আল কুরআন


সূরা আয-যুমার (আয়াত: 46)

সূরা আয-যুমার (আয়াত: 46)



হরকত ছাড়া:

قل اللهم فاطر السماوات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك في ما كانوا فيه يختلفون ﴿٤٦﴾




হরকত সহ:

قُلِ اللّٰهُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ عٰلِمَ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ اَنْتَ تَحْکُمُ بَیْنَ عِبَادِکَ فِیْ مَا کَانُوْا فِیْهِ یَخْتَلِفُوْنَ ﴿۴۶﴾




উচ্চারণ: কুল্লিলা-হুম্মা ফা-তিরাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি আনতা তাহকুমুবাইনা ‘ইবা-দিকা ফী মা-কা-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।




আল বায়ান: বল, ‘হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা, গায়েব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী; তুমি তোমার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবে যাতে তারা মতবিরোধ করছে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. বলুন, হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, গায়েব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে সে বিষয়ের ফয়সালা করে দিবেন যাতে তারা মতবিরোধ করছে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- হে আল্লাহ! আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানের অধিকারী, তুমি তোমার বান্দাহদের মাঝে মীমাংসা করে দেবে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে.




আহসানুল বায়ান: (৪৬) বল, ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা হে আল্লাহ! তোমার দাসগণ যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, তুমি সে বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবে।’ [1]



মুজিবুর রহমান: বলঃ হে আল্লাহ! আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, আপনি তাদের মধ্যে ওর ফাইসালা করে দিবেন।



ফযলুর রহমান: বল, “হে আল্লাহ, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান বিষয় সম্বন্ধে জ্ঞাত সত্তা! তুমিই তোমার বান্দাদের মধ্যে তাদের মতবিরোধের বিষয়ে মীমাংসা করতে পার।”



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, হে আল্লাহ আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন, যে বিষয়ে তারা মত বিরোধ করত।



জহুরুল হক: তুমি বলো -- "হে আল্লাহ্‌! মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর আদি-স্রষ্টা! অদৃশ্য ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা! তোমার বান্দাদের মধ্যে তুমি বিচার করে দাও সেই বিষয়ে যাতে তারা মতবিরোধ করছিল।"



Sahih International: Say, "O Allah, Creator of the heavens and the earth, Knower of the unseen and the witnessed, You will judge between your servants concerning that over which they used to differ."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৬. বলুন, হে আল্লাহ, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, গায়েব ও উপস্থিত বিষয়াদির জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দাদের মধ্যে সে বিষয়ের ফয়সালা করে দিবেন যাতে তারা মতবিরোধ করছে।(১)


তাফসীর:

(১) আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, আমি আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাজ্জদের সালাত কি দ্বারা শুরু করতেন? তিনি বললেন, তিনি যখন তাহাজ্জদের জন্যে উঠতেন তখন এ দো’আ পাঠ করতেনঃ

اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ , وَمِيكَائِيلَ , وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ , عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ، اللَّهُمَّ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنَ الْحَقِّ , إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

হে আল্লাহ! জিবরীল, মীকাইল ও ইসরাফীলের প্রভু, আসমানসমূহ ও যমীনের প্রভু, গায়েব ও প্রত্যক্ষ সবকিছুর জ্ঞানী, আপনিই আপনার বান্দারা যে সব বিষয়ে মতবিরোধ করছে তাতে ফয়সালা করবেন। যে ব্যাপারে মতবিরোধ করা হয়েছে তাতে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে সত্য-সঠিক পথ দিন। নিশ্চয় আপনি যাকে ইচ্ছা তাকে সরল সোজা পথের হেদায়েত করেন। [মুসলিম: ৭৭০]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৬) বল, ‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা হে আল্লাহ! তোমার দাসগণ যে বিষয়ে মতবিরোধ করে, তুমি সে বিষয়ে তাদের মাঝে ফায়সালা করে দেবে।” [1]


তাফসীর:

[1] হাদীসে এসেছে যে, নবী করীম (সাঃ) রাতের তাহাজ্জুদ নামাযের শুরুতে এই দু’আ পড়তেন, (اللَّهُمَّ رَبَّ جَبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ، فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، أَنْتَ تَحْكُمُ بَيْنَ عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ، اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فِيهِ مِنْ الْحَقِّ بِإِذْنِكَ، إِنَّكَ تَهْدِي مَنْ تَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ) অর্থাৎ, হে আল্লাহ! হে জিবরীল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের প্রভু! হে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা! হে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! তুমি তোমার বান্দাদের মাঝে মীমাংসা কর যে বিষয়ে ওরা মতভেদ করে। যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে তোমার অনুগ্রহে সত্য পথ দেখাও। নিশ্চয় তুমি যাকে ইচ্ছা সরল পথ দেখিয়ে থাক। (মুসলিম, আবূ দাঊদ ৭৬৭, মিশকাত ১২১২নং)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৬-৪৮ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



আল্লাহ তা‘আলা আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, অদৃশ্য ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা। তাঁর নিকট কিভাবে প্রার্থনা করতে হবে তিনি তাঁর রাসূলের মাধ্যমে এ আয়াতে সে পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন। আয়িশাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের সালাত কিসের মাধ্যমে শুরু করতেন? তিনি বললেন :



>اَللّٰهُمَّ رَبَّ جَبْرَائِيلَ وَمِيكَائِيلَ وَإِسْرَافِيلَ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ أنت تَحْكُمُ بين عِبَادِكَ فِيمَا كَانُوا فيه يَخْتَلِفُونَ اهْدِنِي لِمَا اخْتُلِفَ فيه من الْحَقِّ بِإِذْنِكَ إِنَّكَ تَهْدِي من تَشَاءُ إلي صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ



হে আল্লাহ তা‘আলা! হে জিররাঈল, মীকাঈল ও ইসরাফীলের প্রভু! হে আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা! হে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! তুমি তোমার বান্দাদের মাঝে মীমাংসা কর যে-বিষয়ে ওরা মতভেদ করে। যে বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে তোমার অনুগ্রহে সত্য পথ দেখাও। নিশ্চয়ই তুমি যাকে ইচ্ছা পথ দেখাও। (সহীহ মুসলিম হা. ৭৭০)



সবচেয়ে বড় মতবিরোধ হল তাওহীদপন্থীরা বলে- আমরা যে সত্যের ওপর আছি এটাই ঠিক, আমরাই পরকালে সফলকাম হবো। আর মুশরিক ও আল্লাহ ব্যতীত যারা অন্যদের মা‘বূদ হিসেবে ইবাদত করে তারা বলে- আমরাই সত্যের ওপর আছি, আমরাই সফলকাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَالَّذِیْنَ ھَادُوْا وَالصَّابِئِیْنَ وَالنَّصٰرٰی وَالْمَجُوْسَ وَالَّذِیْنَ اَشْرَکُوْٓاﺣ اِنَّ اللہَ یَفْصِلُ بَیْنَھُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَةِﺚ اِنَّ اللہَ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ شَھِیْدٌ‏)‏



“যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইয়াহূদী হয়েছে, যারা সাবিয়ী, খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজক এবং যারা মুশরিক হয়েছে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেবেন। আল্লাহ সমস্ত‎ কিছুর সম্যক প্রত্যক্ষকারী।” (সূরা হাজ্জ ২২ : ১৭) তাদের এ ফায়সালা করা হবে তাদের বিবাদের পর, আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(هٰذٰنِ خَصْمٰنِ اخْتَصَمُوْا فِيْ رَبِّهِمْ ز فَالَّذِيْنَ كَفَرُوْا قُطِّعَتْ لَهُمْ ثِيَابٌ مِّنْ نَّارٍ ط يُصَبُّ مِنْ فَوْقِ رُؤُوْسِهِمُ الْحَمِيْمُ) ‏



“এরা দু’টি বিবদমান পক্ষ, তারা তাদের প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্ক করে; যারা কুফরী করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার ওপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত‎ পানি।” (সূরা হাজ্জ ২২ : ১৯)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, কিয়ামত দিবসে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না। কাফিররা যখন কিয়ামতের দিনে শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তারা এ শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য পৃথিবীর সমস্ত কিছু ও তার সমপরিমাণ আরো কিছু দিয়ে হলেও চেষ্টা করবে বাঁচার জন্য, কিন্তু তাদের থেকে কিছুই গ্রহণ করা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :



(وَاتَّقُوْا يَوْمًا لَّا تَجْزِيْ نَفْسٌ عَنْ نَّفْسٍ شَيْئًا وَّلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَّلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَّلَا هُمْ يُنْصَرُوْنَ)



“আর তোমরা সেদিনকে ভয় কর যেদিন কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তি হতে কিছুমাত্র উপকৃত হবে না এবং কোন ব্যক্তি হতে কোন সুপারিশ গৃহীত হবে না, কোন ব্যক্তি হতে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করা হবে না এবং তারা সাহায্যপ্রাপ্তও হবে না।” (সূরা বাকারাহ ২ : ৪৮)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :



(إِنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَمَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِّلءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَّلَوِ افْتَدٰي بِه۪ ط أُولٰ۬ئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ لا وَّمَا لَهُمْ مِّنْ نّٰصِرِيْنَ)‏



“নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে তাদের কাছ থেকে পৃথিবী ভরা স্বর্ণও বিনিময়স্বরূপ প্রদান করতে চাইলে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবেনা।” (সূরা আলি ইমরান ৩ : ৯১)



অর্থাৎ আযাবের কঠিনতা, ভয়াবহতা এবং তা এত প্রকারের হবে যা কোনদিন তাদের ধারণা ও কল্পনাতেও আসেনি। চতুর্দিক থেকে শাস্তি তাদেরকে বেষ্টন করে নেবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. দু‘আ করার পদ্ধতি জানলাম।

২. কিয়ামতের মাঠে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না।

৩. আল্লাহ মানুষের মধ্যে কিয়ামতের মাঠে তাদের মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৬-৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:

মুশরিকদের যে তাওহীদের প্রতি ঘৃণা এবং শিরকের প্রতি ভালবাসা রয়েছে তা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলছেনঃ তুমি শুধু এক আল্লাহকেই ডাকতে থাকো যিনি আসমান ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা এবং এগুলো তিনি ঐ সময় সৃষ্টি করেছেন যখন এগুলোর না কোন অস্তিত্ব ছিল এবং না এগুলোর কোন নমুনা ছিল। তিনি প্রকাশ্য ও গোপনীয় এবং উঘাটিত ও লুক্কায়িত সবই জানেন। এসব লোক যেসব বিষয় নিয়ে মতবিরোধ করছে তার ফায়সালা ঐ দিন হয়ে যাবে যেদিন তারা কবর হতে বের হয়ে হাশরের ময়দানে আসবে।

হযরত আবু সালমা ইবনে আবদির রহমান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাহাজ্জুদের নামায কোন দুআ দ্বারা শুরু করতেন?” হযরত আয়েশা (রাঃ) উত্তরে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন রাত্রে তাহাজ্জুদের নামাযে দাঁড়াতেন তখন তিনি নিমের দুআ দ্বারা নামায শুরু করতেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! হে জিবরাঈল (আঃ), মীকাঈল (আঃ) ও ইসরাফীল (আঃ)-এর প্রতিপালক! হে আসমান ও যমীনকে বিনা নমুনায় সৃষ্টিকারী! হে দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনিই আপনার বান্দাদের মতবিরোধের ফায়সালাকারী, যে যে জিনিসের মধ্যে মত বিরোধ করা হয়েছে। আপনি আমাকে ঐ সব ব্যাপারে স্বীয় অনুগ্রহে সত্য ও সঠিক পথ প্রদর্শন করুন! আপনি যাকে ইচ্ছা করেন সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করে থাকেন।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিম্নের দু'আটি বলেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞতা! আমি এই দুনিয়ায় আপনার নিকট এই অঙ্গীকার করছিঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনি এক। আপনার কোন অংশীদার নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দান করছি যে, মুহাম্মাদ (সঃ) আপনার বান্দা এবং আপনার রাসূল। যদি আপনি আমাকে আমারই কাছে সঁপে দেন তবে আমি মন্দের নিকটবর্তী ও কল্যাণ হতে দূরবর্তী হয়ে যাবো। হে আল্লাহ! আমি শুধু আপনার রহমতের উপর ভরসা করি। সুতরাং আপনি আমার সাথে অঙ্গীকার করুন যা আপনি কিয়ামতের দিন পূর্ণ করবেন। নিশ্চয়ই আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। তখন কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় ফেরেশতাদেরকে বলবেনঃ “আমার এই বান্দা আমার নিকট হতে অঙ্গীকার নিয়েছে, তোমরা আজ তা পূর্ণ কর।” তখন তাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হবে। বর্ণনাকারী হযরত সুহাইল (রঃ) বলেনঃ আমি কাসিম ইবনে আবদির রহমান (রঃ)-এর নিকট যখন বললাম যে, আউন (রঃ) এভাবে এ হাদীসটি বর্ণনা করে থাকেন তখন তিনি বলেনঃ ‘সুবহানাল্লাহ! আমাদের পর্দানশীন মেয়েদেরও তো এটা মুখস্থ আছে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) একটি কাগজ বের করে বলেনঃ এতে লিখিত দু'আটি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) শিখিয়েছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনি প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক, প্রত্যেকের মাবুদ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। আপনি এক! আপনার কোন অংশীদার নেই। মুহাম্মাদ (সঃ) আপনার বান্দা ও রাসূল। ফেরেশতারাও এই সাক্ষ্য দিয়ে থাকেন। আমি শয়তান হতে ও তার শিরক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি নিজে কোন পাপকার্য করি বা কোন মুসলমানকে কোন পাপকার্যের দিকে নিয়ে যাই এ থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।” হযরত আবদুর রহমান (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ দু'আটি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)-কে শিখিয়েছিলেন এবং তিনি তা শয়নের সময় পাঠ করতেন। (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হয়েছে)

হযরত আবু রাশেদ হিবরানী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রঃ)-এর নিকট এসে তার কাছে রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে একটি হাদীস শুনতে চাইলে তিনি তার সামনে একটি পুস্তিকা রেখে দিয়ে বলেনঃ “দুআটি হলো এটাই যা আমাকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) লিখিয়ে দিয়েছেন।” হযরত আবু রাশেদ (রঃ) দেখেন যে, তাতে লিখিত আছেঃ হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেন- “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সকাল-সন্ধ্যায় আমি কি পাঠ করবো? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, তুমি পাঠ করবেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা! আপনি ছাড়া কোন মা'বুদ নেই। আপনি প্রত্যেক জিনিসের প্রতিপালক এবং ওর মালিক। আমি আমার নফসের অনিষ্ট এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি কোন পাপকার্যে লিপ্ত হয়ে পড়ি বা কাউকেও আমি কোন পাপকার্যের দিকে নিয়ে যাই এর থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রঃ) বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী
(রঃ) এটাকে হাসান গারীব বলেছেন)

হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন সকালে ও সন্ধ্যায় এবং রাত্রে শয়নের সময় ... (আরবী) এ দু'আটি পাঠ করি।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

এখানে যালিম দ্বারা মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ যালিমদের অর্থাৎ মুশরিকদের যদি থাকে, দুনিয়ায় যা আছে তা সম্পূর্ণ এবং সমপরিমাণ সম্পদও, তবে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তি হতে মুক্তিপণ স্বরূপ সবকিছু তারা দিয়ে দিতে প্রস্তুত হয়ে যাবে, কিন্তু ঐদিন কোন মুক্তিপণ এবং বিনিময় গ্রহণ করা হবে না, যদিও তারা দুনিয়াপূর্ণ স্বর্ণও দিতে চায়। যেমন মহান আল্লাহ অন্য আয়াতে বলেছেন।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তাদের জন্যে আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশিত হবে যা তারা কল্পনাও করেনি। তাদের কৃতকর্মের মন্দ ফল তাদের নিকট প্রকাশ হয়ে পড়বে। দুনিয়ায় যে শাস্তির বর্ণনা শুনে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো তা তাদেরকে চতুর্দিক থেকে পরিবেষ্টন করবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।