিকারূপে দান করেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর সে সময়ের কথা যখন তোমরা ছিলে সংখ্যায় অল্প, দুনিয়াতে তোমাদেরকে দুর্বল হিসেবে গণ্য করা হত। তোমরা আশঙ্কা করতে যে, মানুষেরা তোমাদের কখন না হঠাৎ ধরে নিয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দিলেন, তাঁর সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করলেন, উত্তম জীবিকা দান করলেন যাতে তোমরা (তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
আহসানুল বায়ান: (২৬) স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে স্বল্পসংখ্যক, পৃথিবীতে তোমরা দুর্বলরূপে পরিগণিত হতে। তোমরা আশংকা করতে যে লোকেরা তোমাদেরকে অপহরণ করবে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দেন, স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন এবং তোমাদেরকে উত্তম বস্তুসমূহ দান করেন; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। [1]
মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর, যখন তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে খুব দুর্বলরূপে পরিগণিত হতে, আর তোমরা এই শংকায় নিপতিত থাকতে যে, লোকেরা অকস্মাৎ তোমাদেরকে ধরে নিয়ে যাবে। (এই অবস্থায়) আল্লাহই তোমাদেরকে (মাদীনায়) আশ্রয় দেন এবং স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন, আর পবিত্র বস্তু দ্বারা তোমাদের জীবিকা দান করেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
ফযলুর রহমান: স্মরণ করো, যখন পৃথিবীতে তোমরা সংখ্যায় কম আর দুর্বল ছিলে। তোমরা ভয় করতে যে, মানুষ তোমাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে। তারপর তিনি তোমাদেরকে (নিরাপদ) আশ্রয় দিয়েছেন, নিজের সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেছেন এবং ভাল ভাল জিনিস দ্বারা তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
মুহিউদ্দিন খান: আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে অল্প, পরাজিত অবস্থায় পড়েছিলে দেশে; ভীত-সস্ত্রস্ত্র ছিলে যে, তোমাদের না অন্যেরা ছোঁ মেরে নিয়ে যায়। অতঃপর তিনি তোমাদিগকে আশ্রয়ের ঠিকানা দিয়েছেন, স্বীয় সাহায্যের দ্বারা তোমাদিগকে শক্তি দান করেছেন এবং পরিচ্ছন্ন জীবিকা দিয়েছেন যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় কর।
জহুরুল হক: আর স্মরণ করো! যখন তোমরা ছিলে স্বল্পসংখ্যক, দুনিয়াতে তোমরা দুর্বলরূপে পরিগণিত হতে, তোমরা ভয় করতে যে লোকেরা তোমাদের আচমকা ধরে নিয়ে যাবে, তখন তিনি তোমাদের আশ্রয় দেন, আর তোমাদের বলবৃদ্ধি করেন তাঁর সাহায্যের দ্বারা, আর তোমাদের জীবিকা দান করলেন উত্তম বিষয়-বস্তু থেকে, যেন তোমরা ধন্যবাদ জানাতে পারো।
Sahih International: And remember when you were few and oppressed in the land, fearing that people might abduct you, but He sheltered you, supported you with His victory, and provided you with good things - that you might be grateful.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৬. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে স্বল্প সংখ্যক, যমীনে তোমরা দুর্বল হিসেবে গণ্য হতে। তোমরা আশংকা করতে যে, লোকেরা তোমাদেরকে হঠাৎ এসে ধরে নিয়ে যাবে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দেন, নিজের সাহায্য দিয়ে তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জিনিষগুলো জীবিকারূপে দান করেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৬) স্মরণ কর, যখন তোমরা ছিলে স্বল্পসংখ্যক, পৃথিবীতে তোমরা দুর্বলরূপে পরিগণিত হতে। তোমরা আশংকা করতে যে লোকেরা তোমাদেরকে অপহরণ করবে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে আশ্রয় দেন, স্বীয় সাহায্য দ্বারা তোমাদেরকে শক্তিশালী করেন এবং তোমাদেরকে উত্তম বস্তুসমূহ দান করেন; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও। [1]
তাফসীর:
[1] আলোচ্য আয়াতে মক্কী জীবনের কষ্ট ও বিপদের বর্ণনা এবং তারপরে মাদানী জীবনে আল্লাহর অনুগ্রহে যে সুখ-শান্তি ও সচ্ছলতা মুসলিমগণ লাভ করেছিলেন তার বর্ণনা রয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৪-২৬ নং আয়াতের তাফসীরঃ
ঈমানদারদেরকে আহ্বান করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তোমরা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের ডাকে আনুগত্যের মাধ্যমে সাড়া দাও। এতে তোমাদের ইহলৌকিক ও পরলৌকিক কল্যাণ রয়েছে।
ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন: اسْتَجِيبُوا এর অর্থ হল: সাড়া দাও। আর
لِمَا يُحْيِيكُمْ
যাতে তোমাদের কল্যাণ রয়েছে। (সূরা আনফাল তাফসীর, সহীহ বুখারী)
আবূ সাঈদ ইবনু মু‘আল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি সালাতরত ছিলাম, এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাঃ) আমার পাশ দিয়ে গেলেন এবং আমাকে ডাকলেন। সালাত শেষ না করা পর্যন্ত আমি তাঁর কাছে যাইনি, তারপর গেলাম। তিনি বললেন, তোমাকে আসতে বাধা দিল কিসে? আল্লাহ তা‘আলা কি বলেননি “হে মু’মিনগণ! রাসূল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করে যা তোমাদের মাঝে জীবন সঞ্চার করে, তখন আল্লাহ ও রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও” হাদীসের শেষ পর্যন্ত। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৪৭, ৪৪৭৪)
(أَنَّ اللّٰهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِه)
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী প্রতিবন্ধক হয়ে থাকেন’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা সবকিছুর মধ্যে পরিবর্তনকারী এমনকি একজন মানুষের ও তার অন্তর যা চায় তার মধ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সক্ষম। (তাফসীর মুয়াসসার, ১৭৯)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করেন মু’মিন ও কুফরীর মাঝে এবং কাফির ও ঈমানের মাঝে। (মুসতাদরাক হাকিম ২য় খ. পৃঃ ৩২৮)
তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দু‘আ করতেন:
يا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِينِكَ
হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী আমার অন্তরকে তোমার দীনের ওপর অটল রাখিও।
আয়িশাহ বলেন: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আপনি বেশি বেশি এ দু‘আ কেন করেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জবাবে বললেন: আদম সন্তানের অন্তরসমূহ আল্লাহ তা‘আলার দু’ আঙ্গুলের মাঝে বিদ্যমান; ইচ্ছা করলে সেগুলোকে তিনি বক্র করে দেন আর ইচ্ছা করলে সঠিকের ওপর বহাল রাখেন। (মুসনাদ আহমাদ ৬ষ্ঠ খ. পৃঃ ৯১, তিরমিযী হা: ৩৫২২, হাসান)
এ অংশ দ্বারা অনেকে বুঝানোর চেষ্টা করেন যে, আল্লাহ তা‘আলার অবস্থান মু’মিন বান্দার অন্তরে। এ মর্মে তারা একটি বানোয়াট হাদীসও বর্ণনা করে বলেন: মু’মিনের অন্তর আল্লাহ তা‘আলার আরশ। তাদের এরূপ ধারণা অমূলক, বরং আল্লাহ তা‘আলা স্বসত্তায় আরশের ওপর আছেন, আর আল্লাহ তা‘আলার আরশ সাত আকাশের উপরে। এ সম্পর্কে বহুবার আলোচনা করা হয়েছে।
وَاتَّقُوا فِتْنَةً
‘তোমরা এমন ফেতনাকে ভয় কর’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ঐ ফেতনাকে ভয় করার নির্দেশ দিচ্ছেন যা সৎ ও অসৎ, জালেম ও ন্যায় ব্যক্তিসহ সকলকে পাকড়াও করবে। এ ফেতনা হল আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আনুগত্য ছেড়ে দেয়া এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ থেকে বিরত থাকা। এসব কাজ না করলে সকলকে ফেতনা গ্রাস করবে। (আয়সারুত তাফাসীর, ২য় খ. পৃঃ ১৩১)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিদের খারাপ আমলের কারণে সকলকে শাস্তি দেবেন না। যতক্ষণ না মানুষ তোমাদের মাঝে খারাপ কাজ দেখে। এ খারাপ কাজে বাধা দিতে সক্ষম থাকা সত্ত্বেও বাধা না দিলে সকলকে আল্লাহ তা‘আলা শাস্তি দেবেন। (মুসনাদ আহমাদ: ১/১৯২, সহীহ) যয়নাব (রাঃ) বলেন: নাবী (সাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আমাদের মাঝে সৎ লোক থাকা সত্ত্বেও কি আমাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যখন খারাপ কাজ বৃদ্ধি পাবে। (সহীহ বুখারী হা: ৩৩৪৬)
তারপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন সে সময়ের কথা যখন তোমরা সংখ্যায় স্বল্প ছিলে তোমাদেরকে জমিনে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল। ইচ্ছা করলে মানুষ তোমাদেরকে ছুঁ মেরে নিতে পারত। তখন আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাঁর সাহায্য দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। তোমাদেরকে পবিত্র বস্তু রিযিকস্বরূপ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাঁর শুকরিয়া কর।
অতএব প্রতিটি মু’মিনের ঈমানী দায়িত্ব হল: যথাসম্ভব সৎ কাজের আদেশ প্রদান করা ও অসৎ কাজে বাধা দেয়া এবং আল্লাহ ও রাসূলের একচ্ছত্র আনুগত্য করা।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষ যে প্রান্তেই থাকুক না কেন আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ডাকে সাড়া দেয়া আবশ্যক। সাড়া দেয়ার অর্থ হল তাদের আনুগত্য করা।
২. আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
৩. يا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلٰي دِينِكَ
এ দু‘আটি বেশি বেশি পড়া উচিত।
৪. সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের বাধা না দিলে ফেতনা আমাদেরকে গ্রাস করবে, তখন দু‘আ করেও কোন কাজে আসবে না।
৫. নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা ঐ নিয়ামতরাজির কথা বলেছেন যা মুমিনদের উপর করা হয়েছে যে, তারা সংখ্যায় কম ছিল, তাদের সংখ্যা তিনি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তারা দুর্বল ছিল ও ভীত সন্ত্রস্ত ছিল, তিনি তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন। তাদের ভয়ের কারণগুলো দূর করে দিয়েছেন। তারা গরীব ও ফকির ছিল, তিনি তাদেরকে পবিত্র জীবিকা দান করেছেন। তাদেরকে তিনি কৃতজ্ঞ বান্দা বানিয়েছেন। তারা অনুগত বান্দারূপে পরিগণিত হয়েছে। প্রতিটি কাজে তারা বাধ্য ও অনুগত হয়ে গেছে। এই ছিল মুমিনদের অবস্থা, যখন তারা মক্কায় ছিল এবং সংখ্যায় খুবই কম ছিল। তারা ছিল অত্যন্ত দুর্বল। মুশরিক, মাজুসী, রুমী সবাই তাদেরকে তাদের সংখ্যার স্বল্পতা ও শক্তিহীনতার কারণে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল। সব সময় তাদের এই ভয় ছিল যে, আকস্মিকভাবে তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। কিছুকাল পর্যন্ত তাদের এই অবস্থাই ছিল। অতঃপর তাদেরকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন। সেখানে তারা আশ্রয় লাভ করে । মদীনার ললাকেরা তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। বদর ও অন্যান্য যুদ্ধে তাদের সাথে অংশগ্রহণ করে। জান ও মাল তাদের উপর কুরবান করে দেয়। কেননা, তারা চাচ্ছিল আল্লাহ ও তার রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করতে।
(আরবী) -এ সম্পর্কে কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আরবে এই লোকগুলো অত্যন্ত লাঞ্ছিত অবস্থায় ছিল। তাদের জীবন ছিল অত্যন্ত দুর্বিসহ। তাদের পেটে খাবার ছিল না, পরনে কাপড় ছিল না। সুপথ থেকেও তারা ছিল ভ্রষ্ট। তারা ছিল খুবই হতভাগা। তারা খাবার পেতো না, বরং তাদেরকেই খেয়ে নেয়া হচ্ছিল। দুনিয়ায় যে তাদের অপেক্ষা বেশী লাঞ্ছিত ও অপমানিত আর কেউ ছিল তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু ইসলাম আনয়নের পর এই লাঞ্ছিত লোকেরাই দেশের পর দেশ দখল করে নেয় এবং আমীর ও বাদশাহ বনে যায়। রাজা বাদশাহদের উপরও হুকুম চালাতে থাকে। ঢেরি ঢেরি খাবার তারা পেতে শুরু করে। আল্লাহ তাদেরকে সব কিছুই দান করেন যা তোমরা আজ স্বচক্ষে দেখছো। সুতরাং এখন তোমরা নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। তিনিই হচ্ছেন প্রকৃত নিয়ামত দাতা। কৃতজ্ঞ বান্দাদেরকে তিনি ভালবাসেন এবং তাদের ধন-সম্পদ আরো বাড়িয়ে দেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।