আল কুরআন


সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 24)

সূরা আলে-ইমরান (আয়াত: 24)



হরকত ছাড়া:

ذلك بأنهم قالوا لن تمسنا النار إلا أياما معدودات وغرهم في دينهم ما كانوا يفترون ﴿٢٤﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ بِاَنَّهُمْ قَالُوْا لَنْ تَمَسَّنَا النَّارُ اِلَّاۤ اَیَّامًا مَّعْدُوْدٰتٍ ۪ وَ غَرَّهُمْ فِیْ دِیْنِهِمْ مَّا کَانُوْا یَفْتَرُوْنَ ﴿۲۴﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-লূ লান তামাছছানান্না-রু ইল্লা-আইয়া-মাম মা‘দূদা-তিওঁ ওয়াগাররাহুম ফী দীনিহিম মা-কা-নূ ইয়াফতারুন।




আল বায়ান: এর কারণ হল, তারা বলে, ‘গুটি কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না’। আর তারা যা মিথ্যা রচনা করত, তা তাদেরকে তাদের দীনের ব্যাপারে প্রতারিত করেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৪. এটা এজন্যে যে তারা বলে থাকে, মাত্র কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না। আর তাদের নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: এটা এজন্য যে, তারা বলে, দিন কতক ছাড়া জাহান্নামের আগুন কক্ষনো আমাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তাদের কল্পিত ধারণাসমূহ দ্বীনের ব্যাপারে তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে।




আহসানুল বায়ান: (২৪) এ জন্য যে তারা বলে, ‘নির্দিষ্ট কিছু দিন ব্যতীত দোযখের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে না।’ আসলে তাদের নিজেদের ধর্ম সম্বন্ধে (উক্ত) মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে। [1]



মুজিবুর রহমান: এটা এ জন্য যে, তারা বলেঃ নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন ব্যতীত জাহান্নামের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবেনা; এবং তারা যা স্থির করেছে, তাদের ধর্ম বিষয়ে ওটা তাদেরকে প্রতারিত করেছে।



ফযলুর রহমান: এর কারণ, তারা বলে, “অল্প কয়েকদিন ব্যতীত (দোযখের) আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে না।” নিজেদের ধর্ম সম্পর্কে তাদের (এরূপ) মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: তা এজন্য যে, তারা বলে থাকে যে, দোযখের আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না; তবে সামান্য হাতে গোনা কয়েকদিনের জন্য স্পর্শ করতে পারে। নিজেদের উদ্ভাবিত ভিত্তিহীন কথায় তারা ধোকা খেয়েছে।



জহুরুল হক: এমন ছিল, কারণ তারা বলে -- "আগুন আমাদের কদাচ স্পর্শ করবে না গুনতির কয়েকটি দিন ছাড়া।" আর তাদের ধর্মমতে তারা নিজেদের প্রতারণা করছে তারা যা জালিয়াতি করে চলেছে তার দ্বারা।



Sahih International: That is because they say, "Never will the Fire touch us except for [a few] numbered days," and [because] they were deluded in their religion by what they were inventing.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৪. এটা এজন্যে যে তারা বলে থাকে, মাত্র কয়েকদিন ছাড়া আগুন আমাদেরকে কখনই স্পর্শ করবে না। আর তাদের নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে।(১)


তাফসীর:

(১) কাতাদা বলেন, তারা মনে করে থাকে যে, যে সময়টুকুতে তারা অর্থাৎ পূর্বপুরুষরা গো-বৎসের পূজা করেছিল, সে সময়টুকুতেই শুধু তাদের শাস্তি হবে। তারপর তাদের আর শাস্তি হবে না। এই যে বিশ্বাস তা কোন শক্তিশালী ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত নয়। তাদের ভিত্তি হচ্ছে দ্বীনের উপর মিথ্যা দাবী করা। কারণ তারা দাবী করে বলে থাকে যে, ‘আমরা আল্লাহর সন্তান-সন্তুতি ও প্রিয় মানুষ’ [সূরা আল-মায়িদাহ: ১৮] এটা অবশ্যই তাদের মিথ্যা উদ্ভাবন। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৪) এ জন্য যে তারা বলে, ‘নির্দিষ্ট কিছু দিন ব্যতীত দোযখের আগুন আমাদেরকে স্পর্শ করবে না।’ আসলে তাদের নিজেদের ধর্ম সম্বন্ধে (উক্ত) মিথ্যা উদ্ভাবন তাদেরকে প্রবঞ্চিত করেছে। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আল্লাহর কিতাবকে অমান্য করা এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণে তাদের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, তারা কখনোও জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর যদি জাহান্নামে প্রবেশ করেও তাহলে তা হবে কেবল কয়েক দিনের জন্য। আর এই মিথ্যা উদ্ভাবন ও অমূলক ধারণাই তাদেরকে প্রবঞ্চনা ও ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:



শানে নুযূলঃ



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়াহূদীদের একটি দলের সাথে তাদের পাঠশালায় প্রবেশ করে তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করেন। নু‘আইম বিন আমর ও হারেস বিন যায়েদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলল: হে মুহাম্মাদ! তুমি কোন্ দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: আমি ইবরাহীম (আঃ)-এর দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা দু’জন বলল: ইবরাহীম (আঃ) তো ইয়াহূদী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তা হলে তাওরাত নিয়ে আস! তা আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবে। তারা তাওরাত নিয়ে আসতে অস্বীকার করল। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (তাফসীর কুরতুবী ২/৩৯)



এ আয়াতগুলোতে মদীনার ইয়াহূদীদেরকে বুঝানো হয়েছে। তাদের অধিকাংশেরই ইসলাম গ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়নি। তারা ইসলাম, মুসলিম ও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)্-এর বিরুদ্ধে সবসময় ষড়যন্ত্র করার কাজে লিপ্ত থাকত। ফলে তাদের দু’টি গোত্রকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করে দেয়া হয়েছিল এবং একটি গোত্রের লোকেদেরকে চুক্তি ভঙ্গের অপরাধে হত্যা করা হয়েছিল। এসব ইয়াহূদীদেরকে তাদের মাঝে ফায়সালার জন্য কুরআনের বিধানের দিকে আহ্বান করলে মুখ ফিরিয়ে নিত। তাদের এ অবাধ্যতার কারণ হল, তারা বলতো: আমরা কিছু দিন মাত্র জাহান্নামে থাকব এরপর জান্নাতে চলে যাব।



এটা তাদের মৌখিক দাবী। কিয়ামাতের দিন এ দাবী খাটবে না, সেদিন যে যা আমল করেছে তার প্রতিদান পুরোপুরি পাবে।



এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, পূর্ববর্তীদের শরীয়ত আমাদের জন্য প্রযোজ্য; তবে আমাদের শরীয়ত তাদের যা রহিত করে দিয়েছে তা প্রযোজ্য নয়।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইয়াহূদীরা হল ইসলাম ও মুসলিমদের প্রধান শত্র“।

২. কুরআন ও হাদীসের সঠিক ফায়সালা মেনে না নেয়া দীনকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানেরা তাদের এ দাবীতেও মিথ্যাবাদী যে, তাওরাত ও ইঞ্জীলের উপর তাদের বিশ্বাস রয়েছে। কেননা, ঐ কিতাবগুলোর নির্দেশ অনুসারে যখন তাদেরকে শেষ নবী (সঃ)-এর-আনুগত্যের দিকে আহবান করা হয় তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে। এর দ্বারা তাদের বড় রকমের অবাধ্যতা, অহংকার এবং বিরোধিতা প্রকাশ পাচ্ছে। সত্যের এ বিরোধিতা ও বৃথা অবাধ্যতার উপর এ বিশ্বাসই তাদের সাহস যুগিয়েছে যে, আল্লাহ তা'আলার কিতাবে না থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের পক্ষ হতে বানিয়ে নিয়ে বলেঃ আমরা তো নির্দিষ্ট কয়েক দিন মাত্র জাহান্নামে অবস্থান করবো। অর্থাৎ মাত্র সাত দিন। দুনিয়ার হিসেবে প্রতি হাজার বছর পরে একদিন। এর পুরো তাফসীর সূরা-ই-বাকারায় হয়ে গেছে। এ বাজে ও অলীক কল্পনা তাদেরকে এ বাতিল দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। অথচ এটা স্বয়ং তাদেরও জানা আছে যে, না আল্লাহ তাআলা এ কথা বলেছেন, না তাদের নিকট কোন কিতাবী দলীল রয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ধমকের সুরে বলেনঃ “কিয়ামতের দিন তাদের কি অবস্থা হবে? তারা আল্লাহ তা'আলার উপর মিথ্যে অপবাদ দিয়েছে, নবীদেরকে ও হক পন্থী আলেমদেরকে হত্যা করেছে। আল্লাহ তা'আলার নিকট তাদেরকে তাদের প্রত্যেকটি কাজের হিসেব দিতে হবে এবং এক একটি পাপের শাস্তি ভোগ করতে হবে। ঐদিনের আগমন সম্বন্ধে কোনই সন্দেহ নেই। ঐদিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে এবং কারও উপর কোন প্রকারের অত্যাচার করা হবে না'।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।