আল কুরআন


সূরা আল-কামার (আয়াত: 19)

সূরা আল-কামার (আয়াত: 19)



হরকত ছাড়া:

إنا أرسلنا عليهم ريحا صرصرا في يوم نحس مستمر ﴿١٩﴾




হরকত সহ:

اِنَّاۤ اَرْسَلْنَا عَلَیْهِمْ رِیْحًا صَرْصَرًا فِیْ یَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ ﴿ۙ۱۹﴾




উচ্চারণ: ইন্নাআরছালনা-‘আলাইহিম রীহান সারসারান ফী ইয়াওমি নাহছিম মুছতামির।




আল বায়ান: নিশ্চয় আমি তাদের ওপর পাঠিয়েছিলাম প্রচন্ড শীতল ঝড়ো হাওয়া, অব্যাহত এক অমঙ্গল দিনে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯. নিশ্চয় আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক প্রচণ্ড শীতল ঝড়োহাওয়া নিরবচ্ছিন্ন অমঙ্গল দিনে,




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু এক অবিরাম অশুভ দিনে,




আহসানুল বায়ান: (১৯) তাদের উপর আমি নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে ঝড়ো হাওয়া প্রেরণ করেছিলাম।[1]



মুজিবুর রহমান: তাদের উপর আমি প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্ঝাবায়ু নিরবিচ্ছিন্ন দুর্ভোগের দিনে।



ফযলুর রহমান: এক নিরবচ্ছিন্ন বিপদের দিনে আমি তাদের বিরুদ্ধে এক প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া পাঠিয়েছিলাম,



মুহিউদ্দিন খান: আমি তাদের উপর প্রেরণ করেছিলাম ঝঞ্জাবায়ু এক চিরাচরিত অশুভ দিনে।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ আমরা তাদের উপরে এক চরম দুর্ভাগ্যের দিনে পাঠিয়েছিলাম এক প্রচন্ড ঝড়-তোফান,



Sahih International: Indeed, We sent upon them a screaming wind on a day of continuous misfortune,



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৯. নিশ্চয় আমরা তাদের উপর পাঠিয়েছিলাম এক প্রচণ্ড শীতল ঝড়োহাওয়া নিরবচ্ছিন্ন অমঙ্গল দিনে,


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৯) তাদের উপর আমি নিরবচ্ছিন্ন দুর্ভাগ্যের দিনে ঝড়ো হাওয়া প্রেরণ করেছিলাম।[1]


তাফসীর:

[1] বলা হয় যে, এই দিনটি ছিল বুধবারের সন্ধ্যা। যখন এই প্রবল ও শীতল বায়ু শাঁ শাঁ করে বইতে আরম্ভ হল, তখন লাগাতার সাত রাত ও আট দিন ধরে চলতে থাকল। এই বাতাস ঘর-বাড়ি ও দুর্গের মধ্যে আশ্রয়গ্রহণকারী লোকদেরকেও সেখান থেকে তুলে এনে এত জোরে যমীনে আছাড় দিয়ে ফেলতে লাগল যে, তাদের মাথা দেহ থেকে পৃথক হয়ে গেল। এই দিন শাস্তির দিক দিয়ে তাদের অশুভ ও দুর্ভাগ্যজনক প্রমাণিত হয়েছিল। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বুধবার বা অন্য কোন দিনে অশুভ বা কুলক্ষণ আছে; যেমন, অনেকে মনে করে। مُسْتَمِرٌّ (একটানা, নিরবচ্ছিন্ন বা লাগাতার) এর অর্থ হল, এই আযাব সে পর্যন্ত চলতে থাকল, যে পর্যন্ত না সবাই ধ্বংস হয়ে গেল।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৮-২২ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



নূহ (আঃ)-এর ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির বিবরণ উল্লেখ করার পর আল্লাহ তা‘আলা হূদ (আঃ)-এর জাতি আদ সম্প্রদায়ের বিবরণ নিয়ে এসেছেন। যারা হূদ (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাস্তিস্বরূপ



رِيْحًا صَرْصَرًا



তথা প্রচণ্ড ঠাণ্ডাযুক্ত বাতাস প্রেরণ করেছিলেন।



(فِيْ يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ)



তথা দুর্ভাগ্যের দিনে নিরবিচ্ছিন্ন ঝড়ো হওয়া।



পরের আয়াতে বাতাসের তীব্রতা বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তা মানুষকে উৎখাত করেছিল উৎপাটিত খেজুর কাণ্ডের ন্যায়। ঐ ঝঞ্ঝাবায়ুর প্রবাহ তাদের ওপর এসে কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যেত, এমনকি সে পৃথিবীবাসীর দৃষ্টির অন্তরাল হয়ে যেত। অতঃপর তাকে অধঃমুখে ভূমিতে নিক্ষেপ করত। তার মস্তক পিষ্ঠ হয়ে যেত এবং দেহ থেকে আলাদা হয়ে যেত। দেখে মনে হয় যেন উৎপাটিত খেজুর গাছের কাণ্ড।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৮-২২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, হূদ (আঃ)-এর কওমও আল্লাহর রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল এবং নূহ (আঃ)-এর কওমের মতই ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছিল। ফলে তাদের প্রতি কঠিন ঠাণ্ডা ও ধ্বংসাত্মক বায়ু প্রেরণ করা হয়। ওটা ছিল তাদের জন্যে সরাসরি অশুভ ও অকল্যাণকর। ঐ বায়ু তাদের উপর অব্যাহতভাবে প্রবাহিত হতে থাকে এবং তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়। পার্থিব ও পারলৌকিক শাস্তি দ্বারা তাদেরকে পাকড়াও করা হয়। ঐ ঝঞাবায়ুর প্রবাহ তাদের উপর আসতো এবং তাদের কাউকেও উঠিয়ে নিয়ে যেতো, এমন কি সে পৃথিবীবাসীর দৃষ্টির অন্তরালে চলে যেতো। অতঃপর তাকে অধঃমুখে ভূমিতে নিক্ষেপ করতো। তার মস্তক পিষ্ট করতে এবং দেহ হতে মস্তক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। দেখে মনে হতো যেন উলিত খর্জূর গাছের কাণ্ড।

মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ দেখো, কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী! আমি তো কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্যে। সুতরাং যে ইচ্ছা করবে সে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।