সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 9)
হরকত ছাড়া:
ومن خفت موازينه فأولئك الذين خسروا أنفسهم بما كانوا بآياتنا يظلمون ﴿٩﴾
হরকত সহ:
وَ مَنْ خَفَّتْ مَوَازِیْنُهٗ فَاُولٰٓئِکَ الَّذِیْنَ خَسِرُوْۤا اَنْفُسَهُمْ بِمَا کَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یَظْلِمُوْنَ ﴿۹﴾
উচ্চারণ: ওয়া মান খাফফাত মাওআ-যীনুহূফাউলাইকাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম বিমা-কা-নূ বিআ-য়া-তিনা-ইয়াজলিমূন।
আল বায়ান: আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই হবে সেই সব লোক, যারা নিজদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি (অস্বীকার করার মাধ্যমে) যুলম করত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই সে সব লোক, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে(১), যেহেতু তারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি যুলুম করত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যাদের পাল্লা হালকা হবে তারা হল যারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, কারণ তারা আমার নিদর্শনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছিল।
আহসানুল বায়ান: (৯) আর যাদের ওজন হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করত। [1]
মুজিবুর রহমান: আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা হবে সেই সব লোক যারা নিজেদের ধ্বংস ও ক্ষতি নিজেরাই করেছে। কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহকে (আয়াত) প্রত্যাখ্যান করত।
ফযলুর রহমান: আর যাদের (ন্যায়ের) পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; কারণ (অবিশ্বাস করে) তারা আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি অবিচার করত।
মুহিউদ্দিন খান: এবং যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারাই এমন হবে, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে। কেননা, তারা আমার আয়াত সমূহ অস্বীকার করতো।
জহুরুল হক: আর যার পাল্লা হাল্কা হবে এরাই তবে তারা যারা তাদের আত্মার ক্ষতি সাধন করেছে, কেননা তারা আমাদের নির্দেশাবলীর প্রতি অন্যায় করেছিল।
Sahih International: And those whose scales are light - they are the ones who will lose themselves for what injustice they were doing toward Our verses.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯. আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারাই সে সব লোক, যারা নিজেদের ক্ষতি করেছে(১), যেহেতু তারা আমাদের আয়াতসমূহের প্রতি যুলুম করত।
তাফসীর:
(১) এখানে ক্ষতি বলতে কি তা বলা হয়নি। অন্য আয়াতে সেটা স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আর যার পাল্লাসমূহ হালকা হবে, তার স্থান হবে ‘হা-ওয়িয়াহ’, আর আপনাকে কিসে জানাবে সেটা কী? অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন।” [সূরা আল-কারি'আহ: ৮–১১] আরও বলেন, “আর যাদের পাল্লা হালকা হবে তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে; তারা জাহান্নামে স্থায়ী হবে। আগুন তাদের মুখমণ্ডল দগ্ধ করবে এবং তারা সেখানে থাকবে বীভৎস চেহারায়। [সূরা আল-মুমিনুন: ১০৩–১০৪]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯) আর যাদের ওজন হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, যেহেতু তারা আমার নিদর্শনাবলীকে প্রত্যাখ্যান করত। [1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াতসমূহে আমলসমূহ ওজন করার বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। আর এটা হবে কিয়ামতের দিন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে এবং বহু হাদীসেও এ কথা আলোচিত হয়েছে। যার অর্থ হল, ওজন করার যন্ত্র (দাঁড়িপাল্লা) দ্বারা আমলসমূহ ওজন করা হবে। সুতরাং যার নেকীর পাল্লা ভারী হবে, সে সফলকাম হবে। আর যার পাপের পাল্লা ভারী হবে, সে হবে অসফল। কিন্তু আমলসমূহ তো বিমূর্ত অশরীরী বস্তু যার বাহ্যিক কোন আকার ও ওজন নেই, অতএব তা কিভাবে ওজন করা হবে? এ ব্যাপারে একটি মত হল, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন সেগুলোকে বাহ্যিক রূপ দান করবেন, অতঃপর সেগুলোর ওজন হবে। দ্বিতীয় মত হল, যে দপ্তর ও খাতাসমূহে আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়, সেগুলোকে ওজন করা হবে। তৃতীয় মত হল, স্বয়ং আমলকারীকে ওজন করা হবে। এই তিনটি মত পোষণকারীদের কাছে স্ব স্ব মতের সমর্থনে অনেক সহীহ হাদীস ও আষার (সাহাবীদের উক্তিসমূহ) বিদ্যমান রয়েছে। এই জন্যই ইমাম ইবনে কাসীর বলেন, তিনটি মতই সঠিক হতে পারে। হতে পারে কখনো আমল, কখনো আমলনামা এবং কখনো আমলকারীকে ওজন করা হবে। (দলীলের জন্য দ্রষ্টব্যঃ তাফসীর ইবনে কাসীর) যাই হোক, দাঁড়িপাল্লা ও আমল ওজন করার ব্যাপারটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এটা অস্বীকার অথবা তার অপব্যাখ্যা করা ভ্রষ্টতা। আর বর্তমানে তো এটাকে অস্বীকার করার মোটেই কোন অবকাশ নেই। কেননা, এখন তো ওজন হয় না, এমন জিনিসও ওজন করা হচ্ছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮-১০ নং আয়াতের তাফসীরঃ
ঈমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম একটি হল আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন। আখিরাতে যা কিছু হবে তার মধ্যে একটি হল মিযান তথা দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে যাতে মানুষের আমলসমূহ ওজন করা হবে। তার প্রমাণ অত্র আয়াত। কিয়ামতের দিনে সঠিকভাবে আমলসমূহ ওজন করা হবে। কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَنَضَعُ الْمَوَازِيْنَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيٰمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ط وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِهَا ط وَكَفٰي بِنَا حٰسِبِيْنَ)
“এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব ন্যায় বিচারের মানদণ্ড। সুতরাং কারও প্রতি কোন অবিচার করা হবে না এবং কর্ম যদি সরিষার দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও সেটা আমি উপস্থিত করব; হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৪৭)
হাদীসেও মিযান বা দাঁড়িপাল্লার বর্ণনা এসেছে। সুতরাং এর প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। কিয়ামতের দিন যে দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করা হবে তা প্রকৃত দাঁড়িপাল্লা। তার দু’টি পাল্লা থাকবে, যেমন হাদীসে এসেছে: সাত আকাশ ও তাতে আমি ছাড়া যা কিছু আছে এবং সাত জমিনকে যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর অন্য পাল্লায় যদি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” রাখা হয় তাহলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর পাল্লা ভারী হবে। (ইবনু হিব্বান হা: ২৩২৪, মুসতাদরাক হাকেম ১/৫২৮, সহীহ)
এটাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের আকীদাহ-বিশ্বাস। আর যারা দাঁড়িপাল্লাকে রূপক অর্থে ব্যবহার করে ন্যায়বিচারকে বুঝে থাকেন তাদের বিশ্বাস সঠিক নয়। (আকীদাহ তাহাবীয়াহ পৃ: ৫৪১)
দাঁড়িপাল্লায় তিনটি জিনিস ওজন করা হবে:
১. আমলকারী মানুষকে ওজন করা হবে- যেমন হাদীসে এসেছে: যখন সাহাবীরা ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর পায়ের হালকা পেণ্ডলী দেখে হাসতে ছিল, তখন নাবী (সাঃ) বললেন: তোমরা কেন হাসছ? তারা বললেন: তার পায়ের হালকা পেণ্ডলী দেখে। নাবী (সাঃ) বললেন: সে সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ, তার পা দু’টি মিযানের পাল্লায় ওহুদ পাহাড়ের চেয়ে বেশি ভারী হবে। (মুসনাদ আহমাদ হা: ৩৯৯১, ইবনু শায়বাহ ১২/১১৩, তাবরানী কাবীর হা: ৮৪৫২, সহীহ)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أُولٰ۬ئِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا بِاٰيٰتِ رَبِّهِمْ وَلِقَا۬ئِه۪ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيْمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا)
‘তারাই অস্বীকার করে তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী ও তাঁর সাথে তাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হবে; সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোন ব্যবস্থা রাখব না।’ (সূরা কাহফ ১৮:১০৫)
২. আমল ওজন করা হবে, এক পাল্লায় সৎ আমল, অন্য পাল্লায় খারাপ আমল। ইমাম বুখারী সহীহ বুখারীতে সর্বশেষ অধ্যায় বেঁধেছেন,
بَابُ قَوْلِ اللّٰهِ تَعَالَي: (وَنَضَعُ المَوَازِيْنَ القِسْطَ لِيَوْمِ القِيَامَةِ) [الأنبياء: ৪৭] ، وَأَنَّ أَعْمَالَ بَنِيْ اٰدَمَ وَقَوْلَهُمْ يُوْزَنُ
‘অধ্যায় আল্লাহ তা‘আলার বাণী “এবং কিয়ামত দিবসে আমি স্থাপন করব ন্যায়বিচারের মানদণ্ড।” আদম সন্তানের কর্ম ও কথা ওজন করা হবে।’
বানী আদমের আমল ও কথা ওজন করা হবে। প্রমাণস্বরূপ হাদীস এসেছে: নাবী (সাঃ) বলেন: দু’টি কথা যা দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার কাছে খুবই প্রিয়, উচ্চারণে হালকা ও মিযানের পাল্লায় ভারী তা হল:
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ اللّٰهِ الْعَظِيْمِ
(সহীহ বুখারী হা: ৭৫৬৩)
৩. আমলনামা ওজন করা হবে, যে আমলনামায় আমলসমূহ লেখা হয়েছে। (আকীদাহ তাহাবীয়াহ হা: ৫৪১)
যাদের পুণ্যের আমলনামা ভারী হবে তারা সফলকাম হবে আর যাদের পাপের আমলনামা ভারী হবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যেমন হাদীসে বিতাকা। যেখানে বলা হয়েছে- নিরানব্বইটি পাপের খাতা এক পাল্লায় থাকবে আর শাহাদাতের একটি কার্ড অন্য পাল্লায় থাকবে। তখন শাহাদাতের কার্ডটি বেশি ভারী হবে। (তিরমিযী হা: ২৬৩৯, ইবনু মাযাহ হা: ৪৩০০, সহীহ)
সুতরাং বেশি বেশি নেক আমল করে নেকীর পাল্লা ভারী করার জন্য প্রতিটি মু’মিনের চেষ্টা করা উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামত দিবসে মিযান বা পাল্লায় মানুষের কৃতকর্ম ওজন করা হবে- এর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।
২. আমলকারী, আমল ও আমলনামা তিনটি জিনিসকেই ওজন করা হবে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করবেন না বরং সকলেই স্বীয় কর্মের যথাযথ প্রতিদান লাভ করবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮-৯ নং আয়াতের তাফসীর:
ইরশাদ হচ্ছে যে, কিয়ামতের দিন আমলসমূহ ওজন করা হবে এটা সত্য কথা, যেন কারো উপর যুলুম না হতে পারে। যেমন এক জায়গায় বলেনঃ “কিয়ামতের দিন আমি সত্য ও ন্যায়ের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবো যাতে কারো উপর বিন্দুমাত্রও যুলুম না হতে পারে। সরিষার দানা পরিমাণও যদি কোন আমল থেকে থাকে সেটাও ছুটে যাবে না। গণনার জন্যে আমিই যথেষ্ট।” অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আল্লাহ অণু পরিমাণও কারো উপর অত্যাচার করবেন না। যদি একটি পুণ্য হয় তবে ওকে দ্বিগুন ত্রিগুণ করে দেয়া হবে। তাঁর এই বিরাট প্রতিদান তাঁর পক্ষ থেকে পুরস্কার স্বরূপ।” আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ “যার (পুণ্যের) পাল্লা ভারী হবে সে তো তার বাসনানুরূপ সুখে অবস্থান করবে। আর যার (পুণ্যের) পাল্লা হাল্কা হবে, তার বাসস্থান হবে হাবিয়া। তোমার কি জানা আছে, ওটা কি? ওটা হচ্ছে জ্বলন্ত অগ্নি।” আর এক স্থানে তিনি বলেনঃ “যখন শিঙ্গায় ফু দেয়া হবে তখন আত্মীয়তার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। কেউ কাউকেও কিছুই জিজ্ঞেস করবে না। যার (পুণ্যের) ওজন ভারী, হবে সে তো হবে কৃতকার্য ও সফলকাম, আর যর (পুণ্যের) ওজন হালকা হবে সে বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত ও বিফল মনোরথ হবে। আর তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম।” দাড়িপাল্লায় যা ওজন করা হবে তা হচ্ছে কারো কারো মতে স্বয়ং আমল। যদিও ওর কোন আকার নেই অর্থাৎ যদিও ওটা কোন দৃশ্যমান অস্তিত্ব বিশিষ্ট পদার্থ নয়, তবুও সেই দিন আল্লাহ তা'আলা ওকে পদার্থের আকার দান করবেন। এই বিষয়েরই হাদীস হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সূরায়ে বাকারা’ এবং সূরায়ে আলে-ইমরান’ কিয়ামতের দিন দু’টি মেঘখণ্ডের আকারে সামনে আসবে। অথবা দু’টি সামিয়ানার আকারে কিংবা আকাশে ছড়িয়ে পড়া পাখীদের আঁকের আকারে আসবে। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, কুরআন পাঠকের কাছে কুরআন মাজীদ একজন নবযুবকের আকারে হজির হবে। কুরআনের পাঠক তাকে জিজ্ঞেস করবেঃ ‘তুমি কে? সে উত্তরে বলবেঃ “আমি কুরআন। আমি তোমাকে রাত্রিকালে জাগিয়ে রাখতাম এবং সারাদিন রোযার হুকুম পালনার্থে পিপাসার্ত রাখতাম।” কবরের প্রশ্নের ঘটনায় রয়েছে যে, কবরে মুমিনের কাছে একজন সুগন্ধময় সুন্দর যুবক আগমন করবে। কবরবাসী তাকে জিজ্ঞেস করবেঃ ‘তুমি কে? সে বলবেঃ “আমি তোমার সৎ আমল।”
হাদীসে বেতাকার মধ্যে রয়েছে যে, একজন লোককে একটি কাগজের টুকরা দেয়া হবে এবং ওটা তারাযুর এক পাল্লায় রাখা হবে। আর অপর পাল্লায় রাখা হবে কাগজের নিরানব্বইটি দফতর। এক একটি দফতর এতো বড় হবে যে, যতদূর দৃষ্টি যায় ততদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকবে। ঐ কাগজের টুকরায় (আরবী) ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ লিখা থাকবে। লোকটি বলবেঃ “কোথায় এই কাগজের টুকরাটি এবং কোথায় ঐ বড় বড় দফতরগুলো।” তখন আল্লাহ পাক তাকে বলবেনঃ “আজ কিন্তু তোমার উপর অত্যাচার করা হবে না।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন যে, তার পাপরাশির বড় বড় দফতরের পাল্লা হালকা হয়ে যাবে এবং ঐ কাগজখণ্ডের পাল্লা ভারী হয়ে যাবে।
আবার এ কথাও বলা হয়েছে যে, আমল বা আমলনামা ওজন করা হবে না, বরং আমলকারীকে ওজন করা হবে। যেমন হাদীসে রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন একজন মোটা লোকটে আনয়ন করা হবে, কিন্তু সে আল্লাহর কাছে পাখীর পালকের সমানও ওজনের হবে না। অতঃপর তিনি (আরবী) -এই আয়াতটি পাঠ করেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে বলেনঃ “তোমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর সরু সরু পা দেখে কেন বিস্ময় বোধ করছো? আল্লাহর শপথ! এটা দাঁড়িপাল্লায় ওজন করলে এর ওজন উহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশী হবে।” এই তিনটি বর্ণনাকে এভাবে জমা করা যেতে পারে যে, কখনো ওজন করা হবে আমল, কখনো আমলনামা এবং কখনো আমলকারীকে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।