আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 117)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 117)



হরকত ছাড়া:

إن ربك هو أعلم من يضل عن سبيله وهو أعلم بالمهتدين ﴿١١٧﴾




হরকত সহ:

اِنَّ رَبَّکَ هُوَ اَعْلَمُ مَنْ یَّضِلُّ عَنْ سَبِیْلِهٖ ۚ وَ هُوَ اَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِیْنَ ﴿۱۱۷﴾




উচ্চারণ: ইন্না রাব্বাকা হুওয়া আ‘লামুমাইঁ ইয়াদিল্লু‘আন ছাবীলিহী ওয়া হুওয়া আ‘লামু বিলমুহতাদীন।




আল বায়ান: নিশ্চয় তোমার রব অধিক অবগত তার সম্পর্কে, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয় এবং তিনি অধিক অবগত হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৭. নিশ্চয় আপনার রব, কে তার পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় সে সম্বন্ধে অধিক অবগত। আর সৎপথে যারা আছে, তাদের সম্বন্ধেও তিনি অধিক অবগত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার রব্ব খুব ভাল করেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে আর তিনি হিদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সর্বাধিক অবহিত।




আহসানুল বায়ান: (১১৭) তাঁর পথ ছেড়ে যে বিপথগামী হয় নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং সৎপথের পথিকগণ সম্বন্ধেও তিনি খুব জানেন।



মুজিবুর রহমান: কোন্ ব্যক্তি আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত হয়েছে তা তোমার রাব্ব নিশ্চিতভাবে অবগত আছেন, আর তিনি তাঁর পথের পথিকগণ সম্পর্কেও খুব ভালভাবে জ্ঞাত রয়েছেন।



ফযলুর রহমান: তোমার প্রভুই ভাল জানেন, কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথে যায়। সঠিক পথের অনুসারীদের সম্পর্কেও তিনি ভাল জানেন।



মুহিউদ্দিন খান: আপনার প্রতিপালক তাদের সম্পর্কে খুব জ্ঞাত রয়েছেন, যারা তাঁর পথ থেকে বিপথগামী হয় এবং তিনি তাদেরকেও খুব ভাল করে জানেন, যারা তাঁর পথে অনুগমন করে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু -- তিনি ভালো জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিপথে যায়, আর তিনি ভালো জানেন যারা সুপথে চালিত তাদের।



Sahih International: Indeed, your Lord is most knowing of who strays from His way, and He is most knowing of the [rightly] guided.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১৭. নিশ্চয় আপনার রব, কে তার পথ ছেড়ে বিপথগামী হয় সে সম্বন্ধে অধিক অবগত। আর সৎপথে যারা আছে, তাদের সম্বন্ধেও তিনি অধিক অবগত।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১৭) তাঁর পথ ছেড়ে যে বিপথগামী হয় নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং সৎপথের পথিকগণ সম্বন্ধেও তিনি খুব জানেন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৬-১২১ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসী সম্পর্কে বলেন যে, তাদের অধিকাংশই পথভ্রষ্ট। কারণ তারা ধারণার অনুসারী। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَقَدْ ضَلَّ قَبْلَهُمْ أَكْثَرُ الْأَوَّلِيْنَ) ‏



“আর তাদের পূর্বে পথভ্রষ্ট হয়েছিল পূর্ববর্তীদের অধিকাংশই।”(সূরা সাফফাত ৩৭:৭১)



অন্যত্র তিনি বলেন:



(وَمَآ أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِيْنَ)‏



“তুমি যতই আকাক্সক্ষা কর না কেন, অধিকাংশ লোকই বিশ্বাসী নয়।”(সূরা ইউসুফ ১২:১০৩)



তাই আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলছেন, তুমি যদি অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ কর তাহলে তারা তোমাকে তাদের মত পথভ্রষ্ট করে ফেলবে।



অতএব সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না। সত্যের পক্ষে একজন থাকলেও সত্যের পথই অবলম্বন করা উচিত। সুতরাং সত্যের মাপকাঠি হল কুরআন ও সহীহ হাদীস।



১১৮-১২১ নং আয়াতের শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু মানুষ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আগমন করল। অতঃপর বলল: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা যা হত্যা করি তা খাব আর আল্লাহ তা‘আলা যা হত্যা করেন তা খাব না? তখন



(فكلوا مما ذكر.......لمشركون)



নাযিল হয়। (তিরমিযী, হা: ৩০৬৯, সহীহ।)



ইবনু আব্বাস থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে: (শয়তানরা) বলে: আল্লাহ তা‘আলা যা জবাই করে দেন তা খাও না আর নিজেরা যা জবাই কর কেবল তা খাও? তখন



(وَإِنَّ الشَّيٰطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ إِلٰٓي أَوْلِيَآئِهِمْ)



নাযিল হয়। (নাসাঈ হা: ৪৪৩৭, সনদ সহীহ)



(فَكُلُوْا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)



‘তোমরা তাঁর নিদর্শনে বিশ্বাসী হলে যা আল্লাহর নাম নিয়ে (জবেহ করা) হয়েছে তা হতে খাও।’যেসব জন্তু আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে জবেহ করা হয় তা খাওয়া মুসলিমদের জন্য তিনি বৈধ করে দিয়েছেন। আর যা জবেহ করার সময় তাঁর নাম নেয়া হয়নি তা হারাম করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا تَأْكُلُوْا مِمَّا لَمْ يَذْكُرِ اسْمُ اللّٰهِ عَلَيْهِ)



‘যাতে আল্লাহর নাম নিয়ে (জবেহ করা) হয়নি তার কিছুই তোমরা খেও না।’



তাই কোন শিকার ধরে নিয়ে আসার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রাণী প্রেরণ করলে অবশ্যই ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পাঠাতে হবে। আর যদি এমন এলাকা থেকে কোন জবেহকৃত প্রাণী বা গোশত আসে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়েছে কি না তা জানা যায়নি, তা হলে ‘বিসমিল্লাহ’বলে খাওয়া বৈধ হবে। (সহীহ বুখারী হা: ৫৫০৭)



যা হারাম তা আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন। তবে কেউ নিরুপায় হয়ে হারাম খেতে বাধ্য হলে তাও তার জন্য জায়েয রয়েছে। এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল পাপের কাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّـيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ)



“বল:‎ নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক হারাম করেছেন প্রকাশ্য ও গোপন অশ্লীলতা।”(সূরা আ‘রাফ ৭:৩৩)



নাউয়াস বিন সামআন (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বলেন: গুনাহ হল তা-ই যা করলে তোমার মনে খটকা লাগে এবং তুমি এটা অপছন্দ কর যে, মানুষ তা জেনে ফেলবে। (সহীহ মুসলিম হা: ৬৬৮০, তিরমিযী হা: ২৩৮৯)



(وَإِنَّه۫ لَفِسْقٌ)



‘তা অবশ্যই পাপ’ অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে যে পশুকে আল্লাহ তা‘আলার নাম ছাড়া বা কোন দেব দেবীর নামে জবেহ করা হয়েছে তা খাওয়া ফাসেকী বা হারাম কাজ।



ইবনু আব্বাস (রাঃ) এই অর্থই করেছেন। তিনি বলেন: যে ভুলে যায় তাকে ফাসিক বলা হয় না।



ইমাম বুখারী (রহঃ)-ও এ মত পোষণ করেছেন। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন: মুসলিমদের জবেহ করা পশু উভয় অবস্থাতেই হালাল, আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে যবাই করুক আর ভুলবশতঃ নাম ছাড়াই জবাই করুক।



(وَإِنَّه۫ لَفِسْقٌ)



বলতে তিনি আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যের নামে জবেহ করাকে বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ অন্যের নামে জবেহ করলে খাওয়া হারাম হয়ে যাবে।



(وَإِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ)



“যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে” অর্থাৎ তাদের কথা শুনে মৃত জন্তু খাওয়া হালাল করে নাও, তাহলে তোমরাও মুশরিক হয়ে যাবে। সুতরাং আয়াত প্রমাণ করে- আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন তা হালাল করে নিলে মুশকিরক হয়ে যাবে।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি নয় বরং সত্যের মাপকাঠি হচ্ছে কুরআন ও সহীহ হাদীস।

২. আল্লাহ তা‘আলার ভাষায় অধিকাংশ মানুষ পথভ্রষ্ট।

৩. যা আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে জবেহ করা হবে কেবল তা-ই খাওয়া মুসলিমদের জন্য বৈধ।

৪. প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল প্রকার পাপ মুসলিমদেরক পক্ষে বর্জন করা আবশ্যক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৬-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ পাক বলেনঃ বানী আদমের অধিকাংশের অবস্থা বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) “তাদের পূর্ববর্তী লোকদের অধিকাংশই ভ্রান্তির পথ অবলম্বন করেছিল।” (৩৭:৭১) আর এক জায়গায় তিনি বলেন, (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী সঃ)! তুমি আকাক্ষা করলেও লোকদের অধিকাংশই মুমিন নয়।” (১২:১০৩) তারা ভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। মজার কথা এই যে, তাদের আমলের উপর তাদের নিজেদেরই বিশ্বাস নেই। তারা মিথ্যা ধারণার উপর বিভ্রান্ত হয়ে ফিরতে রয়েছে। তারা অনুমানে কথা বলছে এবং সন্দেহের মধ্যে পতিত হয়েছে।

(আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে আন্দাজ ও অনুমান করা। বৃক্ষ ও চারা গাছের অনুমান করাকে বলা হয় (আরবী) বা খেজুর গাছের অনুমান করণ। আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা ও অনুমান এই যে, তিনি স্বীয় পথ হতে বিভ্রান্ত পথিককে ভালভাবেই জানেন। এ জন্যেই তিনি তার পক্ষে বিভ্রান্ত হওয়াকে সহজ করে দেন। আর যারা সুপথ প্রাপ্ত, তিনি তাদের সম্পর্কেও পূর্ণ ওয়াকিফহাল। তিনি তাদের জন্যেও হিদায়াতকে সহজ করে দেন। যে জিনিস যার জন্যে সমীচীন তাই তিনি তার জন্যে সহজ করে থাকেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।