আল কুরআন


সূরা আল-আহকাফ (আয়াত: 28)

সূরা আল-আহকাফ (আয়াত: 28)



হরকত ছাড়া:

فلولا نصرهم الذين اتخذوا من دون الله قربانا آلهة بل ضلوا عنهم وذلك إفكهم وما كانوا يفترون ﴿٢٨﴾




হরকত সহ:

فَلَوْ لَا نَصَرَهُمُ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ قُرْبَانًا اٰلِـهَۃً ؕ بَلْ ضَلُّوْا عَنْهُمْ ۚ وَ ذٰلِکَ اِفْکُهُمْ وَ مَا کَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ﴿۲۸﴾




উচ্চারণ: ফালাওলা-নাসারাহুমুল্লাযীনাত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি কুরবা-নান আ-লিহাতান বাল দাললূ ‘আনহুম ওয়া যা-লিকা ইফকুহুম ওয়ামা-কা-নূইয়াফতারূন।




আল বায়ান: অতঃপর তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল, আর এটা তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া উদ্ভাবন।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৮. অতঃপর তারা আল্লাহর সান্নিধ্য যাদেরকে ইলাহরূপে গ্ৰহণ করেছিল। তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তাদের ইলাহগুলো তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেল। আর এটা ছিল তাদের মিথ্যাচার; এবং যা তারা অলীক উদ্ভাবন করছিল।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে আল্লাহ ব্যতিরেকে যাদেরকে তারা ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা (অর্থাৎ কল্পিত ইলাহ) তাদের থেকে হারিয়ে গেল। আসলে তা ছিল তাদের মিথ্যাচার আর মনগড়া উদ্ভাবণ।




আহসানুল বায়ান: (২৮) তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বস্তুতঃ তাদের উপাস্যগুলো তাদের নিকট হতে উধাও হয়ে গেল। আর এ হল তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম। [1]



মুজিবুর রহমান: তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে মা‘বূদ রূপে গ্রহণ করেছিল তারা তাদেরকে সাহায্য করলনা কেন? বস্তুতঃ তাদের মা‘বূদগুলি তাদের নিকট হতে অন্তর্হিত হয়ে পড়ল। তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম এরূপই।



ফযলুর রহমান: তারা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের জন্য উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল তারা তাদেরকে সাহায্য করেনি কেন? বরং তারা তাদের থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। ওটা ছিল তাদের মিথ্যা আর অলীক উদ্ভাবন।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে সান্নিধ্য লাভের জন্যে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তারা তাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেল। এটা ছিল তাদের মিথ্যা ও মনগড়া বিষয়।



জহুরুল হক: তাহলে আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে যাদের তারা উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল সান্নিধ্য লাভের জন্য তারা কেন তাদের সাহায্য করল না? বস্তুতঃ তারা তাদের থেকে অন্তর্ধান করল, আর এটিই ছিল তাদের মিথ্যা এবং যা তারা উদ্ভাবন করত।



Sahih International: Then why did those they took besides Allah as deities by which to approach [Him] not aid them? But they had strayed from them. And that was their falsehood and what they were inventing.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৮. অতঃপর তারা আল্লাহর সান্নিধ্য যাদেরকে ইলাহরূপে গ্ৰহণ করেছিল। তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বরং তাদের ইলাহগুলো তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেল। আর এটা ছিল তাদের মিথ্যাচার; এবং যা তারা অলীক উদ্ভাবন করছিল।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৮) তারা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল, তারা তাদেরকে সাহায্য করল না কেন? বস্তুতঃ তাদের উপাস্যগুলো তাদের নিকট হতে উধাও হয়ে গেল। আর এ হল তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যে উপাস্যগুলোকে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করত, তারা তাদের কোন সাহায্য করল না, বরং তারা সেই মুহূর্তে আসেইনি, তাদের কোন পাত্তাই ছিল না। এ থেকেও জানা গেল যে, মক্কার মুশরিকরা মূর্তিগুলোকে প্রকৃত উপাস্য মনে করত না, বরং তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম ও অসীলা মনে করত। মহান আল্লাহ এই অসীলাগুলোকে ‘ইফক’ (মিথ্যা) এবং ‘ইফতিরা’ (মনগড়া উদ্ভাবন) সাব্যস্ত করে স্পষ্ট করে দিলেন যে, এটা অবৈধ ও হারাম।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৬-২৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্ববর্তী জাতির লোকেরা আমাদের তুলনায় শক্তি-সামর্থ্যে ও প্রতিষ্ঠার দিক দিয়ে অনেক মজবুত ছিল। কিন্তু ঈমান না আনার কারণে তাদের কোন ক্ষমতাই আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির কাছে টিকে থাকতে পারেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(أَوَلَمْ يَسِيْرُوْا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوْا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِيْنَ كَانُوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ط كَانُوْا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَّاٰثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللّٰهُ بِذُنُوْبِهِمْ ط وَمَا كَانَ لَهُمْ مِّنَ اللّٰهِ مِنْ وَّاقٍ‏)‏



“তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখতো- তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কী হয়েছিল। পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্য এবং আল্লাহর শাস্তি হতে তাদেরকে রক্ষা করার কেউ ছিল না।” (সূরা মুমিনুন ৪০ : ২১)



তাদেরকে শোনার জন্য কান, দেখার জন্য চোখ, বুঝার জন্য অন্তঃকরণ দেয়া হয়েছিল, কিন্তু এ সব তাদের কোন উপকারে আসেনি। ওপরে ‘আদ সম্প্রদায়ের কাহিনী বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে যাদেরকে কুফর ও নাবীদের অবাধ্যতার কারণে আযাব দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। এখন মক্কাবাসীসহ পৃথিবীর সকল কাফিরদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা এসব বিবরণ তুলে ধরেছেন। মক্কাবাসীরা সফরের সময় পূর্ববর্তী জাতিদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত। মক্কার এক দিকে সিরিয়া অপর দিকে ইয়ামান অবস্থিত, যেদিকেই তারা সফর করত সেদিকেই তারা বিভিন্ন জাতির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেত। তাই مَا حَوْلَكُمْ বলা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে তিরস্কার করে বলছেন : সান্নিধ্য লাভের জন্য তারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আহ্বান করত তারা সহযোগিতা না করে উধাও হয়ে গেল কেন? কারণ তারা কোন ক্ষমতাই রাখে না। তাই আজও যারা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে বা তাঁর সাথে অংশীস্থাপন করে অন্য কোন মা‘বূদ বা মাজারে শায়িত ব্যক্তি বা ওলী-আউলিয়াদেরকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে সুপারিশ করতে পারবে- এ বিশ্বাস রেখে তাদেরকে ডাকে তারা মূলত কোন উপকার করতে পারবেনা, বরং তারা নিজেরাই দিশেহারা হয়ে যাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. ‎আল্লাহ তা‘আলা‎র দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া কুফরী কাজ।

২. কোন প্রভাব-প্রতিপত্তি কিয়ামতের দিন কাজে আসবে না, ঈমান যদি না থাকে।

৩. প্রভাব-প্রতিপত্তি অধিকাংশ মানুষকে ঈমান আনতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

৪. ‎আল্লাহ তা‘আলা‎কে বাদ দিয়ে যাদেরকে সুপারিশকারী হিসেবে ডাকা হচ্ছে তারা কোন উপকার করতে পারবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৬-২৮ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা উম্মতে মুহাম্মাদ (সঃ)-কে লক্ষ্য করে বলেনঃ আমি তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদেরকে সুখ-ভোগের উপকরণ হিসেবে যে ধন-মাল, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি দিয়েছিলাম, সেই পরিমাণ তো তোমাদেরকে এখনো দেয়া হয়নি। তাদেরও কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ছিল। কিন্তু যখন তারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে বসলো এবং আমার আযাবের ব্যাপারে সন্ধিহান হয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করলো, অবশেষে যখন তাদের উপর আমার আযাব এসেই পড়লো, তখন তাদের এই বাহ্যিক উপকরণ তাদের কোনই কাজে আসলো না। ঐ আযাব তাদের উপর এসেই পড়লো যা নিয়ে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো। সুতরাং তোমাদের তাদের মত হওয়া উচিত নয়। এমন যেন না হয় যে, তাদের মত শাস্তি তোমাদের উপরও এসে পড়ে এবং তাদের মত তোমাদেরও মূলোৎপাটন করে দেয়া হয়।

এরপর ইরশাদ হচ্ছেঃ হে মক্কাবাসী! তোমরা তোমাদের আশে-পাশে একটু চেয়ে দেখো যে, তাদেরকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। কিভাবে তারা তাদের কৃতকর্মের ফল পেয়ে গেছে। আহকাফ যা ইয়ামনের পাশেই হাযরা মাউতের অঞ্চলে অবস্থিত, তথাকার অধিবাসী আ’দ সম্প্রদায়ের পরিণামের দিকেই দৃষ্টি নিক্ষেপ কর! আর তোমাদের ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সামদ সম্প্রদায়ের পরিণামের কথাই একটু চিন্তা কর। ইয়ামনবাসী ও মাদইয়ানবাসী সম্প্রদায়ের পরিণামের প্রতি একটু লক্ষ্য কর। তোমরা তো যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ব্যবসা-বাণিজ্য উপলক্ষে সেখান দিয়ে প্রায়ই গমনাগমন করে থাকো। হযরত লূত (আঃ)-এর বাহীরা সম্প্রদায় হতে তোমাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। তাদের বাসভূমিও তোমাদের যাতায়াতের পথেই পড়ে। এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি আমার নিদর্শনাবলী বিশদভাবে বিবৃত করেছি যাতে তারা সৎপথে ফিরে আসে।

ইরশাদ হচ্ছেঃ তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে মা’ব্দরূপে গ্রহণ করেছিল, যদিও এতে তাদের ধারণা এই ছিল যে, তাদের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে, কিন্তু যখন তাদের উপর আল্লাহর আযাব এসে পড়লো এবং তারা তাদের ঐ মিথ্যা মা’ৰূদদের সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলো তখন তারা তাদের কোন সাহায্য করলো কি? কখনোই না। বরং তাদের প্রয়োজন ও বিপদের সময় তাদের ঐসব বাতিল মা'বূদ অন্তর্হিত হয়ে পড়লো। তাদেরকে খুঁজেও পাওয়া গেল না। মোটকথা, তাদেরকে পূজনীয় হিসেবে গ্রহণ করে তারা চরম ভুল করেছিল। তাদের মিথ্যা ও অলীক উদ্ভাবনের পরিণাম এই রূপই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।