সূরা আল-জাসিয়া (আয়াত: 17)
হরকত ছাড়া:
وآتيناهم بينات من الأمر فما اختلفوا إلا من بعد ما جاءهم العلم بغيا بينهم إن ربك يقضي بينهم يوم القيامة فيما كانوا فيه يختلفون ﴿١٧﴾
হরকত সহ:
وَ اٰتَیْنٰهُمْ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الْاَمْرِ ۚ فَمَا اخْتَلَفُوْۤا اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ ۙ بَغْیًۢا بَیْنَهُمْ ؕ اِنَّ رَبَّکَ یَقْضِیْ بَیْنَهُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ فِیْمَا کَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ﴿۱۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া আ-তাইনা-হুম বাইয়িনা-তিম মিনাল আমরি ফামাখ তালাফূইল্লা-মিম বা‘দি মাজাআহুমুল ‘ইলমু বাগইয়াম বাইনাহুম ইন্না রাব্বাকা ইয়াকদী বাইনাহুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ফীমা-কা-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।
আল বায়ান: আর আমি তাদেরকে দীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও কেবল পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষবশত তারা মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত তোমার রব কিয়ামতের দিনে সে সব বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৭. আর আমরা তাদেরকে দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দান করেছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবসতঃ মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত, নিশ্চয় আপনার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সে সব বিষয়ে ফয়সালা করে দিবেন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে দিয়েছিলাম সুস্পষ্ট নিদর্শন। কিন্তু তাদের কাছে (সত্য মিথ্যা সম্পর্কিত নির্ভুল) জ্ঞান আসার পরও শুধু নিজেদের মধ্যে বাড়াবাড়ির কারণে তারা মতভেদ করেছিল। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামাতের দিন সে বিষয়ে তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন।
আহসানুল বায়ান: (১৭) ধর্ম সম্পর্কে ওদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ[1] দান করেছিলাম। জ্ঞান আসার পর ওরা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ মতবিরোধ করেছিল।[2] ওরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন ওদের মধ্যে সে বিষয়ের ফায়সালা করে দেবেন। [3]
মুজিবুর রহমান: তাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করেছিলাম দীন সম্পর্কে। তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ বিরোধিতা করেছিল, তারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার রাব্ব কিয়ামাত দিবসে তাদের মধ্যে সেই বিষয়ের ফায়সালা করে দিবেন।
ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা পারস্পরিক বিদ্বেষবশত মতভেদ করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত সে বিষয়ে কেয়ামতের দিন তোমার প্রভু অবশ্যই তাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন।
মুহিউদ্দিন খান: আরও দিয়েছিলাম তাদেরকে ধর্মের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি। অতঃপর তারা জ্ঞান লাভ করার পর শুধু পারস্পরিক জেদের বশবর্তী হয়ে মতভেদ সৃষ্টি করেছে। তারা যে বিষয়ে মতভেদ করত, আপনার পালনকর্তা কেয়ামতের দিন তার ফয়সালা করে দেবেন।
জহুরুল হক: আর আমরা তাদের দিয়েছিলাম বিষয়টি সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণাবলী, কিন্ত তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরেও তারা মতভেদ করে নি নিজেদের মধ্যে ঈর্ষা বিদ্বেষ ব্যতীত। নিঃসন্দেহ তোমার প্রভু তাদের মধ্যে কিয়ামতের দিনে বিচার-মীমাংসা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করত সে-সন্বন্ধে।
Sahih International: And We gave them clear proofs of the matter [of religion]. And they did not differ except after knowledge had come to them - out of jealous animosity between themselves. Indeed, your Lord will judge between them on the Day of Resurrection concerning that over which they used to differ.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৭. আর আমরা তাদেরকে দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি দান করেছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পরও তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবসতঃ মতবিরোধ করেছিল। তারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করত, নিশ্চয় আপনার রব কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে সে সব বিষয়ে ফয়সালা করে দিবেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৭) ধর্ম সম্পর্কে ওদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ[1] দান করেছিলাম। জ্ঞান আসার পর ওরা শুধু পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ মতবিরোধ করেছিল।[2] ওরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করত, তোমার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন ওদের মধ্যে সে বিষয়ের ফায়সালা করে দেবেন। [3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, হালাল ও হারাম বিবৃত স্পষ্ট বিধান। অথবা মু’জিযা ও অলৌকিক ঘটনাবলী। কিংবা নবী (সাঃ)-এর আগমনের জ্ঞান। তাঁর নবী হওয়ার প্রমাণাদি এবং নির্দিষ্টভাবে সেই স্থানের জ্ঞান, যেখানে তিনি হিজরত করে যাবেন।
[2] بَغْيًا بَيْنَهُمْ এর অর্থ, আপোসে একে অপরের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষবশতঃ অথবা খ্যাতি ও পদমর্যাদা লাভের জন্য জ্ঞান আসার পর তারা তাদের দ্বীনের ব্যাপারে মতবিরোধ অথবা রসূল (সাঃ)-এর রিসালাতকে অস্বীকার করল।
[3] হকপন্থীদেরকে উত্তম প্রতিদান এবং বাতিলপন্থীদেরকে মন্দ বদলা দিবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬-২০ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
বানী ইসরাঈলকে যে সকল নেয়ামত দান করা হয়েছিল উক্ত আয়াতগুলোতে তার কয়েকটি উল্লেখ হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব অর্থাৎ তাওরাত দান করেছিলাম এবং দিয়েছিলাম রাজত্ব বা শাসন ক্ষমতা অথবা বিবেক ও বিচার করার এমন যোগ্যতা, যা মানুষের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য জরুরী ছিল। তাদেরকে দান করা হয়েছিল নবুওয়াত, আকাশ হতে মান্না-সালওয়াসহ আরো উত্তম রিযিক এবং তাদেরকে বিশ্ববাসীর ওপর তথা তৎকালীন বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছিল। এছাড়াও তাদেরকে দেয়া হয়েছিল হালাল-হারাম বিবৃত স্পষ্ট বিধান। তাদের নিকট সঠিক জ্ঞান আসার পর তারা পদ-মর্যাদার জন্য পরস্পর হিংসা ও বিদ্বেষবশত দীনের ব্যাপারে মতবিরোধ করতে শুরু করে এবং রাসূলের রিসালাতকে অস্বীকার করে, ফলে তারা শাস্তির হকদার হয়ে যায়।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তারা যেন বানী ইসরাঈলের মতো না হয়। তারা যেন কোন ব্যক্তির বা অজ্ঞ-মুশরিকদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ না করে।
(بَغْيًاۭ بَيْنَهُمْ) অর্থ আপোসে একে অপরের প্রতি হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণ করা।
شريعة আভিধানিক অর্থ হলো- রাস্তা, ধর্মাদেশ, বিধান ও নিয়ম-পদ্ধতি। রাজপথ বা প্রধান সড়ককে شارع বলা হয়। কারণ তা গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেয়। তাই শরীয়ত বলতে সে দীনের বিধানকে বুঝানো হয়েছে যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, যাতে সে পথে চলে মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভ করতে পারে।
(فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَا۬ءَ)
অর্থাৎ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর উম্মাতকে এ শরীয়তের অনুসরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কারণ শরীয়তের বাইরে কিছুই নেই, কোন ব্যক্তির আল্লাহ তা‘আলার কাছে পৌঁছতে ও আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য শরীয়তের যথাযথ অনুসরণই যথেষ্ট। সুতরাং যাদের শরীয়ত সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই, যাদের বিশ্বাস কেবল শরীয়তের অনুসরণ করেই একজন ব্যক্তি পূর্ণ ঈমানদার ও আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি হাসিল করতে পারবে না, বরং তরীকত, মারেফত ধারাক্রম অতিক্রম করে হাকিকত পর্যায়ে পৌঁছতে হবে তারা সঠিক বিষয়ের অনুসারী নয়, বরং তারা ভ্রান্ত ও রাসূলুল্লাহ এর আনীত শরীয়ত বর্হিভূত বিষয়ের অনুসারী।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. বানী ইসরাঈলের যে মর্যাদা ছিল তা জানা গেল।
২. এমন ব্যক্তি যে শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে অজ্ঞ তার অনুসরণ করা যাবে না।
৩. মু’মিনদের বন্ধু স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা।
৪. আল-কুরআন মানব জাতির জন্য পথ-নির্দেশ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৬-২০ নং আয়াতের তাফসীর:
বানী ইসরাঈলের উপর পরম করুণাময় আল্লাহর যেসব নিয়ামত ছিল এখানে তিনি তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তিনি তাদের উপর কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন, তাদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলেন এবং তাদেরকে হুকুমত দান করেছিলেন। আর ঐ যুগের লোকদের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছিলেন। দ্বীন সম্পর্কীয় উত্তম ও স্পষ্ট দলীল তিনি তাদের কাছে পৌছিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের উপর আল্লাহর হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর তারা শুধু পরস্পর বিদ্বেষ বশতঃ বিরোধিতা করেছিল এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।
মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ ‘তোমার প্রতিপালক আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ঐ বিষয়ের ফায়সালা করে দিবেন। এর দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদ (সঃ)-কে সতর্ক করা হয়েছে যে, তাদের চলনগতি যেন বানী ইসরাঈলের মত না হয়। এজন্যেই মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে বলেনঃ তুমি তোমার প্রতিপালকের অহীর অনুসরণ কর, অজ্ঞ মুশরিকদের খেয়াল অনুসরণ করো না। তাদের সাথে তোমরা বন্ধুত্ব স্থাপন করো না। তারা তো পরস্পর বন্ধু। আর তোমাদের বন্ধু স্বয়ং আল্লাহ। অর্থাৎ মুত্তাকীদের বন্ধু হলেন আল্লাহ। তিনি তাদেরকে অজ্ঞতার অন্ধকার হতে সরিয়ে জ্ঞানের আলোর দিকে নিয়ে আসেন। আর কাফিরদের বন্ধু হলো শয়তান। সে তাদেরকে জ্ঞানের আলো হতে সরিয়ে অজ্ঞতার অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই কুরআন মানব জাতির জন্যে সুস্পষ্ট দলীল এবং নিশ্চিত বিশ্বাসীদের জন্যে পথ-নির্দেশ ও রহমত।'
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।