আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 26)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 26)



হরকত ছাড়া:

وهم ينهون عنه وينأون عنه وإن يهلكون إلا أنفسهم وما يشعرون ﴿٢٦﴾




হরকত সহ:

وَ هُمْ یَنْهَوْنَ عَنْهُ وَ یَنْـَٔوْنَ عَنْهُ ۚ وَ اِنْ یُّهْلِکُوْنَ اِلَّاۤ اَنْفُسَهُمْ وَ مَا یَشْعُرُوْنَ ﴿۲۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া হুম ইয়ানহাওনা ‘আনহু ওয়া ইয়ানআওনা ‘আনহু ওয়া ইয়ঁইউহলিকূনা ইল্লাআনফুছাহুম ওয়া মা-ইয়াশ‘উরুন।




আল বায়ান: আর তারা তার থেকে নিষেধ করে এবং তার থেকে দূরে থাকে। আর তারা ধ্বংস করে কেবল নিজদেরকে, অথচ তারা অনুভব করে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৬. আর তারা অন্যকে এগুলো শুনা থেকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এগুলো শুনা থেকে দুরে থাকে। আর তারা নিজেরাই শুধু নিজেদেরকে ধ্বংস করে, অথচ তারা উপলব্ধি করে না।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা তা (শোনা) থেকে অন্যদের বিরত করে, আর নিজেরাও তাত্থেকে দূরে সরে থাকে, তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস সাধন করে কিন্তু সে বোধ তাদের নেই।




আহসানুল বায়ান: (২৬) আর তারা অপরকে তা (কুরআন ও নবীর অনুসরণ) হতে বিরত রাখে এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে।[1] তারা নিজেরা শুধু নিজেদেরকেই ধ্বংস করে, অথচ তারা অনুভব করে না। [2]



মুজিবুর রহমান: তারা নিজেরাতো তা থেকে বিরত থাকে, অধিকন্ত লোকদেরকেও তারা তা থেকে বিরত রাখতে চায়; বস্তুতঃ তারা ধ্বংস করছে শুধুমাত্র নিজেদেরকেই অথচ তারা অনুভব করছেনা।



ফযলুর রহমান: তারা তাঁর (অনুসরণ) থেকে (অন্যদের) বিরত রাখে এবং (নিজেরা) তাঁর থেকে দূরে থাকে। (এভাবে) তারা নিজেদেরই ধ্বংস ডেকে আনে, কিন্তু তা উপলব্ধি করে না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা এ থেকে বাধা প্রদান করে এবং এ থেকে পলায়ন করে। তারা নিজেদেরকে ধ্বংস করেছে, কিন্তু বুঝছে না।



জহুরুল হক: আর তারা অন্যকে নিষেধ করে এ থেকে, আর এ থেকে তারা দূরে চলে যায়, আর তারা অবশ্যই ধ্বংস করে শুধু তাদের নিজেদেরই, কিন্ত তারা অনুভব করে না।



Sahih International: And they prevent [others] from him and are [themselves] remote from him. And they do not destroy except themselves, but they perceive [it] not.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৬. আর তারা অন্যকে এগুলো শুনা থেকে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এগুলো শুনা থেকে দুরে থাকে। আর তারা নিজেরাই শুধু নিজেদেরকে ধ্বংস করে, অথচ তারা উপলব্ধি করে না।(১)


তাফসীর:

(১) দাহহাক, কাতাদাহ, মুহাম্মদ ইবনে হানফিয়া রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমূখ মুফাসসিরগণের মতে এ আয়াত মক্কার কাফেরদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তারা কুরআন শুনতে ও অনুসরণ করতে লোকদেরকে বারণ করত এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে সরে থাকত। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, এ আয়াত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চাচা আবু তালেব সম্পর্কে নাযিল হয়েছে, তিনি তাকে কাফেরদের উৎপীড়ন থেকে রক্ষা করতেন, কিন্তু কুরআনে বিশ্বাস করতেন না। এমতাবস্থায় عنه শব্দের সর্বনামটির অর্থ কুরআনের পরিবর্তে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হবেন। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৩১৫]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৬) আর তারা অপরকে তা (কুরআন ও নবীর অনুসরণ) হতে বিরত রাখে এবং নিজেরাও তা থেকে দূরে থাকে।[1] তারা নিজেরা শুধু নিজেদেরকেই ধ্বংস করে, অথচ তারা অনুভব করে না। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সাধারণ লোকেদেরকেও নবী করীম (সাঃ) থেকে এবং কুরআন থেকে বাধা দেয়, যাতে তারা ঈমান না আনে এবং নিজেরাও দূরে দূরে থাকে।

[2] তবে লোকেদেরকে দূরে রেখে এবং নিজেদেরকেও দূরে সরিয়ে রেখে আমার ও আমার নবীর কি ক্ষতি হবে? এই ধরনের কর্ম দ্বারা তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করছে, অথচ তারা টেরও পাচ্ছে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২২-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:



যারা মুশরিক অবস্থায় মারা গেছে কিয়ামতের দিন তাদের কী করূণ অবস্থা হবে সে অবস্থার কথা এ আয়াতগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে।



সে দিন মুশরিকদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করবেন: আমার সাথে যাদেরকে শরীক মনে করে ডাকতে, যাতে আমার কাছে সুপারিশ করতে পারে, যাদের কাছে সন্তান চাইতে, বিপদে আপদে তাদের পায়ে সিজদাহ করতে তারা আজ কোথায়?



যখন সেসব মুশরিকরা এ প্রশ্নের সম্মুখীন হবে তখন আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলবে: কখনো আমরা মুশরিক ছিলাম না।



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَيَوْمَ يُنَادِيْهِمْ فَيَقُوْلُ أَيْنَ شُرَكَآئِيَ الَّذِيْنَ كُنْتُمْ تَزْعُمُوْنَ)‏



“এবং সেদিন তিনি তাদেরকে আহ্বান করে বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?’ (সূরা কাসাস ২৮:৬২)



আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলেন: দেখ, কিভাবে তারা নিজেদের ব্যাপারে মিথ্যা কথা বলে। অথচ তারা যাদেরকে ডাকত তারা আজ উধাও। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(ثُمَّ قِيْلَ لَهُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ تُشْرِكُوْنَ)‏



“পরে তাদেরকে বলা হবেঃ কোথায় তারা যাদেরকে তোমরা (আল্লাহর) শরীক করতে।”(সূরা মু’মিন ৪০:৭৩)



অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যকে ডাকে, অন্যের নামে মানত করে, অন্যকে সিজদাহ করে, অন্যের কাছে চায় ইত্যাদি শির্কী কর্মে লিপ্ত তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, মুশরিকরা তোমার কাছে এসে কান পেতে কুরআন শুনে কিন্তু হিদায়াতের উদ্দেশ্যে নয়, তাই আমি তাদের অন্তরে আবরণ ফেলে দিয়েছি। আর বধির করে দিয়েছি ফলে কুরআন শুনে তাদের কোন উপকার হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَثَلُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا كَمَثَلِ الَّذِيْ يَنْعِقُ بِمَا لَا يَسْمَعُ إِلَّا دُعَا۬ٓءً وَّنِدَا۬ٓءً ط صُمّۭ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَعْقِلُوْنَ)



“আর যারা কুফরী করেছে তাদের দৃষ্টান্ত ওদের ন্যায় যাদেরকে কেউ আহ্বান করলে শুধু চিৎকার ও শব্দ ব্যতীত আর কিছুই শুনে না। তারা বধির, মূক, অন্ধ। কাজেই তারা বুঝতে পারে না।”(সূরা বাক্বারাহ ২:১৭১)



(وَيَنْهَوْنَ عَنْهُ)



‘তারা অন্যকে তা শ্রবণে বিরত রাখে’অর্থাৎ সাধারণ মানুষদেরকে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও কুরআন থেকে বাধা দেয় এবং নিজেরাও তার অনুসরণ থেকে দূরে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তারা কেবল নিজেদেরকেই ধ্বংস করছে।



সুতরাং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না। সে দিন মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকতো তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। অতএব তাদেরকে বর্জন করে আল্লাহ তা‘আলার পথে ফিরে আসা উচিত।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আহলে কিতাবদেরকে কেবল পার্থিব লালসাই ইসলাম গ্রহণে বাধা দিয়েছে।

২. মুশরিকগণ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার প্রশ্নের জবাবে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাবে।

৩. ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে ঠাট্টা ও হেয় প্রতিপন্ন করা মুনাফিক ও অমুসলিমদের কাজ। আর তারাই বলে- এসব আগের দিনের কাহিনী বা এমন বিধি-বিধান যা বর্তমানে অকেজো।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২২-২৬ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন- আমি যখন কিয়ামতের দিন তাদেরকে একত্রিত করবো তখন তাদেরকে ঐসব প্রতিমা সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করবো আল্লাহকে ছেড়ে তারা যেগুলোর উপাসনা করতো। তিনি বলবেন, আল্লাহ তাআলার সাথে তোমরা যেসব প্রতিমাকে শরীক করতে সেগুলো আজ কোথায়? আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ, তাদের ওযর-আপত্তি ও দলীল শুধুমাত্র এতটুকুই হবে যে, তারা বলবে-আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর কাছে একটি লোক এসে বললো, হে ইবনে আব্বাস (রাঃ)! আপনি তো শুনেছেন যে, আল্লাহ তাআলা বলেছেন-(আরবী) অর্থাৎ, আল্লাহর কসম! আমরা মুশরিক ছিলাম না। কিন্তু এটা কিভাবে হবে? তখন তিনি বললেন, যখন মুশরিকরা দেখবে যে, নামাযী ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করছে না তখন তারা পরস্পর বলাবলি করবে- এসো আমরা শিরক করাকে অস্বীকার করি।' একথা বলে তারা নিজেদের মুশরিক হওয়াকে অস্বীকার করে বসবে। তখন আল্লাহ পাক তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দিবেন। অতঃপর তাদের হাত পা তাদের মুশরিক হওয়ার সাক্ষ্য দিতে থাকবে, ফলে তারা কোন কথাই আর গোপন করতে পারবে না। হে প্রশ্নকারী! সুতরাং এখন তো তোমার মনে কোন সন্দেহ রইলো না যে, কুরআন কারীমে এমন কোন কথা। অবশিষ্ট নেই যা খুলে খুলে বলার অপেক্ষা রাখে। কিন্তু তুমি বুঝতে পার না এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতেও সক্ষম নও। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এই আয়াতটি মুনাফিকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু এখানে সন্দেহের উদ্রেক হচ্ছে যে, এই আয়াতটি তো মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছিল, আর মক্কায় আবার মুনাফিক ছিল কোথায়? মদীনায় ইসলাম সাধারণভাবে গৃহীত হওয়ার পরে তো তাদের দল সৃষ্টি হয়। মুনাফিকদের ব্যাপারে যে আয়াত অবতীর্ণ হয় তা হচ্ছে আয়াতে মুজাদালাহ। তা হচ্ছে-(আরবী) অর্থাৎ “যেই দিন আল্লাহ তাদেরকে একত্রিত করবেন (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন), সেই দিন তারা আল্লাহর নামে কসম খেয়ে খেয়ে বর্ণনা করতে থাকবে।” (৫৮:১৮) অনুরূপভাবে আল্লাহ পাক এখানে ঐ লোকদের সম্পর্কে বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ লক্ষ্য কর, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলছে! তখন যাদেরকে তারা মিথ্যা মা’দ মনোনীত করেছিল, তারা সবাই নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে।

ইরশাদ হচ্ছে-তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা মনোযোগ সহকারে কান লাগিয়ে তোমার (মুহাম্মাদ সঃ) কথা শুনে থাকে, কিন্তু তাদের দুষ্কর্মের কারণে যাতে তারা তোমার কথা ভালরূপে বুঝতে না পারে সে জন্যে আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কানে বধিরতা রেখেছি, যাতে তারা শুনতে না পায়, তারা যদি সমস্ত আয়াত ও প্রমাণাদিও অবলোকন করে তথাপি তারা ঈমান আনবে না। তারা অহী শুনবার জন্যে এসে থাকে, কিন্তু এই শ্রবণে তাদের কোনই উপকার হয় না। যেমন আল্লাহ তা'আলা অপর এক জায়গায় বলেছেন, তাদের দৃষ্টান্ত সেই চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় যে তার রাখালের শব্দ ও ডাক শুনে বটে, কিন্তু অর্থ কিছুই বুঝে না। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন যে, তারা দলীল প্রমাণাদি অবলোকন করে থাকে বটে, কিন্তু তাদের না আছে কোন বিবেক বুদ্ধি এবং না তারা ন্যায়পরায়ণতার সাথে কাজ করে থাকে, সুতরাং তারা ঈমান আনবে কিরূপে? এরপর আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ যদি তাদের মধ্যে কল্যাণ লাভের সামর্থ্য থাকতো তবে আল্লাহ তাদেরকে শুনার তাওফীক দিতেন। আর যখন তারা তোমার কাছে আসে তখন তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়ে যায় এবং বাতিল ও অযৌক্তিক কথা পেশ করতঃ সত্যকে লোপ করে দেয়ার চেষ্টা করে। তারা বলে- হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যেসব কথা আপনি অহীর নাম দিয়ে পেশ করছেন ওগুলো তো পূর্ববর্তী লোকদের কাহিনী ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা জনগণকে নবী (সঃ)-এর সাথে যোগাযোগ করতে বাধা প্রদান করে এবং তারা নিজেরাও দূরে সরে থাকে।

(আরবী) -এর তাফসীরে দু'টি উক্তি রয়েছে। একটি হচ্ছে যে, তারা জনগণকে সত্যের অনুসরণ, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্যতা স্বীকারকরণ এবং কুরআন কারীমের অনুসরণ হতে বিরত রাখে এবং নিজেরাও এগুলো থেকে দুরে সরে থাকে। তারা যেন দু'টি খারাপ করে থাকে। তা হল এই যে, তারা না নিজেরা উপকৃত হয়, না অন্যদেরকে উপকার লাভ করতে দেয়। দ্বিতীয় উক্তি হল এই যে, (আরবী) -এর ভাবার্থ হল-জনগণ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করলে আবু তালিব তাদেরকে বাধা দিতেন। সেই সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। সাঈদ ইবনে আবূ হিলাল বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর দশজন চাচা সম্পর্কে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। তারা সবাই লোকদেরকে তাঁকে হত্যা করা থেকে বাধা প্রদান করতো বটে, কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় এই যে, তারা নিজেরা ঈমানের বরকত লাভ থেকে বঞ্চিত থাকতেন। সুতরাং তাঁরা ছিলেন বাহ্যতঃ তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল, কিন্তু ভিতরে ছিলেন তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারী। এর পর ইরশাদ হচ্ছে যে, তারা নির্বুদ্ধিতা বশতঃ নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা এ কথাটা মোটেই বুঝছে না যে, তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ও ধ্বংস টেনে আনছে!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।