সূরা গাফির (আল মু‘মিন) (আয়াত: 36)
হরকত ছাড়া:
وقال فرعون ياهامان ابن لي صرحا لعلي أبلغ الأسباب ﴿٣٦﴾
হরকত সহ:
وَ قَالَ فِرْعَوْنُ یٰهَامٰنُ ابْنِ لِیْ صَرْحًا لَّعَلِّیْۤ اَبْلُغُ الْاَسْبَابَ ﴿ۙ۳۶﴾
উচ্চারণ: ওয়া কা-লা ফির‘আওনুইয়া-হা-মা-নুবনি লী সারহাল্লা‘আললীআবলুগুল আছবা-ব।
আল বায়ান: ফির‘আউন আরও বলল, ‘হে হামান, আমার জন্য একটি উঁচু ইমারত বানাও যাতে আমি অবলম্বন পাই’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৬. ফিরআউন আরও বলল, হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি অবলম্বন পাই—
তাইসীরুল ক্বুরআন: ফেরাউন বলল- হে হামান! তুমি আমার জন্য এক সুউচ্চ ইমারত তৈরি কর যাতে আমি উপায় পেয়ে যাই
আহসানুল বায়ান: (৩৬) ফিরআউন বলল, ‘হে হামান! আমার জন্য তুমি এক সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর;[1] যাতে আমি অবলম্বন পেতে পারি।
মুজিবুর রহমান: ফির‘আউন বললঃ হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি পাই অবলম্বন –
ফযলুর রহমান: ফেরাউন বলল, “হামান! তুমি আমার জন্য একটা টাওয়ার বানাও, যাতে আমি পথ পেয়ে যাই,
মুহিউদ্দিন খান: ফেরাউন বলল, হে হামান, তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর, হয়তো আমি পৌঁছে যেতে পারব।
জহুরুল হক: আর ফিরআউন বলল -- "হে হামান! আমার জন্য একটি মিনার তৈরি কর যাতে আমি পথ পেতে পারি --
Sahih International: And Pharaoh said, "O Haman, construct for me a tower that I might reach the ways -
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৬. ফিরআউন আরও বলল, হে হামান! আমার জন্য তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি অবলম্বন পাই—
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৬) ফিরআউন বলল, ‘হে হামান! আমার জন্য তুমি এক সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর;[1] যাতে আমি অবলম্বন পেতে পারি।
তাফসীর:
[1] এটা হল ফিরআউনের ঔদ্ধত্য ও তার ধৃষ্টতার বর্ণনা যে, সে তার মন্ত্রী হামানকে বলল, একটি সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ কর, যাতে তার মাধ্যমে সে আসমানের দরজা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। أسباب মানে দরজাসমূহ বা রাস্তাসমূহ। আরো দেখুন, সূরা ক্বাসাসের ২৮নং আয়াত।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৩-৪৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে পূর্ববর্তী নাবী মূসা (আঃ)-এর জীবন বৃত্তান্ত উল্লেখ করে সান্ত্বনা প্রদান করছেন যে, পূর্ববর্তী যুগে যেমন নাবী-রাসূলগণই বিজয়ী হয়েছিলেন তদ্রুপ তুমিও তোমার সময়ের কাফির-মুশরিকদের ওপর বিজয়ী হবে। সুতরাং তাদের কথা বার্তায়, কার্য-কলাপে চিন্তিত ও ভীত হওয়ার কোনই কারণ নেই।
মূসা (আঃ) ফির‘আউনকে যেভাবে দীনের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন তা হলো, ফির‘আউন ছিল মিশরে বসবাসকারী ক্বিবতীদের বাদশাহ। সে ছিল অত্যাচারী ও জালিম এবং সর্বোচ্চ রব হওয়ার দাবীদার। সে মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় বানী ইসরাঈলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল এবং তাদের ওপর নানাভাবে কঠোর নির্যাতন চালাত। হামান ছিল তার মন্ত্রী ও তার প্রধান উপদেষ্টা। আর কারূন ছিল তার যুগের বিরাট বিত্তশালী ব্যক্তি। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আঃ)-কে রিসালাত দিয়ে তাদের নিকট পাঠালেন এবং বললেন : তুমি ফির‘আউন, হামান এদের নিকট দীনের দা‘ওয়াত পৌঁছে দাও। যখন মূসা (আঃ) আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশে তাদের নিকট আগমন করলেন তখন তারা তাঁকে জাদুকর ও পাগল বলে আখ্যায়িত করল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
(كَذٰلِكَ مَآ أَتَي الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا قَالُوْا سَاحِرٌ أَوْ مَجْنُوْنٌ قف- أَتَوَاصَوْا بِه۪ ج بَلْ هُمْ قَوْمٌ طَاغُوْنَ)
“এভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের নিকট যখনই কোন রাসূল এসেছে, তারা বলেছে : তুমি তো এক জাদুকর অথবা উন্মাদ। তারা কি একে অপরকে এই উপদেশই দিয়ে এসেছে? বস্তুত তারা এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।” (সূরা আয্ যা-রিয়া-ত ৫১ : ৫২-৫৩)
এমনকি ফির‘আউন এ নির্দেশও দিলো যে, মূসা (আঃ)-সহ তাঁর সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করো এবং এদের কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত রাখো। এটি ছিল ঐ শাস্তি যে শাস্তি ফির‘আউন বানী ইসরাঈলকে দিয়েছিল মূসা (আঃ)-এর জন্মকে কেন্দ্র করে। এটা করার কারণ ছিল এই যে, যাতে করে বানী ইসরাঈলরা মূসা (আঃ)-এর আগমন নিজেদের জন্য মুসীবত ও অমঙ্গলের কারণ মনে করে। যেমন তারা তাই বলেছিল।
(قَالُوْآ أُوْذِيْنَا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَنَا وَمِنْۭ بَعْدِ مَا جِئْتَنَا)
“তারা বলল : ‘আমাদের নিকট তোমার আসার পূর্বে আমরা নির্যাতিত হয়েছি এবং তোমার আসার পরেও।’’ (সূরা আ‘রাফ ৭ : ১২৯)
তখন ফির‘আউন মূসা (আঃ)-কে হত্যা করার জন্য উদ্ধত হয়ে বলল : আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসা-কে হত্যা করি যাতে সে তার রবের শরণাপন্ন হয়। আর বানী ইসরাঈলকে এ বলে সতর্ক করল যে, তাঁর থেকে সাবধান হও, সে তোমাদেরকে তোমাদের দীন হতে বিচ্যুত করবে অথবা সে জমিনে ফিৎনা-ফাসাদ সৃষ্টি করবে।
যখন মূসা (আঃ) এ কথা জানতে পারলেন যে, ফিরআউন তাঁকে হত্যা করার ইচ্ছা করছে, তখন তিনি আল্লাহ তা‘আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করলেন। আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন শত্র“র ভয় করতেন তখন তিনি এ দু‘আ পড়তেন :
اللهم انا نجعلك في نحورهم ونعوذبك من شرورهم
অর্থ : হে আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে আমরা তাদের মুখোমুখি করছি, তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। (আবূ দাঊদ হা. ১৫৩৭)
এমতাবস্থায় ফির‘আউনের বংশের একজন মু’মিন ব্যক্তি যে তার ঈমানকে গোপন রেখেছিল সে বলল : তোমরা কি এক ব্যক্তিকে এজন্য হত্যা করবে যে, সে বলে : আমার রব হলেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, আর সে এ বিষয়ে তোমাদের নিকট প্রমাণও উপস্থাপন করেছে? যদি তাঁর দাবী মিথ্যা হয় তাহলে এ জন্য সে দায়ী, আর যদি তার কথা সত্য হয় তাহলে তোমাদের তা পালন করতে বাধা কোথায়? সে ঈমানদার ব্যক্তি তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আরো বলল : আজ পৃথিবীতে তোমাদের কর্তৃত্ব, দেশে তোমরাই প্রবল। কিন্তু যখন আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসে যাবে তখন কে এ শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? তাঁর কথার উত্তরে ফির‘আউন বলল : আমি তোমাদেরকে সঠিক পথেরই দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকি। তখন তারা ফির‘আউনেরই অনুসরণ করতে থাকল। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
( فَاتَّبَعُوْآ أَمْرَ فِرْعَوْنَ ج وَمَآ أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيْدٍ)
“কিন্তু তারা ফির‘আউনের কার্যকলাপের অনুসরণ করত আর ফির‘আউনের কার্যকলাপ ভাল ছিল না।” (সূরা হূদ ১১ : ৯৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَأَضَلَّ فِرْعَوْنُ قَوْمَه۫ وَمَا هَدٰي)
“আর ফির‘আউন তার সম্প্রদায়কে পথভ্রষ্ট করেছিল এবং সৎ পথ দেখায়নি।” (সূরা ত্বা-হা- ২০ : ৭৯)
তখন মু’মিন ব্যক্তিটি পুনঃরায় তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলল : আমি তোমাদের পূর্ববর্তী জাতি, ‘আদ, সামূদ, তুব্বা সম্প্রদায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, তারা আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল ফলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসেছিল এবং আমি তোমাদের ব্যাপারে ভয় করি যে, তোমাদের অবস্থাও তেমনই হবে। আর আমি ভয় করি সেদিনের যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে কিন্তু তোমরা সেদিন এ শাস্তি থেকে পলায়ন করতে পারবে না। এরপর সে (মু’মিন ব্যক্তি) তাঁর সম্প্রদায়ের পূর্ববর্তী কার্য-কলাপের কথা তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিলো এবং বলল : যারা এরূপ কার্য-কলাপ করে তারা মূলত অতিশয় ঘৃণিত মানুষ।
التناد এটি কিয়ামতের একটি নাম।
এ সকল উপদেশ শোনার পরও ফির‘আউন মূসা (আঃ)-এর রব অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলাকে উপহাস করণার্থে তার মন্ত্রী ও উপদেষ্টা হামানকে নির্দেশ দিলো যে, সে যেন ফির‘আউনের জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করে যাতে আরোহন করে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এবং মহান আল্লাহকে উঁকি মেরে দেখতে পারে। যেমন অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَقَالَ فِرْعَوْنُ يٰٓأَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِّنْ إلٰهٍ غَيْرِيْ فَأَوْقِدْ لِيْ يٰهَامٰنُ عَلَي الطِّيْنِ فَاجْعَلْ لِّيْ صَرْحًا لَّعَلِّيْٓ أَطَّلِعُ إِلٰٓي إلٰهِ مُوْسٰي لا وَإِنِّيْ لَأَظُنُّه۫ مِنَ الْكٰذِبِيْنَ)
“ফির‘আউন বলল : ‘হে পরিষদবর্গ। আমি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন মা‘বূদ আছে বলে আমি জানি না। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি কর; হয়ত আমি তাতে উঠে মূসার মা‘বূদকে দেখতে পাব। তবে আমি অবশ্যই মনে করি সে মিথ্যাবদী।’’ (সূরা আল ক্বাসাস ২৮ : ৩৮)
এবং সে এও বলল যে, আল্লাহ তা‘আলা বলতে কিছু নেই। মূসা যে দাবী উত্থাপন করেছে তা আমি মিথ্যা মনে করি। এভাবেই ফির‘আউন সৎ পথে আসতে নিজে বিরত থাকল এবং তার সম্প্রদায়কেও বাধা দিল। আর সে যে ষড়যন্ত্র করেছিল তাও ব্যর্থ হলো।
ঈমানদার লোকটি পুনরায় তাঁর সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বলল : তোমরা আমার অনুসরণ করো, আমি তোমাদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করব। তখন সে তাদেরকে পার্থিব জীবন যে নশ্বর এবং পরকালের জীবন চিরস্থাযী সে সম্পর্কে নসীহত করল। সে এও বললেন যে, যদি তোমরা দুনিয়াতে মন্দ কর্মে লিপ্ত হও তাহলে পরকালে তার প্রতিদান মন্দই পাবে, আর যদি ভাল আমল করো তাহলে তার প্রতিদান হিসেবে তোমরা পরকালে চিরস্থায়ী জান্নাতে প্রবেশ করবে আর সেখানে তোমরা পাবে অপরিমেয় রিযিক এবং তোমাদের মন যা চাইবে তা-ই।
ঈমানদার ব্যক্তিটি তাঁর সম্প্রদায়কে এ কথাও বলল যে, এটা কতই না আশ্চার্যজনক যে, আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি মুক্তির পথে, যে পথে চললে তোমরা নাজাত পাবে। আর তোমরা কিনা তার বদৌলতে আমাকে আহ্বান করছ জাহান্নামের দিকে। তোমরা আমাকে নির্দেশ দিচ্ছ যেন আমি এক আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করি, আর তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করি। আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল এক আল্লাহর দিকে, আর তোমরা আমাকে আহ্বান করছ এমন এক ব্যক্তির অনুসরণ করার যে কিনা দুনিয়া ও পরকাল কোথাও অনুসরণের যোগ্য নয়। বস্তুত আমাদেরকে এক আল্লাহরই অনুসরণ করতে হবে যার দিকে আমরা সকলেই প্রত্যাবর্তিত হব।
সুতরাং যারা তাঁর অনুসরণ করবে না মূলত তারাই জাহান্নামী। সে এ সকল নসীহত করে সর্বশেষে বলল : আমি আমার রবের নিকট আমার ব্যাপার অর্পন করছি, তিনিই তা দেখবেন। আর তোমরা অচিরেই এ সকল কথা-বার্তা স্মরণ করবে অর্থাৎ তোমরা আমার এ সকল কথার সত্যতা ও প্রমাণ পেয়ে যাবে। এ সকল কথা বলে ঈমানদার লোকটি তাদের থেকে চলে গেল।
অবশেষে অবস্থা এমন হলো যে, আল্লাহ তা‘আলা ঐ মু’মিন ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রের অনিষ্টতা হতে রক্ষা করলেন এবং কঠিন শাস্তি পরিবেষ্টন করল ফির‘আউন ও তার সম্প্রদায়কে। অর্থাৎ তারা পানিতে ডুবে মৃত্যুমুখে পতিত হলো।
বারযাখ তথা কবরে ফির‘আউন ও তার দলবলের সামনে প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় শাস্তির আগুনের শিখা পেশ করা হয়। এ আয়াত থেকে কবরের আযাবের কথা প্রমাণ হয়। আয়িশাহ (রাঃ)-এর প্রশ্নের জবাবে একদা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন :
نعم عذاب القبر حق
হ্যাঁ, কবরের আযাব সত্য। (সহীহ বুখারী হা. ১৩৭২) অনুরূপ একটি হাদীসে বলা হয়েছে : “যখন তোমাদের মধ্যে কেউ মৃত্যু বরণ করে, তখন (কবরে) সকাল সন্ধ্যায় তাকে তার স্থান দেখানো হয়। অর্থাৎ সে জান্নাতী হলে জান্নাত এবং জাহান্নামী হলে তার সামনে জাহান্নাম পেশ করা হয় এবং বলা হয়- এটা হলো তোমার আসল ঠিকানা যেখানে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে পাঠাবেন। (সহীহ বুখারী হা. ১৩৭৯)
এ থেকে আরো পরিস্কার হয় যে, সকাল-সন্ধ্যায় তাদের সাথে শাস্তির আগুন পেশ করার ব্যাপারটা কিয়ামতের আগেই। আর কিয়ামতের পূর্বে বারযাখও কবরেরই জীবন। ال (ফির‘আউনের বংশধর) বলতে তার জাতি এবং তার সকল অনুসারী। আর যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেদিন ফেরেশতাদের নির্দেশ দেয়া হবে যে, ফির‘আউনসহ তার সম্প্রদায়কে কঠিন শাস্তিতে নিক্ষেপ করো। তথায় তাদেরকে চিরস্থাযী শাস্তিতে নিক্ষেপ করা হবে। যে শাস্তি থেকে তারা কোনদিন পরিত্রাণ পাবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. এক আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে।
২. অন্ধের ন্যায় দলীল-প্রমাণ ব্যতীত কোন কিছু মানা যাবে না।
৩. সত্য জিনিস জানতে পারলে যত বাধাই আসুক মিথ্যা পরিহার করে সত্যকে গ্রহণ করতে হবে।
৪. গর্ব-অহংকার করা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না।
৫. পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
৬. সৎ ব্যক্তিদেরকে সাহায্য করা আল্লাহ তা‘আলার দায়িত্ব।
৭. কবরের আযাব সত্য।
৮. আল্লাহ তা‘আলা সস্বত্তায় আরশের ওপর আছেন, এ কথা ফির‘আউনও জানত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৬-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা ফিরাউনের হঠকারিতা ও অহংকারের খবর দিচ্ছেন যে, সে তার উযীর হামানকে বললোঃ হে হামান! তুমি আমার জন্যে একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর। ইষ্টক ও চূর্ণ দ্বারা পাকা ও খুবই উচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ কর। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে হামান! ইট পাকা করে আমার জন্যে সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ কর।”(২৮:৩৮)।
ইবরাহীম নাখঈ (রঃ)-এর উক্তি এই যে, কবরকে পাকা করা ও তাতে চুনকাম করাকে পূর্বযুগীয় গুরুজন অপছন্দ করতেন। (এটা ইমাম ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
ফিরাউন বললোঃ আমি এ প্রাসাদ এ জন্যেই নির্মাণ করাতে চাচ্ছি যে, যাতে আমি আসমানের দর ও আসপথ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারি। অতঃপর যেন আমি মূসা (আঃ)-এর মাবুদকে দেখতে পাই। তবে আমি জানি যে, মূসা (আঃ) মিথ্যাবাদী। সে যে বলছে, আল্লাহ্ তাকে পাঠিয়েছেন এটা সম্পূর্ণ বাজে ও মিথ্যা কথা।
আসলে ফিরাউনের এটা একটা প্রতারণা ছিল এবং সে তার প্রজাবর্গের উপর এটা প্রকাশ করতে চেয়েছিল যে, সে এমন কাজ করতে যাচ্ছে যার দ্বারা মূসা (আঃ)-এর মিথ্যা খুলে যাবে এবং তার মত তার প্রজাদেরও বিশ্বাস হয়ে যাবে যে, মূসা (আঃ) প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। ফিরাউনকে সরল পথ হতে নিবৃত্ত করা হয়েছিল এবং তার ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছিল। ওটা হয়েছিল তার জন্যে ক্ষতিকর এবং ওটা তাকে ধ্বংসের মুখেই ঠেলে দিয়েছিল।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।