সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 48)
হরকত ছাড়া:
والأرض فرشناها فنعم الماهدون ﴿٤٨﴾
হরকত সহ:
وَ الْاَرْضَ فَرَشْنٰهَا فَنِعْمَ الْمٰهِدُوْنَ ﴿۴۸﴾
উচ্চারণ: ওয়াল আর দা ফারাশ-হা-ফানি‘মাল মা-হিদূন।
আল বায়ান: আর আমি যমীনকে বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কতইনা সুন্দর বিছানা প্রস্তুতকারী!
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. আর যমীন, আমরা তাকে বিছিয়ে দিয়েছি, অতঃপর কত সুন্দর ব্যবস্থাপনাকারী(১) (আমরা)!
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যমীন- তাকে আমিই বিছিয়েছি, আমি কতই না সুন্দর (সমতল) প্রসারণকারী!
আহসানুল বায়ান: (৪৮) এবং আমি ভূমিকে বিছিয়ে দিয়েছি, [1] আমি কত সুন্দর বিস্তারকারী!
মুজিবুর রহমান: এবং আমি ভূমিকে বিছিয়ে দিয়েছি; আমি কত সুন্দরভাবে বিছিয়েছি এটা।
ফযলুর রহমান: আর জমিনকে আমিই বিছিয়ে দিয়েছি। আমি কত সুন্দর বিছাতে পারি!
মুহিউদ্দিন খান: আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।
জহুরুল হক: আর পৃথিবী -- আমরা একে বিছিয়ে দিয়েছি, কাজেই কত সুন্দর এই বিস্তারকারী!
Sahih International: And the earth We have spread out, and excellent is the preparer.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৮. আর যমীন, আমরা তাকে বিছিয়ে দিয়েছি, অতঃপর কত সুন্দর ব্যবস্থাপনাকারী(১) (আমরা)!
তাফসীর:
(১) مَاهِدُونَ শব্দের অর্থ দুটি। এক. বিছানার মত সুন্দরভাবে বিছিয়ে দেয়া। দুই. সুন্দর ব্যবস্থাপনা তৈরী করা [দেখুন, কুরতুবী]।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৮) এবং আমি ভূমিকে বিছিয়ে দিয়েছি, [1] আমি কত সুন্দর বিস্তারকারী!
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, বিছানার ন্যায় তা আমি বিছিয়ে দিয়েছি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৭-৫১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবুবিয়্যাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন যে, তিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন নিজ ক্ষমতার বলে, তারপর তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।
এখানে بِأَيْدٍ শব্দটি يد (হাত) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, শক্তি। যেমন দাঊদ (আঃ)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে :
(اِصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَاذْکُرْ عَبْدَنَا دَاو۫دَ ذَا الْاَیْدِﺆ اِنَّھ۫ٓ اَوَّابٌ)
“তারা যা কিছু বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদের কথা, যে ছিল খুব শক্তিশালী এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। ” (সূরা সোয়াদ ৩৮ :১৭)
আর তিনি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন যাতে চলাচলের উপযোগী হয়। আর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় তথা নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব যে আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু করেছেন তার কাছে ফিরে যাও, সৎ কাজ কর ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে তার কাছেই তাওবা কর।
আল্লাহ তা‘আলা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন কোন ক্রমেই আমরা তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন না করি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রমাণ পেলাম।
২. প্রতিটি প্রাণীর নর ও নারী রয়েছে।
৩. র্শিক থেকে সাবধান। কারণ মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নাম ছাড়া কোন পথ নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৭-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি।
মহান আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার, ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে, যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল (সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।