সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 25)
হরকত ছাড়া:
ومنهم من يستمع إليك وجعلنا على قلوبهم أكنة أن يفقهوه وفي آذانهم وقرا وإن يروا كل آية لا يؤمنوا بها حتى إذا جاءوك يجادلونك يقول الذين كفروا إن هذا إلا أساطير الأولين ﴿٢٥﴾
হরকত সহ:
وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّسْتَمِعُ اِلَیْکَ ۚ وَ جَعَلْنَا عَلٰی قُلُوْبِهِمْ اَکِنَّۃً اَنْ یَّفْقَهُوْهُ وَ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرًا ؕ وَ اِنْ یَّرَوْا کُلَّ اٰیَۃٍ لَّا یُؤْمِنُوْا بِهَا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْکَ یُجَادِلُوْنَکَ یَقُوْلُ الَّذِیْنَ کَفَرُوْۤا اِنْ هٰذَاۤ اِلَّاۤ اَسَاطِیْرُ الْاَوَّلِیْنَ ﴿۲۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়াছতামি‘উ ইলাইকা ওয়া জা‘আলনা-‘আলা-কুলূবিহিম আকিন্নাতান আইঁ ইয়াফকাহূহুওয়া ফীআ-যা-নিহিম ওয়াকরাওঁ ওয়া ইয়ঁইয়ারাও কুল্লা আয়াতিল লা-ইউ’মিনূবিহা- হাত্তাইযা-জাঊকা ইউজা-দিলূনাকা ইয়াকূলুল্লাযীনা কাফারুইন হা-যাইল্লাআছা-তীরুল আওওয়ালীন।
আল বায়ান: আর তাদের কেউ তোমার প্রতি কান পেতে শোনে, কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর রেখে দিয়েছি আবরণ যেন তারা অনুধাবন না করে, আর তাদের কানে রেখেছি ছিপি। আর যদি তারা প্রতিটি আয়াতও দেখে, তারা তার প্রতি ঈমান আনবে না; এমনকি যখন তারা তোমার কাছে এসে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়, যারা কুফরী করেছে তারা বলে, ‘এটা পূর্ববর্তীদের কল্পকাহিনী ছাড়া কিছুই নয়।’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. আর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আপনার প্রতি কান পেতে শুনে, কিন্তু আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ করে দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে; আর আমরা তাদের কানে বধিরতা তৈরী করেছি।(১) আর যদি সমস্ত আয়াতও তারা প্রত্যক্ষ করে তবুও তারা তাতে ঈমান আনবে না। এমনকি তারা যখন আপনার কাছে উপস্থিত হয়, তখন তারা আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, যারা কুফরী করেছে তারা বলে, এটাতো আগেকার দিনের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের মধ্যে কতক লোক আছে যারা তোমার দিকে কান পাতে। তাদের অন্তরের উপর আমি পর্দা ঢেলে দিয়েছি যাতে তারা উপলব্ধি করতে না পারে, তাদের কানে আছে বধিরতা, সমস্ত নিদর্শন দেখলেও তারা তাতে ঈমান আনবে না, এমনকি যখন তারা তোমার কাছে আসে তোমার সাথে বিতর্ক করে। কাফিরগণ বলে এটা তো পূর্বেকার লোকেদের গল্প-কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়।
আহসানুল বায়ান: (২৫) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক তোমার দিকে কান পেতে রাখে,[1] কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদেরকে বধির করেছি।[2] সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা তাতে বিশ্বাস করবে না। এমন কি তারা যখন তোমার নিকট উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন অবিশ্বাসীগণ বলে, ‘এ তো সে কালের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।’[3]
মুজিবুর রহমান: তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা মনোযোগ সহকারে কান লাগিয়ে তোমার কথা শুনে থাকে, (অথচ গ্রহণ করেনা) তোমার কথা যাতে তারা ভাল রূপে বুঝতে না পারে সেজন্য আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কর্ণে কঠিন ভার (বধিরতা) অর্পণ করেছি। তারা যদি সমস্ত নিদর্শনও অবলোকন করে তবুও তারা ঈমান আনবেনা, এমনকি যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তোমার সাথে অর্থহীন বির্তক জুড়ে দেয়, আর তাদের কাফির লোকেরা (সব কথা শোনার পর) বলেঃ এটা প্রাচীন কালের লোকদের কিস্সা কাহিনী ব্যতীত আর কিছুই নয়।
ফযলুর রহমান: তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা তোমার কথা কান পেতে শোনে, তবে আমি তাদের অন্তরে আবরণ দিয়ে রেখেছি, যে জন্য তারা তা বুঝতে পারে না, আর তাদের কানে দিয়েছি বধিরতা। যদি তারা প্রতিটি নিদর্শন দেখে তবুও তারা তা বিশ্বাস করবে না। এমনকি তারা যখন বিতর্ক করার জন্য তোমার কাছে আসে তখন এই কাফেররা বলে, “এ তো দেখছি আগের দিনের মানুষের কেসসা-কাহিনি ছাড়া আর কিছু নয়।”
মুহিউদ্দিন খান: তাদের কেউ কেউ আপনার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন আপনার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈ তো নয়।
জহুরুল হক: আর তাদের মধ্যে কেউ-কেউ তোমার দিকে কান পাতে, আর তাদের অন্তঃকরণের উপরে আমরা দিয়ে রেখেছি ঢাকনা পাছে তারা তা উপলব্ধি করতে পারে, আর তাদের কানে গুরুভার। আর যদিও তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে তবু তারা তোমার সঙ্গে তর্কবিতর্ক করে, যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে -- "এ তো আগের দিনের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।"
Sahih International: And among them are those who listen to you, but We have placed over their hearts coverings, lest they understand it, and in their ears deafness. And if they should see every sign, they will not believe in it. Even when they come to you arguing with you, those who disbelieve say, "This is not but legends of the former peoples."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৫. আর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক আপনার প্রতি কান পেতে শুনে, কিন্তু আমরা তাদের অন্তরের উপর আবরণ করে দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে; আর আমরা তাদের কানে বধিরতা তৈরী করেছি।(১) আর যদি সমস্ত আয়াতও তারা প্রত্যক্ষ করে তবুও তারা তাতে ঈমান আনবে না। এমনকি তারা যখন আপনার কাছে উপস্থিত হয়, তখন তারা আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়, যারা কুফরী করেছে তারা বলে, এটাতো আগেকার দিনের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।
তাফসীর:
(১) মুজাহিদ বলেন, এখানে কুরাইশদের কথা বলা হচ্ছে, তারাই কান পেতে শুনত। [আত-তাফসীরুস সহীহ] কাতাদাহ বলেন, মুশরিকরা তাদের কান দিয়ে শুনত কিন্তু সেটা তারা বুঝতো না। তারা জন্তু-জানোয়ারদের মতো, যারা কেবল হাকডাকই শুনতে পায়। তাদেরকে কি বলা হচ্ছে সেটা জানে না। [তাফসীর আবদির রাযযাক]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৫) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক তোমার দিকে কান পেতে রাখে,[1] কিন্তু আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা তা উপলব্ধি করতে না পারে এবং তাদেরকে বধির করেছি।[2] সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করলেও তারা তাতে বিশ্বাস করবে না। এমন কি তারা যখন তোমার নিকট উপস্থিত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তখন অবিশ্বাসীগণ বলে, ‘এ তো সে কালের উপকথা ব্যতীত আর কিছুই নয়।’[3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, এই মুশরিকরা তোমার কাছে এসে কুরআন তো শোনে, কিন্তু হিদায়াত লাভের উদ্দেশ্য না থাকার কারণে তা তাদের জন্য ফলপ্রসূ হয় না।
[2] এ ছাড়াও কুফরীর ফলস্বরূপও তাদের অন্তরে আমি আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কান বোঝাল করে দিয়েছি। ফলে তাদের অন্তর সত্য কথা বুঝতে অক্ষম এবং তাদের কান সত্য শুনতে অপারগ।
[3] এখন ওরা ভ্রষ্টতার এমন ফাঁদে ফেঁসে গেছে যে, বৃহৎ থেকে বৃহত্তর মু’জিযাও যদি তারা দেখে নেয়, তবুও ঈমান আনার তাওফীক লাভ থেকে বঞ্চিতই থাকবে এবং তারা বিরুদ্ধাচরণ ও অমান্য করাতে এমন সীমা ছাড়িয়ে গেছে যে, কুরআন কারীমকে পূর্ববর্তীদের কেচ্ছা-কাহিনী বৈ কিছুই ভাবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২২-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা মুশরিক অবস্থায় মারা গেছে কিয়ামতের দিন তাদের কী করূণ অবস্থা হবে সে অবস্থার কথা এ আয়াতগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।
সে দিন মুশরিকদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করবেন: আমার সাথে যাদেরকে শরীক মনে করে ডাকতে, যাতে আমার কাছে সুপারিশ করতে পারে, যাদের কাছে সন্তান চাইতে, বিপদে আপদে তাদের পায়ে সিজদাহ করতে তারা আজ কোথায়?
যখন সেসব মুশরিকরা এ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তখন আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে: কখনো আমরা মুশরিক ছিলাম না।
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَيَوْمَ يُنَادِيْهِمْ فَيَقُوْلُ أَيْنَ شُرَكَآئِيَ الَّذِيْنَ كُنْتُمْ تَزْعُمُوْنَ)
“এবং সেদিন তিনি তাদেরকে আহ্বান করে বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?’ (সূরা কাসাস ২৮:৬২)
আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: দেখ, কিভাবে তারা নিজেদের ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে। অথচ তারা যাদেরকে ডাকত তারা আজ উধাও। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(ثُمَّ قِيْلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تُشْرِكُوْنَ)
“পরে তাদেরকে বলা হবেঃ কোথায় তারা যাদেরকে তোমরা (আল্লাহর) শরীক করতে।”(সূরা মু’মিন ৪০:৭৩)
অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যকে ডাকে, অন্যের নামে মানত করে, অন্যকে সিজদাহ করে, অন্যের কাছে চায় ইত্যাদি শির্কী কর্মে লিপ্ত তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, মুশরিকরা তোমার কাছে এসে কান পেতে কুরআন শুনে কিন্তু হিদায়াতের উদ্দেশ্যে নয়, তাই আমি তাদের অন্তরে আবরণ ফেলে দিয়েছি। আর বধির করে দিয়েছি ফলে কুরআন শুনে তাদের কোন উপকার হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِيْ يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَا۬ٓءً وَّنِدَا۬ٓءً ط صُمّۭ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ)
“আর যারা কুফরী করেছে তাদের দৃষ্টান্ত ওদের ন্যায় যাদেরকে কেউ আহ্বান করলে শুধু চিৎকার ও শব্দ ব্যতীত আর কিছুই শুনে না। তারা বধির, মূক, অন্ধ। কাজেই তারা বুঝতে পারে না।”(সূরা বাক্বারাহ ২:১৭১)
(وَيَنْهَوْنَ عَنْهُ)
‘তারা অন্যকে তা শ্রবণে বিরত রাখে’অর্থাৎ সাধারণ মানুষদেরকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কুরআন থেকে বাধা দেয় এবং নিজেরাও তার অনুসরণ থেকে দূরে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তারা কেবল নিজেদেরকেই ধ্বংস করছে।
সুতরাং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না। সে দিন মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকতো তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতএব তাদেরকে বর্জন করে আল্লাহ তা‘আলার পথে ফিরে আসা উচিত।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আহলে কিতাবদেরকে কেবল পার্থিব লালসাই ইসলাম গ্রহণে বাধা দিয়েছে।
২. মুশরিকগণ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার প্রশ্নের জবাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে।
৩. ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা ও হেয় প্রতিপন্ন করা মুনাফিক ও অমুসলিমদের কাজ। আর তারাই বলে- এসব আগের দিনের কাহিনী বা এমন বিধি-বিধান যা বর্তমানে অকেজো।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২২-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন- আমি যখন কিয়ামতের দিন তাদেরকে একত্রিত করবো তখন তাদেরকে ঐসব প্রতিমা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবো আল্লাহকে ছেড়ে তারা যেগুলোর উপাসনা করতো। তিনি বলবেন, আল্লাহ তাআলার সাথে তোমরা যেসব প্রতিমাকে শরীক করতে সেগুলো আজ কোথায়? আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ, তাদের ওযর-আপত্তি ও দলীল শুধুমাত্র এতটুকুই হবে যে, তারা বলবে-আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর কাছে একটি লোক এসে বললো, হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! আপনি তো শুনেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন-(আরবী) অর্থাৎ, আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। কিন্তু এটা কিভাবে হবে? তখন তিনি বললেন, যখন মুশরিকরা দেখবে যে, নামাযী ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করছে না তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবে- এসো আমরা শিরক করাকে অস্বীকার করি।' একথা বলে তারা নিজেদের মুশরিক হওয়াকে অস্বীকার করে বসবে। তখন আল্লাহ পাক তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দিবেন। অতঃপর তাদের হাত পা তাদের মুশরিক হওয়ার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, ফলে তারা কোন কথাই আর গোপন করতে পারবে না। হে প্রশ্নকারী! সুতরাং এখন তো তোমার মনে কোন সন্দেহ রইলো না যে, কুরআন কারীমে এমন কোন কথা। অবশিষ্ট নেই যা খুলে খুলে বলার অপেক্ষা রাখে। কিন্তু তুমি বুঝতে পার না এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম নও। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াতটি মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এখানে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে যে, এই আয়াতটি তো মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল, আর মক্কায় আবার মুনাফিক ছিল কোথায়? মদীনায় ইসলাম সাধারণভাবে গৃহীত হওয়ার পরে তো তাদের দল সৃষ্টি হয়। মুনাফিকদের ব্যাপারে যে আয়াত অবতীর্ণ হয় তা হচ্ছে আয়াতে মুজাদালাহ। তা হচ্ছে-(আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করবেন (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন), সেই দিন তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে বর্ণনা করতে থাকবে।” (৫৮:১৮) অনুরূপভাবে আল্লাহ পাক এখানে ঐ লোকদের সম্পর্কে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ লক্ষ্য কর, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলছে! তখন যাদেরকে তারা মিথ্যা মা’দ মনোনীত করেছিল, তারা সবাই নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।
ইরশাদ হচ্ছে-তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা মনোযোগ সহকারে কান লাগিয়ে তোমার (মুহাম্মাদ সঃ) কথা শুনে থাকে, কিন্তু তাদের দুষ্কর্মের কারণে যাতে তারা তোমার কথা ভালরূপে বুঝতে না পারে সে জন্যে আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কানে বধিরতা রেখেছি, যাতে তারা শুনতে না পায়, তারা যদি সমস্ত আয়াত ও প্রমাণাদিও অবলোকন করে তথাপি তারা ঈমান আনবে না। তারা অহী শুনবার জন্যে এসে থাকে, কিন্তু এই শ্রবণে তাদের কোনই উপকার হয় না। যেমন আল্লাহ তা'আলা অপর এক জায়গায় বলেছেন, তাদের দৃষ্টান্ত সেই চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় যে তার রাখালের শব্দ ও ডাক শুনে বটে, কিন্তু অর্থ কিছুই বুঝে না। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন যে, তারা দলীল প্রমাণাদি অবলোকন করে থাকে বটে, কিন্তু তাদের না আছে কোন বিবেক বুদ্ধি এবং না তারা ন্যায়পরায়ণতার সাথে কাজ করে থাকে, সুতরাং তারা ঈমান আনবে কিরূপে? এরপর আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ যদি তাদের মধ্যে কল্যাণ লাভের সামর্থ্য থাকতো তবে আল্লাহ তাদেরকে শুনার তাওফীক দিতেন। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়ে যায় এবং বাতিল ও অযৌক্তিক কথা পেশ করতঃ সত্যকে লোপ করে দেয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে- হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যেসব কথা আপনি অহীর নাম দিয়ে পেশ করছেন ওগুলো তো পূর্ববর্তী লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা জনগণকে নবী (সঃ)-এর সাথে যোগাযোগ করতে বাধা প্রদান করে এবং তারা নিজেরাও দূরে সরে থাকে।
(আরবী) -এর তাফসীরে দু'টি উক্তি রয়েছে। একটি হচ্ছে যে, তারা জনগণকে সত্যের অনুসরণ, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতা স্বীকারকরণ এবং কুরআন কারীমের অনুসরণ হতে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এগুলো থেকে দুরে সরে থাকে। তারা যেন দু'টি খারাপ করে থাকে। তা হল এই যে, তারা না নিজেরা উপকৃত হয়, না অন্যদেরকে উপকার লাভ করতে দেয়। দ্বিতীয় উক্তি হল এই যে, (আরবী) -এর ভাবার্থ হল-জনগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করলে আবু তালিব তাদেরকে বাধা দিতেন। সেই সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। সাঈদ ইবনে আবূ হিলাল বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দশজন চাচা সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারা সবাই লোকদেরকে তাঁকে হত্যা করা থেকে বাধা প্রদান করতো বটে, কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় এই যে, তারা নিজেরা ঈমানের বরকত লাভ থেকে বঞ্চিত থাকতেন। সুতরাং তাঁরা ছিলেন বাহ্যতঃ তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু ভিতরে ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারী। এর পর ইরশাদ হচ্ছে যে, তারা নির্বুদ্ধিতা বশতঃ নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা এ কথাটা মোটেই বুঝছে না যে, তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ও ধ্বংস টেনে আনছে!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।