সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 35)
হরকত ছাড়া:
الذين يجادلون في آيات الله بغير سلطان أتاهم كبر مقتا عند الله وعند الذين آمنوا كذلك يطبع الله على كل قلب متكبر جبار ﴿٣٥﴾
হরকত সহ:
الَّذِیْنَ یُجَادِلُوْنَ فِیْۤ اٰیٰتِ اللّٰهِ بِغَیْرِ سُلْطٰنٍ اَتٰهُمْ ؕ کَبُرَ مَقْتًا عِنْدَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ؕ کَذٰلِکَ یَطْبَعُ اللّٰهُ عَلٰی کُلِّ قَلْبِ مُتَکَبِّرٍ جَبَّارٍ ﴿۳۵﴾
উচ্চারণ: আল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদাল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি কালবি মুতাকাব্বিরিন জাব্বা-র।
আল বায়ান: যারা নিজদের কাছে আগত কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়া আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়। তাদের এ কাজ আল্লাহ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণার্হ। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহঙ্কারী স্বৈরাচারীর অন্তরে সীল মেরে দেন।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. যারা নিজেদের কাছে (তাদের দাবীর সমর্থনে) কোন দলীল-প্রমাণ না আসলেও আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। তাদের এ কাজ আল্লাহ্ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে খুবই ঘৃণার যোগ্য। এভাবে আল্লাহ্ মোহর করে দেন প্রত্যেক অহংকারী, স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ে।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা নিজেদের কাছে কোন যুক্তি-প্রমাণ না আসলেও আল্লাহর নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে বাক-বিতন্ডা করে। আল্লাহর দৃষ্টিতে আর মু’মিনদের দৃষ্টিতে (এ আচরণ) খুবই ঘৃণিত। আল্লাহ এভাবে প্রত্যেক দাম্ভিক স্বৈরাচারীর অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন।
আহসানুল বায়ান: (৩৫) যারা নিজেদের নিকট আগত কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয়[1] --তাদের এ কাজ আল্লাহ এবং বিশ্বাসীদের নিকট অতিশয় অসন্তোষের বিষয়।[2] এইভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন। [3]
মুজিবুর রহমান: যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকলেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয় তাদের এ কাজ আল্লাহ এবং মু’মিনদের দৃষ্টিতে অতিশয় ঘৃণাহ। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।
ফযলুর রহমান: যারা তাদের কাছে আগত কোন প্রমাণ ছাড়াই (অযৌক্তিকভাবে) আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্ক করে। এটা আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারীর অন্তরে সিল মেরে দেন।
মুহিউদ্দিন খান: যারা নিজেদের কাছে আগত কোন দলীল ছাড়াই আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক করে, তাদের একজন আল্লাহ ও মুমিনদের কাছে খুবই অসন্তোষজনক। এমনিভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী-স্বৈরাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেন।
জহুরুল হক: যারা তর্ক করে আল্লাহ্র বাণী সন্বন্ধে তাদের কাছে কোনো দলিল-প্রমাণের আগমন ব্যতীত। এটি খুবই ঘৃণিত আল্লাহ্র কাছে ও যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে। এইভাবেই আল্লাহ্ মোহর মেরে দেন প্রত্যেক গর্বিত স্বৈরাচারীর হৃদয়ের উপরে।
Sahih International: Those who dispute concerning the signs of Allah without an authority having come to them - great is hatred [of them] in the sight of Allah and in the sight of those who have believed. Thus does Allah seal over every heart [belonging to] an arrogant tyrant.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৫. যারা নিজেদের কাছে (তাদের দাবীর সমর্থনে) কোন দলীল-প্রমাণ না আসলেও আল্লাহর নিদর্শনাবলী সম্পর্কে বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। তাদের এ কাজ আল্লাহ্ ও মুমিনদের দৃষ্টিতে খুবই ঘৃণার যোগ্য। এভাবে আল্লাহ্ মোহর করে দেন প্রত্যেক অহংকারী, স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়ে।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ বিনা কারণে কারো মনে মোহর লাগিয়ে দেয়া হয় না। যার মধ্যে অহংকার ও স্বেচ্ছাচারিতা সৃষ্টি হয় লা'নতের এ মোহর কেবল তার মনের ওপরেই লাগানো হয়। ‘তাকাববুর’ অর্থ ব্যক্তির মিথ্যা অহংকার যার কারণে ন্যায় ও সত্যের সামনে মাথা নত করাকে সে তার মর্যাদার চেয়ে নীচু কাজ বলে মনে করে। স্বেচ্ছাচারিতা অর্থ আল্লাহর সৃষ্টির ওপর জুলুম করা। এ জুলুমের অবাধ লাইসেন্স লাভের জন্য ব্যক্তি আল্লাহর শরীয়াতের বাধ্য-বাধকতা মেনে নেয়া থেকে দূরে থাকে। ফিরআউন ও হামানের অন্তর যেমন মুসা আলাইহিস সালাম ও মুমিন ব্যক্তির উপদেশে প্রভাবান্বিত হয়নি, এমনিভাবে আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক উদ্ধত, স্বৈরাচারীর অন্তরে মোহর এটে দেন। ফলে তাদের অন্তরে ঈমানের নূর প্রবেশ করে না এবং সে ভাল-মন্দের পার্থক্য করতে পারবে না। আয়াতে مُتَكَبِّر ও جَبَّار শব্দদ্বয়কে قلب এর বিশেষণ করা হয়েছে। কারণ, সকল নৈতিকতা ও ক্রিয়াকর্মের উৎস হচ্ছে অন্তর। অন্তর থেকেই ভাল-মন্দ কর্ম জন্ম লাভ করে। এ কারণেই হাদীসে বলা হয়েছে, মানুষের দেহে একটি মাংসপিন্ড (অর্থাৎ অন্তরে) এমন আছে, যা ঠিক থাকলে সমগ্ৰ দেহ ঠিক থাকে এবং যা নষ্ট হলে সমগ্ৰ দেহ নষ্ট হয়ে যায়। [বুখারী: ৫২, মুসলিম: ১৫৯৯]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৫) যারা নিজেদের নিকট আগত কোন দলীল-প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতন্ডায় লিপ্ত হয়[1] --তাদের এ কাজ আল্লাহ এবং বিশ্বাসীদের নিকট অতিশয় অসন্তোষের বিষয়।[2] এইভাবে আল্লাহ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন। [3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণকৃত কোন দলীল তাদের কাছে নেই। তা সত্ত্বেও তারা আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর বিধি-বিধানের ব্যাপারে অন্যায়ভাবে তর্ক করে। যেমন, প্রত্যেক যুগের বাতিলপন্থীদের এটাই হল অভ্যাস।
[2] অর্থাৎ, তাদের এই মন্দ আচরণের কারণে কেবল মহান আল্লাহই অসন্তুষ্ট হন না, বরং মু’মিনরাও তাতে চরম অসন্তুষ্ট হন।
[3] অর্থাৎ, যেভাবে এই বিতর্ককারীদের অন্তরে মোহর এঁটে দেওয়া হয়েছে, ঐভাবেই এমন সকল ব্যক্তির অন্তরে মোহর এঁটে দেওয়া হয়, যারা আল্লাহর আয়াতের মোকাবেলায় অহংকার ও ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে। যার পরে ভাল তাদের নজরে ভাল দেখায় না এবং মন্দও তাদের নজরে মন্দ দেখায় না। বরং অনেক সময় মন্দ তাদের কাছে ভাল এবং ভাল তাদের কাছে মন্দ রূপে পরিগণিত হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৩-৪৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পূর্ববর্তী নাবী মূসা (আঃ)-এর জীবন বৃত্তান্ত উল্লেখ করে সান্ত্বনা প্রদান করছেন যে, পূর্ববর্তী যুগে যেমন নাবী-রাসূলগণই বিজয়ী হয়েছিলেন তদ্রুপ তুমিও তোমার সময়ের কাফির-মুশরিকদের ওপর বিজয়ী হবে। সুতরাং তাদের কথা বার্তায়, কার্য-কলাপে চিন্তিত ও ভীত হওয়ার কোনই কারণ নেই।
মূসা (আঃ) ফির‘আউনকে যেভাবে দীনের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন তা হলো, ফির‘আউন ছিল মিশরে বসবাসকারী ক্বিবতীদের বাদশাহ। সে ছিল অত্যাচারী ও জালিম এবং সর্বোচ্চ রব হওয়ার দাবীদার। সে মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় বানী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল এবং তাদের ওপর নানাভাবে কঠোর নির্যাতন চালাত। হামান ছিল তার মন্ত্রী ও তার প্রধান উপদেষ্টা। আর কারূন ছিল তার যুগের বিরাট বিত্তশালী ব্যক্তি। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-কে রিসালাত দিয়ে তাদের নিকট পাঠালেন এবং বললেন : তুমি ফির‘আউন, হামান এদের নিকট দীনের দা‘ওয়াত পৌঁছে দাও। যখন মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে তাদের নিকট আগমন করলেন তখন তারা তাঁকে জাদুকর ও পাগল বলে আখ্যায়িত করল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
(كَذٰلِكَ مَآ أَتَي الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا قَالُوْا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُوْنٌ قف- أَتَوَاصَوْا بِه۪ ج بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُوْنَ)
“এভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে, তারা বলেছে : তুমি তো এক জাদুকর অথবা উন্মাদ। তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে এসেছে? বস্তুত তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।” (সূরা আয্ যা-রিয়া-ত ৫১ : ৫২-৫৩)
এমনকি ফির‘আউন এ নির্দেশও দিলো যে, মূসা (আঃ)-সহ তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করো এবং এদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখো। এটি ছিল ঐ শাস্তি যে শাস্তি ফির‘আউন বানী ইসরাঈলকে দিয়েছিল মূসা (আঃ)-এর জন্মকে কেন্দ্র করে। এটা করার কারণ ছিল এই যে, যাতে করে বানী ইসরাঈলরা মূসা (আঃ)-এর আগমন নিজেদের জন্য মুসীবত ও অমঙ্গলের কারণ মনে করে। যেমন তারা তাই বলেছিল।
(قَالُوْآ أُوْذِيْنَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْۭ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا)
“তারা বলল : ‘আমাদের নিকট তোমার আসার পূর্বে আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তোমার আসার পরেও।’’ (সূরা আ‘রাফ ৭ : ১২৯)
তখন ফির‘আউন মূসা (আঃ)-কে হত্যা করার জন্য উদ্ধত হয়ে বলল : আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসা-কে হত্যা করি যাতে সে তার রবের শরণাপন্ন হয়। আর বানী ইসরাঈলকে এ বলে সতর্ক করল যে, তাঁর থেকে সাবধান হও, সে তোমাদেরকে তোমাদের দীন হতে বিচ্যুত করবে অথবা সে জমিনে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করবে।
যখন মূসা (আঃ) এ কথা জানতে পারলেন যে, ফিরআউন তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করছে, তখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শত্র“র ভয় করতেন তখন তিনি এ দু‘আ পড়তেন :
اللهم انا نجعلك في نحورهم ونعوذبك من شرورهم
অর্থ : হে আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে আমরা তাদের মুখোমুখি করছি, তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (আবূ দাঊদ হা. ১৫৩৭)
এমতাবস্থায় ফির‘আউনের বংশের একজন মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল সে বলল : তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এজন্য হত্যা করবে যে, সে বলে : আমার রব হলেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, আর সে এ বিষয়ে তোমাদের নিকট প্রমাণও উপস্থাপন করেছে? যদি তাঁর দাবী মিথ্যা হয় তাহলে এ জন্য সে দায়ী, আর যদি তার কথা সত্য হয় তাহলে তোমাদের তা পালন করতে বাধা কোথায়? সে ঈমানদার ব্যক্তি তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আরো বলল : আজ পৃথিবীতে তোমাদের কর্তৃত্ব, দেশে তোমরাই প্রবল। কিন্তু যখন আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসে যাবে তখন কে এ শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তাঁর কথার উত্তরে ফির‘আউন বলল : আমি তোমাদেরকে সঠিক পথেরই দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকি। তখন তারা ফির‘আউনেরই অনুসরণ করতে থাকল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
( فَاتَّبَعُوْآ أَمْرَ فِرْعَوْنَ ج وَمَآ أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيْدٍ)
“কিন্তু তারা ফির‘আউনের কার্যকলাপের অনুসরণ করত আর ফির‘আউনের কার্যকলাপ ভাল ছিল না।” (সূরা হূদ ১১ : ৯৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَه۫ وَمَا هَدٰي)
“আর ফির‘আউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সৎ পথ দেখায়নি।” (সূরা ত্বা-হা- ২০ : ৭৯)
তখন মু’মিন ব্যক্তিটি পুনঃরায় তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলল : আমি তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি, ‘আদ, সামূদ, তুব্বা সম্প্রদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, তারা আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল ফলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসেছিল এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় করি যে, তোমাদের অবস্থাও তেমনই হবে। আর আমি ভয় করি সেদিনের যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে কিন্তু তোমরা সেদিন এ শাস্তি থেকে পলায়ন করতে পারবে না। এরপর সে (মু’মিন ব্যক্তি) তাঁর সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী কার্য-কলাপের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিলো এবং বলল : যারা এরূপ কার্য-কলাপ করে তারা মূলত অতিশয় ঘৃণিত মানুষ।
التناد এটি কিয়ামতের একটি নাম।
এ সকল উপদেশ শোনার পরও ফির‘আউন মূসা (আঃ)-এর রব অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলাকে উপহাস করণার্থে তার মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হামানকে নির্দেশ দিলো যে, সে যেন ফির‘আউনের জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করে যাতে আরোহন করে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং মহান আল্লাহকে উঁকি মেরে দেখতে পারে। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَقَالَ فِرْعَوْنُ يٰٓأَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ إلٰهٍ غَيْرِيْ فَأَوْقِدْ لِيْ يٰهَامٰنُ عَلَي الطِّيْنِ فَاجْعَلْ لِّيْ صَرْحًا لَّعَلِّيْٓ أَطَّلِعُ إِلٰٓي إلٰهِ مُوْسٰي لا وَإِنِّيْ لَأَظُنُّه۫ مِنَ الْكٰذِبِيْنَ)
“ফির‘আউন বলল : ‘হে পরিষদবর্গ। আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মা‘বূদ আছে বলে আমি জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি কর; হয়ত আমি তাতে উঠে মূসার মা‘বূদকে দেখতে পাব। তবে আমি অবশ্যই মনে করি সে মিথ্যাবদী।’’ (সূরা আল ক্বাসাস ২৮ : ৩৮)
এবং সে এও বলল যে, আল্লাহ তা‘আলা বলতে কিছু নেই। মূসা যে দাবী উত্থাপন করেছে তা আমি মিথ্যা মনে করি। এভাবেই ফির‘আউন সৎ পথে আসতে নিজে বিরত থাকল এবং তার সম্প্রদায়কেও বাধা দিল। আর সে যে ষড়যন্ত্র করেছিল তাও ব্যর্থ হলো।
ঈমানদার লোকটি পুনরায় তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলল : তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করব। তখন সে তাদেরকে পার্থিব জীবন যে নশ্বর এবং পরকালের জীবন চিরস্থাযী সে সম্পর্কে নসীহত করল। সে এও বললেন যে, যদি তোমরা দুনিয়াতে মন্দ কর্মে লিপ্ত হও তাহলে পরকালে তার প্রতিদান মন্দই পাবে, আর যদি ভাল আমল করো তাহলে তার প্রতিদান হিসেবে তোমরা পরকালে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে আর সেখানে তোমরা পাবে অপরিমেয় রিযিক এবং তোমাদের মন যা চাইবে তা-ই।
ঈমানদার ব্যক্তিটি তাঁর সম্প্রদায়কে এ কথাও বলল যে, এটা কতই না আশ্চার্যজনক যে, আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি মুক্তির পথে, যে পথে চললে তোমরা নাজাত পাবে। আর তোমরা কিনা তার বদৌলতে আমাকে আহ্বান করছ জাহান্নামের দিকে। তোমরা আমাকে নির্দেশ দিচ্ছ যেন আমি এক আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করি, আর তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করি। আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল এক আল্লাহর দিকে, আর তোমরা আমাকে আহ্বান করছ এমন এক ব্যক্তির অনুসরণ করার যে কিনা দুনিয়া ও পরকাল কোথাও অনুসরণের যোগ্য নয়। বস্তুত আমাদেরকে এক আল্লাহরই অনুসরণ করতে হবে যার দিকে আমরা সকলেই প্রত্যাবর্তিত হব।
সুতরাং যারা তাঁর অনুসরণ করবে না মূলত তারাই জাহান্নামী। সে এ সকল নসীহত করে সর্বশেষে বলল : আমি আমার রবের নিকট আমার ব্যাপার অর্পন করছি, তিনিই তা দেখবেন। আর তোমরা অচিরেই এ সকল কথা-বার্তা স্মরণ করবে অর্থাৎ তোমরা আমার এ সকল কথার সত্যতা ও প্রমাণ পেয়ে যাবে। এ সকল কথা বলে ঈমানদার লোকটি তাদের থেকে চলে গেল।
অবশেষে অবস্থা এমন হলো যে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ মু’মিন ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রের অনিষ্টতা হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করল ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে। অর্থাৎ তারা পানিতে ডুবে মৃত্যুমুখে পতিত হলো।
বারযাখ তথা কবরে ফির‘আউন ও তার দলবলের সামনে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় শাস্তির আগুনের শিখা পেশ করা হয়। এ আয়াত থেকে কবরের আযাবের কথা প্রমাণ হয়। আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রশ্নের জবাবে একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
نعم عذاب القبر حق
হ্যাঁ, কবরের আযাব সত্য। (সহীহ বুখারী হা. ১৩৭২) অনুরূপ একটি হাদীসে বলা হয়েছে : “যখন তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যু বরণ করে, তখন (কবরে) সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার স্থান দেখানো হয়। অর্থাৎ সে জান্নাতী হলে জান্নাত এবং জাহান্নামী হলে তার সামনে জাহান্নাম পেশ করা হয় এবং বলা হয়- এটা হলো তোমার আসল ঠিকানা যেখানে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে পাঠাবেন। (সহীহ বুখারী হা. ১৩৭৯)
এ থেকে আরো পরিস্কার হয় যে, সকাল-সন্ধ্যায় তাদের সাথে শাস্তির আগুন পেশ করার ব্যাপারটা কিয়ামতের আগেই। আর কিয়ামতের পূর্বে বারযাখও কবরেরই জীবন। ال (ফির‘আউনের বংশধর) বলতে তার জাতি এবং তার সকল অনুসারী। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হবে যে, ফির‘আউনসহ তার সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তথায় তাদেরকে চিরস্থাযী শাস্তিতে নিক্ষেপ করা হবে। যে শাস্তি থেকে তারা কোনদিন পরিত্রাণ পাবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. এক আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে।
২. অন্ধের ন্যায় দলীল-প্রমাণ ব্যতীত কোন কিছু মানা যাবে না।
৩. সত্য জিনিস জানতে পারলে যত বাধাই আসুক মিথ্যা পরিহার করে সত্যকে গ্রহণ করতে হবে।
৪. গর্ব-অহংকার করা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না।
৫. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৬. সৎ ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করা আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্ব।
৭. কবরের আযাব সত্য।
৮. আল্লাহ তা‘আলা সস্বত্তায় আরশের ওপর আছেন, এ কথা ফির‘আউনও জানত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩০-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
ঐ মুমিন লোকটির নসীহতের শেষাংশের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, তিনি স্বীয় কওমকে সম্বোধন করে আরো বলেনঃ “হে আমার কওম! যদি তোমরা আল্লাহর এই রাসূল (সঃ)-কে নামানো এবং নিজেদের হঠকারিতার উপর স্থির থাকো তবে আমি আশংকা করছি যে, তোমাদের পূর্ববর্তী কওমের মত তোমাদের উপরও আল্লাহর আযাব এসে পড়বে। হযরত নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়, আ’দ সম্প্রদায় এবং সামূদ সম্প্রদায়ের প্রতি লক্ষ্য কর যে, রাসূলদেরকে (আঃ) না মানার কারণে তাদের উপর কি ভীষণ আযাবই না আপতিত হয়েছিল! এমন কেউ ছিল না যে, তাদেরকে ঐ আযাব হতে রক্ষা করতে পারে। এতে তাদের প্রতি মহান আল্লাহর কোন যুলুম ছিল না। তার মহান সত্তা বান্দাদের উপর যুলুম করা হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। ওটা ছিল তাদের নিজেদেরই কৃতকর্মের ফল। আমি তোমাদের ব্যাপারে কিয়ামত দিবসের শাস্তিকে ভয় করি, যেই দিন অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।”
শিংগায় ফুৎকার দেয়ার হাদীসে রয়েছে যে, যখন যমীনের উপর ভূমিকম্প আসবে এবং যমীন ফেটে যাবে তখন জনগণ ভয় ও সন্ত্রাসে হতবুদ্ধি হয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করবে এবং একে অপরকে ডাকাডাকি করতে থাকবে। যহহাক (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, এটা ঐ সময়ের বর্ণনা, যখন জাহান্নামকে আনয়ন করা হবে এবং জনগণ ওটা দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পালাতে থাকবে এবং ফেরেশতামণ্ডলী তাদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে ফিরিয়ে আনবেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “ফেরেশতারা আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে জ্বিন ও মনুষ্য সম্প্রদায়! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমা তোমরা যদি অতিক্রম করতে পার, অতিক্রম কর, কিন্তু তোমরা তা পারবে না শক্তি ব্যতিরেকে।” (৫৫:৩৩)
হযরত হাসান (রঃ) ও হযরত কাতাদা (রঃ)-এর কিরআতে অর্থাৎ (আরবী) অক্ষরে তাশদীদ রয়েছে। এটা (আরবী) বাক্য হতে গৃহীত হয়েছে। যখন উট বেয়াড়া ও উদ্ধত হয়ে উঠে তখন এই বাক্য বলা হয়ে থাকে।
বলা হয়েছে যে, যে দাঁড়িপাল্লায় আমল ওযন করা হবে সেখানে একজন ফেরেশতা থাকবেন। যার পুণ্য বেশী হবে তার ব্যাপারে ঐ ফেরেস্তা উচ্চ স্বরে ডাক দিয়ে বলবেনঃ “হে জনমণ্ডলী! অমুকের পুত্র অমুক সৌভাগ্যবান হয়ে গেছে এবং আজকের পরে তার ভাগ্য কখনো আর খারাপ হবে না। আর যার পুণ্য কমে যাবে তার সম্পর্কে ঐ ফেরেশতা উচ্চ স্বরে ডাক দিয়ে বলবেনঃ “অমুকের পুত্র অমুক হতভাগ্য হয়ে গেছে এবং সে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।”
হযরত কাতাদা (রঃ) বলেনঃ কিয়ামতকে (আরবী) বলার কারণ এই যে, প্রত্যেক কওমকে তাদের আমলসহ ডাক দেয়া হবে। জান্নাতবাসী ডাকবে জান্নাতবাসীকে এবং জাহান্নামবাসী ডাকবে জাহান্নামবাসীকে। এ কথাও বলা হয়েছে যে, জান্নাতবাসীরা জাহান্নামবাসীদেরকে ডাক দিবে এবং জাহান্নামবাসীরা জান্নাতবাসীদেরকে আহ্বান করবে বলেই কিয়ামত দিবসকে (আরবী) বলা হয়েছে। যেমন জান্নাতীরা জাহান্নামীদের ডাক দিয়ে বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমরা তো তা সত্য পেয়েছি। তোমাদের প্রতিপালক তোমাদেরকে যা বলেছিলেন তোমরাও তা সত্য পেয়েছো কি? তারা বলবে, হাঁ।” (৭:৪৪) আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে সম্বোধন করে বলবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা আল্লাহ্ জীবিকারূপে তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা হতে কিছু দাও। তারা বলবেঃ আল্লাহ্ এ দু'টি নিষিদ্ধ করেছেন কাফিরদের উপর।”(৭:৫০) আর এ কারণেও যে, আরাফবাসীরা জান্নাতবাসীদেরকে ও জাহান্নাম বাসীদেরকে ডাক দিবে। যেমন এগুলো সূরায়ে আ'রাফে বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম বাগাভী (রঃ) প্রমুখ গুরুজন এটাই গ্রহণ করেছেন যে, এসব কারণেই কিয়ামত দিবসকে (আরবী) বলা হয়েছে। এই উক্তিটি খুবই পছন্দনীয় বটে। তবে এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন মানুষ পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে, কিন্তু পালাবার কোন জায়গা পাবে না এবং তাদেরকে বলা হবেঃ আজ অবস্থান স্থল এটাই। সেই দিন আল্লাহর শাস্তি হতে রক্ষা করার কেউ থাকবে না। আল্লাহ ছাড়া ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী আর কেউই নেই। তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্যে কোন পথ প্রদর্শক নেই।
এরপর ইরশাদ হচ্ছে ? ইতিপূর্বে মিসরবাসীদের নিকট হযরত ইউসুফ (আঃ) আল্লাহর নবী হিসেবে আগমন করেছিলেন। তিনিই প্রেরিত হয়েছিলেন হযরত মূসা (আঃ)-এর পূর্বে। মিসরের আযীযও তিনি ছিলেন। তিনি স্বীয় উম্মতকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কওম তার কথা মানেনি। তবে পার্থিব শাসন ক্ষমতা তার ছিল বলে পার্থিব দিক দিয়ে তাদেরকে তাঁর অধীনতা স্বীকার করতেই হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহ্ বলেনঃ পরিশেষে যখন ইউসুফ (আঃ)-এর মৃত্যু হলো তখন তোমরা বলেছিলেঃ তার পরে আল্লাহ্ আর কাউকেও রাসূল করে প্রেরণ করবেন না। এই ছিল তাদের কুফরী ও অবিশ্বাসকরণ। এই ভাবে আল্লাহ্ বিভ্রান্ত করেন সীমালংঘনকারী ও সংশয়বাদীদেরকে। অর্থাৎ তোমাদের যে অবস্থা হয়েছে এই অবস্থাই এমন সবারই হয়ে থাকে যারা সীমালংঘন করে সংশয় সন্দেহের মধ্যে পতিত হয়। যারা সত্যকে মিথ্যা দ্বারা সরিয়ে দেয় এবং বিনা দলীলে প্রকৃত দলীলসমূহ পরিহার করে ও বিতর্কে লিপ্ত হয়। এ কারণে আল্লাহ তাদের প্রতি খুবই অসন্তুষ্ট। তাদের এ কার্যকলাপ যখন আল্লাহ্ তা'আলার অসন্তুষ্টির কারণ তখন মুমিনরাও তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট। যেসব লোকের মধ্যে এই ঘৃণ্য বিশেষণ থাকে তাদের অন্তরে আল্লাহ্ তা'আলা মোহর মেরে দেন, যার কারণে এর পরে তারা না ভাল-কে ভাল বলে বুঝতে পারে, না . মন্দকে মন্দ জ্ঞান করতে পারে। তাই তো মহান আল্লাহ বলেনঃ এই ভাবে আল্লাহ্ প্রত্যেক উদ্ধত ও স্বৈরাচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।
হযরত শা'বী (রঃ) বলেন যে, জাব্বার হলো ঐ ব্যক্তি যে দু’জন লোককে হত্যা করে। আবূ ইমরান জাওনী (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) বলেন যে, যে অন্যায়ভাবে কাউকেও হত্যা করে সেই হলো জাব্বার। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।