সূরা আল-জাসিয়া (আয়াত: 18)
হরকত ছাড়া:
ثم جعلناك على شريعة من الأمر فاتبعها ولا تتبع أهواء الذين لا يعلمون ﴿١٨﴾
হরকত সহ:
ثُمَّ جَعَلْنٰکَ عَلٰی شَرِیْعَۃٍ مِّنَ الْاَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَ لَا تَتَّبِعْ اَهْوَآءَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۸﴾
উচ্চারণ: ছু ম্মা জা‘আল না-কা ‘আলা- শারী‘আতিম মিনাল আমরি ফাত্তাবি‘হা- ওয়ালা-তাত্তাবি‘ আহওয়াআল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: তারপর আমি তোমাকে দীনের এক বিশেষ বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং তুমি তার অনুসরণ কর এবং যারা জানে না তাদের খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করো না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮. তারপর আমরা আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর; কাজেই আপনি তার অনুসরণ করুন। আর যারা জানে না তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবেন না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর (হে নবী সা.!) আমি তোমাকে দ্বীনের (সঠিক) পথের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই তুমি তারই অনুসরণ কর, আর যারা (দ্বীনের বিধি-বিধান) জানেনা তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না।
আহসানুল বায়ান: (১৮) এরপর আমি তোমাকে ধর্মের বিশেষ বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি;[1] সুতরাং তুমি ওর অনুসরণ কর এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। [2]
মুজিবুর রহমান: এরপর আমি তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দীনের বিশেষ বিধানের উপর। সুতরাং তুমি ওর অনুসরণ কর, অজ্ঞদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করনা।
ফযলুর রহমান: এরপর আমি তোমাকে দ্বীনের ব্যাপারে একটি বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। অতএব, তুমি তারই অনুসরণ করো, যারা জানে না তাদের ইচ্ছার অনুসরণ করো না।
মুহিউদ্দিন খান: এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করবেন না।
জহুরুল হক: এরপর আমরা তোমাকে ব্যাপারটিতে এক সংবিধানের উপরে প্রতিষ্ঠিত করেছি, কাজেই তুমি তা অনুসরণ করো, আর তুমি তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ কর না যারা জানে না।
Sahih International: Then We put you, [O Muhammad], on an ordained way concerning the matter [of religion]; so follow it and do not follow the inclinations of those who do not know.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮. তারপর আমরা আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি দ্বীনের বিশেষ বিধানের উপর; কাজেই আপনি তার অনুসরণ করুন। আর যারা জানে না তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করবেন না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮) এরপর আমি তোমাকে ধর্মের বিশেষ বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি;[1] সুতরাং তুমি ওর অনুসরণ কর এবং অজ্ঞদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না। [2]
তাফসীর:
[1] شَرِيعَة শরীয়তের আভিধানিক অর্থ হলঃ রাস্তা, ধর্মাদর্শ, বিধান এবং নিয়ম-পদ্ধতি। রাজপথ বা ‘মেনরোড’কেও شَارع ‘শারে’ বলা হয়। কারণ, তা গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেয়। তাই শরীয়ত বলতে এখানে সেই দ্বীনের বিধানকে বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যাতে মানুষ সে পথে চলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে। আয়াতের অর্থ হল, আমি তোমাকে একটি সুস্পষ্ট রাস্তায় বা তরীকায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছি, যা তোমাকে সত্য পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।
[2] যারা আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর শরীয়তের ব্যাপারে অজ্ঞ। এ থেকে উদ্দেশ্য হল, মক্কার কাফের ও তাদের সাথীরা।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬-২০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
বানী ইসরাঈলকে যে সকল নেয়ামত দান করা হয়েছিল উক্ত আয়াতগুলোতে তার কয়েকটি উল্লেখ হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব অর্থাৎ তাওরাত দান করেছিলাম এবং দিয়েছিলাম রাজত্ব বা শাসন ক্ষমতা অথবা বিবেক ও বিচার করার এমন যোগ্যতা, যা মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য জরুরী ছিল। তাদেরকে দান করা হয়েছিল নবুওয়াত, আকাশ হতে মান্না-সালওয়াসহ আরো উত্তম রিযিক এবং তাদেরকে বিশ্ববাসীর ওপর তথা তৎকালীন বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছিল। এছাড়াও তাদেরকে দেয়া হয়েছিল হালাল-হারাম বিবৃত স্পষ্ট বিধান। তাদের নিকট সঠিক জ্ঞান আসার পর তারা পদ-মর্যাদার জন্য পরস্পর হিংসা ও বিদ্বেষবশত দীনের ব্যাপারে মতবিরোধ করতে শুরু করে এবং রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করে, ফলে তারা শাস্তির হকদার হয়ে যায়।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তারা যেন বানী ইসরাঈলের মতো না হয়। তারা যেন কোন ব্যক্তির বা অজ্ঞ-মুশরিকদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করে।
(بَغْيًاۭ بَيْنَهُمْ) অর্থ আপোসে একে অপরের প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করা।
شريعة আভিধানিক অর্থ হলো- রাস্তা, ধর্মাদেশ, বিধান ও নিয়ম-পদ্ধতি। রাজপথ বা প্রধান সড়ককে شارع বলা হয়। কারণ তা গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়। তাই শরীয়ত বলতে সে দীনের বিধানকে বুঝানো হয়েছে যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে সে পথে চলে মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে।
(فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَا۬ءَ)
অর্থাৎ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মাতকে এ শরীয়তের অনুসরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কারণ শরীয়তের বাইরে কিছুই নেই, কোন ব্যক্তির আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৌঁছতে ও আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য শরীয়তের যথাযথ অনুসরণই যথেষ্ট। সুতরাং যাদের শরীয়ত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই, যাদের বিশ্বাস কেবল শরীয়তের অনুসরণ করেই একজন ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার ও আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারবে না, বরং তরীকত, মারেফত ধারাক্রম অতিক্রম করে হাকিকত পর্যায়ে পৌঁছতে হবে তারা সঠিক বিষয়ের অনুসারী নয়, বরং তারা ভ্রান্ত ও রাসূলুল্লাহ এর আনীত শরীয়ত বর্হিভূত বিষয়ের অনুসারী।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. বানী ইসরাঈলের যে মর্যাদা ছিল তা জানা গেল।
২. এমন ব্যক্তি যে শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে অজ্ঞ তার অনুসরণ করা যাবে না।
৩. মু’মিনদের বন্ধু স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা।
৪. আল-কুরআন মানব জাতির জন্য পথ-নির্দেশ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৬-২০ নং আয়াতের তাফসীর:
বানী ইসরাঈলের উপর পরম করুণাময় আল্লাহর যেসব নিয়ামত ছিল এখানে তিনি তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি তাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন, তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলেন এবং তাদেরকে হুকুমত দান করেছিলেন। আর ঐ যুগের লোকদের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন। দ্বীন সম্পর্কীয় উত্তম ও স্পষ্ট দলীল তিনি তাদের কাছে পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের উপর আল্লাহর হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষ বশতঃ বিরোধিতা করেছিল এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ ‘তোমার প্রতিপালক আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ঐ বিষয়ের ফায়সালা করে দিবেন। এর দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদ (সঃ)-কে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাদের চলনগতি যেন বানী ইসরাঈলের মত না হয়। এজন্যেই মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার প্রতিপালকের অহীর অনুসরণ কর, অজ্ঞ মুশরিকদের খেয়াল অনুসরণ করো না। তাদের সাথে তোমরা বন্ধুত্ব স্থাপন করো না। তারা তো পরস্পর বন্ধু। আর তোমাদের বন্ধু স্বয়ং আল্লাহ। অর্থাৎ মুত্তাকীদের বন্ধু হলেন আল্লাহ। তিনি তাদেরকে অজ্ঞতার অন্ধকার হতে সরিয়ে জ্ঞানের আলোর দিকে নিয়ে আসেন। আর কাফিরদের বন্ধু হলো শয়তান। সে তাদেরকে জ্ঞানের আলো হতে সরিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই কুরআন মানব জাতির জন্যে সুস্পষ্ট দলীল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্যে পথ-নির্দেশ ও রহমত।'
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।