আল কুরআন


সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 10)

সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

ولقد مكناكم في الأرض وجعلنا لكم فيها معايش قليلا ما تشكرون ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

وَ لَقَدْ مَکَّنّٰکُمْ فِی الْاَرْضِ وَ جَعَلْنَا لَکُمْ فِیْهَا مَعَایِشَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْکُرُوْنَ ﴿۱۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া লাকাদ মাক্কান্না-কুম ফিল আরদিওয়া জা‘আলনা-লাকুম ফীহা-মা‘আ-য়িশা কালীলাম মা-তাশকুরূন।




আল বায়ান: আর অবশ্যই আমি তো তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. আর অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি; তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি; আর সেখানে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।




আহসানুল বায়ান: (১০) আমি তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং ওতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।



মুজিবুর রহমান: আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং আমি তোমাদের জন্য ওতে জীবিকা নির্বাহের উপকরণসমূহ সৃষ্টি করেছি, তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।



ফযলুর রহমান: অবশ্যই আমি তোমাদেরকে দুনিয়াতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং সেখানে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। তোমরা (সেজন্য) খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।



মুহিউদ্দিন খান: আমি তোমাদেরকে পৃথিবীতে ঠাই দিয়েছি এবং তোমাদের জীবিকা নির্দিষ্ট করে দিয়েছি। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।



জহুরুল হক: আর আমরা তো পৃথিবীতে তোমাদের প্রতিষ্ঠিত করেছি, আর তোমাদের জন্য তাতে করেছি জীবিকার ব্যবস্থা। অল্পই সেইটুকু যা কৃতজ্ঞতা তোমার জ্ঞাপন করো।



Sahih International: And We have certainly established you upon the earth and made for you therein ways of livelihood. Little are you grateful.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. আর অবশ্যই আমরা তোমাদেরকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তাতে তোমাদের জন্য জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি; তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।(১)


তাফসীর:

(১) মানুষের যাবতীয় প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আল্লাহ্ তা'আলা ভূ-পৃষ্ঠে সঞ্চিত রেখেছেন। কাজেই সর্বদা সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌ তা’আলার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করাই মানুষের কর্তব্য। কিন্তু মানুষ গাফেল হয়ে স্রষ্টার অনুগ্রহরাজি বিস্মৃত হয়ে যায় এবং পার্থিব দ্রব্যসামগ্রীর মধ্যেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে। তাই আয়াতের শেষে অভিযোগের সুরে বলা হয়েছেঃ “তোমরা খুব কম লোকই কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।”


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) আমি তো তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং ওতে তোমাদের জীবিকার ব্যবস্থাও করেছি। তোমরা খুব অল্পই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮-১০ নং আয়াতের তাফসীরঃ



ঈমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম একটি হল আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। আখিরাতে যা কিছু হবে তার মধ্যে একটি হল মিযান তথা দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে যাতে মানুষের আমলসমূহ ওজন করা হবে। তার প্রমাণ অত্র আয়াত। কিয়ামতের দিনে সঠিকভাবে আমলসমূহ ওজন করা হবে। কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَنَضَعُ الْمَوَازِيْنَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ط وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ط وَكَفٰي بِنَا حٰسِبِيْنَ)‏



“এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব ন্যায় বিচারের মানদণ্ড। সুতরাং কারও প্রতি কোন অবিচার করা হবে না এবং কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও সেটা আমি উপস্থিত করব; হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৪৭)



হাদীসেও মিযান বা দাঁড়িপাল্লার বর্ণনা এসেছে। সুতরাং এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। কিয়ামতের দিন যে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে তা প্রকৃত দাঁড়িপাল্লা। তার দু’টি পাল্লা থাকবে, যেমন হাদীসে এসেছে: সাত আকাশ ও তাতে আমি ছাড়া যা কিছু আছে এবং সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর অন্য পাল্লায় যদি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” রাখা হয় তাহলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর পাল্লা ভারী হবে। (ইবনু হিব্বান হা: ২৩২৪, মুসতাদরাক হাকেম ১/৫২৮, সহীহ)



এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকীদাহ-বিশ্বাস। আর যারা দাঁড়িপাল্লাকে রূপক অর্থে ব্যবহার করে ন্যায়বিচারকে বুঝে থাকেন তাদের বিশ্বাস সঠিক নয়। (আকীদাহ তাহাবীয়াহ পৃ: ৫৪১)



দাঁড়িপাল্লায় তিনটি জিনিস ওজন করা হবে:



১. আমলকারী মানুষকে ওজন করা হবে- যেমন হাদীসে এসেছে: যখন সাহাবীরা ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর পায়ের হালকা পেণ্ডলী দেখে হাসতে ছিল, তখন নাবী (সাঃ) বললেন: তোমরা কেন হাসছ? তারা বললেন: তার পায়ের হালকা পেণ্ডলী দেখে। নাবী (সাঃ) বললেন: সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তার পা দু’টি মিযানের পাল্লায় ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশি ভারী হবে। (মুসনাদ আহমাদ হা: ৩৯৯১, ইবনু শায়বাহ ১২/১১৩, তাবরানী কাবীর হা: ৮৪৫২, সহীহ)



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(أُولٰ۬ئِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاٰيٰتِ رَبِّهِمْ وَلِقَا۬ئِه۪ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا)‏



‘তারাই অস্বীকার করে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হবে; সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থা রাখব না।’ (সূরা কাহফ ১৮:১০৫)



২. আমল ওজন করা হবে, এক পাল্লায় সৎ আমল, অন্য পাল্লায় খারাপ আমল। ইমাম বুখারী সহীহ বুখারীতে সর্বশেষ অধ্যায় বেঁধেছেন,



بَابُ قَوْلِ اللّٰهِ تَعَالَي: (وَنَضَعُ المَوَازِيْنَ القِسْطَ لِيَوْمِ القِيَامَةِ) [الأنبياء: ৪৭] ، وَأَنَّ أَعْمَالَ بَنِيْ اٰدَمَ وَقَوْلَهُمْ يُوْزَنُ



‘অধ্যায় আল্লাহ তা‘আলার বাণী “এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব ন্যায়বিচারের মানদণ্ড।” আদম সন্তানের কর্ম ও কথা ওজন করা হবে।’



বানী আদমের আমল ও কথা ওজন করা হবে। প্রমাণস্বরূপ হাদীস এসেছে: নাবী (সাঃ) বলেন: দু’টি কথা যা দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার কাছে খুবই প্রিয়, উচ্চারণে হালকা ও মিযানের পাল্লায় ভারী তা হল:



سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ



(সহীহ বুখারী হা: ৭৫৬৩)

৩. আমলনামা ওজন করা হবে, যে আমলনামায় আমলসমূহ লেখা হয়েছে। (আকীদাহ তাহাবীয়াহ হা: ৫৪১)

যাদের পুণ্যের আমলনামা ভারী হবে তারা সফলকাম হবে আর যাদের পাপের আমলনামা ভারী হবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন হাদীসে বিতাকা। যেখানে বলা হয়েছে- নিরানব্বইটি পাপের খাতা এক পাল্লায় থাকবে আর শাহাদাতের একটি কার্ড অন্য পাল্লায় থাকবে। তখন শাহাদাতের কার্ডটি বেশি ভারী হবে। (তিরমিযী হা: ২৬৩৯, ইবনু মাযাহ হা: ৪৩০০, সহীহ)



সুতরাং বেশি বেশি নেক আমল করে নেকীর পাল্লা ভারী করার জন্য প্রতিটি মু’মিনের চেষ্টা করা উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কিয়ামত দিবসে মিযান বা পাল্লায় মানুষের কৃতকর্ম ওজন করা হবে- এর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।

২. আমলকারী, আমল ও আমলনামা তিনটি জিনিসকেই ওজন করা হবে।

৪. আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করবেন না বরং সকলেই স্বীয় কর্মের যথাযথ প্রতিদান লাভ করবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের উপর নিজের অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করে বলেনঃ আমি তোমাদেরকে এতো ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি দান করেছি যে, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে শাসন কায়েম করেছো এবং দুনিয়ায় নিজেদের মূল শক্ত করে নিয়েছো । সেখানে তোমরা নদী-নালা প্রবাহিত করেছে, ঘর ও চাকচিক্যময় অট্টালিকা বনিয়েছে এবং নিজেদের জন্যে সমুদয় উপকারী জিনিস উৎপাদন করেছে । আমি আমার বান্দাদের জন্যে মেঘমালাকে কাজে লাগিয়ে রেখেছি, উদ্দেশ্য হচ্ছে তার থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে তাদের জন্যে ফসল উৎপন্ন করা। যমীনে আমি তাদের জীবিকা লাভের বিভিন্ন মাধ্যম রেখেছি। সেখানে তারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে এবং নিজেদের জন্যে নানা প্রকারের সুখের সামগ্রী তৈরী করছে। তথাপি তারা এসব নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করছে না। যেমন তিনি এক জায়গায় বলেনঃ “ যদি তোমরা আমার নিয়ামতরাজি গণনা করার ইচ্ছা কর তবে সেগুলো গণনা করতে পারবে না। মানুষ বড়ই অত্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ।” (আরবী) শব্দটিকে সবাই (আরবী)-এর সাথে পড়ে থাকেন অর্থাৎ (আরবী) এর সাথে পড়েন না। কিন্তু আবদুর রহমান ইবনে হরমু একে (আরবী) দিয়ে পড়েন। অধিকাংশ লোক যেভাবে পড়েন সেটাই বিশুদ্ধতম (আরবী) অর্থাৎ দিয়ে না পড়া। কেননা, (আরবী) শব্দটি (আরবী) এর বহুবচন। এটা হচ্ছে (আরবী) এবং এটা (আরবী) হবে। এই (আরবী)-এর মূল হচ্ছে মায়ূইশাতুন অর্থাৎ (আরবী)- তে (আরবী) দিয়ে। (আরবী)- তে (আরবী) ভারী হওয়ায় (আরবী) টি (আরবী)-এ দেয়া হয়েছে এবং এভাবে মায়ূইশাতুন শব্দটি মায়ীশাতুন হয়েছে। তারপর এর একবচনকে যখন বহুবচন বানানো হলো তখন (আরবী)-এর (আরবী) টি আবার তাতে ফিরে আসলো। কেননা, কাঠিন্য আর অবশিষ্ট থাকলো না। বলা হয়েছে যে, (আরবী)-এর ওযন হচ্ছে (আরবী) কেননা এই শব্দে (আরবী) টি মূলে রয়েছে। এটা (আরবী) এবং (আরবী)-এর মত নয়। এগুলো হচ্ছে যথাক্রমে (আরবী) এবং (আরবী)-এর বহুবচন। কেননা, (আরবী) অক্ষরটি হচ্ছে এখানে অতিরিক্ত। সুতরাং এগুলোর বহুবচন (আরবী)-এর ওযনে হবে। আর এখানে (আরবী) অক্ষরটিও আসবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।