আল কুরআন


সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 16)

সূরা আশ-শূরা (আয়াত: 16)



হরকত ছাড়া:

والذين يحاجون في الله من بعد ما استجيب له حجتهم داحضة عند ربهم وعليهم غضب ولهم عذاب شديد ﴿١٦﴾




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ یُحَآجُّوْنَ فِی اللّٰهِ مِنْۢ بَعْدِ مَا اسْتُجِیْبَ لَهٗ حُجَّتُهُمْ دَاحِضَۃٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَ عَلَیْهِمْ غَضَبٌ وَّ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌ ﴿۱۶﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা ইঊহাজ্জূনা ফিল্লা-হি মিম বা‘দি মাছতুজীবা লাহূহুজ্জাতুহুম দা-হিদাতুন ‘ইনদা রাব্বিহিম ওয়া ‘আলাইহিম গাদাবুওঁ ওয়া লাহুম ‘আযা-বুন শাদীদ।




আল বায়ান: আর আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয়ার পর আল্লাহ সম্পর্কে যারা বিতর্ক করে, তাদের দলীল-প্রমাণ তাদের রবের নিকট অসার। তাদের উপর (আল্লাহর) গযব এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬. আর আল্লাহর আহ্বানে সাড়া আসার পর যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের যুক্তি-তর্ক তাদের রবের দৃষ্টিতে অসার এবং তাদের উপর রয়েছে তাঁর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহর আহবানে সাড়া দেয়ার পর সে সম্পর্কে যারা বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের দলীল প্রমাণ তাদের রব্ব-এর কাছে বাতিল। তাদের প্রতি (আল্লাহর) গযব আর তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি।




আহসানুল বায়ান: (১৬) আল্লাহকে মেনে নেওয়ার পর যারা তাঁর সম্পর্কে বিতর্ক করে[1] তাদের যুক্তিতর্ক তাদের প্রতিপালকের দৃষ্টিতে অসার।[2] ওরা তাঁর ক্রোধের পাত্র এবং ওদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।



মুজিবুর রহমান: আল্লাহকে স্বীকার করার পর যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে তাদের যুক্তি-তর্ক তাদের রবের দৃষ্টিতে অসার এবং তারা তাঁর ক্রোধের পাত্র এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।



ফযলুর রহমান: আল্লাহকে মেনে নেওয়ার পর যারা তাঁর ব্যাপারে বিতর্ক করে তাদের যুক্তি তাদের প্রভুর কাছে অসার। তাদের ওপর (আল্লাহর) ক্রোধ এবং তাদের জন্য কঠোর শাস্তি রয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহর দ্বীন মেনে নেয়ার পর যারা সে সম্পর্কে বিতর্কে প্রবৃত্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল, তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর আযাব।



জহুরুল হক: আর যারা আল্লাহ্ সন্বন্ধে তর্ক করে তাঁর কথায় সাড়া দেবার পরেও, তাদের তর্কবিতর্ক তাদের প্রভুর কাছে অসার, আর তাদের উপরে ক্রোধ, আর তাদের জন্য রয়েছে ভীষণ শাস্তি।



Sahih International: And those who argue concerning Allah after He has been responded to - their argument is invalid with their Lord, and upon them is [His] wrath, and for them is a severe punishment.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬. আর আল্লাহর আহ্বানে সাড়া আসার পর যারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের যুক্তি-তর্ক তাদের রবের দৃষ্টিতে অসার এবং তাদের উপর রয়েছে তাঁর ক্রোধ এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৬) আল্লাহকে মেনে নেওয়ার পর যারা তাঁর সম্পর্কে বিতর্ক করে[1] তাদের যুক্তিতর্ক তাদের প্রতিপালকের দৃষ্টিতে অসার।[2] ওরা তাঁর ক্রোধের পাত্র এবং ওদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এই মুশরিকরা মুসলিমদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের কথা মেনে নিয়েছে। যাতে তাদেরকে পুনরায় সত্য পথ থেকে ফিরিয়ে দেয়। অথবা এর লক্ষ্য হল, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা। যারা মুসলিমদের সাথে তর্ক করত এবং বলত, আমাদের ধর্ম তোমাদের ধর্মের চেয়েও উত্তম এবং আমাদের নবী হলেন তোমাদের নবীর পূর্বে, অতএব আমরা তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

[2] دَاحِضَةٌ এর অর্থ, দুর্বল, বাতিল, অসার, ভিত্তিহীন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৬-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



যে দীন দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন সে দীনের প্রতি আহ্বান করার পরেও যারা আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে বিতর্ক করে, বিভিন্ন যুক্তি-তর্ক পেশ করে, তাদের যুক্তি মূলত ভিত্তিহীন ও বাতিল আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। কেননা তারা এ সকল বাতিল তর্ক-বিতর্কের ফলে আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধের পাত্রে পরিণত হয়েছে। এর দ্বারা ঐ সকল মুশরিদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ধর্মকে মেনে নিয়েছে এ উদ্দেশ্যে যে, যাতে করে তারা পুনরায় মু’মিনদেরকে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইয়াহূদী এবং খ্রিস্টানরা, যারা মুসলিমদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করত এবং বলত : আমাদের ধর্ম তোমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম এবং আমাদের নাবী তোমাদের নাবীর পূর্বে এসেছিলেন। অতএব আমরা তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।



دَاحِضَةٌ অর্থ হলো, দুর্বল, বাতিল, অসার, অনর্থক, ভিত্তিহীন ইত্যাদি। অর্থাৎ তাদের প্রমাণাদী আল্লাহ তা‘আলার কাছে অনর্থক।



الكِتٰبَ দ্বারা এখানে কুরআনসহ সমস্ত আসমানী কিতাবকে বুঝানো হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি وَالْمِيْزَانَ দাঁড়িপাল্লা নাযিল করেছেন। অর্থাৎ দাঁিড়পাল্লা দিয়ে ওজন করে সঠিকভাবে মেপে দেয়া হয়, কারো প্রতি জুলুম করা হয় না, তাই ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর তাফসীর করেছেন ন্যায়বিচার। মুজাহিদ বলেন : মানুষ ওজন করতে যে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করে এখানে তা-ই উদ্দেশ্য। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর তাফসীর অনুযায়ী, মিযান হল ন্যায়বিচারের। কারণ মিযান বা দাঁড়িপাল্লা স্থাপনের প্রধান উদ্দেশ্য হল ন্যায়বিচার করা। অতএব এ দুয়ের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।



আল্লাহ তা‘আলা কিতাব ও ন্যায় বিচারসহ নাবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন তার বর্ণনা দিয়ে অন্যত্র বলেন :



(لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنٰتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتٰبَ وَالْمِيْزَانَ لِيَقُوْمَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ)



নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি স্পষ্ট প্রমাণসহ এবং তাদের সঙ্গে দিয়েছি কিতাব ও মানদণ্ড যাতে মানুষ সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে (সূরা হাদীদ ৫৭ : ২৫)



তাছাড়া মিযান দাঁড়িপাল্লা নামক যন্ত্রের নামও এসেছে, তবুও তার মূল উদ্দেশ্য হল ন্যায়বিচার করা। আল্লাহ আরো বলেন,



(وَالسَّمَا۬ءَ رَفَعَهَا وَوَضَعَ الْمِيْزَانَ أَلَّا تَطْغَوْا فِي الْمِيْزَانِ وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيْزَانَ)



“আকাশকে সমুন্নত করেছেন এবং স্থাপন করেছেন (ন্যায়ের) মানদণ্ড, যাতে তোমরা পরিমাপে সীমালঙ্ঘন না কর। ওজনের ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিও না।” (সূরা আর-রহমান ৫৫ : ৭-৯)



সুতরাং মানুষ লেনদেনের ক্ষেত্রে দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করে যেমন ইনসাফ করে থাকে, তেমনি এর মাঝে এই ইঙ্গিতও রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা ইনসাফের দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবেন, প্রত্যেককে তার আমলের যথার্থ প্রতিদান দেবেন, কারো প্রতি জুলুম করবেন না।



(يَسْتَعْجِلُ بِهَا الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِهَا)



‘যারা এর প্রতি বিশ্বাস করে না তারাই এটার (কিয়ামত) জন্য তড়িঘড়ি করে’ এখানে তিনটি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে : (১) কাফিররা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না, অস্বীকার করে বিধায় তাড়াতাড়ি সংঘটিত হওয়া কামনা করে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা তাদেরক কথা তুলে ধরে বলেন : তারা বলে :



( مَتٰي هٰذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِيْنَ)‏



“তোমরা যদি সত্যবাদী হও (তবে বল : ‎) এ (কিয়ামতের) প্রতিশ্রুতি কখন বাস্তবায়িত হবে?” (সূরা সাবা ৩৪ : ২৯)

অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ ط قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللّٰهِ ط وَمَا يُدْرِيْكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُوْنُ قَرِيْبًا ‏)‏



“লোকেরা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করে। তুমি বলে দাও- এর জ্ঞান শুধু আল্লাহরই কাছে রয়েছে। তুমি কি করে জানবে যে, হয়ত ক্বিয়ামত শীঘ্রই সংঘটিত হবে।” (সূরা আহযাব ৩৩ : ৬৩)



(২) মু’মিনরা কিয়ামতকে খুব ভয় করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(الَّذِيْنَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَهُمْ مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُوْنَ‏)‏



“যারা না দেখেও তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এবং তারা কিয়ামত সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত।” (সূরা আম্বিয়া ২১ : ৪৯)



(৩) মু’মিনরা জানে কিয়ামত সত্য, তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন : হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! কিয়ামত কখন হবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তোমার ধ্বংস হোক, তা অবশ্যই হবে, তুমি কিয়ামতের জন্য কী তৈরি করেছ? তিনি বললেন : আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালবাসা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন : তুমি যাকে ভালবাস তার সাথেই তুমি থাকবে।



সুতরাং যারা কিয়ামত সম্পর্কে ঝগড়া করে তারা মূলত পথভ্রষ্টতার মধ্যে নিপতিত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(بَلْ كَذَّبُوْا بِالسَّاعَةِ وَأَعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيْرًا )‏



“বরং তারা কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে আর যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে তাদের জন্য আমি প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত‎ অগ্নি।” (সূরা ফুরকান ২৫ : ১১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. যারা ইসলাম গ্রহণ করার পর তা আবার ত্যাগ করে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি, আর তারা আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধের পাত্র।

২. আল্লাহ তা‘আলা ন্যায়ের মানদণ্ড দ্বারা তাঁর বান্দাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করবেন।

৩. কাফির ও মু’মিনের মধ্যে পার্থক্য জানা গেল।

৪. যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসবে সে কিয়ামতের দিন রাসূলের সাথে থাকবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৬-১৮ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা ঐ লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন করছেন যারা মুমিনদের সাথে বাজে যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয় এবং তাদেরকে হিদায়াত হতে বিভ্রান্ত করার ইচ্ছা করে এবং আল্লাহর দ্বীনে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে। তাদের যুক্তি-তর্ক মিথ্যা ও অসার। তারা আল্লাহ তা'আলার ক্রোধের পাত্র। কিয়ামতের দিন তাদের জন্যে রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হওয়া অসম্ভব। তা এই যে, মুসলমানরা পুনরায় অজ্ঞতার দিকে ফিরে যাবে। অনুরূপভাবে ইয়াহুদী ও খৃষ্টানরাও বাজে তর্ক করতো এবং মুসলমানদেরকে বলতোঃ “আমাদের দ্বীন তোমাদের দ্বীন অপেক্ষা উত্তম, আমাদের নবী তোমাদের নবীর পূর্বে এসেছিলেন, আমরা তোমাদের চেয়ে উত্তম এবং আমরা আল্লাহ তাআলার নিকট তোমাদের চেয়ে প্রিয়। তারা এগুলো মিথ্যা বলেছিল।

মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহই অবতীর্ণ করেছেন সত্যসহ কিতাব। অর্থাৎ তার নিকট হতে তাঁর নবীদের উপর অবতারিত কিতাবসমূহ। আর তিনি অবতীর্ণ করেছেন তুলাদণ্ড। তাহলে আদল ও ইনসাফ। আল্লাহ তাআলার এই উক্তিটি তাঁর নিম্নের উক্তির মতঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি আমার রাসূলদেরকে প্রকাশ্য দলীল প্রমাণাদিসহ প্রেরণ করেছি এবং তাদের সাথে অবতীর্ণ করেছি কিতাব ও তুলাদণ্ড, যাতে মানুষ ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।”(৫৭:২৫) আর এক জায়গায় আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন মানদণ্ড, যাতে তোমরা ভারসাম্য লংঘন না কর। ওজনের ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিয়ো না।”(৫৫:৭-৯)

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ তুমি কি জান যে, কিয়ামত খুবই আসন্ন?’ এতে ভয় ও লোভ উভয়ই রয়েছে। আর এর দ্বারা দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত করাও উদ্দেশ্য।

অতঃপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যারা এটাকে (কিয়ামতকে) বিশ্বাস করে না তারাই এটা ত্বরান্বিত করতে চায় এবং বলে যে, কিয়ামত কেন আসে না? তারা আরো বলেঃ “যদি সত্যবাদী হও তবে কিয়ামত সংঘটিত কর।” কেননা, তাদের মতে কিয়ামত সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। অপরপক্ষে মুমিনরা এর কথা শুনে কেঁপে ওঠে। কেননা, তাদের দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, বিচার দিবসের আগমন সুনিশ্চিত। তারা এই কিয়ামতকে ভয় করে এমন কর্ম করতে থাকে যা তাদের ঐদিনে কাজে লাগবে।

মুতাওয়াতিরের পর্যায়ে পড়ে এরূপ একটি বিশুদ্ধ হাদীসে আছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে উচ্চস্বরে ডাক দিয়ে বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! কিয়ামত কখন হবে?” এটা সফরের ঘটনা। লোকটি রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে কিছু দূরে ছিল। তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যা, হঁ্যা, কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, তুমি এর জন্যে কি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছো তাই বল?” সে জবাব দিলোঃ “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর মহব্বত।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “তুমি তাদের সঙ্গেই থাকবে যাদেরকে তুমি মহব্বত কর।” আর একটি হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক ব্যক্তি তার সঙ্গেই থাকবে যাকে সে মহব্বত করে।` এ হাদীসটি অবশ্যই মুতাওয়াতির। মোটকথা, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ঐ লোকটির প্রশ্নের জবাবে কিয়ামতের সময় নির্দিষ্ট করে বলেননি, বরং তাকে কিয়ামতের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেন। সুতরাং কিয়ামতের সময়ের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই।

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামত সম্পর্কে যারা বাক-বিতণ্ডা করে তারা ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে। অর্থাৎ কিয়ামতের ব্যাপারে যে ব্যক্তি তর্ক-বিতর্ক করে, ওকে অস্বীকার করে এবং ওটা সংঘটিত হওয়াকে অসম্ভব বলে বিশ্বাস রাখে সে নিরেট মূর্খ। তার সঠিক বোধশক্তি মোটেই নেই। সরল-সোজা পথ হতে সে বহু দূরে সরে পড়েছে। এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, তারা যমীন ও আসমানের প্রথম সৃষ্টিকর্তাকে স্বীকার করছে, অথচ মানুষের মৃত্যুর পর তাদেরকে পুনরায় যে তিনি জীবন দান করতে সক্ষম এটা স্বীকার করছে না। যিনি একবার বিনা নমুনায় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি দ্বিতীয়বার কি সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন না? অথচ তখন তো পূর্বের কিছু কিছু অংশ কোন না কোন আকারে অবশ্যই থাকবে! এটাকে কেন্দ্র করে পুনরায় সৃষ্টি করা কি তাঁর পক্ষে কঠিন? স্থির জ্ঞানও এটা মেনে নেয় যে, তখন সৃষ্টি করা তো আরো সহজ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।