আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 25)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 25)



হরকত ছাড়া:

فكيف إذا جمعناهم ليوم لا ريب فيه ووفيت كل نفس ما كسبت وهم لا يظلمون ﴿٢٥﴾




হরকত সহ:

فَکَیْفَ اِذَا جَمَعْنٰهُمْ لِیَوْمٍ لَّا رَیْبَ فِیْهِ ۟ وَ وُفِّیَتْ کُلُّ نَفْسٍ مَّا کَسَبَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ﴿۲۵﴾




উচ্চারণ: ফাকাইফা ইযা-জামা‘না-হুম লিইয়াওমিল লা-রাইবা ফীহি ওয়া উফফিয়াত কুল্লু নাফছিম মা-কাছাবাত ওয়াহুম লা-ইউজলামূন।




আল বায়ান: সুতরাং কী অবস্থা হবে? যখন আমি তাদেরকে এমন দিনে সমবেত করব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে এবং তাদেরকে যুলম করা হবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. সুতরাং (সেদিন) কি অবস্থা হবে? যেদিন আমি তাদেরকে একত্র করব যাতে কোন সন্দেহ নেই এবং প্রত্যেককে তাদের অর্জিত কাজের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে। আর তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অনন্তর তাদের কী দশা ঘটবে, যখন আমি তাদেরকে সেই দিনে একত্রিত করব, যে দিনটি সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে কোনই সন্দেহ নেই এবং প্রত্যেককে তার অর্জিত প্রতিফল পূর্ণভাবে দেয়া হবে আর তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।




আহসানুল বায়ান: (২৫) কিন্তু যেদিন আমি তাদেরকে একত্র করব, সেই (শেষ বিচারের) দিন তাদের কি দশা হবে, যেদিন সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই? (যেদিন) প্রত্যেককে তার কৃতকার্যের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না। [1]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর যে দিন আমি তাদেরকে একত্রিত করব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, তখন তাদের কি দশা হবে? এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা অর্জন করেছে তা সম্যক রূপে প্রদত্ত হবে এবং তারা অত্যাচারিত হবেনা।



ফযলুর রহমান: কিন্তু যখন আমি তাদেরকে এমন এক দিনে একত্র করব যে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই আর (সেদিন) যে যা উপার্জন করেছে প্রত্যেককে তা পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং (প্রতিদান প্রদানে) কারো প্রতি অবিচার করা হবে না তখন কেমন হবে?



মুহিউদ্দিন খান: কিন্তু তখন কি অবস্থা দাঁড়াবে যখন আমি তাদেরকে একদিন সমবেত করবো যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই আর নিজেদের কৃতকর্ম তাদের প্রত্যেকেই পাবে তাদের প্রাপ্য প্রদান মোটেই অন্যায় করা হবে না।



জহুরুল হক: কাজেই কেমন হবে, যখন আমরা তাদের জমা করবো এমন এক দিনে যার সন্বন্ধে নেই কোনো সন্দেহ, এবং প্রত্যেক সত্ত্বাকে পুরোপুরি প্রতিদান করা হবে যা সে অর্জন করেছে, আর তাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না?



Sahih International: So how will it be when We assemble them for a Day about which there is no doubt? And each soul will be compensated [in full for] what it earned, and they will not be wronged.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৫. সুতরাং (সেদিন) কি অবস্থা হবে? যেদিন আমি তাদেরকে একত্র করব যাতে কোন সন্দেহ নেই এবং প্রত্যেককে তাদের অর্জিত কাজের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেয়া হবে। আর তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৫) কিন্তু যেদিন আমি তাদেরকে একত্র করব, সেই (শেষ বিচারের) দিন তাদের কি দশা হবে, যেদিন সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই? (যেদিন) প্রত্যেককে তার কৃতকার্যের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না। [1]


তাফসীর:

[1] কিয়ামতের দিন তাদের এই মৌখিক দাবী এবং ভ্রান্ত ধারণা কোন কাজে আসবে না। সেদিন মহান আল্লাহ তাঁর সূক্ষ্ণ সুবিচারের মাধ্যমে প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পরিপূর্ণ প্রতিদান দেবেন। কারো উপর কোন প্রকার যুলুম করা হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূলঃ



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়াহূদীদের একটি দলের সাথে তাদের পাঠশালায় প্রবেশ করে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করেন। নু‘আইম বিন আমর ও হারেস বিন যায়েদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল: হে মুহাম্মাদ! তুমি কোন্ দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা দু’জন বলল: ইবরাহীম (আঃ) তো ইয়াহূদী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তা হলে তাওরাত নিয়ে আস! তা আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবে। তারা তাওরাত নিয়ে আসতে অস্বীকার করল। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (তাফসীর কুরতুবী ২/৩৯)



এ আয়াতগুলোতে মদীনার ইয়াহূদীদেরকে বুঝানো হয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই ইসলাম গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়নি। তারা ইসলাম, মুসলিম ও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)্-এর বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্র করার কাজে লিপ্ত থাকত। ফলে তাদের দু’টি গোত্রকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করে দেয়া হয়েছিল এবং একটি গোত্রের লোকেদেরকে চুক্তি ভঙ্গের অপরাধে হত্যা করা হয়েছিল। এসব ইয়াহূদীদেরকে তাদের মাঝে ফায়সালার জন্য কুরআনের বিধানের দিকে আহ্বান করলে মুখ ফিরিয়ে নিত। তাদের এ অবাধ্যতার কারণ হল, তারা বলতো: আমরা কিছু দিন মাত্র জাহান্নামে থাকব এরপর জান্নাতে চলে যাব।



এটা তাদের মৌখিক দাবী। কিয়ামাতের দিন এ দাবী খাটবে না, সেদিন যে যা আমল করেছে তার প্রতিদান পুরোপুরি পাবে।



এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্য প্রযোজ্য; তবে আমাদের শরীয়ত তাদের যা রহিত করে দিয়েছে তা প্রযোজ্য নয়।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইয়াহূদীরা হল ইসলাম ও মুসলিমদের প্রধান শত্র“।

২. কুরআন ও হাদীসের সঠিক ফায়সালা মেনে না নেয়া দীনকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা তাদের এ দাবীতেও মিথ্যাবাদী যে, তাওরাত ও ইঞ্জীলের উপর তাদের বিশ্বাস রয়েছে। কেননা, ঐ কিতাবগুলোর নির্দেশ অনুসারে যখন তাদেরকে শেষ নবী (সঃ)-এর-আনুগত্যের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। এর দ্বারা তাদের বড় রকমের অবাধ্যতা, অহংকার এবং বিরোধিতা প্রকাশ পাচ্ছে। সত্যের এ বিরোধিতা ও বৃথা অবাধ্যতার উপর এ বিশ্বাসই তাদের সাহস যুগিয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার কিতাবে না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের পক্ষ হতে বানিয়ে নিয়ে বলেঃ আমরা তো নির্দিষ্ট কয়েক দিন মাত্র জাহান্নামে অবস্থান করবো। অর্থাৎ মাত্র সাত দিন। দুনিয়ার হিসেবে প্রতি হাজার বছর পরে একদিন। এর পুরো তাফসীর সূরা-ই-বাকারায় হয়ে গেছে। এ বাজে ও অলীক কল্পনা তাদেরকে এ বাতিল দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। অথচ এটা স্বয়ং তাদেরও জানা আছে যে, না আল্লাহ তাআলা এ কথা বলেছেন, না তাদের নিকট কোন কিতাবী দলীল রয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমকের সুরে বলেনঃ “কিয়ামতের দিন তাদের কি অবস্থা হবে? তারা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যে অপবাদ দিয়েছে, নবীদেরকে ও হক পন্থী আলেমদেরকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তা'আলার নিকট তাদেরকে তাদের প্রত্যেকটি কাজের হিসেব দিতে হবে এবং এক একটি পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে। ঐদিনের আগমন সম্বন্ধে কোনই সন্দেহ নেই। ঐদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং কারও উপর কোন প্রকারের অত্যাচার করা হবে না'।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।