আল কুরআন


সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 49)

সূরা আয-যারিয়াত (আয়াত: 49)



হরকত ছাড়া:

ومن كل شيء خلقنا زوجين لعلكم تذكرون ﴿٤٩﴾




হরকত সহ:

وَ مِنْ کُلِّ شَیْءٍ خَلَقْنَا زَوْجَیْنِ لَعَلَّکُمْ تَذَکَّرُوْنَ ﴿۴۹﴾




উচ্চারণ: ওয়া মিন কুল্লি শাইয়িন খালাকনা-যাওজাইনি লা‘আল্লাকুম তাযাক্কারূন।




আল বায়ান: আর প্রত্যেক বস্তু থেকে আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। আশা করা যায়, তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৯. আর প্রত্যেক বস্তু আমরা সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়(১), যাতে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ কর।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি প্রত্যেকটি বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।




আহসানুল বায়ান: (৪৯) আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়,[1] যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। [2]



মুজিবুর রহমান: আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।



ফযলুর রহমান: সবকিছুই আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর।



মুহিউদ্দিন খান: আমি প্রত্যেক বস্তু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে তোমরা হৃদয়ঙ্গম কর।



জহুরুল হক: আর প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে আমরা জোড়া-জোড়া সৃষ্টি করেছি, যেন তোমরা মনোনিবেশ করো।



Sahih International: And of all things We created two mates; perhaps you will remember.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৯. আর প্রত্যেক বস্তু আমরা সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়(১), যাতে তোমরা উপদেশ গ্ৰহণ কর।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ জোড়ায় জোড়ায় সৃজনের নীতির ভিত্তিতে পৃথিবীর সমস্ত বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিটি উদ্ভিদ ও প্রাণীর সৃষ্টিতে আমরা পুরুষ ও নারী জোড়া জোড়া হিসেবে দেখতে পাই। অনুরূপভাবে প্রতিটি বস্তুরই বিপরীত দিক রয়েছে। যেমন, রাত-দিন, জল-স্থল, সাদা-কালো, আসমান-যমীন, কুফরী-ঈমান, সৌভাগ্য-দুৰ্ভাগ্য ইত্যাদি। [দেখুন: কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৯) আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি জোড়ায়-জোড়ায়,[1] যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, প্রতিটি জিনিস জোড়া জোড়া, নর ও নারী করেছি। অথবা ঐ জিনিসের বিপরীত জিনিসও সৃষ্টি করেছি। যেমন, আলো ও আঁধার, জল ও স্থল, চন্দ্র ও সূর্য, মিষ্ট ও তিক্ত, দিন ও রাত, ভালো ও মন্দ, জীবন ও মৃত্যু, ঈমান ও কুফরী, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, মানব ও দানব ইত্যাদি। এমন কি জীবের বিপরীত জড়পদার্থও এই জন্য জরুরী যে, যাতে দুনিয়ারও জোড়া হয়। অর্থাৎ, দুনিয়ার মোকাবেলায় দ্বিতীয় জীবন আখেরাত।

[2] অর্থাৎ, এটা জেনে নাও যে, এ সবের স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ। তাঁর কোন অংশীদার নেই।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৭-৫১ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রুবুবিয়্যাহর পরিচয় তুলে ধরেছেন যে, তিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন নিজ ক্ষমতার বলে, তারপর তা প্রশস্ত করে দিয়েছেন।



এখানে بِأَيْدٍ শব্দটি يد (হাত) শব্দের বহুবচন। এর অর্থ হলো ক্ষমতা, শক্তি। যেমন দাঊদ (আঃ)-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে :



(اِصْبِرْ عَلٰی مَا یَقُوْلُوْنَ وَاذْکُرْ عَبْدَنَا دَاو۫دَ ذَا الْاَیْدِﺆ اِنَّھ۫ٓ اَوَّابٌ)



“তারা যা কিছু বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদের কথা, যে ছিল খুব শক্তিশালী এবং সে ছিল অতিশয় আল্লাহ অভিমুখী। ” (সূরা সোয়াদ ৩৮ :১৭)



আর তিনি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছেন যাতে চলাচলের উপযোগী হয়। আর তিনি প্রতিটি প্রাণীকে জোড়ায় জোড়ায় তথা নর ও নারীরূপে সৃষ্টি করেছেন।



অতএব যে আল্লাহ তা‘আলা এসব কিছু করেছেন তার কাছে ফিরে যাও, সৎ কাজ কর ও অসৎ কাজ বর্জনের মাধ্যমে তার কাছেই তাওবা কর।



আল্লাহ তা‘আলা আবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যেন কোন ক্রমেই আমরা তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন না করি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর প্রমাণ পেলাম।

২. প্রতিটি প্রাণীর নর ও নারী রয়েছে।

৩. র্শিক থেকে সাবধান। কারণ মুশরিক অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নাম ছাড়া কোন পথ নেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৭-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তিনি আকাশকে স্বীয় ক্ষমতাবলে সৃষ্টি করেছেন এবং ওটাকে তিনি সুরক্ষিত, সুউচ্চ ও সম্প্রসারিত করেছেন। অবশ্যই তিনি মহাসম্প্রসারণকারী। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত সাওরী (রঃ) এবং আরো বহু তাফসীরকার একথাই বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি আকাশকে স্বীয় শক্তি বলে সৃষ্টি করেছি। আমি মহাসম্প্রসারণকারী। আমি ওর প্রান্তকে প্রশস্ত করেছি, বিনা স্তম্ভে ওকে দাঁড় করে রেখেছি এবং প্রতিষ্ঠিত করেছি।

মহান আল্লাহ বলেনঃ যমীনকে আমি আমার সৃষ্টজীবের জন্যে বিছানা বানিয়েছি। আর একে বানিয়েছি অতি উত্তম বিছানা। সমস্ত মাখলককে জোড়া জোড়া করে সষ্টি করেছি। যেমন আসমান ও যমীন, দিবস ও রজনী, সূর্য ও চন্দ্র, জল ও স্থল, আলো ও অন্ধকার, ঈমান ও কুফর, জীবন ও মৃত্যু, পাপ ও পুণ্য, জান্নাত ও জাহান্নাম, এমন কি জীব-জন্তু এবং উদ্ভিদের মধ্যেও জোড়া রয়েছে। এটা এ জন্যে যে, যেন তোমরা উপদেশ লাভ কর। তোমরা যেন জেনে নাও যে, এসবের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ। তিনি শরীক বিহীন ও একক। সুতরাং তোমরা তার দিকে দৌড়িয়ে যাও এবং তারই প্রতি মনোযোগী হও। আমার নবী (সঃ) তো তোমাদেরকে স্পষ্ট সতর্ককারী। সাবধান! তোমরা আল্লাহর সাথে কোন মাবুদ স্থির করো না। আমার রাসূল (সঃ) তো তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।