সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 57)
হরকত ছাড়া:
لخلق السماوات والأرض أكبر من خلق الناس ولكن أكثر الناس لا يعلمون ﴿٥٧﴾
হরকত সহ:
لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ اَکْبَرُ مِنْ خَلْقِ النَّاسِ وَ لٰکِنَّ اَکْثَرَ النَّاسِ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۵۷﴾
উচ্চারণ: লাখালকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আকবারু মিন খালকিন্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: অবশ্যই আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড় বিষয়; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি অবশ্যই বড় বিষয়, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: অবশ্যই আসমান ও যমীনের সৃষ্টি মানুষ সৃষ্টির চেয়ে বড় (ব্যাপার)। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (অজ্ঞতা ও চিন্তা না করার কারণে) তা জানে না।
আহসানুল বায়ান: (৫৭) মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি তো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। [1]
মুজিবুর রহমান: মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা জানেনা।
ফযলুর রহমান: নিশ্চয়ই আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা মানুষ সৃষ্টি করার চেয়ে বড়। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (তা) জানে না।
মুহিউদ্দিন খান: মানুষের সৃষ্টি অপেক্ষা নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলের সৃষ্টি কঠিনতর। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না।
জহুরুল হক: মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি নিশ্চয়ই মানুষের সৃষ্টির চেয়ে কঠিনতর, কিন্ত অধিকাংশ লোকেই জানে না।
Sahih International: The creation of the heavens and earth is greater than the creation of mankind, but most of the people do not know.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৭. মানুষ সৃষ্টি অপেক্ষা আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি অবশ্যই বড় বিষয়, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৭) মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টি তো কঠিনতর, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, এরা আবার এ কথা অস্বীকার করছে কেন যে, মহান আল্লাহ মৃতকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না? অথচ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করার তুলনায় এ কাজ অনেক সহজ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৭-৫৯ আয়াতের তাফসীর :
( لَخَلْقُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ.....)
অত্র আয়াতে মূলত আল্লাহ তা‘আলা যে মৃত্যুর পর মানবজাতিকে পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম সে কথাই বলা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন : আকাশ ও জমিন সৃষ্টির তুলনায় তাদেরকে পুনরায় জীবিত করা কোন কঠিন কাজ নয়। এটা তাঁর নিকট অধিক সহজ একটি কাজ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللّٰهَ الَّذِيْ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلٰٓي أَنْ يُّحْيِيَ الْمَوْتٰي ط بَلٰٓي إِنَّه۫ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ)
“তারা কি এটুকুও বোঝে না, যে আল্লাহ জমিন ও আসমান সৃষ্টি করলেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে তিনি ক্লান্ত হননি, সেই আল্লাহ মৃতকে অবশ্যই জীবিত করার ক্ষমতা রাখেন। কেন নয়? নিশ্চয়ই তিনি সব কিছুর ওপর শক্তিশালী।” (সূরা আহক্বা-ফ ৪৬ : ৩৩) এ সম্পর্কে পূর্বে সূরা নাহ্লসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : অন্ধ ও চক্ষুষ্মান ব্যক্তি যেমন সমান নয় তেমনি ঈমানদার সদামলকারী ও খারাপ লোক এক-সমান নয়। আর তা পরিষ্কার হয়ে যাবে কিয়ামতের দিন যা অবশ্যই সংঘটিত হবে। কিন্তু এভাবে স্পষ্ট বর্ণনার পরেও অধিকাংশ লোক তা বিশ্বাস করে না বা তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না।
المسئ অর্থ হলো, “মন্দ কর্ম” এখানে যারা মন্দকর্মপরায়ণ তাদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তার মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে সক্ষম।
২. অন্ধ ও দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তি যেমন সমান হতে পারে না। তেমনি সৎ কাজ ও মন্দ কাজ কখনো সমান হতে পারে না। সৎ কাজের প্রতিদান জান্নাত, আর অসৎ কাজের প্রতিদান হলো জাহান্নাম।
৩. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে, এটাকে অস্বীকার করার কোনই সুযোগ নেই।
৪. সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্যের মাপকাঠি না। কারণ সংখ্যা বেশি হলেই যে তা সঠিক এমনটি নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৭-৫৯ নং আয়াতের তাফসীর:
ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহ বলেন যে, তিনি কিয়ামতের দিন মাখলুককে নতুনভাবে অবশ্যই সৃষ্টি করবেন। তিনি যখন আকাশ ও পৃথিবীর মত বিরাট বস্তু সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন তখন মানুষকে সৃষ্টি করা অথবা ধ্বংস করে দিয়ে পুনরায় তাদেরকে সৃষ্টি করা তার কাছে মোটেই কঠিন নয়। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা কি দেখে না যে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং ওগুলো সৃষ্টি করতে ক্লান্ত হননি, তিনি কি মৃতকে জীবিত করতে সক্ষম নন? হাঁ (অবশ্যই তিনি সক্ষম), নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।” (৪৬:৩৩) যার সামনে এমন সুস্পষ্ট দলীল বিদ্যমান তার পক্ষে এটা অবিশ্বাস করা তার অজ্ঞানতা ও নির্বুদ্ধিতারই পরিচায়ক বটে। সে যে একেবারে নির্বোধ এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, বিরাট হতে বিরাটতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে, অথচ ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম জিনিসকে মেনে নেয়া হচ্ছে না! বরং এটাকে অসম্ভব মনে করা হচ্ছে! অন্ধ ও চক্ষুষ্মনের পার্থক্য যেমন প্রকাশমান, অনুরূপভাবে মুসলিম ও মুজরিমের পার্থক্যও সুস্পষ্ট। সৎকর্মশীল ও দুষ্কৃতিকারীর পার্থক্য পরিষ্কার। অধিকাংশ লোকই উপদেশ খুব কমই গ্রহণ করে থাকে।
কিয়ামত যে সংঘটিত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। তথাপি অধিকাংশ লোকই এটা বিশ্বাস করে না।
একজন ইয়ামনবাসী তার শোনা কথা বর্ণনা করেছেন যে, যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তখন মানুষের উপর খুব বেশী বিপদাপদ আপতিত হবে এবং সূর্যের প্রখরতা খুব বেশী হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।