সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 47)
হরকত ছাড়া:
والسماء بنيناها بأيد وإنا لموسعون ﴿٤٧﴾
হরকত সহ:
وَ السَّمَآءَ بَنَیْنٰهَا بِاَیْىدٍ وَّ اِنَّا لَمُوْسِعُوْنَ ﴿۴۷﴾
উচ্চারণ: ওয়াছ ছামাআ বানাইনা-হা-বিআইদিওঁ ওয়া ইন্না-লামূছি‘ঊন।
আল বায়ান: আর আমি হাতসমূহ দ্বারা আকাশ নির্মাণ করেছি এবং নিশ্চয় আমি শক্তিশালী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৭. আর আসমান আমরা তা নির্মাণ করেছি আমাদের ক্ষমতা বলে(১) এবং আমরা নিশ্চয়ই মহাসম্প্রসারণকারী।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি নিজ হাত দ্বারা আসমান সৃষ্টি করেছি আর আমি অবশ্যই মহা প্রশস্তকারী।
আহসানুল বায়ান: (৪৭) আমি আকাশ[1] নির্মাণ করেছি আমার (নিজ) ক্ষমতাবলে[2] এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী। [3]
মুজিবুর রহমান: আমি আকাশ নির্মাণ করেছি আমার ক্ষমতা বলে এবং আমি অবশ্যই মহাসম্প্রসারণকারী,
ফযলুর রহমান: (বিশাল) আসমানকে আমি হাত (ক্ষমতা) দ্বারা তৈরী করেছি। নিশ্চয়ই আমি (এর বিশালতাকে) বিস্তৃত করতে সক্ষম।
মুহিউদ্দিন খান: আমি স্বীয় ক্ষমতাবলে আকাশ নির্মাণ করেছি এবং আমি অবশ্যই ব্যাপক ক্ষমতাশালী।
জহুরুল হক: আর মহাকাশমন্ডল -- আমরা তা নির্মাণ করেছি হাতে, আর আমরাই বিশালতার নির্মাতা।
Sahih International: And the heaven We constructed with strength, and indeed, We are [its] expander.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৭. আর আসমান আমরা তা নির্মাণ করেছি আমাদের ক্ষমতা বলে(১) এবং আমরা নিশ্চয়ই মহাসম্প্রসারণকারী।(২)
তাফসীর:
(১) أييد শব্দের অর্থ শক্তি ও সামৰ্থ্য। এ স্থলে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, মুজাহিদ, কাতাদাহ ও সাওরী রাহেমোহুমুল্লাহ এ তাফসীরই করেছেন। কারণ, এখানে أيد শব্দটি يد এর বহুবচন নয়। যদি শব্দটি يد এর বহুবচন হতো। তবে তার বহুবচন হতো, أيدي। বরং أيد শব্দটির প্রতিটি বর্ণ মূল শব্দ। যার অর্থই হলো শক্তি। অন্য আয়াতে এ শব্দ থেকে বলা হয়েছে, (وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ) “আর আমরা তাকে রুহুল কুদুস বা জিবরীলের মাধ্যমে শক্তি যুগিয়েছি”। [সূরা আল-বাকারাহ: ৮৭, ২৫৩] সুতরাং কেউ যেন এটা না ভাবে যে, এখানে أيد শব্দটি يد এর বহুবচন। [দেখুন: আদওয়াউল বায়ান]।
(২) মূল আয়াতাংশ مُوسِعُونَ অর্থ ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী এবং প্রশস্তকারী উভয়টিই হতে পারে। তাছাড়া مُوسِعُونَ শব্দের অন্য আরেকটি অর্থও কোন কোন মুফাসসির থেকে বর্ণিত আছে, তা হলো রিযিক সম্প্রসারণকারী। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের রিযিকে প্রশস্তি প্রদানকারী। [দেখুন, কুরতুবী] তবে ইবন কাসীর প্রশস্তকারী অর্থ গ্রহণ করেছেন। তিনি অর্থ করেছেন, “আমরা আকাশের প্রান্তদেশের সম্প্রসারণ করেছি এবং একে বিনা খুঁটিতে উপরে উঠিয়েছি, অবশেষে তা তার স্থানে অবস্থান করছে। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৭) আমি আকাশ[1] নির্মাণ করেছি আমার (নিজ) ক্ষমতাবলে[2] এবং আমি অবশ্যই মহা সম্প্রসারণকারী। [3]
তাফসীর:
[1] السَّمَاءَ এর শেষের বর্ণটির উপর নসব (যবর) এসেছে। কারণ তার بَنَيْنَا (ক্রিয়াপদ) ঊহ্য আছে। অর্থাৎ, بَنَيْنَا السَّمَاءَ بَنَيْنَاهَا
[2] ) এখানে أيدٍ শব্দটি يَدٌ এর জমা নয়। বরং এর অর্থ ক্ষমতা ও শক্তি। যেমন দাঊদ (আঃ)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, {وَاذْكُرْ عَبْدَنَا دَاوُودَ ذَا الْأَيْدِ إِنَّهُ أَوَّابٌ} (১৭) سورة ص
[3] অর্থাৎ, আকাশ প্রথম থেকেই বিশাল ও প্রশস্ত, কিন্তু আমি এর থেকেও আরো বিশাল, সম্প্রসারিত ও প্রশস্ত করার ক্ষমতা রাখি। অথবা আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করে জীবিকা প্রশস্ত করার শক্তি রাখি। কিংবা مُوْسِعٌ শব্দটিকে وُسْعٌ (শক্তি) ধাতু থেকে গঠিত মনে করলে অর্থ হবে, আমার মধ্যে এই ধরনের আরো আকাশ তৈরী করার শক্তি-সামর্থ্য আছে। আমি আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করে ক্লান্ত হয়ে যাইনি; বরং আমার শক্তি ও ক্ষমতা অসীম।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৭-৫১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবুবিয়্যাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন যে, তিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন নিজ ক্ষমতার বলে, তারপর তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।
এখানে بِأَيْدٍ শব্দটি يد (হাত) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, শক্তি। যেমন দাঊদ (আঃ)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে :
(اِصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَاذْکُرْ عَبْدَنَا دَاو۫دَ ذَا الْاَیْدِﺆ اِنَّھ۫ٓ اَوَّابٌ)
“তারা যা কিছু বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদের কথা, যে ছিল খুব শক্তিশালী এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। ” (সূরা সোয়াদ ৩৮ :১৭)
আর তিনি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন যাতে চলাচলের উপযোগী হয়। আর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় তথা নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন।
অতএব যে আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু করেছেন তার কাছে ফিরে যাও, সৎ কাজ কর ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে তার কাছেই তাওবা কর।
আল্লাহ তা‘আলা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন কোন ক্রমেই আমরা তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন না করি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রমাণ পেলাম।
২. প্রতিটি প্রাণীর নর ও নারী রয়েছে।
৩. র্শিক থেকে সাবধান। কারণ মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নাম ছাড়া কোন পথ নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৭-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি।
মহান আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার, ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে, যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল (সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।