সূরা আল-আহকাফ (আয়াত: 27)
হরকত ছাড়া:
ولقد أهلكنا ما حولكم من القرى وصرفنا الآيات لعلهم يرجعون ﴿٢٧﴾
হরকত সহ:
وَ لَقَدْ اَهْلَکْنَا مَا حَوْلَکُمْ مِّنَ الْقُرٰی وَ صَرَّفْنَا الْاٰیٰتِ لَعَلَّهُمْ یَرْجِعُوْنَ ﴿۲۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া লাকাদ আহলাকনা- মা-হাওলাকুমমিনাল কুরা- ওয়াসাররাফনাল আ-য়া-তি লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।
আল বায়ান: আর অবশ্যই আমি তোমাদের পার্শ্ববর্তী জনপদসমূহ ধ্বংস করেছিলাম। আর আমি বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহকে বর্ণনা করেছিলাম যাতে তারা ফিরে আসে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৭. আর অবশ্যই আমরা ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারপাশের জনপদসমূহ; এবং আমরা বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহ বিবৃত করেছিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারপাশের জনপদ। আমি নানাভাবে নিদর্শন দেখিয়েছিলাম যাতে তারা (সঠিক পথে) ফিরে আসে।
আহসানুল বায়ান: (২৭) আমি তো ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারিপাশের জনপদসমূহকে,[1] আমি তাদেরকে বিভিন্নভাবে আমার নিদর্শনাবলী বিবৃত করেছিলাম, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে।[2]
মুজিবুর রহমান: আমিতো ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চতুস্পার্শ্ববর্তী জনপদসমূহ; আমি তাদেরকে বিভিন্নভাবে আমার নিদর্শনাবলী বিবৃত করেছিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে সৎ পথে।
ফযলুর রহমান: আমি তোমাদের চারপাশের জনপদসমূহ ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বারবার (তাদেরকে) নিদর্শনাবলী দেখিয়েছি, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তোমাদের আশপাশের জনপদ সমূহ ধ্বংস করে দিয়েছি এবং বার বার আয়াতসমূহ শুনিয়েছি, যাতে তারা ফিরে আসে।
জহুরুল হক: আর আমরা নিশ্চয় ধ্বংস করে দিয়েছিলাম জনপদগুলোকে যারা তোমাদের আশপাশে ছিল, আর আমার নির্দেশাবলী বারবার বিবৃত করেছি যাতে তারা ফিরে আসে।
Sahih International: And We have already destroyed what surrounds you of [those] cities, and We have diversified the signs [or verses] that perhaps they might return [from disbelief].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৭. আর অবশ্যই আমরা ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারপাশের জনপদসমূহ; এবং আমরা বিভিন্নভাবে আয়াতসমূহ বিবৃত করেছিলাম, যাতে তারা ফিরে আসে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৭) আমি তো ধ্বংস করেছিলাম তোমাদের চারিপাশের জনপদসমূহকে,[1] আমি তাদেরকে বিভিন্নভাবে আমার নিদর্শনাবলী বিবৃত করেছিলাম, যাতে তারা (সৎপথে) ফিরে আসে।[2]
তাফসীর:
[1] ‘চতুষ্পাশর্ববর্তী জনপদসমূহ’ বলতে আ’দ, সামুদ এবং লূতের ঐ বসতিগুলোকে বুঝানো হয়েছে, যেগুলো হেজাযের নিকটে অবস্থিত ছিল এবং ইয়ামান, সিরিয়া ও ফিলিস্তীন যাতায়াত পথে সেগুলোর পাশ দিয়েই তারা অতিক্রম করত।
[2] অর্থাৎ, আমি বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন ধরনের দলীলাদি তাদের সামনে উপস্থাপন করেছিলাম এই মনে করে যে, হয়তো তারা তাওবা করবে। কিন্তু তারা অটল-অবিচল থাকল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৬-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
পূর্ববর্তী জাতির লোকেরা আমাদের তুলনায় শক্তি-সামর্থ্যে ও প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে অনেক মজবুত ছিল। কিন্তু ঈমান না আনার কারণে তাদের কোন ক্ষমতাই আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির কাছে টিকে থাকতে পারেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(أَوَلَمْ يَسِيْرُوْا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِيْنَ كَانُوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ط كَانُوْا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَّاٰثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ط وَمَا كَانَ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ وَّاقٍ)
“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখতো- তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।” (সূরা মুমিনুন ৪০ : ২১)
তাদেরকে শোনার জন্য কান, দেখার জন্য চোখ, বুঝার জন্য অন্তঃকরণ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এ সব তাদের কোন উপকারে আসেনি। ওপরে ‘আদ সম্প্রদায়ের কাহিনী বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে যাদেরকে কুফর ও নাবীদের অবাধ্যতার কারণে আযাব দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। এখন মক্কাবাসীসহ পৃথিবীর সকল কাফিরদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা এসব বিবরণ তুলে ধরেছেন। মক্কাবাসীরা সফরের সময় পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত। মক্কার এক দিকে সিরিয়া অপর দিকে ইয়ামান অবস্থিত, যেদিকেই তারা সফর করত সেদিকেই তারা বিভিন্ন জাতির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত। তাই مَا حَوْلَكُمْ বলা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে তিরস্কার করে বলছেন : সান্নিধ্য লাভের জন্য তারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আহ্বান করত তারা সহযোগিতা না করে উধাও হয়ে গেল কেন? কারণ তারা কোন ক্ষমতাই রাখে না। তাই আজও যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে বা তাঁর সাথে অংশীস্থাপন করে অন্য কোন মা‘বূদ বা মাজারে শায়িত ব্যক্তি বা ওলী-আউলিয়াদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সুপারিশ করতে পারবে- এ বিশ্বাস রেখে তাদেরকে ডাকে তারা মূলত কোন উপকার করতে পারবেনা, বরং তারা নিজেরাই দিশেহারা হয়ে যাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কুফরী কাজ।
২. কোন প্রভাব-প্রতিপত্তি কিয়ামতের দিন কাজে আসবে না, ঈমান যদি না থাকে।
৩. প্রভাব-প্রতিপত্তি অধিকাংশ মানুষকে ঈমান আনতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
৪. আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে ডাকা হচ্ছে তারা কোন উপকার করতে পারবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদ (সঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেনঃ আমি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে সুখ-ভোগের উপকরণ হিসেবে যে ধন-মাল, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি দিয়েছিলাম, সেই পরিমাণ তো তোমাদেরকে এখনো দেয়া হয়নি। তাদেরও কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ছিল। কিন্তু যখন তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে বসলো এবং আমার আযাবের ব্যাপারে সন্ধিহান হয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলো, অবশেষে যখন তাদের উপর আমার আযাব এসেই পড়লো, তখন তাদের এই বাহ্যিক উপকরণ তাদের কোনই কাজে আসলো না। ঐ আযাব তাদের উপর এসেই পড়লো যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো। সুতরাং তোমাদের তাদের মত হওয়া উচিত নয়। এমন যেন না হয় যে, তাদের মত শাস্তি তোমাদের উপরও এসে পড়ে এবং তাদের মত তোমাদেরও মূলোৎপাটন করে দেয়া হয়।
এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের আশে-পাশে একটু চেয়ে দেখো যে, তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কিভাবে তারা তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে। আহকাফ যা ইয়ামনের পাশেই হাযরা মাউতের অঞ্চলে অবস্থিত, তথাকার অধিবাসী আ’দ সম্প্রদায়ের পরিণামের দিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ কর! আর তোমাদের ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সামদ সম্প্রদায়ের পরিণামের কথাই একটু চিন্তা কর। ইয়ামনবাসী ও মাদইয়ানবাসী সম্প্রদায়ের পরিণামের প্রতি একটু লক্ষ্য কর। তোমরা তো যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উপলক্ষে সেখান দিয়ে প্রায়ই গমনাগমন করে থাকো। হযরত লূত (আঃ)-এর বাহীরা সম্প্রদায় হতে তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তাদের বাসভূমিও তোমাদের যাতায়াতের পথেই পড়ে। এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি আমার নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করেছি যাতে তারা সৎপথে ফিরে আসে।
ইরশাদ হচ্ছেঃ তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে মা’ব্দরূপে গ্রহণ করেছিল, যদিও এতে তাদের ধারণা এই ছিল যে, তাদের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, কিন্তু যখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে পড়লো এবং তারা তাদের ঐ মিথ্যা মা’ৰূদদের সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলো তখন তারা তাদের কোন সাহায্য করলো কি? কখনোই না। বরং তাদের প্রয়োজন ও বিপদের সময় তাদের ঐসব বাতিল মা'বূদ অন্তর্হিত হয়ে পড়লো। তাদেরকে খুঁজেও পাওয়া গেল না। মোটকথা, তাদেরকে পূজনীয় হিসেবে গ্রহণ করে তারা চরম ভুল করেছিল। তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম এই রূপই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।